সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল আবাসিক এলাকার “হীরাঝিল প্রপার্টি” নামক এক বহুতল ভবনে অবৈধ ভাবে ৪৩ টি চুলা ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, হীরাঝিল স্কাই প্লাই রেস্টুরেন্টের বিপরীত পাশের ১১ নং গলিতে ১০ তলা “হীরাঝিল প্রপার্টির” বহুতল ভবনটি সমিতির মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়। ভবনটিতে ৪৫ টি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং ফ্ল্যাট গুলো বিক্রি করা হয় বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে। ১০ তলা বহুতল ভবনটির মাত্র ২ টি চুলার অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু ২ টি চুলার অনুমোদন থাকলেও প্রতিটি ফ্ল্যাটে অবৈধভাবে গ্যাসের চুলা ব্যবহার করছে ফ্ল্যাট মালিকরা। এতে করে শুধু এ ভবন থেকেই সরকার প্রায় প্রতিমাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। যা বছরে দাড়ায় ৬ লক্ষ টাকায়।
হীরাঝিল প্রপার্টির সারাধন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইয়াসিন প্রত্যেকটি ফ্ল্যাট মালিকদের কাছ থেকে প্রতিমাসে গ্যাসের চুলা প্রতি ১১০০ টাকা করে মোট ৪৩ টি চুলা থেকে ৪৭ হাজার ৩ শত টাকা উঠান বলে জানা যায়।
হীরাঝিল এলাকার বাসিন্দারা জানায়, হীরাঝিল প্রপার্টির বহুতল ভবনে ২ গ্যাসের চুলা অনুমোদন রয়েছে। এ ভবনে ৪৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের মালিকরা অবৈধ ভাবে চুলা ব্যবহার করছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের মালিকরা চুলা ব্যবহার করার জন্য মাসিক ১১০০ টাকা করে ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিনের কাছে দিয়ে যাচ্ছেন ফ্ল্যাট মালিকরা। এ অবৈধ গ্যাসের চুলার সংযোগ দেওয়ার মুলহোতা হলো ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিন। আমরা নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, দ্রুত এই বহুতল ভবনের গ্যাস সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হীরাঝিল প্রপার্টির এক ফ্ল্যাট মালিক জানান, আমরা প্রতিমাসে লিফটসহ অন্যান্য খরচের সাথে গ্যাসের চুলা বিল বাবদ ১১০০ টাকা প্রদান করছি ভবনটির অফিসে। এ টাকা তারা কি করছে আমরা তা জানিনা। তবে যতটুকু জেনেছি তারা টাকা উঠিয়ে নিজেদের পকেটে ভরছে এবং ফ্ল্যাট মালিকদের সাথে প্রতারণা করছে।
উক্ত বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিন মুঠোফোনে অবৈধ গ্যাসের চুলা ব্যবহারের কথা জিজ্ঞাসা করলে ইয়াসিন সুকৌশলে বলেন, আমি বাচ্চাকে স্কুল থেকে নিতে এসেছি। আপনার সাথে আমি দেখা করবো বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গণমাধ্যমকর্মীরা উক্ত ভবনটির বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করলে ফ্ল্যাট মালিকরা কৌশলে অবৈধ চুলা অস্থায়ীভাবে খুলে রেখেছে। নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাসের কর্তৃপক্ষরা আসলে অবৈধ চুলা যেন শনাক্ত না করতে পারে।
উক্ত বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ তিতাসের ডিজিএম মনিরুল আজিম মোহন বলেন, কেউ অবৈধ ভাবে গ্যাস সংযোগ অথবা অতিরিক্ত চুলা ব্যবহার করে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা না হবে। উক্ত ভবনটিতে দ্রুত অভিযান করা হবে।
প্রতিনিধির নাম 





















