নারায়ণগঞ্জ ০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সোনারগাঁয়ে পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ১৬ জন গ্রেপ্তার বন্দরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও থানা পরিদর্শন করলেন ডিসি রায়হান কবির রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতিকালে যুবক আটক, আহত দুই প্রেস ক্লাবের সাথে মতবিনিময়ে মাদক, যানজট ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে সহযোগিতা চাইলেন পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার তাগিদ দিলেন জেলা প্রশাসক সোনারগাঁয়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, মাদক-ধর্ষণ-ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৯ সোনারগায়ে কথিত ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় গরুর মৃত্যু, চিকিৎসকের কারাদণ্ড রূপগঞ্জে সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের গুলিতে ব্যবসায়ী আহত সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ জন গ্রেফতার, ১২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক, কিশোর গ্যাং ও যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশ

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখায় সর্বমহলেই প্রশংসিত নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ১৯১ বার পড়া হয়েছে

 

স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে ব্যতিক্রমী ভূমিকা রেখে সর্বমহল সহ সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান মুন্সী। তার নেতৃত্বে বদলে যেতে শুরু করেছে পুরো জেলার আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি। ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি জনবান্ধব পুলিশ প্রশাসন তৈরি সহ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন প্রকার অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
জেলার প্রতিটি থানা ও ফাড়ির পরিস্থিতি নিজেই তদারকি করছেন এবং দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
বিশেষ করে বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করে তিনি জনগণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে জনবান্ধব পুলিশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যা ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।
তার তৎপরতায় জেলায় অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল। শুধু তাই নয় চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা সহ সকল অপরাধ তার কঠোর অবস্থানে কমে এসেছে। জেলার মানুষের মধ্যে স্বস্তিও আস্থা ফিরে এসেছে জেলা পুলিশের প্রতি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য নিষ্ঠার সঙ্গে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান মুন্সি যোগদানের পরপরই মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে অব্যাহত অভিযান পরিচালনা করে আসছে ।তিনি মনে করেন সকল অপরাধের মূল হচ্ছে মাদক। তাই মাদক মুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে বদ্ধপরিকর জেলা পুলিশ সুপার। মাদক সহ সকল অপরাধীদের বিরুদ্ধে অব্যাহত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার নারী ও শিশু সংক্রান্ত সামাজিক সমস্যাগুলোতেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া সহ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা নিরসন এবং নির্যাতিত নারীদের আইনি সহায়তা প্রদানে সর্বোচ্চ সহযোগিতার নির্দেশনা দিয়েছেন জেলার সকল কর্মকর্তাদের।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও কার্যকর তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে চারটি বড় উৎসব—জাতীয় সংসদ ও গণভোট নির্বাচন ২০২৬, পবিত্র ঈদুল ফিতর, বন্দর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লাঙ্গলবন্দ স্নান এবং মহান স্বাধীনতা দিবস। পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সির নেতৃত্বে এসব আয়োজন ঘিরে কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।প্রতিটি উৎসব শান্তিপূর্ণ ও উতসমূখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর জন্য জেলা বাসীর সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। তারা সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট গ্রহণে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ দিয়ে সম্পন্ন করেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম সমস্যা যানজট নিরসনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জেলায় ২৫টি ঈদগাহ ময়দান এবং প্রায় ৪ হাজার মসজিদে মোট সাড়ে ৮ হাজার ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এসব ঈদগাহ ও মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি ছিল। সকাল থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা শহরের জামতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহসহ বিভিন্ন স্থানে নামাজ আদায়ে অংশ নেন। ঈদের জামাতকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন।
এছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় হাইওয়ে সড়কে যানজটমুক্ত রাখতে প্রায় ৬০০ পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। ফলে নির্বিঘ্নে ঈদের জামাত ও পরবর্তী উৎসবমুখর পরিবেশ উপভোগ করতে পেরেছেন নগরবাসী।

অন্যদিকে, বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে অনুষ্ঠিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাঅষ্টমী স্নান উৎসবেও ছিল দেশি-বিদেশি লাখো পুণ্যার্থীর সমাগম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তরা ব্রহ্মপুত্র নদীতে স্নান করে ধর্মীয় আচার পালন করেন।
এই উৎসব উপলক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদের দুইধারে ২৪টি স্নানঘাটে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের টহলের পাশাপাশি স্থলপথে পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন ছিল। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১১০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। পুণ্যার্থীদের জন্য মেডিকেল টিম ও জরুরি সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়। সব মিলিয়ে সুশৃঙ্খল পরিবেশে শেষ হয় এ উৎসব।

এছাড়া মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চারটি বড় আয়োজনকে সামনে রেখে আগে থেকেই সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাঠে দায়িত্ব পালন, সিসিটিভি নজরদারি, কন্ট্রোল রুম স্থাপন এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়। এতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে।
জেলা পুলিশের এমন কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের ফলে একসঙ্গে চারটি বৃহৎ আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসনের সক্ষমতা ও প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জেলাবাসী মনে করেন , জেলা পুলিশের দক্ষ পরিকল্পনা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতির কারণে নারায়ণগঞ্জে একসঙ্গে চারটি বড় উৎসব নির্বিঘ্নে ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ ধরনের সক্রিয় ও পেশাদার ভুমিকা নিশ্চিত করেছে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং আনন্দময় পরিবেশ, যা জেলাবাসীর প্রশংসিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ১৬ জন গ্রেপ্তার

