নারায়ণগঞ্জ ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অনুমোদনহীন কসমেটিকস বিক্রি করায় দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী রক্ষায় ও পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে মানববন্ধন ভুঁইগড় অজ্ঞাত এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার রূপগঞ্জে গৃহকর্মী ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় যুবক গ্রেফতার ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ শুরু নারায়ণগঞ্জ সদরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি, বাছাইয়ে স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত নারায়ণগঞ্জে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত, মাদকমুক্ত জেলা গড়তে সমন্বিত উদ্যোগ নারায়ণগঞ্জে শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় নারায়ণগঞ্জ সদরে কর্মশালা, ১৫ প্রতিষ্ঠানে প্যাড ভেন্ডিং মেশিন বিতরণ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

সিদ্ধিরগঞ্জে যুবলীগ নেতার সহযোগী মানিক এখন বিএনপির বড় নেতা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৪৯ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: সিদ্ধিরগঞ্জে ত্রাস যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান মতির অন্যতম সহযোগী শাহ আলম মানিক এখন বিএনপির বড় নেতা। বিগত ১৬ বছর দলে যার অস্তিত্ব ছিলনা তিনিই এখন বিএনপি নেতা সেজে সুবিধা ভোগ করছেন। আগলে রাখছেন মতির অবৈধ আয়ের সকল উৎস। আদমজী ইপিজেডে ঝুট ব্যবসাসহ এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করছেন দাপটের সঙ্গে। অথচ তার বিরুদ্ধে রয়েছে গত জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় করা একাধিক হত্যা মামলা।
জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়ার আইলপাড়া এলাকার আব্দুল কাদের মেম্বারের ছেলে শাহ আলম মানিক। যুবলীগ নেদা মতির বাড়ির দক্ষিণ পাশের বিলাসবহুল বাড়িটিই হচ্ছে মানিকের। একদিকে আত্মীয় অপর দিকে পাশাপাশি বাড়ি হওয়ার সুবাধে মতির সাথে তার ছিল গভীর সুসম্পর্ক। তাই আওয়ামী লীগ সরকারে ১৬ বছর মতির শেল্টারে জ¦ালানি তেল সেক্টর, ঝুট সেক্টর, ভূমিদস্যুতা,চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করেছেন শাহ আলম মানিক। এসব অবৈধ কাজ করে অঢেল ধন সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, গত ষোল বছর নাসিকের ৬ নং ওয়ার্ডে সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করেছিল মতি। গণঅভ্যুত্থানের পর মতি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলে তার সকল অবৈধ আয়ের উৎস নিয়ন্ত্রণ নেয় শাহ আলম মানিক। তিনি নিজে পর্দার আড়ালে থেকে মতির অবৈধ আয়ের উৎস ও বিভিন্ন ব্যবসা ছোট ভাই হানিফের নামে নিয়ে নেয়। মতির স্ত্রী রোকিয়ে রহমান জীবীত থাকতে মানিক তার ভাইয়ের নামে সবকিছু কাগপত্র করে নেয়। মতির সম্পদ রক্ষার জিম্মা নেয় মানিক। দেখভালের দায়িত্ব দেয় ভাই হানিফকে। ফলে মতির সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ইপিজেডে মহড়া থেকে শুরু করে তেল সেক্টর, ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজিতে এককচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে তথাকথিত এ বিএনপি নেতা। মতির কল্যাণে শাহ আলম মানিক ইপিজেডে বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টরী নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। বর্তমানে বিএনপিতে তার দলীয় কোন পদ নেই। কবে তিনি জেলা বিএনপির কমিটিতে ছিলেন তা জানেনা কোন বিএনপি নেতা। আসলে তিনি অতিতে বিএনপি করতেন কিনা তার কোন প্রমাণ পাচ্ছেনা বিএনপি নেতারা। অথচ তিনি নিজেকে জেলা বিএনপির সাবেক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অন্যের জমি দখল, চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছেন। এতে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রবীণ একজন বিএনপি নেতা জানান,বহু বছর আগে শাহ আলম মানিক ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তবে বিগত ১৬ বছর তাকে একদিনের জন্যও মাঠে দেখা যায়নি। কোনো কর্মসূচিতেও পাওয়া যায়নি। তিনি মতির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে নির্বিঘেœ ব্যবসা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি করে গেছেন। মতির শেল্টারে আইলপাড়ায় রেলের জমি দখল করে অটোরিকশার গ্যারেজ করেন শাহ আলম মানিক। বিহারীদের জমি জাল দলিলের মাধ্যমে একটি গ্রুপ অব কোম্পানির কাছে বিক্রি অভিযোগ রয়েছে মতি ও মানিকের বিরুদ্ধে। একাধিক মামলার আসামি হয়েও মতির শেল্টারে বিগত ১৬ বছর সুরক্ষিত ছিল শাহ্ আলম মানিক। ২০০৫ সালে বিস্ফোরক ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলার এজাহারভূক্ত আসামি হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি।
