নারায়ণগঞ্জ ০৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মানুষ রুখে দাড়ালেই সকল হত্যার বিচার হবে: রফিউর রাব্বি

শহর প্রতিনিধি : সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহŸায়ক রফিউর রাব্বি বলেছেন, ‘ এই সরকার ‘জয় বাংলা’ ¯েøাগান দিয়ে তাদের অপকর্ম জায়েজ করতে চাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই মানুষ তার ন্যায্য দাবি ও সকল হত্যাকান্ডের বিচার আদায় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। সাধারণ মানুষ রুখে দাড়ালেই সকল হত্যার বিচার হবে।’
শনিবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় নগরীর আলী আহম্মদ চুনকা পাঠাগার ও মিলনায়নতনে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে মোমবাতি প্রজ্জলন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত সম্পন্ন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার এগারোজনকে নিয়ে তাদের টর্চার সেলে কীভাবে হত্যা করেছে। ত্বকী হত্যার এক বছরের মাথায় তারা এসব কথা জানালো। একটা অভিযোগপত্র সরবরাহ করে সাংবাদিকদের তারা জানালো যে, এটি অচিরেই তারা আদালতে পেশ করবেন। কিন্তু এ ঘটনার তিনমাস পর জুন মাসের সাত তারিখ সংসদে দাড়িয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, ওসমান পরিবারের পাশে থাকবেন, দেখে রাখবেন। তখন থেকেই এই ত্বকী হত্যার সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলো।’
তিনি আরো বলেন, ‘একটা দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যখন ঘাতকের পক্ষ নেয়, খুনি পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেয় সে দেশে বিচার ব্যবস্থা বলে কিছু থাকে না। এবং সে দেশের জনগণ কখনোই নিরাপদ থাকতে পারে না।’
রফিউর রাব্বি বলেন, ‘যে দলটিকে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী বলা হয়ে থাকে সেই বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাই আমাদের স্বাধীন দেশে এই কাজটি করলেন। তিনি সমগ্র ব্যবস্থা ও জনগণকে অনিরাপদ করেছেন এবং গোটা দেশটাকে তিনি অনিশ্চিত একটা পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন।’
জনগণের প্রতি তাদের আশা-ভরসা কিছুই নাই। যার ফলে এই সরকার জনগণের বিপক্ষে দাড়িয়ে তারা গডফাদার তন্ত্রের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এই সরকারের মানবিক চরিত্র নাই। গডফাদারতন্ত্রের উপর দাড়িয়ে স্বেচ্ছাচারী স্বৈরশাসনের উপর টিকে থাকতে চাচ্ছে এই সরকার।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা এই বাংলাদেশ আশা করি নাই। আমরা সেই বাংলাদেশ চেয়েছি যে বাংলাদেশ জনগণের হবে, আপামর সমস্ত মানুষের হবে। সাধারণ জনগণের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে, জীবিকার নিরাপত্তা থাকবে, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা থাকবে; এটাই আমরা চেয়েছি। কিন্তু সমস্ত কিছু ধূলিসাৎ করেছে এই সরকার।’
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি এড. জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, সাবেক সভাপতি জাহিদুল হক দিপু, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি হাফিজুর রহমান, বাসদ নেতা আবু নাঈম খান বিপ্লব প্রমুখ।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মানুষ রুখে দাড়ালেই সকল হত্যার বিচার হবে: রফিউর রাব্বি

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০১৯

শহর প্রতিনিধি : সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহŸায়ক রফিউর রাব্বি বলেছেন, ‘ এই সরকার ‘জয় বাংলা’ ¯েøাগান দিয়ে তাদের অপকর্ম জায়েজ করতে চাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই মানুষ তার ন্যায্য দাবি ও সকল হত্যাকান্ডের বিচার আদায় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। সাধারণ মানুষ রুখে দাড়ালেই সকল হত্যার বিচার হবে।’
শনিবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় নগরীর আলী আহম্মদ চুনকা পাঠাগার ও মিলনায়নতনে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে মোমবাতি প্রজ্জলন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত সম্পন্ন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবার এগারোজনকে নিয়ে তাদের টর্চার সেলে কীভাবে হত্যা করেছে। ত্বকী হত্যার এক বছরের মাথায় তারা এসব কথা জানালো। একটা অভিযোগপত্র সরবরাহ করে সাংবাদিকদের তারা জানালো যে, এটি অচিরেই তারা আদালতে পেশ করবেন। কিন্তু এ ঘটনার তিনমাস পর জুন মাসের সাত তারিখ সংসদে দাড়িয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, ওসমান পরিবারের পাশে থাকবেন, দেখে রাখবেন। তখন থেকেই এই ত্বকী হত্যার সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলো।’
তিনি আরো বলেন, ‘একটা দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যখন ঘাতকের পক্ষ নেয়, খুনি পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেয় সে দেশে বিচার ব্যবস্থা বলে কিছু থাকে না। এবং সে দেশের জনগণ কখনোই নিরাপদ থাকতে পারে না।’
রফিউর রাব্বি বলেন, ‘যে দলটিকে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী বলা হয়ে থাকে সেই বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাই আমাদের স্বাধীন দেশে এই কাজটি করলেন। তিনি সমগ্র ব্যবস্থা ও জনগণকে অনিরাপদ করেছেন এবং গোটা দেশটাকে তিনি অনিশ্চিত একটা পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন।’
জনগণের প্রতি তাদের আশা-ভরসা কিছুই নাই। যার ফলে এই সরকার জনগণের বিপক্ষে দাড়িয়ে তারা গডফাদার তন্ত্রের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এই সরকারের মানবিক চরিত্র নাই। গডফাদারতন্ত্রের উপর দাড়িয়ে স্বেচ্ছাচারী স্বৈরশাসনের উপর টিকে থাকতে চাচ্ছে এই সরকার।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা এই বাংলাদেশ আশা করি নাই। আমরা সেই বাংলাদেশ চেয়েছি যে বাংলাদেশ জনগণের হবে, আপামর সমস্ত মানুষের হবে। সাধারণ জনগণের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে, জীবিকার নিরাপত্তা থাকবে, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা থাকবে; এটাই আমরা চেয়েছি। কিন্তু সমস্ত কিছু ধূলিসাৎ করেছে এই সরকার।’
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি এড. জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, সাবেক সভাপতি জাহিদুল হক দিপু, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি হাফিজুর রহমান, বাসদ নেতা আবু নাঈম খান বিপ্লব প্রমুখ।