সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: সিদ্ধিরগঞ্জ পুলে সরকারি জায়গা ও সড়ক দখল করে ফুটপাত দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজির রাজত্ব ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত সালাউদ্দিন ওরফে চাউল সালাউদ্দিন। চাঁদাবাজি মামলায় জেল থেকে জামিনে বের হয়ে জনদুর্ভোগের দোহাই দিয়ে ফুটপাত উচ্ছেদ করে একদিন পর একই জায়গায় আবার নতুন করে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজির যাত্রা শুরু করেছেন সালাউদ্দিন। জনসমর্থনহীন কয়েকজন বিতর্কিত সাবেক বিএনপি নেতাদের হাত করে সালাউদ্দিন চাঁদাবাজির রামরাজত্ব কায়েম করার মিশনে নেমেছে এমন অভিযোগ করেন যুবদল নেতা শহীদুল ইসলাম।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য শহীদুল ইসলাম চাঁদাবাজির প্রতিবাদ ও বহিস্কৃত সালাউদ্দিনকে শেল্টার দেওয়ায় গত রোববার সকালে কয়েকজন বিএনপি নেতাকে শাসানোর পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা বিকেলে পুল এলাকায় শহীদুলের বিরুদ্ধে মিছিল করে। শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তার সমর্থকরাও পাল্টা মিছিল করে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় সরকারি জায়গায় ও সড়কের দুপাশে গড়ে উঠা কয়েক শতাধিক দোকান থেকে চাঁদা আদায় করতেন নাসিক ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় গত ২৪ এপ্রিল আজিজুল হক নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও দোকান ভেঙে দেয় সালাউদ্দিন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আজিজুল হক সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজির মামলা করলে ২৬ এপ্রিল সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ৫ মে রাতে সালাউদ্দিনকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। কিছুদিন আগে জেল থেকে জামিনে বের হয়ে সালাউদ্দিন তার চাঁদাবাজি অব্যাহত রাখতে জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ হালিম জুয়েল, নাসিক ১ নং ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি রওশন আলীকে ও একই ওয়ার্ডের সাবেক আরেক সভাপতি গাজী মনিরকে ম্যানেজ করে, তাদের সঙ্গে নিয়ে জনদুর্ভোগের দোহাই দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে দোকানপাট উচ্ছেদ করে দেয়।
অভিযোগ উঠেছে, উচ্ছেদের একদিন পরই বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম রবি, এমএ হালিম জুয়েল, রওশন আলী ও গাজী মনিরের উপস্থিতিতে সালাউদ্দিন ও তার লোকজন ফিতা দিয়ে মেপে লাল দাগ দিয়ে পজিশন ঠিক করে দেয় কে কতটুকু জায়গা বসবে। অনেক ব্যবসায়ীর জায়গা কমিয়ে দোকান সংখ্যা আগের চেয়ে বৃদ্ধি করে। ফলে জনদুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, উচ্ছেদের পর সালাউদ্দিনের লোকজন সব্যবসায়ীদের থেকে ৫-১০ হাজার টাকা করে নিয়ে দৈনিক দেড়শ থেকে দুশ টাকা করে চাঁদা দেওয়ার শর্তে দোকান বসিয়েছে। চাঁদা দেওয়ার কথা স্বীকার করলে দোকন তুলে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সবার মুখ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা দেয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে গত রোববার সকালে যুবদল নেতা শহীদুল ইসলাম তার সমর্থকদের নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ পুলে গিয়ে চাঁদাবাজি ও নতুন করে কোন দোকান বসাতে নিষেধ করেন। এসময় দল থেকে বহিস্কৃত সালাউদ্দিনকে দিয়ে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি করানোর অভিযোগ তুলে শহীদুল ইসলাম বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম রবিসহ সবাইকে কঠোরভাবে শাসায়। পাশাপাশি সালাউদ্দিনকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে পুল এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। যার ভিডিও বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।
জানতে চাইলে যুবদল নেতা শহীদুল ইসলাম বলেন, জনদুর্ভোগের কথা বলে তারা নিজেরা ফুটপাত উচ্ছেদ করেছে। একদিন পর আবার একই জায়গায় তারাই ফুটপাত বসাবে কেন। তাছাড়া চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর যাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে সেই সালাউদ্দিনকে দিয়ে রবি চাচারা চাঁদাবাজি করাবে আর দলের বদনাম করবে তা আমি হতে দেবনা।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ হালিম জুয়েল বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা, রবি ভাই আমাকে ডেকে নিয়েছে। রবির সঙ্গে কথা বলেন। গাজী মনির, রওশন আলী তারাও দায় চাপান রবির উপর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম রবি বলেন, নাকে টিপ দিলে দুঁধ বেড় হবে সেই শহীদুলকে নিয়ে আমি কোন কথা বলতে চাইনা। দলের স্বার্থে যা করা দরকার আমি তাই করবো। কৌশলে পুলের বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
প্রতিনিধির নাম 
