কত সালে জেলা বিএনপির কমিটিতে ছিলেন তা জানতে চাইলে, বলতে পারেনি শাহ আলম মানিক নিজেই। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে বলেন, প্রতিপক্ষ মহল তাকে হেয় ও রাজনৈতিক ভাবে ঘায়েল করতে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বিএনপিতে ছিলেন, এখনো আছেন এবয় ভবিষ্যতেও থাকবেন বলে জানান।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অনুমোদনহীন কসমেটিকস বিক্রি করায় দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সিদ্ধিরগঞ্জে যুবলীগ নেতার সহযোগী মানিক এখন বিএনপির বড় নেতা

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: সিদ্ধিরগঞ্জে ত্রাস যুবলীগ নেতা মতিউর রহমান মতির অন্যতম সহযোগী শাহ আলম মানিক এখন বিএনপির বড় নেতা। বিগত ১৬ বছর দলে যার অস্তিত্ব ছিলনা তিনিই এখন বিএনপি নেতা সেজে সুবিধা ভোগ করছেন। আগলে রাখছেন মতির অবৈধ আয়ের সকল উৎস। আদমজী ইপিজেডে ঝুট ব্যবসাসহ এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করছেন দাপটের সঙ্গে। অথচ তার বিরুদ্ধে রয়েছে গত জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় করা একাধিক হত্যা মামলা।
জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়ার আইলপাড়া এলাকার আব্দুল কাদের মেম্বারের ছেলে শাহ আলম মানিক। যুবলীগ নেদা মতির বাড়ির দক্ষিণ পাশের বিলাসবহুল বাড়িটিই হচ্ছে মানিকের। একদিকে আত্মীয় অপর দিকে পাশাপাশি বাড়ি হওয়ার সুবাধে মতির সাথে তার ছিল গভীর সুসম্পর্ক। তাই আওয়ামী লীগ সরকারে ১৬ বছর মতির শেল্টারে জ¦ালানি তেল সেক্টর, ঝুট সেক্টর, ভূমিদস্যুতা,চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করেছেন শাহ আলম মানিক। এসব অবৈধ কাজ করে অঢেল ধন সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, গত ষোল বছর নাসিকের ৬ নং ওয়ার্ডে সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করেছিল মতি। গণঅভ্যুত্থানের পর মতি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলে তার সকল অবৈধ আয়ের উৎস নিয়ন্ত্রণ নেয় শাহ আলম মানিক। তিনি নিজে পর্দার আড়ালে থেকে মতির অবৈধ আয়ের উৎস ও বিভিন্ন ব্যবসা ছোট ভাই হানিফের নামে নিয়ে নেয়। মতির স্ত্রী রোকিয়ে রহমান জীবীত থাকতে মানিক তার ভাইয়ের নামে সবকিছু কাগপত্র করে নেয়। মতির সম্পদ রক্ষার জিম্মা নেয় মানিক। দেখভালের দায়িত্ব দেয় ভাই হানিফকে। ফলে মতির সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ইপিজেডে মহড়া থেকে শুরু করে তেল সেক্টর, ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজিতে এককচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে তথাকথিত এ বিএনপি নেতা। মতির কল্যাণে শাহ আলম মানিক ইপিজেডে বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টরী নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। বর্তমানে বিএনপিতে তার দলীয় কোন পদ নেই। কবে তিনি জেলা বিএনপির কমিটিতে ছিলেন তা জানেনা কোন বিএনপি নেতা। আসলে তিনি অতিতে বিএনপি করতেন কিনা তার কোন প্রমাণ পাচ্ছেনা বিএনপি নেতারা। অথচ তিনি নিজেকে জেলা বিএনপির সাবেক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অন্যের জমি দখল, চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছেন। এতে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রবীণ একজন বিএনপি নেতা জানান,বহু বছর আগে শাহ আলম মানিক ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তবে বিগত ১৬ বছর তাকে একদিনের জন্যও মাঠে দেখা যায়নি। কোনো কর্মসূচিতেও পাওয়া যায়নি। তিনি মতির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে নির্বিঘেœ ব্যবসা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি করে গেছেন। মতির শেল্টারে আইলপাড়ায় রেলের জমি দখল করে অটোরিকশার গ্যারেজ করেন শাহ আলম মানিক। বিহারীদের জমি জাল দলিলের মাধ্যমে একটি গ্রুপ অব কোম্পানির কাছে বিক্রি অভিযোগ রয়েছে মতি ও মানিকের বিরুদ্ধে। একাধিক মামলার আসামি হয়েও মতির শেল্টারে বিগত ১৬ বছর সুরক্ষিত ছিল শাহ্ আলম মানিক। ২০০৫ সালে বিস্ফোরক ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলার এজাহারভূক্ত আসামি হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি।
কত সালে জেলা বিএনপির কমিটিতে ছিলেন তা জানতে চাইলে, বলতে পারেনি শাহ আলম মানিক নিজেই। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে বলেন, প্রতিপক্ষ মহল তাকে হেয় ও রাজনৈতিক ভাবে ঘায়েল করতে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বিএনপিতে ছিলেন, এখনো আছেন এবয় ভবিষ্যতেও থাকবেন বলে জানান।