নারায়ণগঞ্জ ০২:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আড়াইহাজারে মাদকের ছড়াছড়ি বিপথগামী ছাত্র ও যুবসমাজ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

রফিক রানা, ষ্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গ্রামগঞ্জের হাটবাজার ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গার আশপাশে অলি-গলিতে চলছে মাদকের কেনা-বেচা। উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ১০০ টির বেশি স্পটে মাদক কেনাবেচা হয়। পুলিশ প্রশাসন মাঝে মধ্যে সামান্য গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল জব্দ করলেও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারছেন না। ফলে মাদকের কড়াল গ্রাসে বিপথগামী হচ্ছেন স্কুল কলেজের ছাত্র ও বেকার তরুণ সমাজ। রিকসা চালকেরাও মাদকের প্রতি ঝুঁকে সাড়া দিনের কাজের টাকায় সংসারের খরচের কথা ভুলে গিয়ে মাদক কিনে সেবন করছেন।

সূত্র জানায়, প্রভাবশালী ক’জন মাদক সম্রাট পর্দার আড়ালে থেকে  ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের  বালিয়াপাড়ার সোনাতন বিবি, তার ছেলে সোহেল মেম্বার, দাইরাদির ডেঞ্জারাস কবির। এ ছাড়া চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের নিযুক্ত করা বিক্রেতারা প্রতিদিন গোপালদী পৌরসভার রাসচন্দ্রদী, গোপালদীবাজার, মাহমুদপুর ইউনিয়নের শাহলমদীবাজার, খাগকান্দা ইউনিয়নের দয়াকান্দা, বিশনন্দি ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকায় মাদক বিক্রি করছে। মাদক পল্লী নামে পরিচিতি পেয়েছে বালিয়াপাড়া,রামচন্দ্রদী, গোপালদী এলাকা। এসব এলাকায় প্রতিদিন মাদক কেনা-বেচার আসর বসছে। পুলিশ প্রশাসন মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রতি দিলেও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বখরা আদায়ে ব্যস্ত বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।বালিয়াপাড়া ও রামচন্দ্রদী এলাকার লোকজন বলেন, পুলিশ যদি সঠিকভাবে ও নিয়মিত কঠোর ভাবে তৎপর হয় তাহলে আড়াইহাজার উপজেলা সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করা সম্ভব। ঘুষ বাণিজ্যের কারণে বন্ধ হচ্ছে না মাদকের বিস্তার। প্রায়শই আটক ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে দন্ড ও জরিমানা করেও থামছে না মাদকের ভয়াবহতা। অন্যদিকে নিধিরাম সরদারের ভূমিকায় মাদকদ্রব্য নির্মূল অধিদপ্তরের লোকজনও জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে হাত গুটিয়ে থাকছেন।

অনুসন্ধান করে জানাগেছে, মেঘনা নদী দিয়ে বাঞ্ছারামপুর থেকে পাচার হচ্ছে নানা প্রকার মাদক দ্রব্য।। তা ছাড়া আড়াইহাজার উপজেলার পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার মাধবদী থানা এলাকা থেকেও সড়ক পথে মাদক পাচার হয়। সেই মাদক লোক মারফত আড়াইহাজারে ঢুকছে। মাধবদী ও বাঞ্ছারামপুর থেকে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল নৌ ও সড়ক পথে অবাধে আড়াইহাজারে ঢুকছে।মাঝে মধ্যে র‌্যাবের বিশেষ টিম বিশনন্দী ফেরীঘাট এলাকায় ও ঢাকা- সিলেট মহাসড়কে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদকসহ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও তাদের নামে থানায় মামলা দায়ের করছেন। কিন্তু পুলিশের দূর্বল রিপোর্টের কারণে কোর্ট থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন তারা।

এ ব্যাপারে আড়াইহাজার থানার ওসি আজিজুল হক হাওলাদার বলেন, মাদকের সঠিক স্পট গুলোর সন্ধান পেলে এবং কেউ যদি সংবাদ দিয়ে জানায় যে কোথায় কোথায় মাদকের আখড়া রয়েছে তা হলে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সহজ হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

