নারায়ণগঞ্জ ০৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কোটিপতি সাড়ে ১৪ হাজার টাকা বেতনের দারোয়ান

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১
  • ১৯৫ বার পড়া হয়েছে

 সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কালুহাজী রোড এলাকার বাসিন্দা রাজধানীর মতিঝিল দিলকুশার কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীলাত ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা প্রহরী মো: ছৈয়দ আলী সবুজ। নিজেকে রাজস্ব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চলেন দাপটের সঙ্গে। সাড়ে ১৪ হাজার টাকা বেসিক বেতনের নিরাপত্তা প্রহরী কি করে রাতা রাতি বিলাসবহুল একাধিক বাড়িসহ কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন, তা কল্পনাও করতে পারছেন না প্রতিবেশীরা।
জানা গেছে, বরিশাল জেলার মেহেদীগঞ্জ থানার কৃষক মজিবুল হক দেওয়ানের ছেলে মোঃ ছৈয়দ আলী সবুজ। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে সপরিবারে চলে আসেন সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কালুহাজী রোড এলাকায়। মাসিক আটশত টাকা ভাড়ায় ঠাঁই নেন ইসমাইল মাষ্টারের বাড়িতে। করতেন দিন মজুরের কাজ। এক আতœীয়র মাধ্যমে ঢাকা মতিঝিল দিলকুশার কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীলাত ট্রাইব্যুনালে নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি নেন ছৈয়দ আলী সবুজ। এর পর থেকেই বদলে যায় তার জীবন যাত্রার মান। একই এলাকার আলেক মিয়ার বাড়িতে উঠেন মাসিক আড়াই হাজার টাকা ভাড়ায়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওই বাড়িতেই ছিলেন। হঠাৎ ২০১৮ সালে ভাড়া বাড়ি ছেড়ে উঠেন একই এলাকায় নিজের তিন তলা বাড়িতে। মাত্র সাড়ে ১৪ হাজার টাকা বেতনের একজন নিরাপত্তা প্রহরী কি করে রাতা রাতি এতটাকার মালিক হলেন এনিয়ে এলাকায় চলছে জল্পনা কল্পনা।
অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, কালুহাজী রোড এলাকার মসজিদ সংলগ্ন সিদ্ধিরগঞ্জ মৌজায় ৩ শতাংশ জমিতে বিলাস বহুল তিনতলা বাড়ি, তার পাশেই ৯ শতাংশ জমিতে সেমি পাকা বাড়ি, তার পাশে অন্তর ভিলা ভবনের চার ও পাঁচ তলায় দুইটি ফাট, রূপগঞ্জের গাউছিয়াতে সোয়া পাঁচ শতাংশ জমিতে একটি বাড়ি, ডেমড়া ও শনিআখড়াতে তার জমি ফ্যাট, স্থীর জন্য শতাধিক ভরি স্বর্ণালংকারসহ কোটি কোটি টাকার মালিক ছৈয়দ আলী সবুজ। তার ছেলে সামছুলহক খান স্কুল এন্ড কলেজে পড়ছে। যে স্কুলের মাসিক বেতন ৩ হাজার টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা আলেক মিয়া জানান, ছৈয়দ আলী সবুজ পরিবার নিয়ে সাত বছর তার বাড়িতে ভাড়া ছিলেন। খুব কষ্ট করে চলতেন। সময় মত বাড়ি ভাড়া দিতে পারতেন না। হঠাৎ কি করে তিনি একাধিক বাড়ি ও এত টাকার মালিক হলেন তা বোধগম্য নয়।
এবিষয়ে ছৈয়দ আলী সবুজ বলেন, নদী ভাঙনে নিঃশ্ব হয়ে সপরিবারে বরিশাল ছেড়ে চলে আসি। বাবার দুই সংসারের পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোনসহ বার সদস্যের পরিবার। বড় ছেলে হিসেবে আমাকেই সংসারের হাল ধরতে হয়। সরকারি চাকরি পাওয়ার পর বহু কষ্টে তিলে তিলে এসব সম্পদ করেছি। চাব্বিশ বছর ধরে চাকরি করছি। চুরি ডাকাতি করে সম্পদ করিনি।
কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীলাত ট্রাইব্যুনালের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা বিপ্লব রায় বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। নিরাপত্তা প্রহরী ছৈয়দ আলী সবুজের বিষয়ে তেমন কিছু অবগত নই। একজন নিরাপত্তা প্রহরী এত টাকার মালিক হওয়া অকল্পনীয়।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটিপতি সাড়ে ১৪ হাজার টাকা বেতনের দারোয়ান

