নারায়ণগঞ্জ ১২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ বাল্কহেড বোট মালিক সমিতির অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অনাহারে দিন কাটছে লাখো পরিবারের

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুলাই ২০২১
  • ৬২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: গত ২৬ জুন থেকে চলমান বাংলাদেশ বাল্কহেড বোট মালিক সমিতির (রেজি:নং- বি-২০৭১) ডাকা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান ধর্মঘটের কারণে নৌ সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে শুল্ক আদায় কেন্দ্রের ইজারাদারসহ ফ্লোটিং পাম্প ব্যবসায়ী, বাল্কহেড খুচরা যন্ত্রাংশ ও ওয়ার্কসপ ব্যবসায়ী, বালুর ব্যবসায়ী, কলকারখানা ও আবাসন সেক্টরের নিম্নাঞ্চল ভরাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে এ ধর্মঘটের কারণে বাল্কহেড শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখো শ্রমিকদের যেন মাথায় হাত। বর্তমানে রোজগারহীন হয়ে পড়ায় তাদের পরিবারের লোকজন অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। লোড পয়েন্টে প্রতি ঘনফুট ৫০ পয়সা নির্ধারন করা, সব ধরনের আনলোড পয়েন্টে বালুর মূল্য বৃদ্ধি করতে হবে, বালুবাহী বাল্কহেডগুলোকে নৌ পরিবহন অধিদফতর কর্তৃক সার্বে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়া, বাল্কহেড মালিকদের লোড ও আনলোড বকশিশ প্রদান বন্ধ করা, চাঁদপুরের বালুমহালের ইজারা আইন ভঙ্গ করে মনগড়া বালুর মূল্য বৃদ্ধি বন্ধ করা, বরিশাল, চাঁদপুর, হরিনাসহ সারাদেশে নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধ করা ও নৌ পথে নৌ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নৌ যান মালিক ও শ্রমিকদের হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ ৯ দাবি নিয়ে ডাকা ধর্মঘটে স্থবির হয়ে পড়েছে বাল্কহেড ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জানা যায়, চাঁদপুর বালু মহালের কতিপয় ইজারদার গত ১ জুন থেকে নতুন করে বাল্কহেডে লোডিং চার্জ ২৫ পয়সা বৃৃদ্ধি করে প্রতি ঘনফুট ৭৫ পয়সা নির্ধারন করেছে। এতে বাল্কহেড ব্যবসায়ীদের বালু পরিবহন করে আনলোড পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে। কারণ বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ভয়াবহ অথনৈতিক মন্দার কারণে আনলোড পয়েন্টে অনেক আগেই বালুর মূল্য ঘনফুটপ্রতি কমানো হয়েছে। তাই একদিকে আনলোড পয়েন্টে কম মূল্য, অন্যদিকে লোড পয়েন্টে মূল্য বৃদ্ধির কারণে সমস্যায় পড়েছেন বাল্কহেড ব্যবসায়ীরা। তাই চাঁদপুরের বালুমহালে লোডিং চার্জ কমানোসহ ৯ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ বাল্কহেড বোট মালিক সমিতি। এক্ষেত্রে গত ২৬ জুন সকাল ৬ টা থেকে সারা দেশের প্রায় ২ হাজার বাল্কহেড অধ্যবধি বন্ধ রয়েছে। তবে কতিপয় ব্যক্তিরা এ ধর্মঘটের ডাক দিলেও অধিকাংশ সাধারণ বাল্কহেড মালিকরা এ ধর্মঘটের পক্ষে নয় বলে জানিয়েছেন অনেকে। তাদের অভিযোগ বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে জীবন জীবিকা করাটাই দুষ্কর, সেখানে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বোট বন্ধ রাখা সাধারণ বোট মালিকদের জন্য দূরুহ বেপার।

তারা বলেন বর্তমানে কতিপয় ব্যক্তিদের কারণে আমরা বাল্কহেড নদিতে চালাতে পারছিনা। কারণ ধর্মঘট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা নদিতে বাল্কহেড চলমান দেখলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। তাই ভয়ে কোন সাধারণ মালিকরা বাল্কহেড চালু করতে পারছেনা। এতে সকল বোট মালিকদের অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে গত ৮ দিনে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২৬ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত পর্যন্ত মোট ৮ দিনে বেরোজগার হয়ে পড়ায় বাল্কহেড শ্রমিকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বাল্কহেড সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তবে সারাদেশেই নৌ পথে নৌ-পুলিশসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজিতেও অতিষ্ঠ বাল্কহেড মালিকরা।

এদিকে গত ৮ দিনের লোকসান পোষাতে আগামিতে অনেক অসুবিধার সম্মুখিন হতে হবেন ভুক্তরেভাগীরা। তাছাড়া বাল্কহেড শ্রমিকদের বর্তমান পরিস্থিতি শোচনীয় আকার ধারন করেছে। এ বিষয়ে ঘোরাশাল এলাকার সাধারণ বাল্কহেড ব্যবসায়ী সুমন বেপারি বলেন, বাংলাদেশ বাল্কহেড বোট মালিক সমিতির ডাকা হরতালের পক্ষে আমরা নই। আমরা বর্তমানে ভয়ে বোট চালু করতে পারছিনা। বোট চালু করলে কতিপয় ব্যক্তিরা আমাদের বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করবেন বলে জানিয়েছে। আমরা দ্রুত এ বিশাল ক্ষতির হাত থেকে পরিত্রাণ চাই। এক্ষেত্রে আমরা সরকারসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতনদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। এ বিষয়ে একাধিক বাল্কহেড শ্রমিকরা জানান, এমনিতেই হত দরিদ্র আমরা। তার ওপর অযথা ধর্মঘট ডাকায় আমরা বেরোজগার হয়ে পড়েছি। এ সময় আমাদের পরিবারের সবাই অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। এ সময় ধারদেনা করে আমরা কোনমতে দিনাতিপাত করছি। দ্রুত বোট চালু হলে আমরা খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারব। আর বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রিয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ও ডেমরা শাখার সভাপতি মো.জাকির হোসেন বলেন, বাল্কহেড মালিক ও শ্রমিকদের সার্বিক স্বার্থেই এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। এতে করে শ্রমিকদের সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হলেও ৯ দফা দাবি বাস্তবায়ন হলে ভবষ্যিতে সবার জন্য মঙ্গল হবে। কারণ লোড পয়েন্টে মনগড়া মূল্য বৃদ্ধি, নৌপথে পুলিশি ও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি ও ডাকাতি সমস্যার কারণে বাল্কহেড ব্যবসা মারত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হওয়া জরুরী। এ বিষয়ে শীতলক্ষ্যা নদিতে অবস্থিত ফ্লোটিং পাম্প ব্যবসায়ী মো. আরিফুর রহমান বলেন, করোনাকালীন এমনিতেই ব্যবসা খারাপ। তার ওপর এ ধর্মঘট আমাদের ধ্বংস করে দিচ্ছে। ব্যবসায় মুনাফা তো দূরের কথা বর্তমানে শ্রমিকদের বেতন ভাতা দেওয়াই মুসকিল হয়ে পড়েছে। সব সমস্যা সমাধান করে দ্রুত এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। ধর্মঘটের বিষয়ে বাংলাদেশ বাল্কহেড বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহউদ্দি আহমেদ বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার বাল্কহেড মালিকদের লিখিত আবেদনে সংশ্লিষ্ট সকলের সিদ্ধান্তেই এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। এ বিষয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে ৯ দফা দাবি নিয়ে। তবে সাধারণ বাল্কহেড ব্যবসায়ীসহ সবাই যদি চায় ধর্মঘট উঠিয়ে নিতে তাহলে আমাদের কোন সমস্যা নেই। তবে দ্রুত এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের পূর্বগ্রাম ডাক্তারখালি এলাকায় বোট মালিকরা সবার পক্ষ থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিবেন বলে জানান।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ বাল্কহেড বোট মালিক সমিতির অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অনাহারে দিন কাটছে লাখো পরিবারের

আপডেট সময় : ০১:৩৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুলাই ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার: গত ২৬ জুন থেকে চলমান বাংলাদেশ বাল্কহেড বোট মালিক সমিতির (রেজি:নং- বি-২০৭১) ডাকা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান ধর্মঘটের কারণে নৌ সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে শুল্ক আদায় কেন্দ্রের ইজারাদারসহ ফ্লোটিং পাম্প ব্যবসায়ী, বাল্কহেড খুচরা যন্ত্রাংশ ও ওয়ার্কসপ ব্যবসায়ী, বালুর ব্যবসায়ী, কলকারখানা ও আবাসন সেক্টরের নিম্নাঞ্চল ভরাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে এ ধর্মঘটের কারণে বাল্কহেড শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখো শ্রমিকদের যেন মাথায় হাত। বর্তমানে রোজগারহীন হয়ে পড়ায় তাদের পরিবারের লোকজন অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। লোড পয়েন্টে প্রতি ঘনফুট ৫০ পয়সা নির্ধারন করা, সব ধরনের আনলোড পয়েন্টে বালুর মূল্য বৃদ্ধি করতে হবে, বালুবাহী বাল্কহেডগুলোকে নৌ পরিবহন অধিদফতর কর্তৃক সার্বে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়া, বাল্কহেড মালিকদের লোড ও আনলোড বকশিশ প্রদান বন্ধ করা, চাঁদপুরের বালুমহালের ইজারা আইন ভঙ্গ করে মনগড়া বালুর মূল্য বৃদ্ধি বন্ধ করা, বরিশাল, চাঁদপুর, হরিনাসহ সারাদেশে নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধ করা ও নৌ পথে নৌ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নৌ যান মালিক ও শ্রমিকদের হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ ৯ দাবি নিয়ে ডাকা ধর্মঘটে স্থবির হয়ে পড়েছে বাল্কহেড ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জানা যায়, চাঁদপুর বালু মহালের কতিপয় ইজারদার গত ১ জুন থেকে নতুন করে বাল্কহেডে লোডিং চার্জ ২৫ পয়সা বৃৃদ্ধি করে প্রতি ঘনফুট ৭৫ পয়সা নির্ধারন করেছে। এতে বাল্কহেড ব্যবসায়ীদের বালু পরিবহন করে আনলোড পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে। কারণ বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ভয়াবহ অথনৈতিক মন্দার কারণে আনলোড পয়েন্টে অনেক আগেই বালুর মূল্য ঘনফুটপ্রতি কমানো হয়েছে। তাই একদিকে আনলোড পয়েন্টে কম মূল্য, অন্যদিকে লোড পয়েন্টে মূল্য বৃদ্ধির কারণে সমস্যায় পড়েছেন বাল্কহেড ব্যবসায়ীরা। তাই চাঁদপুরের বালুমহালে লোডিং চার্জ কমানোসহ ৯ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ বাল্কহেড বোট মালিক সমিতি। এক্ষেত্রে গত ২৬ জুন সকাল ৬ টা থেকে সারা দেশের প্রায় ২ হাজার বাল্কহেড অধ্যবধি বন্ধ রয়েছে। তবে কতিপয় ব্যক্তিরা এ ধর্মঘটের ডাক দিলেও অধিকাংশ সাধারণ বাল্কহেড মালিকরা এ ধর্মঘটের পক্ষে নয় বলে জানিয়েছেন অনেকে। তাদের অভিযোগ বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে জীবন জীবিকা করাটাই দুষ্কর, সেখানে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বোট বন্ধ রাখা সাধারণ বোট মালিকদের জন্য দূরুহ বেপার।

