বন্দর প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিশ্বনবী (সা.) ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার লিল্লাহ বোর্ডিং ও সাধারণ তহবিলের প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ৯ বছরে এতিম ও দুস্থদের জন্য আসা অনুদানের এই বিপুল অর্থ লোপাটের ঘটনায় সাবেক সভাপতি, সাবেক অধ্যক্ষ ও এক অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছে এলাকাবাসী। তবে মূল অভিযুক্ত সাবেক সভাপতি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাবেক সভাপতি আবু তালেব এবং সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা ইয়াহিয়া যোগসাজশ করে গত ৯ বছরে উন্নয়নের কোনো কাজ না করেই লিল্লাহ বোর্ডিং ও সাধারণ তহবিল থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে মাদরাসাটিতে অডিট ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
অভিযুক্তরা হলেন বিশ্বনবী (সা.) ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার সাবেক সভাপতি আবু তালেব এবং সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা ইয়াহিয়া। এছাড়াও এই অর্থ লোপাটের সিন্ডিকেটে অফিস সহায়ক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জড়িত রয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে যা জানা গেছে, মাদরাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের অসহায় ও এতিম শিক্ষার্থীদের খাবার এবং আবাসন সুবিধার জন্য সমাজের দানশীল ব্যক্তিরা দীর্ঘ বছর ধরে অনুদান দিয়ে আসছেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিবাদীগণ ক্ষমতার অপব্যবহার করে যৌথ স্বাক্ষরে চেকের মাধ্যমে বারবার টাকা উত্তোলন করলেও তা মাদরাসার কোনো উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করেননি। গত ৯ বছরে ভুয়া ভাউচার বা কোনো কাজ না করেই লিল্লাহ বোর্ডিং ও সাধারণ তহবিল থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত অফিস সহায়ক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বলেন, “তৎকালীন সময়ে সাবেক সভাপতি ও অধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরেই চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন হয়েছে। আমি কেবল অফিস সহায়ক হিসেবে কাজ করেছি। অডিট বা তদন্ত করলেই প্রমাণ হয়ে যাবে আমি দোষী কি না।”
বিশ্বনবী (সা.) ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার বর্তমান অধ্যক্ষ মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে যোগদান করেছেন জানিয়ে বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর জানতে পারি ২০১১ সাল থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত প্রথমবার তদন্তে হিসেবে বড় ধরণের গড়মিল পাওয়া গেছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয় দফায় তদন্ত চলছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট পেশ করলে জালিয়াতির সঠিক পরিমাণ এবং কারা জড়িত তা স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে।”
অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসার সাবেক সভাপতি আবু তালেব জানান, “আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। এর আগেও তিনবার অডিট হয়েছে, তখন কোনো হিবাবে গড়মিল পাওয়া যায়নি। আমি যথাযথভাবে হিসাব বুঝিয়ে দিয়েছি।”
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা ইয়াহিয়া-র ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। যার ফলে তাঁর মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অফিস সহায়ক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, টাকা উত্তোলনের চেকে সাবেক সভাপতি ও অধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষর থাকতো। অডিট করলেই সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাউয়ূম জানান, “মাদরাসাটির অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের দপ্তর থেকে তদন্ত চলছে। তবে যে অফিসারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তিনি কয়েকদিন যাবৎ অসুস্থ থাকায় প্রক্রিয়াটি কিছুটা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মাদরাসার বর্তমান অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি একবারের তদন্তে হিসাবে গড়মিল থাকার কথা শুনেছেন। বর্তমানে পুনরায় তদন্ত চলছে এবং রিপোর্ট পেশ হলে জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
স্থানীয়দের দাবি, এটি কেবল চুরি নয়, বরং আমানতের খেয়ানত। তারা অবিলম্বে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে আত্মসাৎকৃত টাকা দ্রুত উদ্ধার করে মাদরাসার উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।
প্রতিনিধির নাম 






















