নারায়ণগঞ্জ ১১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নারায়ণগঞ্জে ১৫ জুন থেকে ৮ দিনব্যাপী বিতর্ক উৎসব, অংশ নিচ্ছে ৬৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শীঘ্রই কুতুবপুরে মাদক-সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান: এসপি মিজানুর রহমান মুন্সি যুবদল নেতার দখলে থাকা তাঁতি লীগ নেতার অফিস এখন মাদকের আখড়া! নারায়ণগঞ্জে কল্যাণী খাল দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান অভিযানে ৩ দোকানে পলিথিন ব্যাগ রাখায় জব্দসহ জরিমানা যুক্তির সমীরণে প্রাচ্যের ডান্ডি’: নারায়ণগঞ্জে ১৫ জুন শুরু হচ্ছে উপজেলা বিতর্ক উৎসব-২০২৬ জলাবদ্ধতা ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ড্রেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিদর্শনে ইউএনও ফয়েজ উদ্দিন মেঘনার পানি আসছে ঢাকায়: ১০ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প উদ্বোধনের অপেক্ষায় বাজেটে তিনটি বিষয় গুরুত্ব না দিলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সম্ভব নয় : বিকেএমইএ সভাপতি জামায়াতে ইসলামী প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না- মাওলানা আবদুল জব্বার

আন্ত:জেলা সাইলো শাখার আহবায়কের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা অভিযোগ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২২৯ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: আন্ত:জিলা ট্রাক কাভার্ডভ্যান মিনিট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়ন সিদ্ধিরগঞ্জ সাইলো শাখার আহবায়ক মোসলেহ উদ্দিন সেলিমের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। একই কমিটির সদস্যরা তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেন।
আন্ত:জেলা সাইলো শাখার সাবেক আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম জানান, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের ভয়ে প্রায় ২০ বছর আগে এলাকা ছেড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় পালিয়ে গিয়েছিল সেলিম। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকায় ফিরে এসে তিনি গত বছরের ২০ জুন সাইলো এলাকায় শোডাউন দিয়ে নিজের অবস্থান জানান দেন। আন্ত:জেলার কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন শীর্ষনেতাকে ম্যানেজ করে একই বছরের ১৮ জুলাই তিনি সাইলো শাখার আহবায়ক হন। সাত সদস্যে কমিটির মেয়াদ দেওয়া হয় মাত্র ৩ মাস। এ সময়ের মধ্যে সাধারণ সভা করার নির্দেশ থাকলেও ৫ মাস গত হলেও তিনি সাধারণ সভা না করে কমিটির সদস্যদের মতামত না নিয়ে পেষিশক্তির মাধ্যমে একাই সংগঠন চালাচ্ছেন। তার বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে কমিটির অন্য সদস্যরা সাংগঠনিক কাজ থেকে সরে গেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্ত:জেলা সাইলো শাখার ৭ সদস্যের কমিটির সদস্যরা হলেন, আহবায়ক মোসলেহ উদ্দিন সেলিম, সদস্য শাহ আলম হীরা, জাহাঙ্গীর আলম রিপন, শুকুর আলী, মো. খোরশেদ, মো. নূর হোসেন ও মো. ফালানু। সদস্যদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম রিপন বাদে অন্য ৫ জন আহবায়কের স্বেচ্ছাচারিতায় ক্ষুব্দ হয়ে সংগঠনের কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।
কমিটির সদস্য নূর হোসেন বলেন, মোসলেহ উদ্দিন সেলিম সংগঠনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তার মনগড়া মতে চলছে। মাসে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি করছে। তিনি আহবায়ক হওয়ার পর থেকে সংগঠনের আয় ব্যয়ের কোন হিসেব দিচ্ছেন না। এককভাবে নিজেই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তার স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করায় গত ২৭ ডিসেম্বর দুপুরে আমাকে মারধর করেছেন।এঘটনায় আমি তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
কমিটির আরেক সদস্য মো. খোরশেদ আলম বলেন, গত ৫ মাস ধরে সংগঠনের আয়ব্যয়ের হিসেব দিচ্ছেন না সেলিম। অথচ ট্রাক প্রতি আগের চেয়ে বেশি চাঁদা আদায় করছেন তিনি। এতে ট্রাক মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। ফলে আমি আন্ত:জেলা কার্যালয়ে আসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।
কমিটির ১ নং সদস্য শাহ আলম হীরা বলেন, যেখানে নিয়মনীতি নেই সেখানে আমি থাকতে চাইনা। আমাকে কমিটিতে রাখা হলেও আমি সংগঠনিক কার্যক্রমে নেই।
