নারায়ণগঞ্জ ০৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন কাউন্সিলররা জড়িয়ে পড়ছেন অপরাধে

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৯
  • ১৭৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রপিোটার:অপরাধীদের সব সময় অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য একটি সাইনবোর্ডের প্রয়োজন পরে। আর যদি সেই সাইনবোর্ড হয় খুবিই শক্তিশালী তাহলে তাদের অপরাধের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েকশ গুণ। নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবার হলো তেমনই এক সাইনবোর্ড। যাতে বিদ্যমান আছে দুই জন প্রভাবশালী এমপি। যেখানে গরীবের বন্ধু এবং দানশীল হিসেবে পরিচিত সেলিম ওসমান এবং মাদক, সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদের জম হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী শামীম ওসমান।

নারায়ণগঞ্জে এই সাইনবোর্ডটিই অপরাধীদের কাছে সবচাইতে পছন্দের হওয়া মোটেও অসাভাবিক নয়। তাইতো এই ওসমান পরিবারকে বোকা বানিয়ে একের পর এক অপরাধের কর্মকান্ড করে যাচ্ছিল বিভিন্ন মাদক বিক্রেতা, সন্ত্রাস, ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজ এবং নানা অপকর্মকারীগণ।

যে শামীম ওসমান মানুষের উপর জুলুম কারিদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিতে জানে, যে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রেতা, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসী এবং ভূমীদস্যুদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে জানে, তাকে জানিয়ে এসব অপকর্ম করে যাবে তারিই একনিষ্ঠ ব্যক্তিগণ সেই ব্যক্তিই কি হতে পারে শামীম ওসমান? প্রশ্ন থেকে যায় জনমনে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের যোগদানের পর মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে চলছে শুদ্ধি অভিযান। আর এ শুদ্ধি অভিযানে অপরাধীদের পাশাপাশি নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) কাউন্সিলররা। আর এ তালিকায় রয়েছেন সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া নাসিক ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, নাসিক ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান এবং নাসিক ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক।

নাসিক ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসানের বিরুদ্ধে রয়েছে স্কুল শিক্ষকের বাড়ির কাঁজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ। এছাড়া এমনও অভিযোগ রয়েছে কাউন্সিলর হাসান মাদকের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে।

এদিকে নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ প্রভাব বিস্তারেরও অভিযোগ রয়েছে। কাউন্সিলর মতির তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সাতঘোড়া সিমেন্ট কম্পানীর প্লান্ট অফিসার মহিউদ্দিন আহম্মেদ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৭০, মতির সহযোগী সন্ত্রাসীরা হলো সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সুমিল পাড়ার এলাকার রফিকের ছেলে রাব্বি, একই এলাকার মজিদের ছেলে সেলিম ও হোসেন মেম্বারের ছেলে ফালু। মতির রয়েছে একটি স্বসস্ত্র বাহিনী। এই স্বসস্ত্র বাহিনী দিয়ে সিদ্ধিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব খাটাচ্ছে মতি। এর মূল কারন হলো নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এক সাংসদ সদস্যের আশির্বাদ রয়েছে তার মাথার উপর। ওই সাংসদের প্রভাবকে পুজি করে আজ সে বনে গেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি, নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র। এই কাউন্সিলর বার্মা ও এসও স্ট্যন্ড’র তেল নিয়ে চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা ও একচ্ছত্র আদিপত্য বিস্তার করে আসছেন। মতির উপর অসন্তুষ্ট, ক্ষুব্দ প্রবীণ আওয়ামীলীগের নেতারাও।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে নাসিক ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরুফে ডিস বাবুকে বন্দর থানার একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। বাবু গ্রেপ্তারের পর ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি, সদর মডেল থানায় একটি মামলা ও স্কুল দখল করে ক্লাব বানানোর অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর আগে তার বিরুদ্ধে পুরো জেলা জুড়ে ডিস ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ড, ভূমিদস্যুতা ও সেট টপ বক্সের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা আদায়, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সংযোগের নামে টিভি মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবীসহ নানা অভিযোগ তার নামে উঠে আসে। গত বছরে নিতাইগঞ্জ এলাকায় তার ভাইয়ের সাথে এক পক্ষের কথা কাটাকাটির জের ধরে পিস্তল বের করে প্রকাশ্যে গুলি করারও অভিযোগ ছিল।

এর পর গত বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল সারে এগারোটায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে বন্দরের বিধবা ফরদিা বেগম সংবাদ সম্মেলন করেন নাসিক ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধানের বিরুদ্ধে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিধবা ওই নারীর ছেলে তানভীর আহম্মেদ সোহেল ও দেবরের মেয়ে শারমিন আমিরকে সার্বিকভাবে জমি দখল ও ভয়ভীতি দেখানো এবং বিক্রিতে সার্বিক সহযোগীতা করছে কাউন্সিলর দুলাল প্রধান। পাশপাশি ওই বিধবা নারীর কাছ থেকে গত কোরবানীর ঈদে গরু কেনার কথা বলেও ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ওই কাউন্সিলর। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের ফিরিস্তি রয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখার কাছে। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা শাখার একাধিক কর্মকর্তা।

এই ঘটনার পূর্বে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোডে থাকা ফুটপাতে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকারি হিসেবে অভিযোগ উঠে আসে। চাঁদাবাজী নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশাল বাহিনী গঠন করে চিটাগাং রোডের রেন্ট এ কার মাঠ থেকে ডাচ বাংলার মোড় পর্যন্ত গড়ে তুলেছেন চাঁদাবাজির বিশাল দূর্গ। প্রায় ৪শ দোকানে একক কর্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন এ জনপ্রতিনিধি।

অভিযোগে আরও জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সাথে মাসোহারা চুক্তির মাধ্যমে এই বিশাল চাঁদাবাজী এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন ওই কাউন্সিলর। স¤প্রতি চাঁদাবাজীর সময় দুলাল নামে এক চাঁদাবাজকে হকার ও এলাকাবাসী ধরে পুলিশে দিলেও কয়েক ঘন্টা পর কাউন্সিলর ওমর ফারুকের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।

জানা গেছে, সড়ক ও জনপথের এই বিশাল জায়গায় ৪ শতাধিক হকার ভাসমান দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। আর এই হকারদের কাছ থেকে দৈনিক ৪/৫ শ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছে কাউন্সিলর ওমর ফারুকের নিয়োজিত লোকজন। এতেকরে দৈনিক লাখ টাকা চাঁদাবাজী হচ্ছে কাউন্সিলর ফারুকের নিয়ন্ত্রণে। শুধু তাই নয়, অসুখ বিসুখ বা কোন কারনে এক দুদিন হকার না আসলে তার দোকান অন্যজনের কাছে ২০/৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় ফারুকের লোকজন। প্রতিবাদ করলে চালানো হয় নির্যাতন। মালামার ফাদে ফেলে করা হয় উৎখাত।

এলাকাবাসী জানায়, অবৈধ টাকার জোরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (এনসিসি) সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হয়ে জনসেবার পরিবর্তে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে জনগণের অতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বহু বিতর্কিত পদহীন যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক।

দীর্ঘ দিন ধরেই তার বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও টাউট মাদবরি করার অভিযোগ। একাধিকবার আটক হলেও রহস্য জনক কারণে ছাড়া পেয়ে যায় সে।

উল্লেখ্য, শামিম ওসমানকে বোকা বানিয়ে তার একনিষ্ঠ ব্যাক্তিদের অপকর্মে শামিম ওসমান নিজেও পড়েছেন দুঃশ্চিন্তায়। তাইতো বাবু গ্রেপ্তার হওয়ার পর এসপি হারুনের কাছে গিয়েও তিনি ছিলেন নির্বাক। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধংশের পায়তারাকারিদেরকে তিনিও যে কখনো ক্ষমা করতে পারছেন না তারিই প্রকাশ ঘটে সেই দিনে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং পরে বিএনপির একটি অভিযোগের তির ছুরার চেষ্টা ছিল হরহামেশা। বিএনপি ছাড়া তার দলের অপরাধীদেরকে তিনি রেহাই দিচ্ছেন। তখন প্রধানমন্ত্রী মুখে বারবার উচ্চারিত হতো,‘ অপরাধীরা যে দলেরিই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ তারিই প্রকাশ ঘটলো এসপি হারুন অর রশীদ এবং নারায়ণগঞ্জের এমপি শামীম ওসমানের কঠোর ভূমিকায়। যদিও শামীম ওসমান যা ভাবতে পারেননি তার ব্যতিক্রম ঘটায় কিছুটা দ্বিধা দ্বন্দের মাঝে পড়ে যায়। কিন্তু সেই দ্বিধা কাটিয়ে হয়তো তিনি শিঘ্রই এসপি হারুন অর রশীদের সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করবেন।

প্রশ্ন থেকে যায় তবুও, এসব অপরাধীদের কারনে যে ক্ষতির সম্মুখিন হলো নারায়ণগঞ্জবাসী তার দায় নিবে কে? ক্ষমতার সাইনবোর্ডের অপব্যবহার কি সামনের দিকে বন্ধ হওয়ার পথে? শামীম ওসমানসহ ক্ষমতাসীন এমপি-মন্ত্রীরা কি এসব বিষয়ে এখনো সময় হয় নাই যথেষ্ট সতর্ক অবস্থানে যাওয়ার? এসব প্রশ্নের উত্তর খুজছে নারায়ণগঞ্জের আপামর জনতা। কি ভূমিকা থাকে এমপি-মন্ত্রীদের পক্ষ হতে তার অপেক্ষায় নারায়ণগঞ্জবাসী।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন কাউন্সিলররা জড়িয়ে পড়ছেন অপরাধে

আপডেট সময় : ১২:৪৩:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৯

স্টাফ রপিোটার:অপরাধীদের সব সময় অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য একটি সাইনবোর্ডের প্রয়োজন পরে। আর যদি সেই সাইনবোর্ড হয় খুবিই শক্তিশালী তাহলে তাদের অপরাধের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েকশ গুণ। নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবার হলো তেমনই এক সাইনবোর্ড। যাতে বিদ্যমান আছে দুই জন প্রভাবশালী এমপি। যেখানে গরীবের বন্ধু এবং দানশীল হিসেবে পরিচিত সেলিম ওসমান এবং মাদক, সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদের জম হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী শামীম ওসমান।

নারায়ণগঞ্জে এই সাইনবোর্ডটিই অপরাধীদের কাছে সবচাইতে পছন্দের হওয়া মোটেও অসাভাবিক নয়। তাইতো এই ওসমান পরিবারকে বোকা বানিয়ে একের পর এক অপরাধের কর্মকান্ড করে যাচ্ছিল বিভিন্ন মাদক বিক্রেতা, সন্ত্রাস, ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজ এবং নানা অপকর্মকারীগণ।

যে শামীম ওসমান মানুষের উপর জুলুম কারিদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিতে জানে, যে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রেতা, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসী এবং ভূমীদস্যুদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে জানে, তাকে জানিয়ে এসব অপকর্ম করে যাবে তারিই একনিষ্ঠ ব্যক্তিগণ সেই ব্যক্তিই কি হতে পারে শামীম ওসমান? প্রশ্ন থেকে যায় জনমনে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের যোগদানের পর মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে চলছে শুদ্ধি অভিযান। আর এ শুদ্ধি অভিযানে অপরাধীদের পাশাপাশি নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) কাউন্সিলররা। আর এ তালিকায় রয়েছেন সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া নাসিক ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, নাসিক ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান এবং নাসিক ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক।

