নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সুযোগ্য এসপি হারুনের থাকাতেও পুলিশের উপর হামলা!!

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৯
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি: মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে আড়াইহাজারে পুলিশের উপর হামলা, তিন পুলিশ সদস্য আহত। শনিবার (২৭ এপ্রিল) যানজট নিরসনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চাষাঢ়ায় দুই ভাইয়ের হাতে এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য’র মার খাওয়া। একই দিনে আড়াইহাজারে আবার পিকআপ ভ্যান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে জগড়া নিরসনে পুলিশের ৪ সদস্য গেলে স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার জিম্মায় ফের মার খেলো পুলিশ। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এমনও গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে, যে জেলায় এসপি হারুনের মতো সাহসী কর্মকর্তা থাকেন সে জেলায় কিভাবে পুলিশ মার খান?

পুলিশ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে ভূমিকা পালন করে। আর সেই পুলিশের নিরাপত্তা যখন হুমকির মুখে থাকে তখন জনগণের নিরাপত্তা নিয়েও উঠে প্রশ্ন। আতঙ্কের সৃষ্টি হয় জনমনে। নারায়ণগঞ্জের সুজোগ্য পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ (পিপিএম), (বিপিএম) বার যখন নারায়ণগঞ্জের মাটিতে পাড়া দিয়েছেন। তার পরেই তিনি মাদক ব্যবসা, জুট সন্ত্রাস, ভূমী দস্যু, চাঁদাবাজ, প্রতারক, সন্ত্রাস ইত্যাদী সকল অপরাধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তার পর নারায়ণগঞ্জে শুরু হয় একের পর এক পুলিশি শুদ্ধি অভিযান। শুদ্ধি অভিযানে বাদ পড়েনি প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিরাও। জনমনে আসে সস্তির নিঃশ্বাস। এরপর পুলিশের একের পর এক মার খাওয়ায় হতাস নারায়ণগঞ্জবাসী।

গত বুধবার (১৭ এপ্রিল) আড়াইহাজার উপজেলায় এক মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটায় ছাত্রলীগ। হামলায় আহত হন এটিএসআই মামুন, কনস্টেবল আবুল বাশার ও কনস্টেবল ইমরান। আহত এই তিন পুলিশ সদস্যকে খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্রকেন্দ্রে ভর্তি করেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকা গোপালদী পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজয় সাহাসহ মাদক ব্যবসায়ী দিদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে। পরবর্তীতে তারা ছাড়া পেলেও আই ওয়াশের জন্য ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারনে সেই মামলার আজও হয়নি কোন সুরহা। নেওয়া হয়নি শক্ত কোন পদক্ষেপ।

এরই ধারাবাহিকতায়, গত শনিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার ধাক্কা লাগলে জানযট সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বে থাকা সোহেল রানা যান দুটির ড্রাইভারকে রাস্তার এক পাশে সরে যেতে বলেন। প্রাইভেট কারটিতে থাকা দুই ভাই বিনয় ও তন্ময় তৎক্ষনাত গাড়ি থেকে বের হয়ে পুলিশ সদস্য সোহেল রানাকে মারধরের ঘটনা ঘটান। যদিও আশপাশের লোকজনের সহযোগীতায় এই ঘটনায় জড়িত দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার পুলিশ।

একই দিনে, আবারও আড়াইহাজারে স্থানীয় আওয়ামিলীগের নেতার জিম্মায় থেকে চার পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনা ঘটে। রাত ৮ টায় উপজেলা ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের লস্করদী এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

আড়াইহাজার থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পিক আপ ভ্যান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হয়। এ সময় টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

এলাকাবাসির সূত্রে জানা যায়, আড়াইহাজার থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে সাদা পোশাকে ৪ পুলিশ সদস্য পিকআপ ভ্যানটিকে জব্দ করে। পিকাআপ ভ্যানের মালিক তখন ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন খোকার কাছে জানান। মোফাজ্জল হোসেন তার ম্যানেজার টিপুকে পাঠান। টিপু পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন। পুলিশ তার এই অবস্থানের প্রতিউত্তর দিতে গেলে আশপাশের আরও লোকজন নিয়ে তাদের উপর হামলার ঘটনাটি ঘটান। এবং ৪ পুলিশকে আটক করে মোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যান। সেইখানেও তাদের উপরে চলে নির্যাতন। পরবর্তিতে খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেন। এ বিষয়টি এখনও পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে বলেও জানা যায়। গত ২৯ মার্চ আড়াইহাজার থানায় ঢুকে সরাসরি পুলিশ সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয় স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অদৃশ্য কারনে এই ঘটনারও আইনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পুলিশ।

উল্লেখ্য, এভাবে পুলিশের উপর একের পর এক হামলার ঘটনায় সঙ্কিত হয়ে আছেন বলেও মত প্রকাশ করেছেন সচেতন মহলের অনেকেই। তাদের মতে, এসপি হারুন অর রশিদের শুদ্ধি অভিজানগুলো প্রশংসার যোগ্য। তার এই রূপ অভিযানে যাতে করে বিঘœতা ঘটে, তাই হতে কোন মহলের ইন্দ্রনে পুলিশের উপর হামলার একের পর এক ঘটনা ঘটছে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারকে তাই আরও শক্ত এবং সতর্ক ভূমিকা পালন করা উচিত। তার দল-মত নির্বিশেষে আইনের আদলে নারায়ণগঞ্জকে সাজানো পথ রুদ্ধকারিদের ব্যপারে আরও সোচ্চার ভূমিকা পালন করায় নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের যথেষ্ট সহযোগিতা যেমন পেয়ে আসছেন, আরও পাবেন বলেও আমরা মনে করি।

এই সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএজবি) নূরে আলম নারায়ণগঞ্জ প্রতিদিন ডট কমের কাছে বলেন, গত শনিবার ট্রাফিক পুলিশের সাথের ঘটনাটায় আমরা দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং আড়াইহাজারের ঘটনাটির তদন্ত চলছে, তদন্তের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুযোগ্য এসপি হারুনের থাকাতেও পুলিশের উপর হামলা!!

আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৯

বিশেষ প্রতিনিধি: মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে আড়াইহাজারে পুলিশের উপর হামলা, তিন পুলিশ সদস্য আহত। শনিবার (২৭ এপ্রিল) যানজট নিরসনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চাষাঢ়ায় দুই ভাইয়ের হাতে এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য’র মার খাওয়া। একই দিনে আড়াইহাজারে আবার পিকআপ ভ্যান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে জগড়া নিরসনে পুলিশের ৪ সদস্য গেলে স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার জিম্মায় ফের মার খেলো পুলিশ। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এমনও গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে, যে জেলায় এসপি হারুনের মতো সাহসী কর্মকর্তা থাকেন সে জেলায় কিভাবে পুলিশ মার খান?

পুলিশ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে ভূমিকা পালন করে। আর সেই পুলিশের নিরাপত্তা যখন হুমকির মুখে থাকে তখন জনগণের নিরাপত্তা নিয়েও উঠে প্রশ্ন। আতঙ্কের সৃষ্টি হয় জনমনে। নারায়ণগঞ্জের সুজোগ্য পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ (পিপিএম), (বিপিএম) বার যখন নারায়ণগঞ্জের মাটিতে পাড়া দিয়েছেন। তার পরেই তিনি মাদক ব্যবসা, জুট সন্ত্রাস, ভূমী দস্যু, চাঁদাবাজ, প্রতারক, সন্ত্রাস ইত্যাদী সকল অপরাধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তার পর নারায়ণগঞ্জে শুরু হয় একের পর এক পুলিশি শুদ্ধি অভিযান। শুদ্ধি অভিযানে বাদ পড়েনি প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিরাও। জনমনে আসে সস্তির নিঃশ্বাস। এরপর পুলিশের একের পর এক মার খাওয়ায় হতাস নারায়ণগঞ্জবাসী।

