নারায়ণগঞ্জ ০৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হীরাঝিল বহুতল ভবনে জ্বলছে অবৈধ চুলা, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় সেবা গ্রহীতাদের জন্য ‘স্নেহকুঞ্জ’ শুভ উদ্বোধন নিজেদের দক্ষতা ও সেবার মাধ্যমেই জনআস্থা অর্জন করতে হবে : ডিসি রায়হান কবির বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে রিয়াদে বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক ফোরামের মতবিনিময় সভা মতবিনিময় সভায় মালিক ও শ্রমিক নিয়ে শ্রমবান্ধব দেশ গড়তে হবে:উপদেষ্টা মাহদী আমিন গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া ১টি শটগান ও ৩টি কার্তুজসহ যুবক গ্রেপ্তার ফতুল্লায় গ্যাসের চুলার লিকেজ থেকেই আগুনের বিস্ফোরণ, একই পরিবারের ৫জন দগ্ধ। বরফকল মাঠে গরুর হাট না বসাতে জেলা প্রশাসকের কাছে শাপলা ক্রীড়া সংসদের স্মারকলিপি সোনারগাঁয়ে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সানোয়ার গ্রেপ্তার বন্দরে এআই প্রযুক্তিতে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা, প্রতারকচক্রকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি ভুক্তভোেগীর

হীরাঝিল বহুতল ভবনে জ্বলছে অবৈধ চুলা, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল আবাসিক এলাকার “হীরাঝিল প্রপার্টি” নামক এক বহুতল ভবনে অবৈধ ভাবে ৪৩ টি চুলা ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, হীরাঝিল স্কাই প্লাই রেস্টুরেন্টের বিপরীত পাশের ১১ নং গলিতে ১০ তলা “হীরাঝিল প্রপার্টির” বহুতল ভবনটি সমিতির মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়। ভবনটিতে ৪৫ টি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং ফ্ল্যাট গুলো বিক্রি করা হয় বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে। ১০ তলা বহুতল ভবনটির মাত্র ২ টি চুলার অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু ২ টি চুলার অনুমোদন থাকলেও প্রতিটি ফ্ল্যাটে অবৈধভাবে গ্যাসের চুলা ব্যবহার করছে ফ্ল্যাট মালিকরা। এতে করে শুধু এ ভবন থেকেই সরকার প্রায় প্রতিমাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। যা বছরে দাড়ায় ৬ লক্ষ টাকায়।

হীরাঝিল প্রপার্টির সারাধন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইয়াসিন প্রত্যেকটি ফ্ল্যাট মালিকদের কাছ থেকে প্রতিমাসে গ্যাসের চুলা প্রতি ১১০০ টাকা করে মোট ৪৩ টি চুলা থেকে ৪৭ হাজার ৩ শত টাকা উঠান বলে জানা যায়।

হীরাঝিল এলাকার বাসিন্দারা জানায়, হীরাঝিল প্রপার্টির বহুতল ভবনে ২ গ্যাসের চুলা অনুমোদন রয়েছে। এ ভবনে ৪৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের মালিকরা অবৈধ ভাবে চুলা ব্যবহার করছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের মালিকরা চুলা ব্যবহার করার জন্য মাসিক ১১০০ টাকা করে ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিনের কাছে দিয়ে যাচ্ছেন ফ্ল্যাট মালিকরা। এ অবৈধ গ্যাসের চুলার সংযোগ দেওয়ার মুলহোতা হলো ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিন। আমরা নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, দ্রুত এই বহুতল ভবনের গ্যাস সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হীরাঝিল প্রপার্টির এক ফ্ল্যাট মালিক জানান, আমরা প্রতিমাসে লিফটসহ অন্যান্য খরচের সাথে গ্যাসের চুলা বিল বাবদ ১১০০ টাকা প্রদান করছি ভবনটির অফিসে। এ টাকা তারা কি করছে আমরা তা জানিনা। তবে যতটুকু জেনেছি তারা টাকা উঠিয়ে নিজেদের পকেটে ভরছে এবং ফ্ল্যাট মালিকদের সাথে প্রতারণা করছে।

উক্ত বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিন মুঠোফোনে অবৈধ গ্যাসের চুলা ব্যবহারের কথা জিজ্ঞাসা করলে ইয়াসিন সুকৌশলে বলেন, আমি বাচ্চাকে স্কুল থেকে নিতে এসেছি। আপনার সাথে আমি দেখা করবো বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গণমাধ্যমকর্মীরা উক্ত ভবনটির বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করলে ফ্ল্যাট মালিকরা কৌশলে অবৈধ চুলা অস্থায়ীভাবে খুলে রেখেছে। নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাসের কর্তৃপক্ষরা আসলে অবৈধ চুলা যেন শনাক্ত না করতে পারে।

