সিদ্বিরগঞ্জ প্রতিনিধি : হেফাজতে ইসলামের হরতালে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন বহু অপকর্মের হোতা নুর উদ্দীন নুরু (৪২) ও সীমান্ত হেলাল ওরফে বিল্লাল হোসেন (৪০)।
গ্রেফতারকৃত নুর উদ্দীন নুরু ও সীমান্ত হেলাল ওরফে বিল্লাল হোসেন হেফাজতে ইসলামের হরতালে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজহার ভূক্ত আসামী। বৃহস্পতিবার রাতে নুর উদ্দীন নুরুকে মিজমিজি রহমতনগর এলাকা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই ফয়সাল আলম গ্রেফতার করে।
অন্য দিকে একই এলাকা থেকে বুধবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই রিপন খন্দকার সীমান্ত হেলাল ওরফে বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন। এদিকে বহু অপকর্মের হোতা নুর উদ্দীন নুরু ও সীমান্ত বিল্লাল পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সিদ্ধিরগঞ্জের ১নম্বর ওয়ার্ডের মিজমিজি বাতানপাড়া, রহমতনগর ও আল-আমিন নগর এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
গ্রেফতারকৃত নুর উদ্দীন নুরু জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল হাই রাজুর ভাতিজা হলেও এলাকায় তাফালিং করে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তোলেছিলো।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সিদ্ধিরগঞ্জের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিজমিজি বাতানপাড়া, রহমতনগর ও আল-আমিন নগর এলাকায় নুরুউদ্দিন নুরু ও শীমান্ত হেলাল ওরফে বিল্লাল ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।
এদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একাধিক মাদকের মামলা থাকলেও এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল দিব্বী। সন্ধ্যার হলেই শুরু হতো তাদের অপারেশন। নুরুউদ্দিন নুরু ও বিল্লাল নিজেদের পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে তাফালিং করে আসছিলো। এদের প্রধান টার্গেট ছিল আদমজী ইপিজেটের গার্মেন্টের নারী-পুরুষ শ্রমিক।
সন্ধ্যার পর কোন ছেলে-মেয়েদের এক সাথে দেখলেই টার্গেট করে বিভিন্নভাবে ফাদ পেতে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতো মোটা অংকের টাকা।
নুরুউদ্দিন নুরু বিএনপির নেতা আব্দুল হাই রাজুর ভাতিজা হলেও অনেকটা দাপটের সাথে দাবরিয়ে বেড়াতো নাসিক ১নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা। কেউ তাদের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলেই পুলিশ দিয়ে হয়রানি করতো বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এছাড়াও যারা দেশের অন্য জেলা থেকে মিজমিজি বাতানপাড়া, রহমতনগর ও আল-আমিন নগর এলাকায় এসে বাড়ি করেছেন তাদের বাড়ি ঘর নির্মান করার সময় মালামাল জোর পূর্বেক সরবরাহ করার হুমকী ধমকী দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ মশিউর রহমান পিপিএম জানান, গ্রেফতারকৃত নুরু উদ্দীন নুরু ও বিল্লাল হোসেন বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং নাশকতা, পুলিশের উপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা মামলার এজহারভুক্ত আসামী। সেই প্রেক্ষিতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরাধী সে যে দলের-ই হোক না কেন? ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রতিনিধির নাম 



















