নারায়ণগঞ্জ ০৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি মিটআপ ২০২৩ অনুষ্ঠিত আদমজী ইপিজেডকে অশান্ত করছে জনপ্রতিনিধিরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের কর্মকর্তাদের সাথে মহিলা লীগ নেত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় না’গঞ্জ কারাগারে হাজতীর মৃত্যু ফতুল্লায় চোরাইকৃত ট্যাংকলড়ী উদ্ধার আড়াইহাজারের মিথিলা টেক্সটাইল ঘুরে গেলেন ৮ দেশের রাষ্ট্রদূতসহ ১৮ দেশের প্রতিনিধি সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের কর্মকর্তাদের সাথে কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের মতবিনিময় ফতুল্লা ব্লাড ডোনার্সের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শিক্ষা সিলেবাস বাতিলের দাবিতে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহরে নারী সমাবেশ ও মিছিল

সিদ্ধিরগঞ্জে পরিত্যাক্ত সরকারি তাজ জুট মিল দখল করতে মড়িয়া মডার্ণ গ্রুপ : মিথ্যা মামলা করে হয়রানীর অভিযোগ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯
  • ২৮৩ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে ১১ একর জমির উপর গড়ে উঠা আনুমানিক আড়াইশ কোটি টাকা মূল্যের পরিত্যাক্ত সরকারি তাজ জুট মিলের মালিকানা দাবি করে দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মডার্ণ গ্রুপ। শুরু করেছে মিলের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র। মিলের রক্ষনা বেক্ষনের দায়িত্বে থাকা লোকজনের বিরুদ্ধে দিচ্ছে সাজানো মিথ্যা মামলা। মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে কন্ট্রাক এক্ট ১৮৭২ আইনের ৩৯ নং ধারা অনুযায়ী বিগত ১৯৮৫ সালের ২৭ মে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করে গত বছরের ২৫ জানুয়ারি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রীনা পারভীন স্বাক্ষরীত এক প্রজ্ঞাপনের প্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত ফেরদৌস এর উপস্থিতিতে ২৬ জানুয়ারি বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ মিলটির দখল বুঝে নেয়। এর পর থেকেই বিজেএমসির নিয়োজিত ৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়মিত মিলে দায়িত্ব পালন করছেন। মিলে মডার্ণ গ্রুপের কোন অস্তিত্ব নেই। অথচ ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবির সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মো: নজরুল ইসলামকে ফাঁসিয়েছে মডার্ণ গ্রুপ।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয় বেসরকারিকরণ ও বিরাষ্ট্রীয়করণ শাখা বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা নং-২৪.০০.০০০০.২০২.১৮.০০৯.১২(২য় খন্ড).২৮ জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ট্রারপ্রাইজ (ন্যাশনালিজেশন)অরডার,১৯৭২(পি.ও.নং-২৭ অফ ১৯৭২)মূলে তাজ জুট বেকিং কোং লিমিটেড এর সকল শেয়ার ও অন্যান্য স্বত্ব সরকারের ন্যস্ত ছিল। তার পর ২৭-০৫-১৯৮৫ ইং তারিখে শিল্পনীতির শর্তসমূহ প্রতিপালন করে সরকার উক্ত কোম্পানির সাথে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং সরকার,বিজেএমসি ও মিল কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পাদিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তিমূলে মিল গ্রহীতাগণ মিলের বিপরীতে সরকার ও সরকারি অর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়-দেনা পরিশোধ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে মিলের ব্যবস্থপনার দায়িত্ব গ্রহন করেন। কিন্তু ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ চুক্তি মতে মিল কর্তৃপক্ষ সরকার, বিজেএমসি ও অন্যান্য সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পাওনা পরিশোধ করেনি। চুক্তি মতে পাওনা পরিশোধ করার জন্য মিলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে গত ২ হাজার ১০ সাল থেকে সর্বশেষ ২ হাজার ১৬ সাল পর্যন্ত অসংখ্য তাগিদপত্র প্রদান করা স্বত্বেও সরকারি পাওনা পরিশোধ না করে মিল কর্তৃপক্ষ সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড হতে ঋণ গ্রহন করেছে। যেহেতু মিল কর্তৃপক্ষ সরকার, বিজেএমসি ও সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পাওনা পরিশোধ না করা, উত্তরা ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহন করা, মিল বন্ধ রাখায় সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তিদ্বয়ের শর্ত ভঙ্গ করে, হাজার-হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে তাদের কর্মসংস্থান হতে বঞ্চিত করে রেখেছে, এতে মিল হস্তান্তরের উদ্দেশ্য ব্যাহত এবং চুক্তি লংঘিত হয়েছে। সেহেতু জনস্বার্থে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে কন্ট্রাক এক্ট ১৮৭২ আইনের ৩৯ নং ধারা অনুযায়ী বিগত ১৯৮৫ সালের ২৭ মে সম্পাদিত মিল হস্তান্তর চুক্তিদ্বয় বাতিল করা হলো। নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইলে অবস্থিত তাজ জুট বেকিং কোং লিমিটেড কারখানাটিসহ উক্ত কোম্পানির যাবতীয় শেয়ার, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও স্বত্ব ২৫ জানুয়ারি ২ হাজার ১৮ ইং সাল থেকে সরকার কর্তৃক টেক বেক করা হলো এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মিলটির ব্যবস্থাপনার নিমিত্ত এ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রাষ্টায়ত্ব সংস্থা বিজেএমসি’র নিয়ন্ত্রণে ন্যস্ত করা হলো।
মন্ত্রনায় প্রজ্ঞাপন জারি করার পর দিনই ২৬ জানুয়ারি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত ফেরদৌস এর উপস্থিতিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ তাজ জুট মিলের দখল বুঝে নেয়। মিলের ভিতরে বসবাসরত শ্রমিকদের ১৫ দিনের মধ্যে মিল ত্যাগ করার সময় দেয় ম্যাজিস্ট্রেট। বিজেএমসির নিজস্ব নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োজিত করা হয় মিলে।
অভিযোগ রয়েছে, বিজেএমসি মিলটির দখল বুঝে নেয়ার কয়েকদিন পর ৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত আদেশ ছাড়াই মিলের কোটি টাকা মূল্যের মেশিন খোলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বিজেএমসির কর্মকর্তা শহীদুল্লাহ। মেশিন নেওয়ার জন্য দু,টি ট্রাক মিলে প্রবেশ করার খবর পেয়ে ব্যবস্থপনা পরিচালক শেখ হেদায়েত উল্লার লোকজন ছুটে গিয়ে বাধা দেয়। ছুটে যায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের স্থানীয় কর্মীরা। তখন গণমাধ্যম কর্মীরা বিজেএমসির কর্মকর্তা শহিদুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, এসব মেশিন করিম জুট মিলে নিয়ে যাওয়া হবে। সরকারি আদেশ মোতাবেক কাজ করা হচ্ছে। হাইকোর্ট যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল তা বাতিল করা হয়েছে। তাই মিলের মালামাল সরিয়ে নিতে আইনী কোন বাঁধা নেই। আদেশ দেখতে চাইলে তিনি সরকারি আদেশ নামা দেখাতে পারেননি। আসার সময় আদেশ নামাটি আনতে বুলে গেছেন। কিছুক্ষনের মধ্যে আদেশ দেখানোর কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যায় শহীদুল্লাহ। মিলে নিয়োজিত নিরাপত্তা প্রহরীরা বিষয়টি বিজেএমসির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগতি করিয়ে মেশিন নিতে আসা ট্রাক ফিরিয়ে দেয়।