গত বুধবার (১৭ এপ্রিল) আড়াইহাজার উপজেলায় এক মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটায় ছাত্রলীগ। হামলায় আহত হন এটিএসআই মামুন, কনস্টেবল আবুল বাশার ও কনস্টেবল ইমরান। আহত এই তিন পুলিশ সদস্যকে খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্রকেন্দ্রে ভর্তি করেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকা গোপালদী পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজয় সাহাসহ মাদক ব্যবসায়ী দিদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে। পরবর্তীতে তারা ছাড়া পেলেও আই ওয়াশের জন্য ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারনে সেই মামলার আজও হয়নি কোন সুরহা। নেওয়া হয়নি শক্ত কোন পদক্ষেপ।

এরই ধারাবাহিকতায়, গত শনিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার ধাক্কা লাগলে জানযট সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বে থাকা সোহেল রানা যান দুটির ড্রাইভারকে রাস্তার এক পাশে সরে যেতে বলেন। প্রাইভেট কারটিতে থাকা দুই ভাই বিনয় ও তন্ময় তৎক্ষনাত গাড়ি থেকে বের হয়ে পুলিশ সদস্য সোহেল রানাকে মারধরের ঘটনা ঘটান। যদিও আশপাশের লোকজনের সহযোগীতায় এই ঘটনায় জড়িত দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার পুলিশ।

একই দিনে, আবারও আড়াইহাজারে স্থানীয় আওয়ামিলীগের নেতার জিম্মায় থেকে চার পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনা ঘটে। রাত ৮ টায় উপজেলা ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের লস্করদী এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

আড়াইহাজার থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পিক আপ ভ্যান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হয়। এ সময় টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

এলাকাবাসির সূত্রে জানা যায়, আড়াইহাজার থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে সাদা পোশাকে ৪ পুলিশ সদস্য পিকআপ ভ্যানটিকে জব্দ করে। পিকাআপ ভ্যানের মালিক তখন ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন খোকার কাছে জানান। মোফাজ্জল হোসেন তার ম্যানেজার টিপুকে পাঠান। টিপু পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন। পুলিশ তার এই অবস্থানের প্রতিউত্তর দিতে গেলে আশপাশের আরও লোকজন নিয়ে তাদের উপর হামলার ঘটনাটি ঘটান। এবং ৪ পুলিশকে আটক করে মোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যান। সেইখানেও তাদের উপরে চলে নির্যাতন। পরবর্তিতে খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেন। এ বিষয়টি এখনও পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে বলেও জানা যায়। গত ২৯ মার্চ আড়াইহাজার থানায় ঢুকে সরাসরি পুলিশ সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয় স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অদৃশ্য কারনে এই ঘটনারও আইনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পুলিশ।

উল্লেখ্য, এভাবে পুলিশের উপর একের পর এক হামলার ঘটনায় সঙ্কিত হয়ে আছেন বলেও মত প্রকাশ করেছেন সচেতন মহলের অনেকেই। তাদের মতে, এসপি হারুন অর রশিদের শুদ্ধি অভিজানগুলো প্রশংসার যোগ্য। তার এই রূপ অভিযানে যাতে করে বিঘœতা ঘটে, তাই হতে কোন মহলের ইন্দ্রনে পুলিশের উপর হামলার একের পর এক ঘটনা ঘটছে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারকে তাই আরও শক্ত এবং সতর্ক ভূমিকা পালন করা উচিত। তার দল-মত নির্বিশেষে আইনের আদলে নারায়ণগঞ্জকে সাজানো পথ রুদ্ধকারিদের ব্যপারে আরও সোচ্চার ভূমিকা পালন করায় নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের যথেষ্ট সহযোগিতা যেমন পেয়ে আসছেন, আরও পাবেন বলেও আমরা মনে করি।

এই সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএজবি) নূরে আলম নারায়ণগঞ্জ প্রতিদিন ডট কমের কাছে বলেন, গত শনিবার ট্রাফিক পুলিশের সাথের ঘটনাটায় আমরা দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং আড়াইহাজারের ঘটনাটির তদন্ত চলছে, তদন্তের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।