নারায়ণগঞ্জ ০৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি মিটআপ ২০২৩ অনুষ্ঠিত আদমজী ইপিজেডকে অশান্ত করছে জনপ্রতিনিধিরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের কর্মকর্তাদের সাথে মহিলা লীগ নেত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় না’গঞ্জ কারাগারে হাজতীর মৃত্যু ফতুল্লায় চোরাইকৃত ট্যাংকলড়ী উদ্ধার আড়াইহাজারের মিথিলা টেক্সটাইল ঘুরে গেলেন ৮ দেশের রাষ্ট্রদূতসহ ১৮ দেশের প্রতিনিধি সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের কর্মকর্তাদের সাথে কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের মতবিনিময় ফতুল্লা ব্লাড ডোনার্সের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শিক্ষা সিলেবাস বাতিলের দাবিতে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহরে নারী সমাবেশ ও মিছিল

যৌবন ফিরে পাচ্ছে শীতলক্ষ্যা নদী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ মার্চ ২০২১
  • ১২৪ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ সংবাদ রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কতর্ৃপক্ষ। সংকীর্ণ হয়ে পড়া নদী প্রশস্থ করে নৌ-দুর্ঘনা এড়াতে বিআইডব্লিউটিএ নিজস্ব অর্থায়নে শুরু করেছে খনন কাজ। ইতোমধ্যে সেন্ট্রাল খেয়াঘাট থেকে ময়মনসিংহ পল্লী পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার নদীর ১০৫ ফুট প্রশস্থ করা হয়েছে। নদীর মূল সীমানা পর্যন্ত প্রশস্থ করতে বাকি অংশের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। দখল মুক্ত রাখতে নদীর তীরে করা হচ্ছে বনায়ণ।

নদীবন্দর সূত্র জানায়, শীতলক্ষ্যা নদীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এক নম্বর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট। এঘাট দিয়ে প্রতিদিনি যাত্রীবাহী লঞ্চ, মালবাহী কার্গোসহ হাজার হাজার নৌযান চলাচল করে। ঘাটের পূর্ব ও পশ্চিম তীরে শত শত ছোট নৌকা যাত্রী পারাপারের জন্য নোঙর করে রাখা হয়। দখলের কারণে নদীর প্রশস্ত কমে যাওয়ায় নৌযানগুলো মাঝনদীতে রাখতে হয়। এতে প্রায় সময় ঘটে দুর্ঘটনা। নদীর প্রশস্থ বৃদ্ধি করে নৌযান চলাচল নিরাপদ ও দুর্ঘটনা এড়াতে অবৈধ দখলমুক্ত করে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে নদী খনন কাজ শুরু করা হয়। খনন শেষ হলে সেন্ট্রাল ঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী প্রকৃত রূপ ও হারানো যৌবন ফিরে পাবে।

নদী বন্দরের উপপরিচালক মোবারক হোসেন জানান, সড়ক পথে যেমন যানচলাচল বাড়ছে, তেমনি নৌপথেও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বিআইডব্লিউটিএ‘র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক এর নির্দেশে নৌ-যান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদী প্রশস্থ করণ কাজ চলছে, যা চলমান থাকবে।

সরেজমিনে এক নম্বর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে দেখা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ কতর্ৃপক্ষ ভেকু দিয়ে নদী খনন করে মাটি অপসারণ করছে। নদীর তীর বাঁধাই করে লাগানো হয়েছে গাছের চারা। প্রথম দফায় আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদী প্রশস্থ করার লক্ষ নিয়ে খনন কাজ করা হচ্ছে। সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে নৌকা চালিয়ে জীবীকা নির্বাহকারী মাঝি হেলাল জানান, শুরুতে নদীর প্রশস্থ ছিল প্রায় সাড়ে ৬০০ ফুট। ধীরে ধীরে দখলের কারণে অর্ধেক কমে যায়। খননের পর যেন আবার দখল না হয় সেব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন মনে করেন তিনি।

পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি এ.বি সিদ্দিক বলেন, সেন্ট্রাল ঘাট শীতলক্ষ্যার গুরুত্বপূর্ণ নৌ চ্যানেল। দখল ও দূষণের কারণে নদী মরতে বসেছে। বহুদিন ধরে নদীর নব্যতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছি। নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ব্রিটশ আমলের মাপ অনুযায়ী নদীর জায়গা দখল মুক্ত করে নদীর হারানো যৌবন ফিরিয়ে আনার দাবি জানান এই নেতা।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল বলেন, কমতে কমতে শীতলক্ষ্যার প্রশস্থতা হয়ে পড়েছিল ২৬৫ ফুট। নদীতীর খনন করে এরই মাঝে দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ১০৫ ফুট প্রশস্থতা বৃদ্ধি করায় ৩৭০ ফুট হয়েছে। সিএসডি খাদ্যগুদাম থেকে মেরিন টেকনোলজি পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকা খনন ও মাটি অপসারণ করে ১৯৬০ সালে নদীর যে মূল প্রশস্থতা ছিল, সেই অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি মিটআপ ২০২৩ অনুষ্ঠিত

