নারায়ণগঞ্জ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পুলিশের অভিযানের মুখে শুভ রায় ফেসবুকে আবোল তাবোল লিখছে

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মার্চ ২০১৯
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

শহর প্রতিনিধিঃ চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে মামলা ও পুলিশের অভিযানের মুখে শুভ রায় ফেসবুকে সাংবাদিকদের নিয়ে আবোল তাবোল বকছেন বলে শহরজুড়ে তোলপাড়। এ নিয়ে তার ঘনিষ্টজনরা বলছেন, চাষাড়া শহীদ মিনার থেকে গলাচিপা পর্যন্ত সড়কের ফুটপাতের বিদ্যুত চুরি করে চাঁদাবাজি, পুরান আদালত থেকে কালিবাজার সড়কের দুই ধারের দোকানে বিদ্যুৎ চুরি করে চাঁদাবাজি, সাংসদ পুত্র অয়ন ওসমানের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে।

জানতে চাইলে শুভর বন্ধু শান্ত বলেন, ভাই আমি নিজের আইডি থেকে কোন পোষ্ট নাই। আমি কোথাও কোন চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নই। সাংবাদিকদের নিয়ে আমার কোন ক্ষোভ নাই।
শুভ রায় তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, শুভ ও সান্তর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ প্রতিবেদন। একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও অনলাইন নিউজে যে সংবাদ উপস্থাপন হচ্ছে তার জন্য আমি লজ্জিত বোধ করছি এর সাথে পুরো ঘটনা না যেনে এমন নিউজ করায় প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কেননা আমি এবং আমার বন্ধু শান্ত কোন সন্ত্রাসী বা চাদাবাজ না। এছাড়া নিকটস্থ থানায় আজও পর্যন্ত আমার নামে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ নেই! প্রকৃত অর্থে আমি একজন থান কাপড় ব্যবসায়ী এবং শহরের উকিল পাড়াতে আমার নিজস্ব দোকান ও রয়েছে এবং আমার বন্ধু শান্ত সেও আমার সাথে একই ব্যবসা করে! উল্লেখ্য তোলারাম কলেজে অনার্স পরিক্ষা দেওয়ার পর পারিবারিক আর্থিক সমস্যাজনিত কারনে ছাত্র জীবনের সমাপ্তি ঘোষনা করে বিদেশ চাকুরির তাগিতে পাড়ি জমাই এবং দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে এসে উপার্জিত অর্থ দিয়ে থান কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি আর সে ব্যবসার সাথে কিছুদিন পর বন্ধু শান্তও যুক্ত হন ! এক সময় আমার বাবা স্টোক করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেই সময় পুরো পরিবারের হাল নিজ কাধে নিতে হয় বিধায় কিছু টাকা সাইড ব্যবসা হিসেবে বাংলা বাজার মুক্তার ক্যাবল এর মালিক মো. মুক্তার মিয়ার সাথে ব্যবসায়ীক পাটনার হই, কেননা মুক্তার মিয়াও সে সময় আর্থিক সমস্যায় সম্মুখিন ছিলো। অতঃপর মাস শেষে বিনোয়গের উপর ভিত্তি করে কিছু লভাংশ দেওয়া হত যা দিয়ে আমার সংসারের খরচ কিছুটা স্বচ্ছল হতো! যদিও আমি নিজে সেখানে সময় দিতাম না। কারন মুক্তার ক্যাবল দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত সেই এলাকায় সুনামের সহিত সার্ভিস দিয়ে আসছিলো। এমতাবস্থায় কিছুদিন পূর্বে মুক্তার ক্যাবল এর লাইন ছেড়ে দেবার জন্য নারায়নগঞ্জ ১৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু (ওরফে ডিশ বাবু) জানান লাইন ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে। সে সময় নির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না থাকার পরেও জানান লাইন ছেড়ে দিতে। অন্যথায় লাখ দশেক টাকা অগ্রিম বাবদ পুনরায় দিতে। সে সময় মুক্তার মিয়া পাটনার হিসেবে আমাকে অব্যাহত করেন। তারপর আমি আমার বন্ধু শান্তকে নিয়ে আব্দুল করিম বাবু কাউন্সিলারের অফিসে যোগাযোগ করি। শান্তর সাথে উনার সুসম্পর্ক থাকায় শান্ত আমার সাথে উনার অফিসে যান এবং তাদের মধ্যে চাচা ভাতিজা সর্ম্পকে জের ধরে লাইন বিষয়ে অনুরোধ জানান। তারপর আমিও বাবু চাচার নিকট অনয় বিনয়ের সহিত নিজ পরিবারের সমস্যা জানাই। লাখ দুয়েক টাকা অনেক কষ্ট করে ব্যবস্থা করে এনেছি আর কয়েকটা মাস সময় দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। আমার বাবা কিছু দিন পূর্বে ইন্তেকাল করেছে তাই অনেক সমস্যায় জর্জরিত আছি বলে তার কাছে বিশেষন করি। তারপর বাবু চাচা টাকা ফেরত দিয়ে সময় নেন। এবং তিনি ভেবে জানাবেন বলে আমাদের আশ্বাস দেন। অন্যথায় আমি যদি ২০ লাখ টাকা দিতে পারি তাহলে এই এলাকা বাদ দিয়ে পুলিশ লাইনে ১৫০০ লাইনের এক এরিয়া আছে তা নেওয়ার জন্য প্রস্তাব করেন! কিন্তু আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত থাকায় আমি আর একমত হতে না পেরে চলে আসি তার অফিস থেকে। তারপর বেশ কিছুদিন তার অফিসে একই অনুরোধ নিয়ে গিয়ে গিয়ে ব্যর্থ হই। এক সময় পাশের বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী লোকজন আমার লাইন এরিয়াতে এসে দখলদারির মতন যুক্ত হতে থাকে এবং নানান হুমকি ধমকি দিতে থাকে। এক পর্যায় শুনি উনাদের কাছে নাকি বাবু চাচা লাইন বিক্রি করছে। এমতাবস্থায় অনেকটা চিন্তিত হয়ে বাংলা বাজার কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল্লা বাদল মহোদয়ের কাছে সব ঘটনা নিয়ে স্বরনাপন্ন হই। এবং সব শুনে তিনি এর মিমাংসা করে দিচ্ছেন বলে আশ্বাসও প্রদান করেন। কিন্তু সেই রাতেই বাবু চাচার কন্ট্রোল রুম থেকে বাংলা বাজার এর লাইন সুইচ অফ করে দেওয়া হয়। প্রায় চার পাচ দিন বাংলা বাজার এলাকাবাসী ডিশ লাইন বিচ্ছিন্ন থাকে। তখন তার সাথে বার বার যোগাযোগ করতে গিয়েও আমরা ব্যর্থ হই। এইভাবে চার পাচ দিন ডিশ লাইন বিচ্ছিন্ন থাকে উক্ত এরিয়ায়। কিন্তু বাবু চাচার সাথে আমাদের কারোই কোন ব্যক্তিগত দন্ধ ও শত্রুতা নেই। এবং সে একজন একটি ওয়ার্ডের সন্মানিত কাউন্সিলর ও জনপ্রতিনিধি। তাই তাহার সন্মানের দিক বিবেচনা করে আমরা কোন আইনি অভিযোগ বা বেয়াদবি হয় এমন কিছুর দিক চিন্তা না করে। বিভিন্ন ময় মুরুব্বিদের নিকট নিজেদের সমস্যার দিক বিবেচনা করে বাবু চাচার একটু সুনজর কামনা করি। যাতে আমাদের পরিবারের পেটে লাথি না পড়ে। কিন্তু বাবু চাচা বয়সে ও সব দিক দিয়ে আমাদের অনেক সিনিয়র। তাই উনার সন্মানে আঘাত আসার মতন এমন কোন কাজের সাথে জড়িত হবো বলে কখনো ভাবিও নেই! এখন কিসের উপর ভিত্তি করে এই অভিযোগ করছেন তা সঠিক বলতে পারবো না। এছাড়া বিভিন্ন অনলাইন নিউজে কি কারনে আমাকে এবং বন্ধু শান্তকে নিয়ে বাবু চাচার বিরুদ্ধে এমন নিউজ প্রচার হচ্ছে তাও আমার জানা নেই। আর আমি নিজে এবং শান্ত কোন ক্যাবল নেটওয়াকের কাটার সাথে সম্পৃক্ত নই। এছাড়া কোন