জানা গেছে, মিলের ব্যবস্থপনা পরিচালক শেখ হেদায়েত উল্লাহ মিলটি দেখভাল করার জন্য যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব দিয়েছেন। মিলটির দখল বুঝে নেওয়ার পরও বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ নজরুলকে মিল থেকে বিতারিত করেননি। কারণ, মিলটি পরিত্যাক্ত হলেও কোটি কোটি টাকার মেশিনপত্র রয়েছে। এসব মেশিনপত্র যাতে চুরি না হয় সেই জন্য বিজেএমসি কর্তৃপক্ষও দেখভাল করতে নজরুল ইসলামের প্রয়োজন মনে করছেন। নজরুল ইসলামের কারণেই মিলের কোটি কোটি টাকার মেশিনপত্র বহাল রয়েছে। নজরুল ইসলামের দেখভালের কারণে মডার্ণ গ্রুপ মিলের মেশিন চুরি করতে পারেনি। তাই মিথ্যা মামলা দিয়ে নজরুলকে ফাঁসিয়ে মিলের মেশিন চুরি ও জমি হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে মডার্ণ গ্রুপ এমন অভিযোগ তুলেছেন নজরুল ইসলামের পরিবার।

এ দিকে যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মডার্ণ গ্রুপের মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেদায়েত উল্লাহ। সঠিক ভাবে তদন্ত করলে মিথ্যা মামলার আসল রহস্য উদঘাটন হবে বলে মনে করছেন তিনি।