এ বিষয়ে মোসলেহ উদ্দিন সেলিম বলেন, আমি দায়িত্ব পেয়ে দেখতে পাই মাত্র ১১ মাসে সংগঠনের ১২ লক্ষাধিক টাকার কোন হসিদ নেই। সাবেক আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম এসব টাকা আত্মসাত করেছেন। তখন আমি কেন্দ্রেীয় কমিটির নির্দেশে সিরাজুল ইসলামের কাছে লিখিতভাবে হিসেব চাই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সিরাজুল ইসলাম তার অনুগত নূর হোসেন, খোরশেদ আলম ও শাহ আলম হীরাকে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। এমনকি আমার উপর হামলাও করেছে। এ হমালার ঘটনায় আমি গত ২৯ ডিসেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মনির হোসেন বলেন, মোসলে উদ্দিন সেলিম নামে একজন শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলা মারধরের একটি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের তদন্ত চলমান। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে ১৫ জুন থেকে ৮ দিনব্যাপী বিতর্ক উৎসব, অংশ নিচ্ছে ৬৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

আন্ত:জেলা সাইলো শাখার আহবায়কের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: আন্ত:জিলা ট্রাক কাভার্ডভ্যান মিনিট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়ন সিদ্ধিরগঞ্জ সাইলো শাখার আহবায়ক মোসলেহ উদ্দিন সেলিমের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। একই কমিটির সদস্যরা তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেন।
আন্ত:জেলা সাইলো শাখার সাবেক আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম জানান, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের ভয়ে প্রায় ২০ বছর আগে এলাকা ছেড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় পালিয়ে গিয়েছিল সেলিম। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকায় ফিরে এসে তিনি গত বছরের ২০ জুন সাইলো এলাকায় শোডাউন দিয়ে নিজের অবস্থান জানান দেন। আন্ত:জেলার কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন শীর্ষনেতাকে ম্যানেজ করে একই বছরের ১৮ জুলাই তিনি সাইলো শাখার আহবায়ক হন। সাত সদস্যে কমিটির মেয়াদ দেওয়া হয় মাত্র ৩ মাস। এ সময়ের মধ্যে সাধারণ সভা করার নির্দেশ থাকলেও ৫ মাস গত হলেও তিনি সাধারণ সভা না করে কমিটির সদস্যদের মতামত না নিয়ে পেষিশক্তির মাধ্যমে একাই সংগঠন চালাচ্ছেন। তার বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে কমিটির অন্য সদস্যরা সাংগঠনিক কাজ থেকে সরে গেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্ত:জেলা সাইলো শাখার ৭ সদস্যের কমিটির সদস্যরা হলেন, আহবায়ক মোসলেহ উদ্দিন সেলিম, সদস্য শাহ আলম হীরা, জাহাঙ্গীর আলম রিপন, শুকুর আলী, মো. খোরশেদ, মো. নূর হোসেন ও মো. ফালানু। সদস্যদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম রিপন বাদে অন্য ৫ জন আহবায়কের স্বেচ্ছাচারিতায় ক্ষুব্দ হয়ে সংগঠনের কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।
কমিটির সদস্য নূর হোসেন বলেন, মোসলেহ উদ্দিন সেলিম সংগঠনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তার মনগড়া মতে চলছে। মাসে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি করছে। তিনি আহবায়ক হওয়ার পর থেকে সংগঠনের আয় ব্যয়ের কোন হিসেব দিচ্ছেন না। এককভাবে নিজেই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তার স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করায় গত ২৭ ডিসেম্বর দুপুরে আমাকে মারধর করেছেন।এঘটনায় আমি তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
কমিটির আরেক সদস্য মো. খোরশেদ আলম বলেন, গত ৫ মাস ধরে সংগঠনের আয়ব্যয়ের হিসেব দিচ্ছেন না সেলিম। অথচ ট্রাক প্রতি আগের চেয়ে বেশি চাঁদা আদায় করছেন তিনি। এতে ট্রাক মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। ফলে আমি আন্ত:জেলা কার্যালয়ে আসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।
কমিটির ১ নং সদস্য শাহ আলম হীরা বলেন, যেখানে নিয়মনীতি নেই সেখানে আমি থাকতে চাইনা। আমাকে কমিটিতে রাখা হলেও আমি সংগঠনিক কার্যক্রমে নেই।
এ বিষয়ে মোসলেহ উদ্দিন সেলিম বলেন, আমি দায়িত্ব পেয়ে দেখতে পাই মাত্র ১১ মাসে সংগঠনের ১২ লক্ষাধিক টাকার কোন হসিদ নেই। সাবেক আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম এসব টাকা আত্মসাত করেছেন। তখন আমি কেন্দ্রেীয় কমিটির নির্দেশে সিরাজুল ইসলামের কাছে লিখিতভাবে হিসেব চাই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সিরাজুল ইসলাম তার অনুগত নূর হোসেন, খোরশেদ আলম ও শাহ আলম হীরাকে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। এমনকি আমার উপর হামলাও করেছে। এ হমালার ঘটনায় আমি গত ২৯ ডিসেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মনির হোসেন বলেন, মোসলে উদ্দিন সেলিম নামে একজন শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলা মারধরের একটি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের তদন্ত চলমান। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।