নারায়ণগঞ্জ ১১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নারায়ণগঞ্জে ৩টি উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন যারা গুণী জনদের পদচারণায়  উদযাপিত  দৈনিক আজকের নীর বাংলা পত্রিকা’র ১৫ তম  বর্ষপূর্তি সিদ্ধিরগঞ্জে রাজউকের অভিযানে ক্ষুব্ধ ভবন মালিকরা রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মজিবুর রহমান সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই শিক্ষার মান উন্নয়নের তাগিদ অস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন না করেও অপপ্রচারের শিকার মহিউদ্দিন মোল্লা ! সাংবাদিক শাওনের বাবা ফিরোজ আহমেদ আর নেই রিয়াদে জমকালো আয়োজনে মাই টিভির ১৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন রিয়াদে প্রিমিয়াম ফুটবল লীগের ফাইনাল অনুষ্ঠিত জুন মাসের ১৭ তারিখ কোরবানির ঈদ পালিত হওয়ার সম্ভবনা রিয়াদে নোভ আল আম্মার ইষ্টাবলিস্ট এর আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত-১৬ ঘটনা তদন্তে ৩ টি কমিটি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • ১৭১ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকায় মসজিদে ভয়াবহ এসি বিস্ফোরণে অগ্নি দগ্ধ হয়ে শিশুসহ ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৪০ জন মুসল্লি। বেদনা বিধুর এ ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এশার ফরজ নামাজ শেষ হওয়ার পর বাইতুস সালাত জামে মসজিদে। আহতদের ঢামেক ও শেখ হাসিনা জাতিয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহল ঘটনাস্থল পরির্দন করেছেন। এ ঘটনা তদন্তে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিস্ফোরণে নিহতরা হলো মসজিদের মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৫) সাব্বির (২২), জামাল (৪০), জুবায়ের (১৪), হুমায়ূন কবির (৭০), মোস্তফা কামাল (৩৪), ইব্রাহিম (৪৩), রিফাত (১৮), জুনায়েদ (১৭), কুদ্দুস বেপারী (৭২), রাশেদ (৩০) ও জুয়েল নামে সাত বছরের ১ শিশুসহ ১৬ জন। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখন পর্যন্ত ১৬ জন মারা গেছে। অন্যদের অবস্থাও সংকটাপন্ন।
বিস্ফোরণে দগ্ধ ইমাম, জেলা প্রশাসনের একজন কর্মচারী ও একজন ফটো সাংবাদিকসহ ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা জাতিয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে রয়েছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা। মসজিদের মেঝের নিচ দিয়ে তিতাসের গ্যাসের লাইন গিয়েছে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল জিল্লুর রহমান বলেন, নিচের গ্যাস লাইন থেকে মসজিদের ভেতর গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ জানতে ফায়ার সর্ভিসের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন। অপরদিকে ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন ও তিতাসের পক্ষ থেকেই পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মুসল্লি ফাহিম জানায়, এশার ফরজ নামাজ শেষে মোনাজাত চলার সময় মসজিদে লাগানো দুই টনের ৬ টি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) এক সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। এতে মসজিদে আগুন ধরে যায়। প্রাণ বাঁচাতে মুসল্লিরা দৌড়াদৌড়ি করে বাহির হতে গিয়ে অনেকই বস্ত্রহীন হয়ে পড়ে। যাদের দেহে আগুন ধরেছিল তারা বাইরে কাদা পানিতে গড়াগড়ি করেছে। নামাজ চলার সময় মসজিদে প্রায় দেড়শতাধিক মুসল্লি ছিল।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল রেড টেপ দিয়ে আটকিয়ে দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব এবং ও কেবিনেট সেক্রেটারিসহ সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাকে আশ্বস্থ করে সবাইকে ধৈর্য ধারন করার অনুরোধ করেছেন।
জেলা পুলিশ সুপার মো: জায়েদুল আলম বলেন, আহতদের অনেকরই অবস্থা গুরুতর। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে বিদ্যুতের লুজ কানেকশন অথবা গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণটি হতে পারে। পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাতœক চেষ্টা করেছে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

নারায়ণগঞ্জে ৩টি উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন যারা

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত-১৬ ঘটনা তদন্তে ৩ টি কমিটি

আপডেট সময় : ১০:২৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকায় মসজিদে ভয়াবহ এসি বিস্ফোরণে অগ্নি দগ্ধ হয়ে শিশুসহ ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৪০ জন মুসল্লি। বেদনা বিধুর এ ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এশার ফরজ নামাজ শেষ হওয়ার পর বাইতুস সালাত জামে মসজিদে। আহতদের ঢামেক ও শেখ হাসিনা জাতিয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহল ঘটনাস্থল পরির্দন করেছেন। এ ঘটনা তদন্তে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিস্ফোরণে নিহতরা হলো মসজিদের মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৫) সাব্বির (২২), জামাল (৪০), জুবায়ের (১৪), হুমায়ূন কবির (৭০), মোস্তফা কামাল (৩৪), ইব্রাহিম (৪৩), রিফাত (১৮), জুনায়েদ (১৭), কুদ্দুস বেপারী (৭২), রাশেদ (৩০) ও জুয়েল নামে সাত বছরের ১ শিশুসহ ১৬ জন। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখন পর্যন্ত ১৬ জন মারা গেছে। অন্যদের অবস্থাও সংকটাপন্ন।
বিস্ফোরণে দগ্ধ ইমাম, জেলা প্রশাসনের একজন কর্মচারী ও একজন ফটো সাংবাদিকসহ ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা জাতিয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে রয়েছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা। মসজিদের মেঝের নিচ দিয়ে তিতাসের গ্যাসের লাইন গিয়েছে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল জিল্লুর রহমান বলেন, নিচের গ্যাস লাইন থেকে মসজিদের ভেতর গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ জানতে ফায়ার সর্ভিসের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন। অপরদিকে ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন ও তিতাসের পক্ষ থেকেই পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মুসল্লি ফাহিম জানায়, এশার ফরজ নামাজ শেষে মোনাজাত চলার সময় মসজিদে লাগানো দুই টনের ৬ টি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) এক সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। এতে মসজিদে আগুন ধরে যায়। প্রাণ বাঁচাতে মুসল্লিরা দৌড়াদৌড়ি করে বাহির হতে গিয়ে অনেকই বস্ত্রহীন হয়ে পড়ে। যাদের দেহে আগুন ধরেছিল তারা বাইরে কাদা পানিতে গড়াগড়ি করেছে। নামাজ চলার সময় মসজিদে প্রায় দেড়শতাধিক মুসল্লি ছিল।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল রেড টেপ দিয়ে আটকিয়ে দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব এবং ও কেবিনেট সেক্রেটারিসহ সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাকে আশ্বস্থ করে সবাইকে ধৈর্য ধারন করার অনুরোধ করেছেন।
জেলা পুলিশ সুপার মো: জায়েদুল আলম বলেন, আহতদের অনেকরই অবস্থা গুরুতর। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে বিদ্যুতের লুজ কানেকশন অথবা গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণটি হতে পারে। পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাতœক চেষ্টা করেছে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে।