নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন কায়েমপুর এলাকার পিঠালিপুল কবরস্থানের জমি দখল করে অবৈধভাবে ডাইং কারখানা স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ‘সালাম সাহেব’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কবরস্থানের পবিত্রতা নষ্ট করে এবং পরিবেশ আইন তোয়াক্কা না করে ব্যবসা পরিচালনার এই অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কায়েমপুর পিঠালিপুল কবরস্থানের সীমানার ভেতরে জোরপূর্বক ডাইং কারখানার অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন সালাম সাহেব। শুধু স্থাপনা নির্মাণই নয়, কবরস্থানের ভেতরেই কারখানার উৎপাদিত কাপড় শুকানোর কাজও চলছে অবাধে। এতে করে একদিকে যেমন কবরস্থানের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে, অন্যদিকে ধর্মীয় পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হওয়ায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মনে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত সালাম সাহেবের এই ডাইং কারখানার কোনো **পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই**। কারখানার চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং অপরিশোধিত বর্জ্য মিশ্রিত ময়লা পানির দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে। পচা পানির তীব্র গন্ধে আশপাশের মানুষের বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যার ফলে জনজীবন এখন বেহাল অবস্থায়।
একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ক্ষতিকর কারখানাটি টিকে থাকার পেছনে রয়েছে একদল অসাধু লোক। অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি মোটা অংকের **টাকার বিনিময়ে** সব জেনেও এই অবৈধ প্রতিষ্ঠানটি চলমান রাখতে সহায়তা করছে।
এলাকাবাসীর বক্তব্য ও আল্টিমেটাম
এলাকাবাসীর দাবি, তারা এই অবৈধ দখলের প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তাদের বাধা দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান:
আমরা যখনই কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় বাধা দিতে যাই, তখনই তারা প্রভাব খাটায়। কবরের ওপর কাপড় শুকানো এবং কারখানা চালানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের শেষ ঠিকানার অবমাননা।”*
এলাকার সাধারণ জনগণ স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যদি খুব দ্রুত এই অবৈধ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ এবং উচ্ছেদ করা না হয়, তবে তারা বৃহত্তর **আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন**।
বর্তমান পরিস্থিতি:
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হোক এবং কবরস্থানের জমি ফিরিয়ে দিয়ে এর পবিত্রতা রক্ষা করা হোক।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত সালাম সাহেবের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা দ্রুত জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রতিনিধির নাম 




















