নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামকে ছাড়াল বাংলাদেশ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ট্রেন চলাচল বন্ধ ৪ ডিসেম্বর থেকে হিন্দি সিনেমায় জয়া আহসান, নায়ক পঙ্কজ ত্রিপাঠি গ্রুপ সেরা আর্জেন্টিনা, শেষ ষোলয় প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া সিদ্ধিরগঞ্জে জয়নাল বাহিনীর ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় স্কুলে অনৈতিক আর্থিক সুবিধায় ক্ষমতার চেয়ারে শিক্ষিকা দিলরুবা রূপগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় ৭ বছরের মাদ্রাসা পরুয়া শিশুর মৃত্যু ফতুল্লা ওসি’র কন্যা রাইসা জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন সোনারগাঁয়ে টেক্সটাইল মিলে ও মিষ্টি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ফতুল্লায় অপহরনকারী চক্রের নারী সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৫, অপহৃত উদ্ধার

নারায়নগঞ্জ ক্লাব নির্বাচন : দাবার গুটি চালা হতে পারে আজ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ১১১ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ৫ বছর পর একটি পরিবারের রক্তচক্ষু উপক্ষা করে ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সদস্যরা ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনে আজ শনিবার থেকেই মূলত দাবার গুটি চালা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক সদস্য।

তাদের মতে, নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ শনিবার (৯ ডিসেম্বর)। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচন অভ্যন্তরীন হলেও এ নির্বাচনে বাইরে থেকে কলকাটি নাড়া হয় বলে মত তাদের।

আর আজ থেকেই দুটি প্যানেলের প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণা ১৪০০ ভোটারদের মাঝে শুরু করবেন। ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই আজ থেকেই মূলত নির্বাচনের আসল চাল শুরু হবে।

তারা আরো জানায়, নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ১১ টি পদে মনোনয়ন দাখিল করা ২৩ প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনের মনোনয়ন বৈধ করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। অনেক প্রার্থীকে নানা ধরণের সুবিধা ও হুমকি প্রদানের মাধ্যমে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করানো হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

তাদের মতে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচন মূলত জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এড.মাহবুবুর রহমান মাসুম এ নির্বাচনে কোন ছাড় না দিয়ে সভাপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য মনোনয়ন দাখিলের মাধ্যমে। এছাড়া তার উদ্যেগের কারণেই মূলত ক্লাবের সদস্যরা এ নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমেই প্রার্থী নির্বাচনে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করছেন।

সকল বাধা প্রতিবন্ধকতা ও কালো ছায়ার বেড়াজাল পেরিয়ে দীর্ঘ ৫ বছর পর এ ক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের অন্তরালে বরাবর অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ কাজ করলেও এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তাদের আশঙ্কা এবারের নির্বাচনে অন্য কিছু ঘটানোর চেষ্টা বা ঘটানো হলে এর প্রভাব নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের বাইরে সুশীল সমাজ ও অন্যত্র গিয়ে পড়বে।

তাই শক্তিশালী প্রতিপক্ষও এখন এ ব্যাপারে সজাগ। তারা জানান, আমাদের সাফ কথা ২২ জন প্রার্থীর মধ্যে যদি একটা অংশ তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন তাহলে বুঝতে হবে নির্বাচন নিরপেক্ষতার জায়গা থেকে সরে গেছে।

নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের একাধিক সূত্র জানান, একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। আজ প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন হওয়ায় নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি সমূহ সম্ভাবনা তৈরী করছে।

এজিএম এর কোন অনুমতি ব্যতিত বর্তমান কমিটি এমনকিছু কর্মকান্ড করছে যাতে এজিএম এর অনুমতির প্রয়োজন হয়। যেমনটা হচ্ছে বাচ্চাদের একটি সুইমিংপুল ছিলো সেটা এজিএম এর অনুমতি ব্যতিত ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমান কমিটির সভাপতির একক সিদ্ধান্তেই মূলত এমনটা করা হয়েছে।

নির্বাচনে সুক্ষ ইঞ্জিনিয়ারিং করার প্রবণতা দেখিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিল্পপতি ও আরো অনেকেই মিলে বারংবার রূদ্ধদ্বার বৈঠকও করা হয়েছে। তবে এসব আমলে নিচ্ছে না ক্লাবের ভোটাররা। তারা সকলেই নির্বাচনে ভোট প্রদানের অপেক্ষার পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশকে সুক্ষ পর্যবেক্ষণ করছেন।

তারা আরো বলছেন, এমনিতেই শক্তিশালী পক্ষটি নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে উপর মহলে যে যার ভাবে লবিং শুরু করেছেন। এ নির্বাচনে দুই শ্রেণীর লোকেরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। একদিকে ক্ষমতাশীল প্রভাবশালী শ্রেনীর লোক। অপরদিকে আদর্শের সৈনিক যারা ক্লাবকে বাঁচিয়ে রাখার লক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে কাজ করবেন।

তবে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যদি নির্বাচন কমিশনার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে তবে ৯ ডিসেম্বর সভাপতি হিসেবে এড.মাহবুবুর রহমান মাসুম, সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে ইকবার হাবিব, সহ-সভাপতি হিসেবে এড.সরকার হুমায়ুন কবির, সদস্য হিসেবে এসএম শাহীন, সামসুদ্দিন আহম্মেদ, সজল কুমার রায়, সিরাজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ার হোসেন, সেলিম রেজা সিরাজী, সোহেল আক্তারকে নিয়ে একটি প্যানেল ২৩ শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে পারেন।

অপর একটি প্যানেলে বর্তমান সভাপতি তানভীর আহম্মেদ টিটু, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ডা. একেএম শফিউল আলম ফেরদাউস, সহ-সভাপতি হিসেবে শেখ হাফিজুর রহমান, সদস্য হিসেবে হোসাইন মোঃ তানিম তৌহিদ, ইদী আমীন ইব্রাহীম খলিল, মঈনুল হাসান, আনোয়ার হোসেন, আশিক উজ জামান, বিপ্লব কুমার সাহা, আবদুল খালেককে নিয়ে আরেকটি প্যানেল গঠন হতে পারে। তবে সেলিম আহম্মেদ হেনা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।

তারা আরো বলেন, দীর্ঘদিন নারায়নগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতির পদে নির্বাচন করতে ব্যাপক ভাবে প্রস্তূতি গ্রহণ করেছেন তানভীর আহম্মেদ টিটু। তিনি নির্বাচনী প্রচরনা নিয়ে সদস্যদের দুয়ারে দুয়ারে শরনাপন্ন হচ্ছেন। নিজের অবস্থানে টিকিয়ে থাকার লক্ষে নিরব ভূমিকা পালন করলেও জয়ের লক্ষ্য নিয়েই তিনি মাঠে কাজ করছেন।

তারা আরো বলেন, এছাড়াও সিনিয়র সহ-সভাপতির পদে নির্বাচন করতে ব্যাপক ভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন ইকবাল হাবিব, ডা. একেএম শফিউল আলম ফেরদাউস। তবে ইকবাল হাবিব এর সাথে ডা.শফিউল আলমের অবস্থান ক্রমশ জমে উঠছে। আর তারা নিজ নিজ লক্ষ্যকে কাজে লাগিয়ে নিজের পদে অবস্থান নিবেন। তবে পরিবর্তন ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে ইকবাল হাবিব বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

এছাড়াও সহ-সভাপতির পদে এড. সরকার হুমায়ূন কবীর একজন আলোচিত ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত। যিনি আদালত পাড়ার মাঠ সব সময়ের জন্য গরম রেখেছেন। নারায়নগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনে তিনি এড.মাহবুবুর রহমান মাসুমের সাথে একত্রিত হয়ে ক্লাবের সদস্যদের একটি স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে ক্লাব পরিচালনা পর্ষদ সাজানোর ব্যাপারে সব সময় কার্যকর ভূমিকা পালন করে এসছেন।