সংগঠনকে পুজি করে রুজি করার মতন মন মানসিকতার কখনই ছিলাম না। যে কারনে এখনো মধ্যবিত্ত সাদা সিদা জীবন কাটাচ্ছি। সেই সাথে তরুন প্রজন্মের অহংকার অয়ন ওসমান সাহেবের নাম বিক্রি করার প্রশ্নই আসে না। কেননা তিনি নারায়ণগঞ্জের হাজারো ছাত্র জনতার আইডল হিসেবে পরিচিত তিনি! আর বাবু চাচা নিজেও নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী কাউন্সিলরদের মধ্যে একজন এবং তার কাছে লাইসেন্স কৃত অস্ত্রও আছে নিজ নিরাপত্তার জন্য তাও অনেকের জানা। সেই দিক বিবেচনা করে সুধু আমি কেনো কারোই চাঁদা দাবি করে হুমকি ধমকি দিতে সাহস হবে বলে আমি মনে করি না! হয়তো কুথাও ভুল বুঝাবুঝি আছে বা হচ্ছে। এমন পথ চলার অনেক ক্ষেত্রে অনেক কিছুর সাথেই মিলে যায়। যার সুযোগ নিয়ে তৃতীয় কোন পক্ষ নিজেদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি করে। তাই এই সকল সমস্ত নিউজের নিন্দা জানিয়ে বলতে চাই আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। গরীব হতে পারি কিন্তু নিজ মহল্লা ও সমাজে যথেষ্ট সন্মান রয়েছে। আর কোন চাদাবাজ বা সন্ত্রাসী জিবন কখনই মিডেল ক্লাস পরিবারে সচারচর হয় না। তাই সমস্ত ঘটনা না জেনে বুঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার জন্য সমাজের সকলের নিকট আহবান রইলো !

এর আগে শান্ত ও শুভ রায় নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু সত্ত¡াধীকারি এসবি ক্যাবলস প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ লাখ টাকার তার কেটে ক্ষতিগ্রস্থ করে বলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এসবি স্যাটেলাইট ক্যাবলসের স্বত্তাধিকারী কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু। তিনি প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে সরকারের রাজস্ব দিয়ে সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কিন্তু শান্ত, শুভ রায় (৩০), ফকির চাঁনের ছেলে জনি (৩২) সহ ৮ থেকে ১০ জন মিলে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দেয়ায় তারা ঞ্জর বঙ্গবন্ধু সড়ক, ২ নং গেট সড়কে, জিমখানা সড়কে, হীরা মহলের সামনে, জামতলায় সংসদ সদস্যের বাড়ির সামনে ও জেলখানা সড়কের স্যাটেলাইট ক্যাবল বিছিন্ন করে দেয়। এতে পুরো শহরের গ্রাহকগন চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এরপর আসামীরা ক্যাবল অপারেটরদেরকে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করেন। পরে তারা বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ১৭ লাখ টাকার ক্যাবল কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে। তারা দাবী করে হয় তাদের চাঁদা দিতে হবে। তা না হলে তাদেরকে ডিশ ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে। এছাড়াও তারা আরও ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার তার কেটে বিচ্ছিন্ন করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু বলেন, আমি বিচার চাই। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমি শান্ত হবো না। আমি আমার ক্ষতিপূরণ চাই।