তারা বলেন বর্তমানে কতিপয় ব্যক্তিদের কারণে আমরা বাল্কহেড নদিতে চালাতে পারছিনা। কারণ ধর্মঘট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা নদিতে বাল্কহেড চলমান দেখলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। তাই ভয়ে কোন সাধারণ মালিকরা বাল্কহেড চালু করতে পারছেনা। এতে সকল বোট মালিকদের অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে গত ৮ দিনে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২৬ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত পর্যন্ত মোট ৮ দিনে বেরোজগার হয়ে পড়ায় বাল্কহেড শ্রমিকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বাল্কহেড সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তবে সারাদেশেই নৌ পথে নৌ-পুলিশসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজিতেও অতিষ্ঠ বাল্কহেড মালিকরা।

এদিকে গত ৮ দিনের লোকসান পোষাতে আগামিতে অনেক অসুবিধার সম্মুখিন হতে হবেন ভুক্তরেভাগীরা। তাছাড়া বাল্কহেড শ্রমিকদের বর্তমান পরিস্থিতি শোচনীয় আকার ধারন করেছে। এ বিষয়ে ঘোরাশাল এলাকার সাধারণ বাল্কহেড ব্যবসায়ী সুমন বেপারি বলেন, বাংলাদেশ বাল্কহেড বোট মালিক সমিতির ডাকা হরতালের পক্ষে আমরা নই। আমরা বর্তমানে ভয়ে বোট চালু করতে পারছিনা। বোট চালু করলে কতিপয় ব্যক্তিরা আমাদের বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করবেন বলে জানিয়েছে। আমরা দ্রুত এ বিশাল ক্ষতির হাত থেকে পরিত্রাণ চাই। এক্ষেত্রে আমরা সরকারসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতনদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। এ বিষয়ে একাধিক বাল্কহেড শ্রমিকরা জানান, এমনিতেই হত দরিদ্র আমরা। তার ওপর অযথা ধর্মঘট ডাকায় আমরা বেরোজগার হয়ে পড়েছি। এ সময় আমাদের পরিবারের সবাই অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। এ সময় ধারদেনা করে আমরা কোনমতে দিনাতিপাত করছি। দ্রুত বোট চালু হলে আমরা খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারব। আর বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রিয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ও ডেমরা শাখার সভাপতি মো.জাকির হোসেন বলেন, বাল্কহেড মালিক ও শ্রমিকদের সার্বিক স্বার্থেই এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। এতে করে শ্রমিকদের সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হলেও ৯ দফা দাবি বাস্তবায়ন হলে ভবষ্যিতে সবার জন্য মঙ্গল হবে। কারণ লোড পয়েন্টে মনগড়া মূল্য বৃদ্ধি, নৌপথে পুলিশি ও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি ও ডাকাতি সমস্যার কারণে বাল্কহেড ব্যবসা মারত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হওয়া জরুরী। এ বিষয়ে শীতলক্ষ্যা নদিতে অবস্থিত ফ্লোটিং পাম্প ব্যবসায়ী মো. আরিফুর রহমান বলেন, করোনাকালীন এমনিতেই ব্যবসা খারাপ। তার ওপর এ ধর্মঘট আমাদের ধ্বংস করে দিচ্ছে। ব্যবসায় মুনাফা তো দূরের কথা বর্তমানে শ্রমিকদের বেতন ভাতা দেওয়াই মুসকিল হয়ে পড়েছে। সব সমস্যা সমাধান করে দ্রুত এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। ধর্মঘটের বিষয়ে বাংলাদেশ বাল্কহেড বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহউদ্দি আহমেদ বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার বাল্কহেড মালিকদের লিখিত আবেদনে সংশ্লিষ্ট সকলের সিদ্ধান্তেই এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। এ বিষয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে ৯ দফা দাবি নিয়ে। তবে সাধারণ বাল্কহেড ব্যবসায়ীসহ সবাই যদি চায় ধর্মঘট উঠিয়ে নিতে তাহলে আমাদের কোন সমস্যা নেই। তবে দ্রুত এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের পূর্বগ্রাম ডাক্তারখালি এলাকায় বোট মালিকরা সবার পক্ষ থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিবেন বলে জানান।