আপডেট সময় : ১২:০২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১

 সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কালুহাজী রোড এলাকার বাসিন্দা রাজধানীর মতিঝিল দিলকুশার কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীলাত ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা প্রহরী মো: ছৈয়দ আলী সবুজ। নিজেকে রাজস্ব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চলেন দাপটের সঙ্গে। সাড়ে ১৪ হাজার টাকা বেসিক বেতনের নিরাপত্তা প্রহরী কি করে রাতা রাতি বিলাসবহুল একাধিক বাড়িসহ কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন, তা কল্পনাও করতে পারছেন না প্রতিবেশীরা।
জানা গেছে, বরিশাল জেলার মেহেদীগঞ্জ থানার কৃষক মজিবুল হক দেওয়ানের ছেলে মোঃ ছৈয়দ আলী সবুজ। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে সপরিবারে চলে আসেন সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কালুহাজী রোড এলাকায়। মাসিক আটশত টাকা ভাড়ায় ঠাঁই নেন ইসমাইল মাষ্টারের বাড়িতে। করতেন দিন মজুরের কাজ। এক আতœীয়র মাধ্যমে ঢাকা মতিঝিল দিলকুশার কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীলাত ট্রাইব্যুনালে নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি নেন ছৈয়দ আলী সবুজ। এর পর থেকেই বদলে যায় তার জীবন যাত্রার মান। একই এলাকার আলেক মিয়ার বাড়িতে উঠেন মাসিক আড়াই হাজার টাকা ভাড়ায়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওই বাড়িতেই ছিলেন। হঠাৎ ২০১৮ সালে ভাড়া বাড়ি ছেড়ে উঠেন একই এলাকায় নিজের তিন তলা বাড়িতে। মাত্র সাড়ে ১৪ হাজার টাকা বেতনের একজন নিরাপত্তা প্রহরী কি করে রাতা রাতি এতটাকার মালিক হলেন এনিয়ে এলাকায় চলছে জল্পনা কল্পনা।
অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, কালুহাজী রোড এলাকার মসজিদ সংলগ্ন সিদ্ধিরগঞ্জ মৌজায় ৩ শতাংশ জমিতে বিলাস বহুল তিনতলা বাড়ি, তার পাশেই ৯ শতাংশ জমিতে সেমি পাকা বাড়ি, তার পাশে অন্তর ভিলা ভবনের চার ও পাঁচ তলায় দুইটি ফাট, রূপগঞ্জের গাউছিয়াতে সোয়া পাঁচ শতাংশ জমিতে একটি বাড়ি, ডেমড়া ও শনিআখড়াতে তার জমি ফ্যাট, স্থীর জন্য শতাধিক ভরি স্বর্ণালংকারসহ কোটি কোটি টাকার মালিক ছৈয়দ আলী সবুজ। তার ছেলে সামছুলহক খান স্কুল এন্ড কলেজে পড়ছে। যে স্কুলের মাসিক বেতন ৩ হাজার টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা আলেক মিয়া জানান, ছৈয়দ আলী সবুজ পরিবার নিয়ে সাত বছর তার বাড়িতে ভাড়া ছিলেন। খুব কষ্ট করে চলতেন। সময় মত বাড়ি ভাড়া দিতে পারতেন না। হঠাৎ কি করে তিনি একাধিক বাড়ি ও এত টাকার মালিক হলেন তা বোধগম্য নয়।
এবিষয়ে ছৈয়দ আলী সবুজ বলেন, নদী ভাঙনে নিঃশ্ব হয়ে সপরিবারে বরিশাল ছেড়ে চলে আসি। বাবার দুই সংসারের পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোনসহ বার সদস্যের পরিবার। বড় ছেলে হিসেবে আমাকেই সংসারের হাল ধরতে হয়। সরকারি চাকরি পাওয়ার পর বহু কষ্টে তিলে তিলে এসব সম্পদ করেছি। চাব্বিশ বছর ধরে চাকরি করছি। চুরি ডাকাতি করে সম্পদ করিনি।
কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীলাত ট্রাইব্যুনালের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা বিপ্লব রায় বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। নিরাপত্তা প্রহরী ছৈয়দ আলী সবুজের বিষয়ে তেমন কিছু অবগত নই। একজন নিরাপত্তা প্রহরী এত টাকার মালিক হওয়া অকল্পনীয়।