বিনামূল্যে  পরিবহনে নারাজ বিমান!

অনলাইন ডেস্ক :  বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের মৃতদেহ দেশে ফিরে আনার সেবা বিনামূল্যে দিয়ে থাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কিন্তু এখন থেকে টাকা ছাড়া এ সেবা দিতে নারাজ দেশের পতাকাবাহী বিমান সংস্থাটি। মূলত করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বিনামূল্যে মৃতদেহ পরিবহনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিমান। ভবিষ্যতেও তা দিতে পারবে না বলে লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুধু মৃতদেহ নয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা সংস্থার জন্য পণ্য আমদানিতেও গুনতে হবে নির্দিষ্ট খরচ।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল দায়িত্ব গ্রহণের পরই এ বিষয়ে বলেন, ‘মৃতদেহ বিনামূল্যে পরিবহন না করার সিদ্ধান্তটি বিমান বোর্ডের। আর সেটি হয়েছে তার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই।’ তবে তারও মতে, ‘এ দাবির যৌক্তিকতা আছে।’

সূত্র জানায়, জাতীয় পতাকাবাসী সংস্থা হওয়ায় বিমানের মাধ্যমে বিনামূল্যে পরিবহনের সুবিধা পেতে চায় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। অথচ বিমান কোম্পানি লিমিটেড। এ ছাড়া বিনা খরচে প্রবাসীদের মৃতদেহ পরিবহনে ২০২০ সালেই কেবল বিমানকে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৮ হাজার ১৩৭ টাকার ক্ষতি বহন করতে হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বাণিজ্যিক সংকটে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিও করা হয় বিমানের মাধ্যমে। এ জন্য কোনো পরিবহন চার্জ পায় না সংস্থাটি। এ ছাড়া করোনা মোকাবিলায় ভ্যাকসিন, মাস্কসহ বিভিন্ন ধরনের মেডিক্যাল উপকরণও আনা হয়েছে। এ সময় স্টোরেজ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ মওকুফ করে বিমান কর্তৃপক্ষ। এতে করে সংস্থাটির প্রায় ২০ কোটি ৭৪ লাখ ৮৮ হাজার ৬৩১ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

ভাসানচরে স্থানান্তরিত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য পাঠানো ত্রাণসামগ্রী সিঙ্গাপুর থেকে আনা, কার্গো স্টোরেজ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জও বিমান মওকুফ করেছে। এক্ষেত্রে সংস্থাটির প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা খরচ যাচ্ছে। এ রকম নানা খাতে চার্জ মওকুফ করতে হয় বিমানকে। অথচ নিজস্ব অর্থায়নে বিমানের আয়-ব্যয় পরিচালিত হচ্ছে। এ সংস্থার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো বাজেট নেই। প্রতি মাসে উড়োজাহাজ ক্রয় বাবদ কিস্তি, বিমান কিস্তি, রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ প্রায় ২২০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। শুধু তাই নয়, কোভিড মহামারীর কারণে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে ২০ মে পর্যন্ত আমদানিকৃত সব কার্গো পণ্যের স্টোরেজ চার্জ মওকুফ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। আর এ সিদ্ধান্তের কারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা থেকেও স্টোরেজ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ মওকুফের অনুরোধ আসছে। সেই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই চার্জ মওকুফ করতে হয়েছে বিমানকে।

এমন বাস্তবতায় আমদানিকৃত পণ্যের স্টোরেজ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সংস্থার বাজেটে বরাদ্দ রাখার জন্য চিঠি দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক একই চিঠিতে প্রবাসে বাংলাদেশি কর্মীদের মৃতদেহ বহনের জন্য প্রবাসী মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। যদিও বিমান তাদের স্টোরেজ চার্জ মওকুফ করলেও কার্গো গুদামের স্পেস ভাড়া, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যয়, কার্গো পণ্য ডেলিভারির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বহন করতে হয়েছে সংশ্লিষ্টদেরই।

বিমান সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি তেলসহ অপারেশনাল কাজের জন্য বিমান ইতোমধ্যে সোনালী ব্যাংক থেকে ১ হাজার কোটি টাকা ওয়ার্কিং ক্যাপিট্যাল হিসেবে ঋণ নিয়েছে। আরও ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান। বিশ্বব্যাপী কোভিড ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিমান তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমও গত বছরের মার্চ থেকে সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে স্বাভাবিক অবস্থায় পরিচালিত ফ্লাইটের মাত্র ৩৫ শতাংশ কার্যক্রম চলছে বর্তমানে। এক্ষেত্রেও রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ বিমান। অথচ নিজস্ব আয়-ব্যয়ে পরিচালিত সংস্থাটিকে অনেক সেবাই দিতে হচ্ছে বিনামূল্যে। তাই স্টোরেজ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ মওকুফের আবেদনে নিরুৎসাহী করতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে অক্ষমতা তুলে ধরেছে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে পরিচালিত বিমান।