নারায়ণগঞ্জ ০৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে পল্লী চিকিৎসকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: তানসিভ জুবায়ের সোনারগাঁয়ে ১০১ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জ ডিসি ও এসপিকে জার্নালিস্ট ইউনিটির সম্মাননা স্মারক প্রদান রূপগঞ্জে জালিয়াতি ও ভুয়া দলিলে জমি দখলের প্রতিবাদে মানবববন্ধন ও স্মারকলিপি সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২২ জন গ্রেপ্তার, ৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার অর্থ আত্মসাত ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় সিদ্ধিরগঞ্জ প্রেস ক্লাব থেকে মোসলেম উদ্দিন ও আমীর হোসেনকে বহিষ্কার আড়াইহাজারে যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার,স্ত্রী আটক রূপগঞ্জে শিক্ষিকার লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ও হামলাকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন সোনারগাঁয়ে ফ্লাইওভার ব্রিজের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত চাষাঢ়ায় যানজট নিরসনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আকস্মিক পরিদর্শনে এসপি হাবিবুর রহমান

এ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্কের অবৈধ দোকান গুড়িয়ে দিলো নাসিক

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৩৭৬ বার পড়া হয়েছে

ফতুল্লার  পঞ্চবটিতে এ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্কে নকশার বাইরে কর্তৃপক্ষের গড়ে তোলা ৪৮ দোকানে অভিযান চালিয়ে এক পাশের ২০টি দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সিটি করপোরেশন। বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি ) দুপুরে বিপুল পরিমাণ পুলিশের উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ.এম. এহতেশামূল হক এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এনসিসি এ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্কটির তিন পরিচালক সদস্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের নক্সার বাইরে পার্কের মূল ফটকের আউটডোরে কর্তৃপক্ষ অনুমোদন ব্যতিত ৪৮ টি দোকান গড়ে তোলে।

এছাড়া অন্য আরো একটি সূত্র জানিয়েছে, অবৈধভাবে গড়ে তোলা দোকানগুলো সম্পর্কে সিটি করপোরেশনকে ওয়াকিবহাল না করেই নকশার বাইরে তৈরি করেছিলেন পার্কটির পরিচালকরা। এবং গড়ে তোলা দোকানগুলো বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রিও করে দিয়েছেন যা সিটি করপোরেশন অবগত ছিলো না।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকবার এ পার্কের বাইরের অংশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা দোকানগুলোর ক্ষেত্রে তদন্ত করতে আসে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকেও পার্কের বাইরের অংশে গড়ে তোলা এসব দোকানের ব্যাপারে তদন্তে আসে।

জানা গেছে, পার্কের নকশা যেভাবে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন করিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিলো। কিন্তু পরে মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত দল এসে তা ওইভাবে পায় নি। না পেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মামলা করে। পরে যাচাই বাছাইয়ের পর পার্কের বাইরের দিকে ৪৮ টি অবৈধ দোকানের তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে কয়েকবার পার্ক কতৃপক্ষকে অবৈধ দোকানগুলো সরিয়ে ফেলার চিঠি দেয়ার পরেও তারা এগুলোকে অগ্রাহ্য করে।

এ ব্যাপারে মেয়র আইন অনুযায়ী যা করার তাই করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। আইন মেনে যা করণীয় তা করার ব্যাপারে মত দিয়েছেন তিনি। আর এ ব্যাপারে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী কোনভাবেই যাতে হেয় না হন এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা সচেষ্ট ছিলেন। পার্ক কর্তপক্ষকে বার বার বলা তাগিদ বলা হচ্ছিলো আপনারা এ অবৈধ দোকানগুলো সরিয়ে ফেলুন নতুবা সিটি করপোরেশন যে কোন মুহুর্ত্বে এগুলো ভেঙে ফেলবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নাসিক মেয়র যে কতখানি স্বচ্ছভাবে কাজ করেন এ অভিযানের মধ্য দিয়ে তা আবারো প্রমাণিত হয়েছে। মেয়রের নির্দেশে এবং নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে অবৈধভাবে গড়ে তোলা এ দোকানগুলো ভেঙে দেয়া হলো। নাসিক মেয়র সবসময়ই বলেছেন, অন্যায়ের সাথে কোন আপোষ নয়। এ কথার যথার্থতা এ অভিযানের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।

সর্বশেষ পার্ক কর্তৃপক্ষের তিনজন মালিকের মধ্যে দুই জনের উপস্থিতিতে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফএম এহতেশামূল হকের নেতৃত্বে অবৈধ দোকানগুলোর উচ্ছেদ করা আরম্ভ করে।

পরে পার্ক কর্তৃপক্ষের দুই পরিচালক এসে নকশা অনুযায়ী দোকান সরানোর জন্য আগামী ৭ দিনের সময় প্রার্থণা করেন। এ সময়ের মধ্যে নকশা অনুযায়ী এসব দোকান না সরানো হলে আগামী ১৫ তারিখের পর আবার উচ্ছেদ অভিযান চালাবে সিটি করপোরেশন। গত ৬ মাস ধরে সিটি করপোরেশন পার্ক কর্তৃপক্ষকে বার বার নকশার ব্যত্যয় ঘটানোর কারণ দর্শাতে বলেন।

এবিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ.এম. এহতেশামূল হক বলেন, পার্কের বাইরের দিকে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

উচ্ছেদ অভিযানের সময় মেয়রের পিএ আবুল হোসেন, কর ও আইন কর্মকর্তা ােম.মাজহার উদ্দিন খন্দকার, সার্ভেয়ার কালাম মোল্লা, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ, কনজারভেন্সী ইন্সপেক্টর রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে পল্লী চিকিৎসকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: তানসিভ জুবায়ের

এ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্কের অবৈধ দোকান গুড়িয়ে দিলো নাসিক

আপডেট সময় : ০২:১৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জানুয়ারী ২০১৮

ফতুল্লার  পঞ্চবটিতে এ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্কে নকশার বাইরে কর্তৃপক্ষের গড়ে তোলা ৪৮ দোকানে অভিযান চালিয়ে এক পাশের ২০টি দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সিটি করপোরেশন। বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি ) দুপুরে বিপুল পরিমাণ পুলিশের উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ.এম. এহতেশামূল হক এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এনসিসি এ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্কটির তিন পরিচালক সদস্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের নক্সার বাইরে পার্কের মূল ফটকের আউটডোরে কর্তৃপক্ষ অনুমোদন ব্যতিত ৪৮ টি দোকান গড়ে তোলে।

এছাড়া অন্য আরো একটি সূত্র জানিয়েছে, অবৈধভাবে গড়ে তোলা দোকানগুলো সম্পর্কে সিটি করপোরেশনকে ওয়াকিবহাল না করেই নকশার বাইরে তৈরি করেছিলেন পার্কটির পরিচালকরা। এবং গড়ে তোলা দোকানগুলো বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রিও করে দিয়েছেন যা সিটি করপোরেশন অবগত ছিলো না।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকবার এ পার্কের বাইরের অংশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা দোকানগুলোর ক্ষেত্রে তদন্ত করতে আসে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকেও পার্কের বাইরের অংশে গড়ে তোলা এসব দোকানের ব্যাপারে তদন্তে আসে।

জানা গেছে, পার্কের নকশা যেভাবে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন করিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিলো। কিন্তু পরে মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত দল এসে তা ওইভাবে পায় নি। না পেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মামলা করে। পরে যাচাই বাছাইয়ের পর পার্কের বাইরের দিকে ৪৮ টি অবৈধ দোকানের তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে কয়েকবার পার্ক কতৃপক্ষকে অবৈধ দোকানগুলো সরিয়ে ফেলার চিঠি দেয়ার পরেও তারা এগুলোকে অগ্রাহ্য করে।

এ ব্যাপারে মেয়র আইন অনুযায়ী যা করার তাই করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। আইন মেনে যা করণীয় তা করার ব্যাপারে মত দিয়েছেন তিনি। আর এ ব্যাপারে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী কোনভাবেই যাতে হেয় না হন এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা সচেষ্ট ছিলেন। পার্ক কর্তপক্ষকে বার বার বলা তাগিদ বলা হচ্ছিলো আপনারা এ অবৈধ দোকানগুলো সরিয়ে ফেলুন নতুবা সিটি করপোরেশন যে কোন মুহুর্ত্বে এগুলো ভেঙে ফেলবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নাসিক মেয়র যে কতখানি স্বচ্ছভাবে কাজ করেন এ অভিযানের মধ্য দিয়ে তা আবারো প্রমাণিত হয়েছে। মেয়রের নির্দেশে এবং নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে অবৈধভাবে গড়ে তোলা এ দোকানগুলো ভেঙে দেয়া হলো। নাসিক মেয়র সবসময়ই বলেছেন, অন্যায়ের সাথে কোন আপোষ নয়। এ কথার যথার্থতা এ অভিযানের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।

সর্বশেষ পার্ক কর্তৃপক্ষের তিনজন মালিকের মধ্যে দুই জনের উপস্থিতিতে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফএম এহতেশামূল হকের নেতৃত্বে অবৈধ দোকানগুলোর উচ্ছেদ করা আরম্ভ করে।

পরে পার্ক কর্তৃপক্ষের দুই পরিচালক এসে নকশা অনুযায়ী দোকান সরানোর জন্য আগামী ৭ দিনের সময় প্রার্থণা করেন। এ সময়ের মধ্যে নকশা অনুযায়ী এসব দোকান না সরানো হলে আগামী ১৫ তারিখের পর আবার উচ্ছেদ অভিযান চালাবে সিটি করপোরেশন। গত ৬ মাস ধরে সিটি করপোরেশন পার্ক কর্তৃপক্ষকে বার বার নকশার ব্যত্যয় ঘটানোর কারণ দর্শাতে বলেন।

এবিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এফ.এম. এহতেশামূল হক বলেন, পার্কের বাইরের দিকে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

উচ্ছেদ অভিযানের সময় মেয়রের পিএ আবুল হোসেন, কর ও আইন কর্মকর্তা ােম.মাজহার উদ্দিন খন্দকার, সার্ভেয়ার কালাম মোল্লা, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ, কনজারভেন্সী ইন্সপেক্টর রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।