নাসিক ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসানের বিরুদ্ধে রয়েছে স্কুল শিক্ষকের বাড়ির কাঁজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ। এছাড়া এমনও অভিযোগ রয়েছে কাউন্সিলর হাসান মাদকের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে।

এদিকে নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ প্রভাব বিস্তারেরও অভিযোগ রয়েছে। কাউন্সিলর মতির তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সাতঘোড়া সিমেন্ট কম্পানীর প্লান্ট অফিসার মহিউদ্দিন আহম্মেদ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৭০, মতির সহযোগী সন্ত্রাসীরা হলো সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সুমিল পাড়ার এলাকার রফিকের ছেলে রাব্বি, একই এলাকার মজিদের ছেলে সেলিম ও হোসেন মেম্বারের ছেলে ফালু। মতির রয়েছে একটি স্বসস্ত্র বাহিনী। এই স্বসস্ত্র বাহিনী দিয়ে সিদ্ধিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব খাটাচ্ছে মতি। এর মূল কারন হলো নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এক সাংসদ সদস্যের আশির্বাদ রয়েছে তার মাথার উপর। ওই সাংসদের প্রভাবকে পুজি করে আজ সে বনে গেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি, নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র। এই কাউন্সিলর বার্মা ও এসও স্ট্যন্ড’র তেল নিয়ে চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা ও একচ্ছত্র আদিপত্য বিস্তার করে আসছেন। মতির উপর অসন্তুষ্ট, ক্ষুব্দ প্রবীণ আওয়ামীলীগের নেতারাও।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে নাসিক ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরুফে ডিস বাবুকে বন্দর থানার একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। বাবু গ্রেপ্তারের পর ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি, সদর মডেল থানায় একটি মামলা ও স্কুল দখল করে ক্লাব বানানোর অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর আগে তার বিরুদ্ধে পুরো জেলা জুড়ে ডিস ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ড, ভূমিদস্যুতা ও সেট টপ বক্সের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা আদায়, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সংযোগের নামে টিভি মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবীসহ নানা অভিযোগ তার নামে উঠে আসে। গত বছরে নিতাইগঞ্জ এলাকায় তার ভাইয়ের সাথে এক পক্ষের কথা কাটাকাটির জের ধরে পিস্তল বের করে প্রকাশ্যে গুলি করারও অভিযোগ ছিল।

এর পর গত বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল সারে এগারোটায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে বন্দরের বিধবা ফরদিা বেগম সংবাদ সম্মেলন করেন নাসিক ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধানের বিরুদ্ধে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিধবা ওই নারীর ছেলে তানভীর আহম্মেদ সোহেল ও দেবরের মেয়ে শারমিন আমিরকে সার্বিকভাবে জমি দখল ও ভয়ভীতি দেখানো এবং বিক্রিতে সার্বিক সহযোগীতা করছে কাউন্সিলর দুলাল প্রধান। পাশপাশি ওই বিধবা নারীর কাছ থেকে গত কোরবানীর ঈদে গরু কেনার কথা বলেও ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ওই কাউন্সিলর। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের ফিরিস্তি রয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখার কাছে। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা শাখার একাধিক কর্মকর্তা।

এই ঘটনার পূর্বে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোডে থাকা ফুটপাতে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকারি হিসেবে অভিযোগ উঠে আসে। চাঁদাবাজী নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশাল বাহিনী গঠন করে চিটাগাং রোডের রেন্ট এ কার মাঠ থেকে ডাচ বাংলার মোড় পর্যন্ত গড়ে তুলেছেন চাঁদাবাজির বিশাল দূর্গ। প্রায় ৪শ দোকানে একক কর্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন এ জনপ্রতিনিধি।

অভিযোগে আরও জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সাথে মাসোহারা চুক্তির মাধ্যমে এই বিশাল চাঁদাবাজী এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন ওই কাউন্সিলর। স¤প্রতি চাঁদাবাজীর সময় দুলাল নামে এক চাঁদাবাজকে হকার ও এলাকাবাসী ধরে পুলিশে দিলেও কয়েক ঘন্টা পর কাউন্সিলর ওমর ফারুকের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।

জানা গেছে, সড়ক ও জনপথের এই বিশাল জায়গায় ৪ শতাধিক হকার ভাসমান দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। আর এই হকারদের কাছ থেকে দৈনিক ৪/৫ শ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছে কাউন্সিলর ওমর ফারুকের নিয়োজিত লোকজন। এতেকরে দৈনিক লাখ টাকা চাঁদাবাজী হচ্ছে কাউন্সিলর ফারুকের নিয়ন্ত্রণে। শুধু তাই নয়, অসুখ বিসুখ বা কোন কারনে এক দুদিন হকার না আসলে তার দোকান অন্যজনের কাছে ২০/৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় ফারুকের লোকজন। প্রতিবাদ করলে চালানো হয় নির্যাতন। মালামার ফাদে ফেলে করা হয় উৎখাত।

এলাকাবাসী জানায়, অবৈধ টাকার জোরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (এনসিসি) সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হয়ে জনসেবার পরিবর্তে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে জনগণের অতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বহু বিতর্কিত পদহীন যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক।

দীর্ঘ দিন ধরেই তার বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও টাউট মাদবরি করার অভিযোগ। একাধিকবার আটক হলেও রহস্য জনক কারণে ছাড়া পেয়ে যায় সে।

উল্লেখ্য, শামিম ওসমানকে বোকা বানিয়ে তার একনিষ্ঠ ব্যাক্তিদের অপকর্মে শামিম ওসমান নিজেও পড়েছেন দুঃশ্চিন্তায়। তাইতো বাবু গ্রেপ্তার হওয়ার পর এসপি হারুনের কাছে গিয়েও তিনি ছিলেন নির্বাক। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধংশের পায়তারাকারিদেরকে তিনিও যে কখনো ক্ষমা করতে পারছেন না তারিই প্রকাশ ঘটে সেই দিনে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং পরে বিএনপির একটি অভিযোগের তির ছুরার চেষ্টা ছিল হরহামেশা। বিএনপি ছাড়া তার দলের অপরাধীদেরকে তিনি রেহাই দিচ্ছেন। তখন প্রধানমন্ত্রী মুখে বারবার উচ্চারিত হতো,‘ অপরাধীরা যে দলেরিই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ তারিই প্রকাশ ঘটলো এসপি হারুন অর রশীদ এবং নারায়ণগঞ্জের এমপি শামীম ওসমানের কঠোর ভূমিকায়। যদিও শামীম ওসমান যা ভাবতে পারেননি তার ব্যতিক্রম ঘটায় কিছুটা দ্বিধা দ্বন্দের মাঝে পড়ে যায়। কিন্তু সেই দ্বিধা কাটিয়ে হয়তো তিনি শিঘ্রই এসপি হারুন অর রশীদের সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করবেন।

প্রশ্ন থেকে যায় তবুও, এসব অপরাধীদের কারনে যে ক্ষতির সম্মুখিন হলো নারায়ণগঞ্জবাসী তার দায় নিবে কে? ক্ষমতার সাইনবোর্ডের অপব্যবহার কি সামনের দিকে বন্ধ হওয়ার পথে? শামীম ওসমানসহ ক্ষমতাসীন এমপি-মন্ত্রীরা কি এসব বিষয়ে এখনো সময় হয় নাই যথেষ্ট সতর্ক অবস্থানে যাওয়ার? এসব প্রশ্নের উত্তর খুজছে নারায়ণগঞ্জের আপামর জনতা। কি ভূমিকা থাকে এমপি-মন্ত্রীদের পক্ষ হতে তার অপেক্ষায় নারায়ণগঞ্জবাসী।