নারায়ণগঞ্জ ১২:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরি চক্রের ৬ প্রতারক গ্রেপ্তার

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করার অভিযোগে ৬ প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২। গত বুধবার বিকেল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনের ৪ টি কম্পিউটার দোকানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ধৃতরা হলো-নারায়ণগঞ্জের ফজলুল করিম (৩৩), সাইফুল ইসলাম (২৪), আজিম হোসেন (২৬), নেত্রকোনা জেলার মামুন মিয়া (৩৫), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা মাঈনুদ্দিন আহমেদ (৩৮) ও জাহাঙ্গীর (৩৬)। এদের কাছ থেকে পাসপোর্ট তৈরির ২৫ হাজার ভুয়া সনদ, সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধির সিল, ল্যাপটপ এবং অবৈধ লেনদেনের ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী র‌্যাব-২ এর কোম্পানী কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুক জানান, রোহিঙ্গাদের পাসর্পোট কিভাবে তৈরি করা হচ্ছে তা তদন্তের সূত্র ধরে প্রথমে তিনজনকে আটক করা হয়। যারা জন্ম সনদ জাতীয় সার্ভার থেকে বের করতে সহযোগিতা করে আসছিল। পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে কম্পিউটার দোকানে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করা হয়। এরা বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে জন্মনিবন্ধন সনদ সরবরাহ করতো। তারা রোহিঙ্গাদেরকে জাল জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে পাসপোর্ট তৈরীতে সহায়তা করতো। ভূয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশের জন্ম সনদ নিয়ে আসছিল।

জন্ম সনদ করার প্রক্রিয়া বিষয়ে এই র‌্যাব কর্মকর্ত জানান, ৫ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকায় সিটি করপোরেশন ও দেশের বিভিন্ন জেলার ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে রোহিঙ্গাদের নাগরিক, সাজাপ্রাপ্ত ও ফেরারী আসামী, দাগী অপরাধী, বয়স কম-বেশী দেখিয়ে বিদেশ যেতে আগ্রহী লোকদের জন্ম সনদ তৈরী করে দেয়া হতো। জাতীয় ভাবে জন্ম সনদের যে সার্ভার রয়েছে তারা সিটি করপোরেশনের কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সার্ভার নাম ও পাসওয়ার্ড নিয়ে সেখানে প্রবেশ করতো। সেখানে বর্তমান ঠিকানা ব্যবহার করতো নারায়ণগঞ্জ আর স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজার উখিয়া সহ বিভিন্ন জেলা। যার ফলে সার্ভারে জন্ম সনদটি মিল পাওয়া যেতো। অথচ এটা করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও আইনগত দন্ডীয় অপরাধ। এসব করার জন্য চক্রটি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাসপোর্ট অফিসগুলোতেই ভীড় করতো। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে জনিতি তিনি বলেন ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

আটককৃত ফজলুল করিম গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, একটি জন্ম সনদের জন্য ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা নিত। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা মাঈনুদ্দিন আহমেদ তাকে সহযোগিতা করতো। মাঈনুদ্দিনই জন্ম সনদের জাতীয় সার্ভারের নাম ও পাসওয়ার্ড দেয়।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরি চক্রের ৬ প্রতারক গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৮:২৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করার অভিযোগে ৬ প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২। গত বুধবার বিকেল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনের ৪ টি কম্পিউটার দোকানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ধৃতরা হলো-নারায়ণগঞ্জের ফজলুল করিম (৩৩), সাইফুল ইসলাম (২৪), আজিম হোসেন (২৬), নেত্রকোনা জেলার মামুন মিয়া (৩৫), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা মাঈনুদ্দিন আহমেদ (৩৮) ও জাহাঙ্গীর (৩৬)। এদের কাছ থেকে পাসপোর্ট তৈরির ২৫ হাজার ভুয়া সনদ, সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধির সিল, ল্যাপটপ এবং অবৈধ লেনদেনের ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী র‌্যাব-২ এর কোম্পানী কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুক জানান, রোহিঙ্গাদের পাসর্পোট কিভাবে তৈরি করা হচ্ছে তা তদন্তের সূত্র ধরে প্রথমে তিনজনকে আটক করা হয়। যারা জন্ম সনদ জাতীয় সার্ভার থেকে বের করতে সহযোগিতা করে আসছিল। পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে কম্পিউটার দোকানে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করা হয়। এরা বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে জন্মনিবন্ধন সনদ সরবরাহ করতো। তারা রোহিঙ্গাদেরকে জাল জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে পাসপোর্ট তৈরীতে সহায়তা করতো। ভূয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশের জন্ম সনদ নিয়ে আসছিল।

জন্ম সনদ করার প্রক্রিয়া বিষয়ে এই র‌্যাব কর্মকর্ত জানান, ৫ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকায় সিটি করপোরেশন ও দেশের বিভিন্ন জেলার ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে রোহিঙ্গাদের নাগরিক, সাজাপ্রাপ্ত ও ফেরারী আসামী, দাগী অপরাধী, বয়স কম-বেশী দেখিয়ে বিদেশ যেতে আগ্রহী লোকদের জন্ম সনদ তৈরী করে দেয়া হতো। জাতীয় ভাবে জন্ম সনদের যে সার্ভার রয়েছে তারা সিটি করপোরেশনের কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সার্ভার নাম ও পাসওয়ার্ড নিয়ে সেখানে প্রবেশ করতো। সেখানে বর্তমান ঠিকানা ব্যবহার করতো নারায়ণগঞ্জ আর স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজার উখিয়া সহ বিভিন্ন জেলা। যার ফলে সার্ভারে জন্ম সনদটি মিল পাওয়া যেতো। অথচ এটা করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও আইনগত দন্ডীয় অপরাধ। এসব করার জন্য চক্রটি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাসপোর্ট অফিসগুলোতেই ভীড় করতো। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে জনিতি তিনি বলেন ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

আটককৃত ফজলুল করিম গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, একটি জন্ম সনদের জন্য ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা নিত। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা মাঈনুদ্দিন আহমেদ তাকে সহযোগিতা করতো। মাঈনুদ্দিনই জন্ম সনদের জাতীয় সার্ভারের নাম ও পাসওয়ার্ড দেয়।