নারায়ণগঞ্জ ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি মিটআপ ২০২৩ অনুষ্ঠিত আদমজী ইপিজেডকে অশান্ত করছে জনপ্রতিনিধিরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের কর্মকর্তাদের সাথে মহিলা লীগ নেত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় না’গঞ্জ কারাগারে হাজতীর মৃত্যু ফতুল্লায় চোরাইকৃত ট্যাংকলড়ী উদ্ধার আড়াইহাজারের মিথিলা টেক্সটাইল ঘুরে গেলেন ৮ দেশের রাষ্ট্রদূতসহ ১৮ দেশের প্রতিনিধি সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের কর্মকর্তাদের সাথে কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের মতবিনিময় ফতুল্লা ব্লাড ডোনার্সের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শিক্ষা সিলেবাস বাতিলের দাবিতে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহরে নারী সমাবেশ ও মিছিল

প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে শিক্ষকের লালসার শিকার শিক্ষিকা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২১
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে এক শিক্ষিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে নাটক করে লালসা চরিতাত্র করেছে একই স্কুলের শিক্ষক আবির হোসেন ঢালী। শিক্ষকের প্রতারণার শিকার হয়ে ওই শিক্ষিকা আতœহত্যার চেষ্টা করায় এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অর্থের জোরে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে শিক্ষকের পরিবার শিক্ষাকে এলাকাছাড়া করার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ জানা গেছে।
জানা গেছে, কদমতলী এলাকার শাহিনুর কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা শাহানাজ আক্তার লিপির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে একই স্কুলের শিক্ষক আবির হোসেন ঢালী। বাবা হারা গরীব পরিবারের মেয়ে লিপিকে সুখের স্বপ্ন দেখিয়ে গত বছরের ১৬ অক্টোবর আবির তার পরিবারের লোকজনকে না জানিয়ে ২ লাখ টাকা দেনমোহর ও ৫০ হাজার টাকা ওয়াশিল দিয়ে লিপিকে বিয়ে করে। বিষয়টি জানা জানি হলে গরীব পরিবারের মেয়ে বলে আবিরের পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি। স্ত্রীর অধিকার পাওয়ার চেষ্টা করায় নির্যাতন ও অপমান অপদস্থ হয় এই শিক্ষিকা। পরে বিয়ের ২৫ দিন পর স্বামী তাকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়ে নেয়। স্বামীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করায় হুমকি ধমকির শিকার হচ্ছেন বলে শিক্ষিকার অভিযোগ।
শাহনাজ আক্তার লিপি জানায়, স্ত্রীর অধিকার ফিরে পাবার আশায় গত ২৪ আগস্ট মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে শাশুড়ির পায়ে জড়িয়ে কান্নাকাটি করেও মন গলাতে পারিনি। উল্টো আমাকে নষ্টা মেয়ে বলে অপবাদ দেয়। এক পর্যায়ে আমার ভাসুর আরিফ হোসেন আমার চুলের মুঠি ধরে গলাধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তখন আমি ছুটে যাই স্বামীর কর্মস্থল সোনামিয়া মার্কেটস্থ সেঞ্চুরি বোরকা হাউজে। স্বামীকে স্বরণ করাই বিয়ের আগের নানা প্রতিশ্রুতির কথা। তাতেও কোন লাভ হয়নি। সেও তার পরিবারের সাথে সুর মিলিয়ে বলে তকে তালাক দিয়েছি, তুই আমার একটা পশমও ছিড়তে পারবি না। এসব বলে আমাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। তাই সিদ্ধান্ত নেই এজীবন আর রাখবনা। যে স্কুলের তৃতীয় তলার ছাদে আবির আমাকে সুখের স্বপ্ন দেখিয়ে প্রেম ও বিয়ে করেছিল সেই ছাদেই নিজের জীবন বিসর্জন দিতে যাই । কিন্তু এলাকাবাসীর জন্য পারিনি। পরে থানা পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত হয়ে আমাকে বুঝিয়ে ছাদ থেকে নামিয়ে আনে।
এবিষয়ে আবির হোসেন ঢালীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি তাকে তালাক দিয়েছি। তার সাথে আমার আর কোন সম্পর্ক নাই। সে আমার বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুক মামলা করেছে। আদালতেই তা ফয়সালা হবে। এর বেশি কিছু বলতে পারবনা।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই সাফায়েদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মেয়েটি উদ্ধার করে তার মার কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবির হোসেন ঢালী এর আগেও আরেকটি বিয়ে করেছিল। সেই স্ত্রীকেও কয়েক দিন পর তালাক দিয়ে দেয়। সে একজন নারী লোভী। বিয়ে করে নারীদের ভোগ করে তাড়িয়ে দেওয়া তার অভ্যাস। অর্থ বিত্তের মালিক হওয়ায় প্রতারিত নারীরা কিছু করতে পারেনা। অর্থের জোরে নারীদের অভিযোগ ধামাচাপা দিয়ে দেয়।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি মিটআপ ২০২৩ অনুষ্ঠিত

প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে শিক্ষকের লালসার শিকার শিক্ষিকা

আপডেট সময় : ১০:১৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২১

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে এক শিক্ষিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে নাটক করে লালসা চরিতাত্র করেছে একই স্কুলের শিক্ষক আবির হোসেন ঢালী। শিক্ষকের প্রতারণার শিকার হয়ে ওই শিক্ষিকা আতœহত্যার চেষ্টা করায় এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অর্থের জোরে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে শিক্ষকের পরিবার শিক্ষাকে এলাকাছাড়া করার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ জানা গেছে।
জানা গেছে, কদমতলী এলাকার শাহিনুর কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা শাহানাজ আক্তার লিপির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে একই স্কুলের শিক্ষক আবির হোসেন ঢালী। বাবা হারা গরীব পরিবারের মেয়ে লিপিকে সুখের স্বপ্ন দেখিয়ে গত বছরের ১৬ অক্টোবর আবির তার পরিবারের লোকজনকে না জানিয়ে ২ লাখ টাকা দেনমোহর ও ৫০ হাজার টাকা ওয়াশিল দিয়ে লিপিকে বিয়ে করে। বিষয়টি জানা জানি হলে গরীব পরিবারের মেয়ে বলে আবিরের পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি। স্ত্রীর অধিকার পাওয়ার চেষ্টা করায় নির্যাতন ও অপমান অপদস্থ হয় এই শিক্ষিকা। পরে বিয়ের ২৫ দিন পর স্বামী তাকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়ে নেয়। স্বামীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করায় হুমকি ধমকির শিকার হচ্ছেন বলে শিক্ষিকার অভিযোগ।
শাহনাজ আক্তার লিপি জানায়, স্ত্রীর অধিকার ফিরে পাবার আশায় গত ২৪ আগস্ট মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে শাশুড়ির পায়ে জড়িয়ে কান্নাকাটি করেও মন গলাতে পারিনি। উল্টো আমাকে নষ্টা মেয়ে বলে অপবাদ দেয়। এক পর্যায়ে আমার ভাসুর আরিফ হোসেন আমার চুলের মুঠি ধরে গলাধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তখন আমি ছুটে যাই স্বামীর কর্মস্থল সোনামিয়া মার্কেটস্থ সেঞ্চুরি বোরকা হাউজে। স্বামীকে স্বরণ করাই বিয়ের আগের নানা প্রতিশ্রুতির কথা। তাতেও কোন লাভ হয়নি। সেও তার পরিবারের সাথে সুর মিলিয়ে বলে তকে তালাক দিয়েছি, তুই আমার একটা পশমও ছিড়তে পারবি না। এসব বলে আমাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। তাই সিদ্ধান্ত নেই এজীবন আর রাখবনা। যে স্কুলের তৃতীয় তলার ছাদে আবির আমাকে সুখের স্বপ্ন দেখিয়ে প্রেম ও বিয়ে করেছিল সেই ছাদেই নিজের জীবন বিসর্জন দিতে যাই । কিন্তু এলাকাবাসীর জন্য পারিনি। পরে থানা পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত হয়ে আমাকে বুঝিয়ে ছাদ থেকে নামিয়ে আনে।
এবিষয়ে আবির হোসেন ঢালীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি তাকে তালাক দিয়েছি। তার সাথে আমার আর কোন সম্পর্ক নাই। সে আমার বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুক মামলা করেছে। আদালতেই তা ফয়সালা হবে। এর বেশি কিছু বলতে পারবনা।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই সাফায়েদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মেয়েটি উদ্ধার করে তার মার কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবির হোসেন ঢালী এর আগেও আরেকটি বিয়ে করেছিল। সেই স্ত্রীকেও কয়েক দিন পর তালাক দিয়ে দেয়। সে একজন নারী লোভী। বিয়ে করে নারীদের ভোগ করে তাড়িয়ে দেওয়া তার অভ্যাস। অর্থ বিত্তের মালিক হওয়ায় প্রতারিত নারীরা কিছু করতে পারেনা। অর্থের জোরে নারীদের অভিযোগ ধামাচাপা দিয়ে দেয়।