নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সোনারগাঁওয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত সিদ্ধিরগঞ্জে ৪টি কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হারামের পয়সা ব্যারামে খায় ,আমি হারাম খাই না খেতেও দেই না-সেলিম ওসমান ভূমি সম্পর্কিত সমস্যা থাকলে গণশুনানিতে আসার আহবান- না.গঞ্জে জেলা  প্রশাসক সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-চটগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ সোনারগাঁওয়ে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৪ অনুষ্ঠিত র‌্যাব পরিচয়ে ৫২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার-৪ সিদ্ধিরগঞ্জে কাতার প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি চিকিৎসার নামে কোনো প্রকার হয়রানি মেনে নেওয়া হবে না ঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিকের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় গর্ভবতীর পোশাক শ্রমিক নিহত

প্রতারিত হয়ে প্রতারক সাজা ভুয়া কাস্টমস কর্মকর্তা নজরুলসহ গ্রেপ্তার-৪

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৩
  • ২১৩ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: কাস্টমসে চাকরি নিতে গিয়ে প্রতারিত হয়ে নিজেই প্রতারক বনেছেন নজরুল ইসলাম। উচ্চভিলাশী জীবন-যাপন করতে প্রতারক চক্র গড়ে তোলে কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। ফ্ল্যাট বুকিং, জমি ক্রয়, বাড়ী ও বিভিন্নভাবে হন প্রচুর সম্পদের মালিক। ভয়ঙ্কর এই চক্রের মূলহোতা নজরুল ইসলামসহ চার ভুয়া কাস্টমস কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৫ আগস্ট রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দুপুরে র‌্যাব-১১ এর মিডিয়া সেন্টার থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলো-সিদ্ধিরগঞ্জের সফি মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম(২৯), ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার হাবিবুর রহমানের ছেলে ওয়ায়েশ করোনি ওরফে সেলিম(৪৭),ফতুল্লার হাবিব হোসেনের ছেলে নাসির উদ্দিন(২৬) ও বরিশাল জেলার সৈয়দ আফসার উদ্দিনের ছেলে সৈয়দ এনায়েত(৪৮)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত কাস্টমস কর্মকর্তার ইউনিফর্ম, আইডি কার্ড, ওয়াকিটকি, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া সীল, স্টীকার, ভিজিটিং কার্ড, নগদ অর্থ, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিম কার্ড,চেক বহি, একটি প্রাইভেটকার ও দুটি মোটরসাইকেল।

বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানায়, প্রতারক চক্রটি কাস্টমসসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষকে চাকরি দেয়া, বিদেশে পাঠানো, ভিসা তৈরি, বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে মালামাল ছাড়িয়ে আনা, জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত দালালি কার্যক্রম করে প্রতারণামূলকভাবে বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। এছাড়াও কাস্টমসসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সীল ও স্টীকার গাড়ীতে ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত। তাছাড়া বিভিন্ন রিসোর্ট ও ব্যবসায়ীদের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত। চক্রটির স্থায়ীভাবে কোন অফিস না থাকায় সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনেবোর্ডে ওয়ায়েশ করোনির ভাড়া বাসাকে অফিস হিসেবে ব্যবহার করত। কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে চক্রটির বিরুদ্ধে র‌্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, উচ্চাভিলাশী জীবন-যাপন করার উদ্দেশ্যে চক্রটি প্রতারণা শুরু করে। প্রায় ২ বছর ধরে তারা এ কার্যক্রম করে আসছে। চক্রটির মোট সদস্য সংখ্যা ৭/৮ জন। গ্রেপ্ততারকৃত নজরুল ইসলাম চক্রের মূলহোতা। নজরুল ইসলাম কাস্টমসের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় থেকে ভোক্তভূগীদের বলতেন,বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। এভাবে বিশ^াস অর্জন করে।