এদিকে মাহফুজুর রহমান খান নির্বাচনী প্রচরনা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটালেও কথায় কাজে এক নয়। নির্বাচন নিয়ে তিনি যতই কথা বলুক না কেন আজ তার পরীক্ষা দিতে হবে। সেলিম আহম্মেদ হেনা ও শেখ হাফিজুর রহমানও নির্বাচনের লড়াইয়ে মাঠে তোড়জোরভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

এছাড়াও সদস্য পদে নির্বাচন করতে ব্যাপক ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে মাঠে নেমেছেন এসএম শাহীন, সামসুদ্দিন আহম্মেদ, হোসাইন মোঃ তানিম তৌহিদ, ইদী আমীন ইব্রাহীম খলিল, সজল কুমার রায়, সিরাজুল ইসলাম, মঈনুল হাসান, জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ার হোসেন, সেলিম রেজা সিরাজী, আশিক উজ জামান, বিপ্লব কুমার সাহা, আবদুল খালেক এবং সোহেল আক্তার। সদস্য পদে যারা নির্বাচন করছেন তাদেরকেও নানাভাবে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের একটি সূত্র।

তবে নির্বাচনে এবার কোন অনিয়ম ধরা পড়লে আগেই আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারী দিয়ে রেখেছিলেন সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা এড.মাহবুবুর রহমান মাসুম। এছাড়া তার সাথে অন্যান্য পদে নির্বাচনে প্রার্থীতা করা প্রার্থীরাও জানিয়েছেলিন নির্বাচনে এবার কোন ধরণের চাতুরতা বরদাস্ত না করার কথা। তারা সকলেই জানিয়েছিলেন তাদের প্রত্যাশা নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনাররা তাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ করবেন।

নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খালেদ হায়দার কাজল। এছাড়া নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রয়েছেন রাশেদ সারোয়ার, জিএম ফারুক এবং মাসুদ-উর-রউফ এবং এম সোলায়মান।

নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনের আপীল বোর্ডের সদস্যরা হলেন, হুমায়ন কবির শিল্পী, ডা.শাহনেওয়াজ ও মঞ্জুরুল হক মঞ্জু।
উল্লেখ্য, ১৮৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ইউরোপিয়ান ক্লাব পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করা নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। আর মূলত ৯ ডিসেম্বর ই দুটি প্যানেল চূড়ান্ত হবে। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিলো আপীল শুনানী। গত ২৬ ও ২৭ নভেম্বর ক্লাব থেকে মনোনয়ন পত্র বিতরণ করা হয়। মনোনয়নপত্র জমা নেয়া হয় ২৯ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হয় ২ ডিসেম্বর।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামকে ছাড়াল বাংলাদেশ

নারায়নগঞ্জ ক্লাব নির্বাচন : দাবার গুটি চালা হতে পারে আজ

আপডেট সময় : ০৪:২১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৭

দীর্ঘ ৫ বছর পর একটি পরিবারের রক্তচক্ষু উপক্ষা করে ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সদস্যরা ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনে আজ শনিবার থেকেই মূলত দাবার গুটি চালা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক সদস্য।

তাদের মতে, নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ শনিবার (৯ ডিসেম্বর)। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচন অভ্যন্তরীন হলেও এ নির্বাচনে বাইরে থেকে কলকাটি নাড়া হয় বলে মত তাদের।

আর আজ থেকেই দুটি প্যানেলের প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণা ১৪০০ ভোটারদের মাঝে শুরু করবেন। ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই আজ থেকেই মূলত নির্বাচনের আসল চাল শুরু হবে।

তারা আরো জানায়, নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ১১ টি পদে মনোনয়ন দাখিল করা ২৩ প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনের মনোনয়ন বৈধ করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। অনেক প্রার্থীকে নানা ধরণের সুবিধা ও হুমকি প্রদানের মাধ্যমে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করানো হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

তাদের মতে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচন মূলত জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এড.মাহবুবুর রহমান মাসুম এ নির্বাচনে কোন ছাড় না দিয়ে সভাপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য মনোনয়ন দাখিলের মাধ্যমে। এছাড়া তার উদ্যেগের কারণেই মূলত ক্লাবের সদস্যরা এ নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমেই প্রার্থী নির্বাচনে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করছেন।

