নারায়ণগঞ্জ ১০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিদায়ে কেঁদে কাঁদালেন ইউএনও

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

শহর প্রতিনিধি : নিজে কাঁদলেন, কাদালেন, অশ্রু বিসর্জনের মধ্যে বিদায় নিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে ইউএনওর বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করে উপজেলা পরিষদ। উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান।

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন নাহিদা বারিক। এর আগেও তিনি এই জেলার বন্দর উপজেলা ও সদরের ফতুল্লা অঞ্চলের এসিল্যান্ড অর্থ্যাৎ সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তবে ইউএনও হিসেবে গত দুই বছরে বিভিন্ন কর্মকান্ডের কারণে প্রশংসিত হয়েছেন বিভিন্ন মহলে। বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে নানা পদক্ষেপ তাকে প্রশাসনিক দায়িত্বের উর্ধ্বে তুলে একজন মানবিক ইউএনওর মর্যাদা দিয়েছে। সেই ইউএনও’র বদলিতে শুভাকাঙ্খীরা কিছুটা মর্মাহত হবেন এমনটাই স্বাভাবিক। হয়েছেও তাই। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খোদ ইউএনও নাহিদা বারিকসহ তার সহকর্মী, সেবাগ্রহীতার অনেকেই জড়িয়ে ধরে কান্না জুড়ে দেন। তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগী হয়ে পড়েন নাহিদা বারিক তিনি বলেন, সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে বদলিজনিত কারণে কোনো জেলায় বা উপজেলায় স্থায়ী হওয়ার সুযোগ নেই প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের।

উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় সহকর্মী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা পেয়েছেন বলে কাজ করা সহজ হয়েছে বলে জানান। দীর্ঘ এই সময়ে কেবল প্রশংসিত হয়েছেন তা নয়, কখনও সমালোচিতও হয়েছেন তিনি। সেসব কথারই উল্লেখ করে নাহিদা বারিক বলেন, ‘কাজ আদায় করার জন্য হয়তো কারও বিরাগভাজন হয়েছি। অনেক সময় ইতিবাচক আবার কখনও নেতিবাচকভাবে মানুষকে উপস্থাপন করা হয়। খোলা চোখ দিয়ে সবকিছু দেখা যায় না। চোখের আড়ালেও অনেক কিছু থাকে।

তবে নিজের অজান্তেও যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি, কারও প্রতি অন্যায় করে থাকি তাহলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’ নিজের এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন ইউএনও। তার বক্তব্য শুনে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন অনেকেই। অনুষ্ঠানস্থলে কেঁদে ফেলেন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী।

ইউএনওকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছেন আরও কয়েকজন সহকর্মী ও শুভাকাঙ্খী। অতিথিদের বক্তব্য শেষে সহকর্মীরা বিভিন্ন উপহার দেন বিদায়ী ইউএনও
সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন, সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাজিমউদ্দিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম রেজা মাসুম, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ।

এছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন ফুল দিয়ে বিদায় সংবর্ধনা জানিয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদায়ে কেঁদে কাঁদালেন ইউএনও

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১

শহর প্রতিনিধি : নিজে কাঁদলেন, কাদালেন, অশ্রু বিসর্জনের মধ্যে বিদায় নিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে ইউএনওর বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করে উপজেলা পরিষদ। উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান।

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন নাহিদা বারিক। এর আগেও তিনি এই জেলার বন্দর উপজেলা ও সদরের ফতুল্লা অঞ্চলের এসিল্যান্ড অর্থ্যাৎ সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তবে ইউএনও হিসেবে গত দুই বছরে বিভিন্ন কর্মকান্ডের কারণে প্রশংসিত হয়েছেন বিভিন্ন মহলে। বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে নানা পদক্ষেপ তাকে প্রশাসনিক দায়িত্বের উর্ধ্বে তুলে একজন মানবিক ইউএনওর মর্যাদা দিয়েছে। সেই ইউএনও’র বদলিতে শুভাকাঙ্খীরা কিছুটা মর্মাহত হবেন এমনটাই স্বাভাবিক। হয়েছেও তাই। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খোদ ইউএনও নাহিদা বারিকসহ তার সহকর্মী, সেবাগ্রহীতার অনেকেই জড়িয়ে ধরে কান্না জুড়ে দেন। তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগী হয়ে পড়েন নাহিদা বারিক তিনি বলেন, সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে বদলিজনিত কারণে কোনো জেলায় বা উপজেলায় স্থায়ী হওয়ার সুযোগ নেই প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের।

উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় সহকর্মী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা পেয়েছেন বলে কাজ করা সহজ হয়েছে বলে জানান। দীর্ঘ এই সময়ে কেবল প্রশংসিত হয়েছেন তা নয়, কখনও সমালোচিতও হয়েছেন তিনি। সেসব কথারই উল্লেখ করে নাহিদা বারিক বলেন, ‘কাজ আদায় করার জন্য হয়তো কারও বিরাগভাজন হয়েছি। অনেক সময় ইতিবাচক আবার কখনও নেতিবাচকভাবে মানুষকে উপস্থাপন করা হয়। খোলা চোখ দিয়ে সবকিছু দেখা যায় না। চোখের আড়ালেও অনেক কিছু থাকে।

তবে নিজের অজান্তেও যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি, কারও প্রতি অন্যায় করে থাকি তাহলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’ নিজের এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন ইউএনও। তার বক্তব্য শুনে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন অনেকেই। অনুষ্ঠানস্থলে কেঁদে ফেলেন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী।

ইউএনওকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছেন আরও কয়েকজন সহকর্মী ও শুভাকাঙ্খী। অতিথিদের বক্তব্য শেষে সহকর্মীরা বিভিন্ন উপহার দেন বিদায়ী ইউএনও
সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন, সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাজিমউদ্দিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম রেজা মাসুম, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ।

এছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন ফুল দিয়ে বিদায় সংবর্ধনা জানিয়েছে।