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, অভিযান চলছে। শিগ্রই আসামীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের অভিযানের মুখে শুভ রায় ফেসবুকে আবোল তাবোল লিখছে

আপডেট সময় : ০৫:০৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মার্চ ২০১৯

শহর প্রতিনিধিঃ চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে মামলা ও পুলিশের অভিযানের মুখে শুভ রায় ফেসবুকে সাংবাদিকদের নিয়ে আবোল তাবোল বকছেন বলে শহরজুড়ে তোলপাড়। এ নিয়ে তার ঘনিষ্টজনরা বলছেন, চাষাড়া শহীদ মিনার থেকে গলাচিপা পর্যন্ত সড়কের ফুটপাতের বিদ্যুত চুরি করে চাঁদাবাজি, পুরান আদালত থেকে কালিবাজার সড়কের দুই ধারের দোকানে বিদ্যুৎ চুরি করে চাঁদাবাজি, সাংসদ পুত্র অয়ন ওসমানের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে।

জানতে চাইলে শুভর বন্ধু শান্ত বলেন, ভাই আমি নিজের আইডি থেকে কোন পোষ্ট নাই। আমি কোথাও কোন চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নই। সাংবাদিকদের নিয়ে আমার কোন ক্ষোভ নাই।
শুভ রায় তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, শুভ ও সান্তর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ প্রতিবেদন। একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও অনলাইন নিউজে যে সংবাদ উপস্থাপন হচ্ছে তার জন্য আমি লজ্জিত বোধ করছি এর সাথে পুরো ঘটনা না যেনে এমন নিউজ করায় প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কেননা আমি এবং আমার বন্ধু শান্ত কোন সন্ত্রাসী বা চাদাবাজ না। এছাড়া নিকটস্থ থানায় আজও পর্যন্ত আমার নামে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ নেই! প্রকৃত অর্থে আমি একজন থান কাপড় ব্যবসায়ী এবং শহরের উকিল পাড়াতে আমার নিজস্ব দোকান ও রয়েছে এবং আমার বন্ধু শান্ত সেও আমার সাথে একই ব্যবসা করে! উল্লেখ্য তোলারাম কলেজে অনার্স পরিক্ষা দেওয়ার পর পারিবারিক আর্থিক সমস্যাজনিত কারনে ছাত্র জীবনের সমাপ্তি ঘোষনা করে বিদেশ চাকুরির তাগিতে পাড়ি জমাই এবং দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে এসে উপার্জিত অর্থ দিয়ে থান কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি আর সে ব্যবসার সাথে কিছুদিন পর বন্ধু শান্তও যুক্ত হন ! এক সময় আমার বাবা স্টোক করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেই সময় পুরো পরিবারের হাল নিজ কাধে নিতে হয় বিধায় কিছু টাকা সাইড ব্যবসা হিসেবে বাংলা বাজার মুক্তার ক্যাবল এর মালিক মো. মুক্তার মিয়ার সাথে ব্যবসায়ীক পাটনার হই, কেননা মুক্তার মিয়াও সে সময় আর্থিক সমস্যায় সম্মুখিন ছিলো। অতঃপর মাস শেষে বিনোয়গের উপর ভিত্তি করে কিছু লভাংশ দেওয়া হত যা দিয়ে আমার সংসারের খরচ কিছুটা স্বচ্ছল হতো! যদিও আমি নিজে সেখানে সময় দিতাম না। কারন মুক্তার ক্যাবল দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত সেই এলাকায় সুনামের সহিত সার্ভিস দিয়ে আসছিলো। এমতাবস্থায় কিছুদিন পূর্বে মুক্তার ক্যাবল এর লাইন ছেড়ে দেবার জন্য নারায়নগঞ্জ ১৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু (ওরফে ডিশ বাবু) জানান লাইন ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে। সে