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখায় সর্বমহলেই প্রশংসিত নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার

আপডেট সময় : ১১:৫৪:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে ব্যতিক্রমী ভূমিকা রেখে সর্বমহল সহ সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান মুন্সী। তার নেতৃত্বে বদলে যেতে শুরু করেছে পুরো জেলার আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি। ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি জনবান্ধব পুলিশ প্রশাসন তৈরি সহ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন প্রকার অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
জেলার প্রতিটি থানা ও ফাড়ির পরিস্থিতি নিজেই তদারকি করছেন এবং দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
বিশেষ করে বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করে তিনি জনগণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে জনবান্ধব পুলিশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যা ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।
তার তৎপরতায় জেলায় অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল। শুধু তাই নয় চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা সহ সকল অপরাধ তার কঠোর অবস্থানে কমে এসেছে। জেলার মানুষের মধ্যে স্বস্তিও আস্থা ফিরে এসেছে জেলা পুলিশের প্রতি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য নিষ্ঠার সঙ্গে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান মুন্সি যোগদানের পরপরই মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে অব্যাহত অভিযান পরিচালনা করে আসছে ।তিনি মনে করেন সকল অপরাধের মূল হচ্ছে মাদক। তাই মাদক মুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে বদ্ধপরিকর জেলা পুলিশ সুপার। মাদক সহ সকল অপরাধীদের বিরুদ্ধে অব্যাহত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার নারী ও শিশু সংক্রান্ত সামাজিক সমস্যাগুলোতেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া সহ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা নিরসন এবং নির্যাতিত নারীদের আইনি সহায়তা প্রদানে সর্বোচ্চ সহযোগিতার নির্দেশনা দিয়েছেন জেলার সকল কর্মকর্তাদের।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও কার্যকর তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে চারটি বড় উৎসব—জাতীয় সংসদ ও গণভোট নির্বাচন ২০২৬, পবিত্র ঈদুল ফিতর, বন্দর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লাঙ্গলবন্দ স্নান এবং মহান স্বাধীনতা দিবস। পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সির নেতৃত্বে এসব আয়োজন ঘিরে কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।প্রতিটি উৎসব শান্তিপূর্ণ ও উতসমূখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর জন্য জেলা বাসীর সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। তারা সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট গ্রহণে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ দিয়ে সম্পন্ন করেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম সমস্যা যানজট নিরসনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জেলায় ২৫টি ঈদগাহ ময়দান এবং প্রায় ৪ হাজার মসজিদে মোট সাড়ে ৮ হাজার ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এসব ঈদগাহ ও মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি ছিল। সকাল থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা শহরের জামতলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহসহ বিভিন্ন স্থানে নামাজ আদায়ে অংশ নেন। ঈদের জামাতকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন।
এছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় হাইওয়ে সড়কে যানজটমুক্ত রাখতে প্রায় ৬০০ পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। ফলে নির্বিঘ্নে ঈদের জামাত ও পরবর্তী উৎসবমুখর পরিবেশ উপভোগ করতে পেরেছেন নগরবাসী।

অন্যদিকে, বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে অনুষ্ঠিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাঅষ্টমী স্নান উৎসবেও ছিল দেশি-বিদেশি লাখো পুণ্যার্থীর সমাগম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তরা ব্রহ্মপুত্র নদীতে স্নান করে ধর্মীয় আচার পালন করেন।
এই উৎসব উপলক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদের দুইধারে ২৪টি স্নানঘাটে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের টহলের পাশাপাশি স্থলপথে পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন ছিল। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১১০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। পুণ্যার্থীদের জন্য মেডিকেল টিম ও জরুরি সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়। সব মিলিয়ে সুশৃঙ্খল পরিবেশে শেষ হয় এ উৎসব।

এছাড়া মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চারটি বড় আয়োজনকে সামনে রেখে আগে থেকেই সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাঠে দায়িত্ব পালন, সিসিটিভি নজরদারি, কন্ট্রোল রুম স্থাপন এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়। এতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে।
জেলা পুলিশের এমন কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের ফলে একসঙ্গে চারটি বৃহৎ আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসনের সক্ষমতা ও প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জেলাবাসী মনে করেন , জেলা পুলিশের দক্ষ পরিকল্পনা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতির কারণে নারায়ণগঞ্জে একসঙ্গে চারটি বড় উৎসব নির্বিঘ্নে ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ ধরনের সক্রিয় ও পেশাদার ভুমিকা নিশ্চিত করেছে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং আনন্দময় পরিবেশ, যা জেলাবাসীর প্রশংসিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।