যৌবন ফিরে পাচ্ছে শীতলক্ষ্যা নদী

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ মার্চ ২০২১

নারায়ণগঞ্জ সংবাদ রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কতর্ৃপক্ষ। সংকীর্ণ হয়ে পড়া নদী প্রশস্থ করে নৌ-দুর্ঘনা এড়াতে বিআইডব্লিউটিএ নিজস্ব অর্থায়নে শুরু করেছে খনন কাজ। ইতোমধ্যে সেন্ট্রাল খেয়াঘাট থেকে ময়মনসিংহ পল্লী পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার নদীর ১০৫ ফুট প্রশস্থ করা হয়েছে। নদীর মূল সীমানা পর্যন্ত প্রশস্থ করতে বাকি অংশের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। দখল মুক্ত রাখতে নদীর তীরে করা হচ্ছে বনায়ণ।

নদীবন্দর সূত্র জানায়, শীতলক্ষ্যা নদীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এক নম্বর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট। এঘাট দিয়ে প্রতিদিনি যাত্রীবাহী লঞ্চ, মালবাহী কার্গোসহ হাজার হাজার নৌযান চলাচল করে। ঘাটের পূর্ব ও পশ্চিম তীরে শত শত ছোট নৌকা যাত্রী পারাপারের জন্য নোঙর করে রাখা হয়। দখলের কারণে নদীর প্রশস্ত কমে যাওয়ায় নৌযানগুলো মাঝনদীতে রাখতে হয়। এতে প্রায় সময় ঘটে দুর্ঘটনা। নদীর প্রশস্থ বৃদ্ধি করে নৌযান চলাচল নিরাপদ ও দুর্ঘটনা এড়াতে অবৈধ দখলমুক্ত করে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে নদী খনন কাজ শুরু করা হয়। খনন শেষ হলে সেন্ট্রাল ঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী প্রকৃত রূপ ও হারানো যৌবন ফিরে পাবে।

নদী বন্দরের উপপরিচালক মোবারক হোসেন জানান, সড়ক পথে যেমন যানচলাচল বাড়ছে, তেমনি নৌপথেও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বিআইডব্লিউটিএ‘র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক এর নির্দেশে নৌ-যান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদী প্রশস্থ করণ কাজ চলছে, যা চলমান থাকবে।

সরেজমিনে এক নম্বর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে দেখা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ কতর্ৃপক্ষ ভেকু দিয়ে নদী খনন করে মাটি অপসারণ করছে। নদীর তীর বাঁধাই করে লাগানো হয়েছে গাছের চারা। প্রথম দফায় আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদী প্রশস্থ করার লক্ষ নিয়ে খনন কাজ করা হচ্ছে। সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে নৌকা চালিয়ে জীবীকা নির্বাহকারী মাঝি হেলাল জানান, শুরুতে নদীর প্রশস্থ ছিল প্রায় সাড়ে ৬০০ ফুট। ধীরে ধীরে দখলের কারণে অর্ধেক কমে যায়। খননের পর যেন আবার দখল না হয় সেব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন মনে করেন তিনি।

পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি এ.বি সিদ্দিক বলেন, সেন্ট্রাল ঘাট শীতলক্ষ্যার গুরুত্বপূর্ণ নৌ চ্যানেল। দখল ও দূষণের কারণে নদী মরতে বসেছে। বহুদিন ধরে নদীর নব্যতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছি। নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ব্রিটশ আমলের মাপ অনুযায়ী নদীর জায়গা দখল মুক্ত করে নদীর হারানো যৌবন ফিরিয়ে আনার দাবি জানান এই নেতা।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল বলেন, কমতে কমতে শীতলক্ষ্যার প্রশস্থতা হয়ে পড়েছিল ২৬৫ ফুট। নদীতীর খনন করে এরই মাঝে দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ১০৫ ফুট প্রশস্থতা বৃদ্ধি করায় ৩৭০ ফুট হয়েছে। সিএসডি খাদ্যগুদাম থেকে মেরিন টেকনোলজি পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকা খনন ও মাটি অপসারণ করে ১৯৬০ সালে নদীর যে মূল প্রশস্থতা ছিল, সেই অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।