সকল বাধা প্রতিবন্ধকতা ও কালো ছায়ার বেড়াজাল পেরিয়ে দীর্ঘ ৫ বছর পর এ ক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের অন্তরালে বরাবর অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ কাজ করলেও এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তাদের আশঙ্কা এবারের নির্বাচনে অন্য কিছু ঘটানোর চেষ্টা বা ঘটানো হলে এর প্রভাব নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের বাইরে সুশীল সমাজ ও অন্যত্র গিয়ে পড়বে।

তাই শক্তিশালী প্রতিপক্ষও এখন এ ব্যাপারে সজাগ। তারা জানান, আমাদের সাফ কথা ২২ জন প্রার্থীর মধ্যে যদি একটা অংশ তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন তাহলে বুঝতে হবে নির্বাচন নিরপেক্ষতার জায়গা থেকে সরে গেছে।

নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের একাধিক সূত্র জানান, একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। আজ প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন হওয়ায় নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি সমূহ সম্ভাবনা তৈরী করছে।

এজিএম এর কোন অনুমতি ব্যতিত বর্তমান কমিটি এমনকিছু কর্মকান্ড করছে যাতে এজিএম এর অনুমতির প্রয়োজন হয়। যেমনটা হচ্ছে বাচ্চাদের একটি সুইমিংপুল ছিলো সেটা এজিএম এর অনুমতি ব্যতিত ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমান কমিটির সভাপতির একক সিদ্ধান্তেই মূলত এমনটা করা হয়েছে।

নির্বাচনে সুক্ষ ইঞ্জিনিয়ারিং করার প্রবণতা দেখিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিল্পপতি ও আরো অনেকেই মিলে বারংবার রূদ্ধদ্বার বৈঠকও করা হয়েছে। তবে এসব আমলে নিচ্ছে না ক্লাবের ভোটাররা। তারা সকলেই নির্বাচনে ভোট প্রদানের অপেক্ষার পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশকে সুক্ষ পর্যবেক্ষণ করছেন।

তারা আরো বলছেন, এমনিতেই শক্তিশালী পক্ষটি নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে উপর মহলে যে যার ভাবে লবিং শুরু করেছেন। এ নির্বাচনে দুই শ্রেণীর লোকেরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। একদিকে ক্ষমতাশীল প্রভাবশালী শ্রেনীর লোক। অপরদিকে আদর্শের সৈনিক যারা ক্লাবকে বাঁচিয়ে রাখার লক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে কাজ করবেন।

তবে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যদি নির্বাচন কমিশনার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে তবে ৯ ডিসেম্বর সভাপতি হিসেবে এড.মাহবুবুর রহমান মাসুম, সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে ইকবার হাবিব, সহ-সভাপতি হিসেবে এড.সরকার হুমায়ুন কবির, সদস্য হিসেবে এসএম শাহীন, সামসুদ্দিন আহম্মেদ, সজল কুমার রায়, সিরাজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ার হোসেন, সেলিম রেজা সিরাজী, সোহেল আক্তারকে নিয়ে একটি প্যানেল ২৩ শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে পারেন।

অপর একটি প্যানেলে বর্তমান সভাপতি তানভীর আহম্মেদ টিটু, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ডা. একেএম শফিউল আলম ফেরদাউস, সহ-সভাপতি হিসেবে শেখ হাফিজুর রহমান, সদস্য হিসেবে হোসাইন মোঃ তানিম তৌহিদ, ইদী আমীন ইব্রাহীম খলিল, মঈনুল হাসান, আনোয়ার হোসেন, আশিক উজ জামান, বিপ্লব কুমার সাহা, আবদুল খালেককে নিয়ে আরেকটি প্যানেল গঠন হতে পারে। তবে সেলিম আহম্মেদ হেনা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।

তারা আরো বলেন, দীর্ঘদিন নারায়নগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতির পদে নির্বাচন করতে ব্যাপক ভাবে প্রস্তূতি গ্রহণ করেছেন তানভীর আহম্মেদ টিটু। তিনি নির্বাচনী প্রচরনা নিয়ে সদস্যদের দুয়ারে দুয়ারে শরনাপন্ন হচ্ছেন। নিজের অবস্থানে টিকিয়ে থাকার লক্ষে নিরব ভূমিকা পালন করলেও জয়ের লক্ষ্য নিয়েই তিনি মাঠে কাজ করছেন।

তারা আরো বলেন, এছাড়াও সিনিয়র সহ-সভাপতির পদে নির্বাচন করতে ব্যাপক ভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন ইকবাল হাবিব, ডা. একেএম শফিউল আলম ফেরদাউস। তবে ইকবাল হাবিব এর সাথে ডা.শফিউল আলমের অবস্থান ক্রমশ জমে উঠছে। আর তারা নিজ নিজ লক্ষ্যকে কাজে লাগিয়ে নিজের পদে অবস্থান নিবেন। তবে পরিবর্তন ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে ইকবাল হাবিব বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

এছাড়াও সহ-সভাপতির পদে এড. সরকার হুমায়ূন কবীর একজন আলোচিত ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত। যিনি আদালত পাড়ার মাঠ সব সময়ের জন্য গরম রেখেছেন। নারায়নগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনে তিনি এড.মাহবুবুর রহমান মাসুমের সাথে একত্রিত হয়ে ক্লাবের সদস্যদের একটি স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে ক্লাব পরিচালনা পর্ষদ সাজানোর ব্যাপারে সব সময় কার্যকর ভূমিকা পালন করে এসছেন।

এদিকে মাহফুজুর রহমান খান নির্বাচনী প্রচরনা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটালেও কথায় কাজে এক নয়। নির্বাচন নিয়ে তিনি যতই কথা বলুক না কেন আজ তার পরীক্ষা দিতে হবে। সেলিম আহম্মেদ হেনা ও শেখ হাফিজুর রহমানও নির্বাচনের লড়াইয়ে মাঠে তোড়জোরভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

এছাড়াও সদস্য পদে নির্বাচন করতে ব্যাপক ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে মাঠে নেমেছেন এসএম শাহীন, সামসুদ্দিন আহম্মেদ, হোসাইন মোঃ তানিম তৌহিদ, ইদী আমীন ইব্রাহীম খলিল, সজল কুমার রায়, সিরাজুল ইসলাম, মঈনুল হাসান, জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ার হোসেন, সেলিম রেজা সিরাজী, আশিক উজ জামান, বিপ্লব কুমার সাহা, আবদুল খালেক এবং সোহেল আক্তার। সদস্য পদে যারা নির্বাচন করছেন তাদেরকেও নানাভাবে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের একটি সূত্র।

তবে নির্বাচনে এবার কোন অনিয়ম ধরা পড়লে আগেই আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারী দিয়ে রেখেছিলেন সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা এড.মাহবুবুর রহমান মাসুম। এছাড়া তার সাথে অন্যান্য পদে নির্বাচনে প্রার্থীতা করা প্রার্থীরাও জানিয়েছেলিন নির্বাচনে এবার কোন ধরণের চাতুরতা বরদাস্ত না করার কথা। তারা সকলেই জানিয়েছিলেন তাদের প্রত্যাশা নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনাররা তাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ করবেন।

নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খালেদ হায়দার কাজল। এছাড়া নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রয়েছেন রাশেদ সারোয়ার, জিএম ফারুক এবং মাসুদ-উর-রউফ এবং এম সোলায়মান।

নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনের আপীল বোর্ডের সদস্যরা হলেন, হুমায়ন কবির শিল্পী, ডা.শাহনেওয়াজ ও মঞ্জুরুল হক মঞ্জু।
উল্লেখ্য, ১৮৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ইউরোপিয়ান ক্লাব পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করা নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। আর মূলত ৯ ডিসেম্বর ই দুটি প্যানেল চূড়ান্ত হবে। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিলো আপীল শুনানী। গত ২৬ ও ২৭ নভেম্বর ক্লাব থেকে মনোনয়ন পত্র বিতরণ করা হয়। মনোনয়নপত্র জমা নেয়া হয় ২৯ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হয় ২ ডিসেম্বর।