মডার্ণ গ্রুপের দায়ের করা সাজনো চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতারকৃত যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামের রিমান্ড শুনানী হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ আদালতে। আদালত রিমান্ড বাতিল করলে নজরুল ইসলামকে জেল গেইটে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদেশ প্রদান করেছেন। পুলিশ মামলাটি সঠিক ভাবে তদন্ত করে ন্যায় বিচার করার জন্য জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ এর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামের পরিবার।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি মিটআপ ২০২৩ অনুষ্ঠিত

সিদ্ধিরগঞ্জে পরিত্যাক্ত সরকারি তাজ জুট মিল দখল করতে মড়িয়া মডার্ণ গ্রুপ : মিথ্যা মামলা করে হয়রানীর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৫৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে ১১ একর জমির উপর গড়ে উঠা আনুমানিক আড়াইশ কোটি টাকা মূল্যের পরিত্যাক্ত সরকারি তাজ জুট মিলের মালিকানা দাবি করে দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মডার্ণ গ্রুপ। শুরু করেছে মিলের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র। মিলের রক্ষনা বেক্ষনের দায়িত্বে থাকা লোকজনের বিরুদ্ধে দিচ্ছে সাজানো মিথ্যা মামলা। মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে কন্ট্রাক এক্ট ১৮৭২ আইনের ৩৯ নং ধারা অনুযায়ী বিগত ১৯৮৫ সালের ২৭ মে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করে গত বছরের ২৫ জানুয়ারি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রীনা পারভীন স্বাক্ষরীত এক প্রজ্ঞাপনের প্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত ফেরদৌস এর উপস্থিতিতে ২৬ জানুয়ারি বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ মিলটির দখল বুঝে নেয়। এর পর থেকেই বিজেএমসির নিয়োজিত ৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়মিত মিলে দায়িত্ব পালন করছেন। মিলে মডার্ণ গ্রুপের কোন অস্তিত্ব নেই। অথচ ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবির সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মো: নজরুল ইসলামকে ফাঁসিয়েছে মডার্ণ গ্রুপ।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয় বেসরকারিকরণ ও বিরাষ্ট্রীয়করণ শাখা বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা নং-২৪.০০.০০০০.২০২.১৮.০০৯.১২(২য় খন্ড).২৮ জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ট্রারপ্রাইজ (ন্যাশনালিজেশন)অরডার,১৯৭২(পি.ও.নং-২৭ অফ ১৯৭২)মূলে তাজ জুট বেকিং কোং লিমিটেড এর সকল শেয়ার ও অন্যান্য স্বত্ব সরকারের ন্যস্ত ছিল। তার পর ২৭-০৫-১৯৮৫ ইং তারিখে শিল্পনীতির শর্তসমূহ প্রতিপালন করে সরকার উক্ত কোম্পানির সাথে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং সরকার,বিজেএমসি ও মিল কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পাদিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তিমূলে মিল গ্রহীতাগণ মিলের বিপরীতে সরকার ও সরকারি অর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়-দেনা পরিশোধ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে মিলের ব্যবস্থপনার দায়িত্ব গ্রহন করেন। কিন্তু ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ চুক্তি মতে মিল কর্তৃপক্ষ সরকার, বিজেএমসি ও অন্যান্য সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পাওনা পরিশোধ করেনি। চুক্তি মতে পাওনা পরিশোধ করার জন্য মিলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে গত ২ হাজার ১০ সাল থেকে সর্বশেষ ২ হাজার ১৬ সাল পর্যন্ত অসংখ্য তাগিদপত্র প্রদান করা স্বত্বেও সরকারি পাওনা পরিশোধ না করে মিল কর্তৃপক্ষ সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড হতে ঋণ গ্রহন করেছে। যেহেতু মিল কর্তৃপক্ষ সরকার, বিজেএমসি ও সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পাওনা পরিশোধ না করা, উত্তরা ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহন করা, মিল বন্ধ রাখায় সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তিদ্বয়ের শর্ত ভঙ্গ করে, হাজার-হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে তাদের কর্মসংস্থান হতে বঞ্চিত করে রেখেছে, এতে মিল হস্তান্তরের উদ্দেশ্য ব্যাহত এবং চুক্তি লংঘিত হয়েছে। সেহেতু জনস্বার্থে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে কন্ট্রাক এক্ট ১৮৭২ আইনের ৩৯ নং ধারা অনুযায়ী বিগত ১৯৮৫ সালের ২৭ মে সম্পাদিত মিল হস্তান্তর চুক্তিদ্বয় বাতিল করা হলো। নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইলে অবস্থিত তাজ জুট বেকিং কোং লিমিটেড কারখানাটিসহ উক্ত কোম্পানির যাবতীয় শেয়ার, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও স্বত্ব ২৫ জানুয়ারি ২ হাজার ১৮ ইং সাল থেকে সরকার কর্তৃক টেক বেক করা হলো এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মিলটির ব্যবস্থাপনার নিমিত্ত এ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রাষ্টায়ত্ব সংস্থা বিজেএমসি’র নিয়ন্ত্রণে ন্যস্ত করা হলো।
মন্ত্রনায় প্রজ্ঞাপন জারি করার পর দিনই ২৬ জানুয়ারি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত ফেরদৌস এর উপস্থিতিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ তাজ জুট মিলের দখল বুঝে নেয়। মিলের ভিতরে বসবাসরত শ্রমিকদের ১৫ দিনের মধ্যে মিল ত্যাগ করার সময় দেয় ম্যাজিস্ট্রেট। বিজেএমসির নিজস্ব নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োজিত করা হয় মিলে।
অভিযোগ রয়েছে, বিজেএমসি মিলটির দখল বুঝে নেয়ার কয়েকদিন পর ৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত আদেশ ছাড়াই মিলের কোটি টাকা মূল্যের মেশিন খোলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বিজেএমসির কর্মকর্তা শহীদুল্লাহ। মেশিন নেওয়ার জন্য দু,টি ট্রাক মিলে প্রবেশ করার খবর পেয়ে ব্যবস্থপনা পরিচালক শেখ হেদায়েত উল্লার লোকজন ছুটে গিয়ে বাধা দেয়। ছুটে যায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের স্থানীয় কর্মীরা। তখন গণমাধ্যম কর্মীরা বিজেএমসির কর্মকর্তা শহিদুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, এসব মেশিন করিম জুট মিলে নিয়ে যাওয়া হবে। সরকারি আদেশ মোতাবেক কাজ করা হচ্ছে। হাইকোর্ট যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল তা বাতিল করা হয়েছে। তাই মিলের মালামাল সরিয়ে নিতে আইনী কোন বাঁধা নেই। আদেশ দেখতে চাইলে তিনি সরকারি আদেশ নামা দেখাতে পারেননি। আসার সময় আদেশ নামাটি আনতে বুলে গেছেন। কিছুক্ষনের মধ্যে আদেশ দেখানোর কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যায় শহীদুল্লাহ। মিলে নিয়োজিত নিরাপত্তা প্রহরীরা বিষয়টি বিজেএমসির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগতি করিয়ে মেশিন নিতে আসা ট্রাক ফিরিয়ে দেয়।

