আড়াইহাজারের শাকিল হত্যার দেড় বছর পর রহস্য উদঘাটন : আটক-৩

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বালিয়াপাড়া এলাকার অটোরিকশা চালক শাকিল (১৮) হত্যাকান্ডের ১ বছর ৭ মাস পর রহস্য উদ্ঘাটন করে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পিবিআই। উদ্ধার করা হয়েছে ভিকটিমের ব্যবহৃত লুন্ঠিত মোবাইল ও অটোরিকশা। বৃহস্পতিবার ( ২০ আগস্ট ) দুপুরে সংস্থাটির জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানানো হয়।
ধৃতরা হলো- রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভার কান্দাপাড়া এলাকার হারিচ চৌধুরীর ছেলে মোঃ আরিফ চৌধুরী, সরাইল থানার বড়ইছড়া এলাকার মৃত মুর্তুজা আলীর ছেলে মোঃ আমিনুল ইসলাম (২৫) ও একই থানার বৈসর এলাকার মৃত মারুলার ছেলে মোঃ আরব আলী (২৩)।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, তথ্য প্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্র ধরে চাঞ্চল্যকর অটোরিকশা চালক শাকিল হত্যাকান্ডে জড়িত ৩ জনকে রূপগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রথমে আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে সহযোগী আরিফ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করার পর জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শাকিলের ব্যবহৃত অটোরিক্সাটি আসামী আরব আলীর হেফাজত হতে উদ্ধার ও তাকে প্রেপ্তার করা হয়। ধৃতরা ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবান বন্দি দিয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আমিনুল ইসলাম ও আরিফ চৌধুরী স্বীকার করে, ঘটনার ৭/৮ দিন আগে সোনারগাঁ থানার গাউছিয়া স্ট্যান্ডে অটোরিকশা চালক শাকিলের সাথে পরিচয় হয়। তখন তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। এর পর থেকে মাঝে মাঝে শাকিলের সঙ্গে মোবাইলে কথা হতো। পরে তারা শাকিলের ব্যবহৃত অটোরিকশা চুরি করার পরামর্শ করা হয়। প্রেম করে বিয়ে করায় পরিবার বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় আরিফ চৌধুরী আর্থিক সংকটে পরে। তাই আমিনুল ও আরিফ ঘটনার ফোন করে শাকিলকে গাউছিয়া আসতে বলে। শাকিল সন্ধ্যায় গাউছিয়া আসার পর তারা দুইজন যাত্রীবেশে শাকিলের অটোরিকশায় উঠে সোনারগাঁয়ের তাজমহল এলাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। তাদের পরিকল্পিত স্থানে যাওয়ার পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শাকিলকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে গলায় থাকা মাফলার দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য শাকিলের দুই চোখে রক্তাক্ত আঘাত করে। পরে শাকিলের পকেটে থাকা টাকা, মোবাইল অটোরিকশা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায় আমিনুল ও আরিফ। পরে আমিনুল ইসলামের চাচাতো ভগ্নিপতি আরব আলীর কাছে শাকিলের অটোরিকশা বিক্রি করে দেয়। আরব আলী পেশাগতভাবে চোরাই অটোরিকশা কম দামে ক্রয় করে কিছু পরিবর্তন করে বেশি দামে বিক্রি করে থাকে। কিন্তু শাকিলের রিকশাটি নতুন হওয়ায় আরব আলী অন্যত্র বিক্রি না করে নিজেই ব্যবহার করতে থাকে।
এ হত্যা কান্ডের ঘটনায় নিহতের ভাতিজা সজিব বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে সোনাগাঁ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। এ মামলায় সন্দেহ জনক ভাবে মো. বিপ্লব (৩৮) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন।
পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান,গত বছরের ১৩ জানুয়ারি পিবিআই কর্তৃক মামলা গ্রহন করা হয়।