সময় নির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না থাকার পরেও জানান লাইন ছেড়ে দিতে। অন্যথায় লাখ দশেক টাকা অগ্রিম বাবদ পুনরায় দিতে। সে সময় মুক্তার মিয়া পাটনার হিসেবে আমাকে অব্যাহত করেন। তারপর আমি আমার বন্ধু শান্তকে নিয়ে আব্দুল করিম বাবু কাউন্সিলারের অফিসে যোগাযোগ করি। শান্তর সাথে উনার সুসম্পর্ক থাকায় শান্ত আমার সাথে উনার অফিসে যান এবং তাদের মধ্যে চাচা ভাতিজা সর্ম্পকে জের ধরে লাইন বিষয়ে অনুরোধ জানান। তারপর আমিও বাবু চাচার নিকট অনয় বিনয়ের সহিত নিজ পরিবারের সমস্যা জানাই। লাখ দুয়েক টাকা অনেক কষ্ট করে ব্যবস্থা করে এনেছি আর কয়েকটা মাস সময় দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। আমার বাবা কিছু দিন পূর্বে ইন্তেকাল করেছে তাই অনেক সমস্যায় জর্জরিত আছি বলে তার কাছে বিশেষন করি। তারপর বাবু চাচা টাকা ফেরত দিয়ে সময় নেন। এবং তিনি ভেবে জানাবেন বলে আমাদের আশ্বাস দেন। অন্যথায় আমি যদি ২০ লাখ টাকা দিতে পারি তাহলে এই এলাকা বাদ দিয়ে পুলিশ লাইনে ১৫০০ লাইনের এক এরিয়া আছে তা নেওয়ার জন্য প্রস্তাব করেন! কিন্তু আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত থাকায় আমি আর একমত হতে না পেরে চলে আসি তার অফিস থেকে। তারপর বেশ কিছুদিন তার অফিসে একই অনুরোধ নিয়ে গিয়ে গিয়ে ব্যর্থ হই। এক সময় পাশের বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী লোকজন আমার লাইন এরিয়াতে এসে দখলদারির মতন যুক্ত হতে থাকে এবং নানান হুমকি ধমকি দিতে থাকে। এক পর্যায় শুনি উনাদের কাছে নাকি বাবু চাচা লাইন বিক্রি করছে। এমতাবস্থায় অনেকটা চিন্তিত হয়ে বাংলা বাজার কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল্লা বাদল মহোদয়ের কাছে সব ঘটনা নিয়ে স্বরনাপন্ন হই। এবং সব শুনে তিনি এর মিমাংসা করে দিচ্ছেন বলে আশ্বাসও প্রদান করেন। কিন্তু সেই রাতেই বাবু চাচার কন্ট্রোল রুম থেকে বাংলা বাজার এর লাইন সুইচ অফ করে দেওয়া হয়। প্রায় চার পাচ দিন বাংলা বাজার এলাকাবাসী ডিশ লাইন বিচ্ছিন্ন থাকে। তখন তার সাথে বার বার যোগাযোগ করতে গিয়েও আমরা ব্যর্থ হই। এইভাবে চার পাচ দিন ডিশ লাইন বিচ্ছিন্ন থাকে উক্ত এরিয়ায়। কিন্তু বাবু চাচার সাথে আমাদের কারোই কোন ব্যক্তিগত দন্ধ ও শত্রুতা নেই। এবং সে একজন একটি ওয়ার্ডের সন্মানিত কাউন্সিলর ও জনপ্রতিনিধি। তাই তাহার সন্মানের দিক বিবেচনা করে আমরা কোন আইনি অভিযোগ বা বেয়াদবি হয় এমন কিছুর দিক চিন্তা না করে। বিভিন্ন ময় মুরুব্বিদের নিকট নিজেদের সমস্যার দিক বিবেচনা করে বাবু চাচার একটু সুনজর কামনা করি। যাতে আমাদের পরিবারের পেটে লাথি না পড়ে। কিন্তু বাবু চাচা বয়সে ও সব দিক দিয়ে আমাদের অনেক সিনিয়র। তাই উনার সন্মানে আঘাত আসার মতন এমন কোন কাজের সাথে জড়িত হবো বলে কখনো ভাবিও নেই! এখন কিসের উপর ভিত্তি করে এই অভিযোগ করছেন তা সঠিক বলতে পারবো না। এছাড়া বিভিন্ন অনলাইন নিউজে কি কারনে আমাকে এবং বন্ধু শান্তকে নিয়ে বাবু চাচার বিরুদ্ধে এমন নিউজ প্রচার হচ্ছে তাও আমার জানা নেই। আর আমি নিজে এবং শান্ত কোন ক্যাবল নেটওয়াকের কাটার সাথে সম্পৃক্ত নই। এছাড়া কোন সংগঠনকে পুজি করে রুজি করার মতন মন মানসিকতার কখনই