উক্ত বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ তিতাসের ডিজিএম মনিরুল আজিম মোহন বলেন, কেউ অবৈধ ভাবে গ্যাস সংযোগ অথবা অতিরিক্ত চুলা ব্যবহার করে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা না হবে। উক্ত ভবনটিতে দ্রুত অভিযান করা হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হীরাঝিল বহুতল ভবনে জ্বলছে অবৈধ চুলা, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

হীরাঝিল বহুতল ভবনে জ্বলছে অবৈধ চুলা, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল আবাসিক এলাকার “হীরাঝিল প্রপার্টি” নামক এক বহুতল ভবনে অবৈধ ভাবে ৪৩ টি চুলা ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, হীরাঝিল স্কাই প্লাই রেস্টুরেন্টের বিপরীত পাশের ১১ নং গলিতে ১০ তলা “হীরাঝিল প্রপার্টির” বহুতল ভবনটি সমিতির মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়। ভবনটিতে ৪৫ টি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং ফ্ল্যাট গুলো বিক্রি করা হয় বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে। ১০ তলা বহুতল ভবনটির মাত্র ২ টি চুলার অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু ২ টি চুলার অনুমোদন থাকলেও প্রতিটি ফ্ল্যাটে অবৈধভাবে গ্যাসের চুলা ব্যবহার করছে ফ্ল্যাট মালিকরা। এতে করে শুধু এ ভবন থেকেই সরকার প্রায় প্রতিমাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। যা বছরে দাড়ায় ৬ লক্ষ টাকায়।

হীরাঝিল প্রপার্টির সারাধন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইয়াসিন প্রত্যেকটি ফ্ল্যাট মালিকদের কাছ থেকে প্রতিমাসে গ্যাসের চুলা প্রতি ১১০০ টাকা করে মোট ৪৩ টি চুলা থেকে ৪৭ হাজার ৩ শত টাকা উঠান বলে জানা যায়।

হীরাঝিল এলাকার বাসিন্দারা জানায়, হীরাঝিল প্রপার্টির বহুতল ভবনে ২ গ্যাসের চুলা অনুমোদন রয়েছে। এ ভবনে ৪৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের মালিকরা অবৈধ ভাবে চুলা ব্যবহার করছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের মালিকরা চুলা ব্যবহার করার জন্য মাসিক ১১০০ টাকা করে ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিনের কাছে দিয়ে যাচ্ছেন ফ্ল্যাট মালিকরা। এ অবৈধ গ্যাসের চুলার সংযোগ দেওয়ার মুলহোতা হলো ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিন। আমরা নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, দ্রুত এই বহুতল ভবনের গ্যাস সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হীরাঝিল প্রপার্টির এক ফ্ল্যাট মালিক জানান, আমরা প্রতিমাসে লিফটসহ অন্যান্য খরচের সাথে গ্যাসের চুলা বিল বাবদ ১১০০ টাকা প্রদান করছি ভবনটির অফিসে। এ টাকা তারা কি করছে আমরা তা জানিনা। তবে যতটুকু জেনেছি তারা টাকা উঠিয়ে নিজেদের পকেটে ভরছে এবং ফ্ল্যাট মালিকদের সাথে প্রতারণা করছে।

উক্ত বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিন মুঠোফোনে অবৈধ গ্যাসের চুলা ব্যবহারের কথা জিজ্ঞাসা করলে ইয়াসিন সুকৌশলে বলেন, আমি বাচ্চাকে স্কুল থেকে নিতে এসেছি। আপনার সাথে আমি দেখা করবো বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গণমাধ্যমকর্মীরা উক্ত ভবনটির বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করলে ফ্ল্যাট মালিকরা কৌশলে অবৈধ চুলা অস্থায়ীভাবে খুলে রেখেছে। নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাসের কর্তৃপক্ষরা আসলে অবৈধ চুলা যেন শনাক্ত না করতে পারে।

উক্ত বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ তিতাসের ডিজিএম মনিরুল আজিম মোহন বলেন, কেউ অবৈধ ভাবে গ্যাস সংযোগ অথবা অতিরিক্ত চুলা ব্যবহার করে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা না হবে। উক্ত ভবনটিতে দ্রুত অভিযান করা হবে।