সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিদ্ধিরগঞ্জে যুবদল নেতার দখলে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী তাঁতি লীগ নেতা হান্নান প্রধানের অফিস এখন মাদকের আখড়া হয়ে উঠেছে।
সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডের মুনলাইট চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকায় রেলওয়ের লিজ কৃত যায়গায় রাজনৈতিক অফিস গড়ে তুলেছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী তাঁতি লীগের যুগ্ম আহবায়ক হান্নান প্রধান।
গত ২৪ সালের পাঁচ আগস্ট ছাত্র জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পতন হলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান তাঁতি লীগ নেতা হান্নান প্রধান। পরবর্তীতে অফিসটি দখলে নেন নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান মৃধা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যুবদল নেতা আক্তারুজ্জামান মৃধা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের অনুসারী।
অভিযোগ রয়েছে, যুবদল নেতা আক্তারুজ্জামান মৃধা অফিসটি দখলে নিয়ে একই এলাকার চিহ্নিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল এক ক্যাডার বাহিনী। তবে এই ক্যাডার বাহিনীর মধ্যে অধিকাংশ ব্যক্তি মাদকের সাথে জড়িত। আক্তারুজ্জামান মৃধার নেতৃত্বে তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে এই অফিস থেকে দৈনিক প্রায় দুই লক্ষ টাকার মাদক বেচা-কেনা হয় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডের বিএনপির এক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘ প্রায় ১৭ টি বছর স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার অত্যাচার সহ্য করে নির্যাতিত হয়েছি। বাড়িতে থাকতে পারিনি। পরিবার রেখে পালিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। আর এখন আক্তারুজ্জামান মৃধা তার পেশি শক্তি বাড়াতে সেই স্বৈরাচারী সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনীদেরকে কাছে টেনে নিচ্ছেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের দলে ঢুকে দলের বদনাম করতে এই অফিসটিকে মাদকের আখড়া হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তিনি আরও জানান, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। তার নীতির আদর্শ ধারণ করে দলের বদনাম হবে এমন কোন কর্মকান্ড কাউকেই করতে দেওয়া হবে না। তাই আমার এবং এলাকাবাসীর দাবি নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। অতি দ্রুত যেনো এই মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এখানে একটি গার্মেন্টস থাকায় অসংখ্য মানুষের চলাচল রয়েছে এই রাস্তা দিয়ে। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে এই রাস্তা দিয়ে মানুষের চলাচল দ্বিগুণ বেড়ে যায়। অনেক অচেনা মানুষকে দেখা যায় আসতে মোটরসাইকেল দিয়ে। তাদের এলাকায় কখনো দেখি নাই। বিশেষ করে আমাদের নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডে মাদকের বেশ কয়েকটি স্পট রয়েছে। যার মধ্যে একটি হলো এই অফিস। বিএনপির নামে অফিস হলেও মূলত মাদকের বিশাল এক হাট হিসেবে পরিচিত এই স্থানটি। পুলিশ বিভিন্ন যায়গায় অভিযান পরিচালনা করলেও এখানে বিএনপির অফিস হওয়ায় কোন অভিযান চালানো হয় না। যুবদল নেতা আক্তারুজ্জামান মৃধার শেল্টারে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার লাভ করেছে ওই এলাকায় এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।
আরও অভিযোগ রয়েছে, যুবদল নেতা আক্তারুজ্জামান মৃধা তার সুবিধার্থে আইল পাড়া এলাকার মাদক ব্যবসায়ী মো: হানিফ বেপারী, একই এলাকার মো: শফিকুল, বিহারি কলোনির মৃত ভনুর ভাই মাদক ব্যবসায়ী মো: নাদিম, মুনলাইট চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকার মাদক ব্যবসায়ী কামরুল, দেলোয়ার হোসেন দেলু ও সামসুলসহ একাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে দলে স্থান দিয়েছেন। এই মাদক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যুবদল নেতা আক্তারুজ্জামান মৃধা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। তাদের এসব অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ছেন এলাকার যুবকরা। এতে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে যুবসমাজ।
এদিকে মাদকের বিস্তার নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত খবর প্রকাশিত হলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হলেও রাঘব বোয়ালরা রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাদক নির্মূলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে যুবদল নেতা আক্তারুজ্জামান মৃধার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানান, মাদক বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদকের সাথে কোনো আপোষ নেই। মাদকের সাথে জড়িত থাকলে সে যে দলেরই হোক তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
প্রতিনিধির নাম 