ছিলাম না। যে কারনে এখনো মধ্যবিত্ত সাদা সিদা জীবন কাটাচ্ছি। সেই সাথে তরুন প্রজন্মের অহংকার অয়ন ওসমান সাহেবের নাম বিক্রি করার প্রশ্নই আসে না। কেননা তিনি নারায়ণগঞ্জের হাজারো ছাত্র জনতার আইডল হিসেবে পরিচিত তিনি! আর বাবু চাচা নিজেও নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী কাউন্সিলরদের মধ্যে একজন এবং তার কাছে লাইসেন্স কৃত অস্ত্রও আছে নিজ নিরাপত্তার জন্য তাও অনেকের জানা। সেই দিক বিবেচনা করে সুধু আমি কেনো কারোই চাঁদা দাবি করে হুমকি ধমকি দিতে সাহস হবে বলে আমি মনে করি না! হয়তো কুথাও ভুল বুঝাবুঝি আছে বা হচ্ছে। এমন পথ চলার অনেক ক্ষেত্রে অনেক কিছুর সাথেই মিলে যায়। যার সুযোগ নিয়ে তৃতীয় কোন পক্ষ নিজেদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি করে। তাই এই সকল সমস্ত নিউজের নিন্দা জানিয়ে বলতে চাই আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। গরীব হতে পারি কিন্তু নিজ মহল্লা ও সমাজে যথেষ্ট সন্মান রয়েছে। আর কোন চাদাবাজ বা সন্ত্রাসী জিবন কখনই মিডেল ক্লাস পরিবারে সচারচর হয় না। তাই সমস্ত ঘটনা না জেনে বুঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার জন্য সমাজের সকলের নিকট আহবান রইলো !

এর আগে শান্ত ও শুভ রায় নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু সত্ত¡াধীকারি এসবি ক্যাবলস প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ লাখ টাকার তার কেটে ক্ষতিগ্রস্থ করে বলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এসবি স্যাটেলাইট ক্যাবলসের স্বত্তাধিকারী কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু। তিনি প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে সরকারের রাজস্ব দিয়ে সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কিন্তু শান্ত, শুভ রায় (৩০), ফকির চাঁনের ছেলে জনি (৩২) সহ ৮ থেকে ১০ জন মিলে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দেয়ায় তারা ঞ্জর বঙ্গবন্ধু সড়ক, ২ নং গেট সড়কে, জিমখানা সড়কে, হীরা মহলের সামনে, জামতলায় সংসদ সদস্যের বাড়ির সামনে ও জেলখানা সড়কের স্যাটেলাইট ক্যাবল বিছিন্ন করে দেয়। এতে পুরো শহরের গ্রাহকগন চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এরপর আসামীরা ক্যাবল অপারেটরদেরকে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করেন। পরে তারা বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ১৭ লাখ টাকার ক্যাবল কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে। তারা দাবী করে হয় তাদের চাঁদা দিতে হবে। তা না হলে তাদেরকে ডিশ ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে। এছাড়াও তারা আরও ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার তার কেটে বিচ্ছিন্ন করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু বলেন, আমি বিচার চাই। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমি শান্ত হবো না। আমি আমার ক্ষতিপূরণ চাই।

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, অভিযান চলছে। শিগ্রই আসামীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।