জানা গেছে, মিলের ব্যবস্থপনা পরিচালক শেখ হেদায়েত উল্লাহ মিলটি দেখভাল করার জন্য যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব দিয়েছেন। মিলটির দখল বুঝে নেওয়ার পরও বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ নজরুলকে মিল থেকে বিতারিত করেননি। কারণ, মিলটি পরিত্যাক্ত হলেও কোটি কোটি টাকার মেশিনপত্র রয়েছে। এসব মেশিনপত্র যাতে চুরি না হয় সেই জন্য বিজেএমসি কর্তৃপক্ষও দেখভাল করতে নজরুল ইসলামের প্রয়োজন মনে করছেন। নজরুল ইসলামের কারণেই মিলের কোটি কোটি টাকার মেশিনপত্র বহাল রয়েছে। নজরুল ইসলামের দেখভালের কারণে মডার্ণ গ্রুপ মিলের মেশিন চুরি করতে পারেনি। তাই মিথ্যা মামলা দিয়ে নজরুলকে ফাঁসিয়ে মিলের মেশিন চুরি ও জমি হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে মডার্ণ গ্রুপ এমন অভিযোগ তুলেছেন নজরুল ইসলামের পরিবার।

এ দিকে যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মডার্ণ গ্রুপের মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেদায়েত উল্লাহ। সঠিক ভাবে তদন্ত করলে মিথ্যা মামলার আসল রহস্য উদঘাটন হবে বলে মনে করছেন তিনি।

মডার্ণ গ্রুপের দায়ের করা সাজনো চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতারকৃত যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামের রিমান্ড শুনানী হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ আদালতে। আদালত রিমান্ড বাতিল করলে নজরুল ইসলামকে জেল গেইটে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদেশ প্রদান করেছেন। পুলিশ মামলাটি সঠিক ভাবে তদন্ত করে ন্যায় বিচার করার জন্য জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ এর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামের পরিবার।