সমাবেশে ঢুকতে পুলিশের কাছে হকারদের নাম এন্ট্রি!

নারায়ণগঞ্জ সংবাদ রিপোর্ট :   হকার নেতা আসাদসহ গ্রেফতারকৃত তিন হকার নেতাকে মুক্তি,পুলিশের করা মামলা প্রত্যাহার, এবং বঙ্গবন্ধু সড়কে হকারদের বসতে দেয়ার দাবিতে হকারদের ডাকা সমাবেশে পুলিশের কড়া প্রহরা থাকায় শুধুমাত্র জেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলামের বক্তব্যের মাধ্যমেই শেষ হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) বিকালে চাষাঢ়া পৌর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই আয়োজন করা হয়। এখানে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য সকাল থেকেই শহীদ মিনার ও এর আশেপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমান পুলিশের প্রহরা ছিল। পুরো শহীদ মিনারই নিরপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশ। শহীদ মিনারের গেটের সামনে অবস্থান নেয় জল কামান ও টিয়ারশেলবাহী গাড়ি।

বিকেল চারটার পর শহীদ মিনারের আশেপাশে উপস্থিত হয়ে ঘুরতে থাকে হকাররা। এ সময় শহীদ মিনারের প্রধান গেট ছাড়া বাকী সব গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রধান গেটের সামনে পুলিশ খাতায় নাম এন্ট্রির মাধ্যমে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়ার কারণে সাধারণ হকাররা ভেতরে প্রবেশ করার সাহস দেখাতে পারেনি।

বিকেল ৫টার পর জেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম গেট দিয়ে প্রবেশকালে পুলিশ নাম এন্ট্রি করতে চাইলে তিনি সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্জামান এর নিকট হাফিজুল বলেন, নাম এন্ট্রির কারণে হকাররা প্রবেশ করতে সাহস পাচ্ছে না। হকাররা এখানে কোন প্রকার উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবে না, এখানে সংক্ষেপে তাদের কিছু দাবি উল্লেখ করে চলে যাবে, তাই তাদের নির্বিঘ্নে প্রবেশ করতে দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

এ সময় হাফিজুল ইসলাম তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, হকারদের পুনর্বাসনের আগে তাদের বঙ্গবন্ধু সড়কে বসতে দিতে হবে। হকারদের জন্য যে মার্কেট তৈরী করা হয়েছে, সেখানে জনগণের ব্যবসা করার সুযোগ নাই। সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। একজন মানুষকে কবরে সমাহিত করার জন্য ৭ ফুট জায়গা প্রয়োজন, অথচ এই হকারদের তিনফুট জায়গা দিয়ে আপনারা বলছেন আপনারা হকারদের পুনর্বাসন করেছেন।

তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের কোন সম্পত্তি বিক্রি করার সুযোগ কোন নাগরিকের নাই। এই তিন ফুট ঘরে বসে দোকানদারি করা সম্ভব নয় বিধায় একজন হকার আরেক জনকে সামান্য টাকার বিনিময়ে ঘর হস্তান্তর করেছে। পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একজন আরেকজনের ঘর দখল নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, আমাদের এই সামান্য ব্যপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সর্বশক্তি নিয়োগ করা হোক সেটা আমরা চাই না। জলকামান, টিয়ার গ্যাস শেল হকারদের জন্য নয়। রোববার আসাদের জামিনের শুনানির পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ইকবাল হোসেন ও দিলিপ কুমার দাশ, শ্রমিক নেতা আবুল ছালাম বাবুল, হকার নেতা অনিক প্রমুখ।

উল্লেখ্য, শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে বসার দাবিতে গত কয়েকদিন যাবত বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশে করে আসছিল। একই ইস্যুতে গত ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু সড়কের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় আগুন দিয়ে সড়ক আবরোধের চেষ্টা এবং ৯ মার্চ রাস্তায় আগুন, যানবাহন ভাঙচুর, ইট বৃষ্টি নিক্ষেপসহ লঠিসোটা নিয়ে রীতিমতো তান্ডব চালায় তারা। সেদিন পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে বড় ধরণের কোন অঘটন না ঘটলেও অনেক আহত, আর্থিক ক্ষয়ক্ষতিসহ একটি আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরী হয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়া থেকে ২নং রেল গেট পর্যন্ত এলাকা।

এ ঘটনায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং আরো ২শত থেকে আড়াইশত অজ্ঞাত আসামি করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন হকার নেতা আসাদ, কালু গাজী ও মানিক দেওয়ান।