আড়াইহাজারে মাদকের ছড়াছড়ি বিপথগামী ছাত্র ও যুবসমাজ

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২

রফিক রানা, ষ্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গ্রামগঞ্জের হাটবাজার ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গার আশপাশে অলি-গলিতে চলছে মাদকের কেনা-বেচা। উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ১০০ টির বেশি স্পটে মাদক কেনাবেচা হয়। পুলিশ প্রশাসন মাঝে মধ্যে সামান্য গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল জব্দ করলেও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারছেন না। ফলে মাদকের কড়াল গ্রাসে বিপথগামী হচ্ছেন স্কুল কলেজের ছাত্র ও বেকার তরুণ সমাজ। রিকসা চালকেরাও মাদকের প্রতি ঝুঁকে সাড়া দিনের কাজের টাকায় সংসারের খরচের কথা ভুলে গিয়ে মাদক কিনে সেবন করছেন।

সূত্র জানায়, প্রভাবশালী ক’জন মাদক সম্রাট পর্দার আড়ালে থেকে  ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের  বালিয়াপাড়ার সোনাতন বিবি, তার ছেলে সোহেল মেম্বার, দাইরাদির ডেঞ্জারাস কবির। এ ছাড়া চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের নিযুক্ত করা বিক্রেতারা প্রতিদিন গোপালদী পৌরসভার রাসচন্দ্রদী, গোপালদীবাজার, মাহমুদপুর ইউনিয়নের শাহলমদীবাজার, খাগকান্দা ইউনিয়নের দয়াকান্দা, বিশনন্দি ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকায় মাদক বিক্রি করছে। মাদক পল্লী নামে পরিচিতি পেয়েছে বালিয়াপাড়া,রামচন্দ্রদী, গোপালদী এলাকা। এসব এলাকায় প্রতিদিন মাদক কেনা-বেচার আসর বসছে। পুলিশ প্রশাসন মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রতি দিলেও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বখরা আদায়ে ব্যস্ত বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।বালিয়াপাড়া ও রামচন্দ্রদী এলাকার লোকজন বলেন, পুলিশ যদি সঠিকভাবে ও নিয়মিত কঠোর ভাবে তৎপর হয় তাহলে আড়াইহাজার উপজেলা সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করা সম্ভব। ঘুষ বাণিজ্যের কারণে বন্ধ হচ্ছে না মাদকের বিস্তার। প্রায়শই আটক ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে দন্ড ও জরিমানা করেও থামছে না মাদকের ভয়াবহতা। অন্যদিকে নিধিরাম সরদারের ভূমিকায় মাদকদ্রব্য নির্মূল অধিদপ্তরের লোকজনও জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে হাত গুটিয়ে থাকছেন।

অনুসন্ধান করে জানাগেছে, মেঘনা নদী দিয়ে বাঞ্ছারামপুর থেকে পাচার হচ্ছে নানা প্রকার মাদক দ্রব্য।। তা ছাড়া আড়াইহাজার উপজেলার পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার মাধবদী থানা এলাকা থেকেও সড়ক পথে মাদক পাচার হয়। সেই মাদক লোক মারফত আড়াইহাজারে ঢুকছে। মাধবদী ও বাঞ্ছারামপুর থেকে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল নৌ ও সড়ক পথে অবাধে আড়াইহাজারে ঢুকছে।মাঝে মধ্যে র‌্যাবের বিশেষ টিম বিশনন্দী ফেরীঘাট এলাকায় ও ঢাকা- সিলেট মহাসড়কে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদকসহ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও তাদের নামে থানায় মামলা দায়ের করছেন। কিন্তু পুলিশের দূর্বল রিপোর্টের কারণে কোর্ট থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন তারা।

এ ব্যাপারে আড়াইহাজার থানার ওসি আজিজুল হক হাওলাদার বলেন, মাদকের সঠিক স্পট গুলোর সন্ধান পেলে এবং কেউ যদি সংবাদ দিয়ে জানায় যে কোথায় কোথায় মাদকের আখড়া রয়েছে তা হলে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সহজ হবে।