র‌্যাব আরো জানায়, নজরুল ইসলাম স্থানীয় একটি কলেজ থেকে বিবিএ পাস করে কাস্টমস এ চাকরির জন্য আবেদন করে চাকরি না পেয়ে প্রতারিত হয়। ২০১২ সালে প্রথমে তিনি কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি লাভের আশায় এক প্রতারককে ১১ লাখ টাকা দেন। পরে ২০১৩ সালে নৈশ প্রহরী এবং ২০১৭ সালে উচ্চমান সহকারী হিসেবে চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে পুনরায় আবেদন করেন এবং প্রতারিত হন। বিভিন্ন সময়ে কাস্টমসে চাকরি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং কাস্টমসের বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের সান্নিধ্যে আসার সুবাধে কাস্টমসের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। নিজেই প্রতারণায় নেমে যায়। প্রতারণা করতে একটি চক্র গড়ে তোলে। নিজেকে এলাকায় উর্ধ্বতন কাস্টমস অফিসার হিসেবে পরিচয় দেয়। কাস্টমসের বিভিন্ন পদে (পিওন, ঝাড়–দার ও অন্যান্য পদে) চাকরি প্রদান করে বিশ^স্ততাও অর্জন করে। মূলত সে কাস্টমসের অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার ও রেভিনিউ অফিসার সুপারিন্টেনডেন্ট কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার চালাত। প্রতারণার অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাট বুকিং, জমি ক্রয়, বাড়ী ও বিভিন্নভাবে তার নামে প্রচুর সম্পদ গড়ে তোলেন।

সহযোগী ওয়ায়েশ সেলিম দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করে দেশে এসে একটি এজেন্সিতে চাকুরী শুরু করেন। পরে নজরুলের সঙ্গে পরিচয়ের সুবাদে প্রতারণায় যুক্ত হয়। তার কাজ ছিল বিদেশে লোক পাঠানো ও ভিসা তৈরি করা।
সৈয়দ মোঃ এনায়েত ঢাকায় পাঠাও চালক হিসেবে গাড়ি চালাত। প্রায় ১ বছর আগে নজরুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে সুবাদে মাসে ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে চক্রে যোগ দেয়। তার কাজ ছিল চাকরি প্রত্যাশীদের নজরুলের কাছে নিয়ে আসা। নাসির উদ্দিন নজরুলের চালের দোকানের কর্মচারী ছিল এবং মোটরসাইকেল চালাত। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধিন।

 

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

সোনারগাঁওয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

প্রতারিত হয়ে প্রতারক সাজা ভুয়া কাস্টমস কর্মকর্তা নজরুলসহ গ্রেপ্তার-৪

আপডেট সময় : ০৪:২৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৩

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: কাস্টমসে চাকরি নিতে গিয়ে প্রতারিত হয়ে নিজেই প্রতারক বনেছেন নজরুল ইসলাম। উচ্চভিলাশী জীবন-যাপন করতে প্রতারক চক্র গড়ে তোলে কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। ফ্ল্যাট বুকিং, জমি ক্রয়, বাড়ী ও বিভিন্নভাবে হন প্রচুর সম্পদের মালিক। ভয়ঙ্কর এই চক্রের মূলহোতা নজরুল ইসলামসহ চার ভুয়া কাস্টমস কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৫ আগস্ট রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দুপুরে র‌্যাব-১১ এর মিডিয়া সেন্টার থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলো-সিদ্ধিরগঞ্জের সফি মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম(২৯), ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার হাবিবুর রহমানের ছেলে ওয়ায়েশ করোনি ওরফে সেলিম(৪৭),ফতুল্লার হাবিব হোসেনের ছেলে নাসির উদ্দিন(২৬) ও বরিশাল জেলার সৈয়দ আফসার উদ্দিনের ছেলে সৈয়দ এনায়েত(৪৮)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত কাস্টমস কর্মকর্তার ইউনিফর্ম, আইডি কার্ড, ওয়াকিটকি, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া সীল, স্টীকার, ভিজিটিং কার্ড, নগদ অর্থ, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিম কার্ড,চেক বহি, একটি প্রাইভেটকার ও দুটি মোটরসাইকেল।

বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানায়, প্রতারক চক্রটি কাস্টমসসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষকে চাকরি দেয়া, বিদেশে পাঠানো, ভিসা তৈরি, বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে মালামাল ছাড়িয়ে আনা, জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত দালালি কার্যক্রম করে প্রতারণামূলকভাবে বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। এছাড়াও কাস্টমসসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সীল ও স্টীকার গাড়ীতে ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত। তাছাড়া বিভিন্ন রিসোর্ট ও ব্যবসায়ীদের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত। চক্রটির স্থায়ীভাবে কোন অফিস না থাকায় সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনেবোর্ডে ওয়ায়েশ করোনির ভাড়া বাসাকে অফিস হিসেবে ব্যবহার করত। কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে চক্রটির বিরুদ্ধে র‌্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, উচ্চাভিলাশী জীবন-যাপন করার উদ্দেশ্যে চক্রটি প্রতারণা শুরু করে। প্রায় ২ বছর ধরে তারা এ কার্যক্রম করে আসছে। চক্রটির মোট সদস্য সংখ্যা ৭/৮ জন। গ্রেপ্ততারকৃত নজরুল ইসলাম চক্রের মূলহোতা। নজরুল ইসলাম কাস্টমসের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় থেকে ভোক্তভূগীদের বলতেন,বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। এভাবে বিশ^াস অর্জন করে।

র‌্যাব আরো জানায়, নজরুল ইসলাম স্থানীয় একটি কলেজ থেকে বিবিএ পাস করে কাস্টমস এ চাকরির জন্য আবেদন করে চাকরি না পেয়ে প্রতারিত হয়। ২০১২ সালে প্রথমে তিনি কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি লাভের আশায় এক প্রতারককে ১১ লাখ টাকা দেন। পরে ২০১৩ সালে নৈশ প্রহরী এবং ২০১৭ সালে উচ্চমান সহকারী হিসেবে চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে পুনরায় আবেদন করেন এবং প্রতারিত হন। বিভিন্ন সময়ে কাস্টমসে চাকরি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং কাস্টমসের বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের সান্নিধ্যে আসার সুবাধে কাস্টমসের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। নিজেই প্রতারণায় নেমে যায়। প্রতারণা করতে একটি চক্র গড়ে তোলে। নিজেকে এলাকায় উর্ধ্বতন কাস্টমস অফিসার হিসেবে পরিচয় দেয়। কাস্টমসের বিভিন্ন পদে (পিওন, ঝাড়–দার ও অন্যান্য পদে) চাকরি প্রদান করে বিশ^স্ততাও অর্জন করে। মূলত সে কাস্টমসের অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার ও রেভিনিউ অফিসার সুপারিন্টেনডেন্ট কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার চালাত। প্রতারণার অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাট বুকিং, জমি ক্রয়, বাড়ী ও বিভিন্নভাবে তার নামে প্রচুর সম্পদ গড়ে তোলেন।

সহযোগী ওয়ায়েশ সেলিম দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করে দেশে এসে একটি এজেন্সিতে চাকুরী শুরু করেন। পরে নজরুলের সঙ্গে পরিচয়ের সুবাদে প্রতারণায় যুক্ত হয়। তার কাজ ছিল বিদেশে লোক পাঠানো ও ভিসা তৈরি করা।
সৈয়দ মোঃ এনায়েত ঢাকায় পাঠাও চালক হিসেবে গাড়ি চালাত। প্রায় ১ বছর আগে নজরুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে সুবাদে মাসে ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে চক্রে যোগ দেয়। তার কাজ ছিল চাকরি প্রত্যাশীদের নজরুলের কাছে নিয়ে আসা। নাসির উদ্দিন নজরুলের চালের দোকানের কর্মচারী ছিল এবং মোটরসাইকেল চালাত। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধিন।