তারাবর মাদকের ডিলার সন্ত্রাসী রুবেল বাহিনী বহাল তবিয়তে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপগঞ্জের তারাব দক্ষিণপাড়া এলাকার আতঙ্ক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বিস্ফোরক ও ডাকাতিসহ ডজন খানের মামলার আসামি শীর্ষ মাদক সম্রাট রুবেল ও তার বাহিননীর সদস্যরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবসী। বন্ধ হচ্ছেনা এই বাহিনীর মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর। এলাকায় ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করেও এই বাহিনী রয়েছে বহাল তবিয়তে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রুবেল একসময় বিএনপি করতো। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বনে যায় আওয়ামীলীগ। তার সহযোগী অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী রকি খান, আকবর বাদশাসহ বিশাল বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় বীরদর্পে চালাচ্ছে মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর। এলাকায় কায়েম করে ত্রাসের রাজত্ব। কিছুদিন আগে সন্ত্রাসী রুবেলকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১১। পরে জেল থেকে জামিনে বের হয়ে রুবেল আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। রুবেল বাহিনীর অন্যতম সদস্য রকি খান বিস্ফোরক মামলার আসাসি। আকবর বাদশা ডেমরা নৌ-পুলিশের উপর হামলা মারধর মামলার আসামি। আকবর বাদশাকেও র‌্যাব-১১ গ্রেপ্তার করেছিল। সেও জামিনে বের হয়ে যায়। হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক ও মারামারিসহ একাধিক মামলার আসাসি রুবেল ও তার বাহিনীর সদস্যরা সম্প্রতি পৌরসভার দক্ষিণপাড়া এলাকার মো: জামাল বাদশার বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে একজন প্রতিবন্ধীসহ চারজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এঘটনায় মৃত মাহমুদ আলীর জেলে জাহেদ আলী (৪৪), মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে রুবেল ভূঁইয়া (৫০), যাত্রামুড়ার নেছার খানের ছেলে রকি খান (৩৫), সিয়াম (২২) পিতা অজ্ঞাত, জাহাঙ্গীরের ছেলে জাহিদুল (২০), বিজয় (১৯) পিতা অজ্ঞাত, হৃদয়া (১৮) পিতা অজ্ঞাত, পূর্ব তারাব সুলতানবাগ এলাকার আবু ছালেকের ছেলে মিলন (৩৫) এর নাম উল্লেখ ও ৮/১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ফলে আতঙ্ক কাটছেনা এলাকাবাসীর।
একই এলাকার শাহীন জানায়, সন্ত্রাসী রুবেল ও তার বাহিনী নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে প্রতিবাদী লোকদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার শুরু করেছে। যাদেরকে কুপিয়ে আহত করেছে তাদেরকে মাদক ব্যবসায়ী বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও প্রতিবাদ করে আসছি। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় আমার যেমন সুনাম রয়েছে তেমনি সন্ত্রাসী রুবেল বাহিনীর মাদক ও জুয়ার আসরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হিসেবেও ব্যাপক সারা পেয়েছি। কিন্তু আমার প্রতিবাদী কন্ঠ রোধ করতে সন্ত্রাসীরা আমার বিরুদ্ধেই মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সন্ত্রাসী রুবেলের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় দায়ের করা ৪৭(৬)৫, ৫১(১০)১০, ১২(৮)১৬, ৩৩(৭)১৬, ৬৪(৫)১৬, ৩৪(৪)১২, ৩(১২)১৩, ১৭(৯)১৮, ৩৯(১২)১৬ নং মামলা বিচারাধীন রয়েছে। রকি খানের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় ২(৫)২০, ৫১(৬)১৬, ৬(৬)১৬, ১১(৩)১৮, ১৫(১২)১৫, ১৬(১২)১৫, ১৯(১২)১৫ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২৭(২) ২১ নং মামলা রয়েছে।