নারায়ণগঞ্জ ০৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ডে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, হামলায় আহত ২ নারায়ণগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা সভায় মাদক ও কিশোর গ্যাং সহ সকল অপরাধ নির্মূলে কঠোর অবস্থান প্রশাসনের সিদ্ধিরগঞ্জে ৩২ লাখ টাকা ও ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে ব্যাবসায়ীর স্ত্রী উধাও! ভিশন ২০৩০-এর সুযোগে সৌদিতে সফল বাংলাদেশি উদ্যোক্তা, দেশে বিনিয়োগের আহ্বান নারায়ণগঞ্জে প্রথমবারের মত নৌযান শুমারি ২০২৬ অবহিতকরণ সভায় অনুষ্ঠিত সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ: সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান অধ্যক্ষের নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি অন্য জেলার জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: ডিসি মো :রায়হান কবির নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শ্রদ্ধা,দোয়া, স্মরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নারায়ণগঞ্জে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ, আহত ৫ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ

শীতলক্ষ্যা নদীতে কাঁচপুর নৌ-পুলিশের চাঁদাবাজি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ জুলাই ২০১৮
  • ৭৪৩ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : শীতলক্ষ্যা নদীতে নৌ-পুলিশের চাঁদাবাজি। কাঁচপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল বালুবাহী ট্রালারসহ বিভিন্ন নৌ-যান থেকে চাঁদা আদায় করছে। ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে প্রতিদিন ভোর ৫ টা থেকে দুপুর ১ টা ও বিকেল ৪ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে পুলিশ। কাঁচপুর সেতু থেকে গোদনাইল নং ঢাকেশ্বরী ঘাট পর্যন্ত নদী সীমানা থেকে পুলিশ চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা না দিলে অমানবিক নির্যাতন করা হয় বলে একাধিক ট্রলার মালিক ও শ্রমিকরা অভিযোগ জানায়।
নৌ-পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, ছোট বড় যে কোন বালুবাহী ট্রলার শীতলক্ষ্যা নদীর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল ২ নং ঘাট অতিক্রম করলেই নৌ-পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে নৌ-পুলিশ বালুবাহী ট্রালারের গতি রোধ করে চাঁদা আদায় করছে। বালুবাহী ছোট ট্রলার ২‘শ ও বড় ট্রলার থেকে ৩‘শ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে পুলিশ। চাঁদা না দিলে মারধর করা হয় বলে একাধিক শ্রমিক অভিযোগ জানায়।
সরেজমিনে শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে দেখা গেছে নৌ-পুলিশ কাঁচপুর ল্যান্ডিং এলাকায় বিভিন্ন বালুবাহী ট্রলার থেকে চাঁদা আদায় করছে। গণমাধ্যম কর্মীরা চাঁদা আদায়ের দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করলে পুলিশ দ্রুত ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে চলে যায়। কাঁচপুর নৌ-ফাঁড়ির কনস্টেবল মোশারফ এর নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য প্রতিদিন নদীতে চাঁদাবাজি করছে। বালুবাহী ট্রলার আসলেই পুলিশ তাদের ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে কাছে গিয়ে চাঁদা আদায় করে। চাঁদা আদায়ে সর্বাত্বক সহযোগীতা করছে পুলিশ বহনকারী ট্রলারের লোকজন।
নদীর পাড়ের বাসিন্দা ও বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ীরা জানায়, নদীতে লোংকর করে রাখা জাহাজের আড়ালে পুলিশ ট্রালার নিয়ে অপেক্ষা করে। কোন বালুবাহী ট্রলার আসলেই পুলিশ তাদের ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে ছুটে গিয়ে চাঁদা আদায় করছে। পুলিশের এই চাঁদাবাজি গত কয়েকমাস ধরে শুরু হয়েছে বলে তারা জানায়।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, নৌ-পুলিশ দিনে বালুবাহী ট্রলার থেকে চাঁদা আদায় করলেও রাতে অন্যান্য নৌ-পরিবহন থেকে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না দিলে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে পুলিশ। সূত্রটি জানায়, নৌ-পুলিশের সহযোগীতায় নদী দিয়ে মাদকের বড় বড় চালান আসা যাওয়া করছে। এসব মাদক পাচারকারীদের কাছ থেকে নৌ-পুলিশ মোটা অংকের উৎকোচ পাচ্ছে বলে সূত্রটির দাবি। পুলিশের চাঁদাবাজি থেকে রক্ষা পেতে জেলা পুলিশ সুপারসহ উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নৌ-পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে কাঁচপুর নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ডে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, হামলায় আহত ২

শীতলক্ষ্যা নদীতে কাঁচপুর নৌ-পুলিশের চাঁদাবাজি

আপডেট সময় : ০৮:১৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ জুলাই ২০১৮

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : শীতলক্ষ্যা নদীতে নৌ-পুলিশের চাঁদাবাজি। কাঁচপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল বালুবাহী ট্রালারসহ বিভিন্ন নৌ-যান থেকে চাঁদা আদায় করছে। ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে প্রতিদিন ভোর ৫ টা থেকে দুপুর ১ টা ও বিকেল ৪ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে পুলিশ। কাঁচপুর সেতু থেকে গোদনাইল নং ঢাকেশ্বরী ঘাট পর্যন্ত নদী সীমানা থেকে পুলিশ চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা না দিলে অমানবিক নির্যাতন করা হয় বলে একাধিক ট্রলার মালিক ও শ্রমিকরা অভিযোগ জানায়।
নৌ-পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, ছোট বড় যে কোন বালুবাহী ট্রলার শীতলক্ষ্যা নদীর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল ২ নং ঘাট অতিক্রম করলেই নৌ-পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে নৌ-পুলিশ বালুবাহী ট্রালারের গতি রোধ করে চাঁদা আদায় করছে। বালুবাহী ছোট ট্রলার ২‘শ ও বড় ট্রলার থেকে ৩‘শ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে পুলিশ। চাঁদা না দিলে মারধর করা হয় বলে একাধিক শ্রমিক অভিযোগ জানায়।
সরেজমিনে শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে দেখা গেছে নৌ-পুলিশ কাঁচপুর ল্যান্ডিং এলাকায় বিভিন্ন বালুবাহী ট্রলার থেকে চাঁদা আদায় করছে। গণমাধ্যম কর্মীরা চাঁদা আদায়ের দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করলে পুলিশ দ্রুত ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে চলে যায়। কাঁচপুর নৌ-ফাঁড়ির কনস্টেবল মোশারফ এর নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য প্রতিদিন নদীতে চাঁদাবাজি করছে। বালুবাহী ট্রলার আসলেই পুলিশ তাদের ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে কাছে গিয়ে চাঁদা আদায় করে। চাঁদা আদায়ে সর্বাত্বক সহযোগীতা করছে পুলিশ বহনকারী ট্রলারের লোকজন।
নদীর পাড়ের বাসিন্দা ও বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ীরা জানায়, নদীতে লোংকর করে রাখা জাহাজের আড়ালে পুলিশ ট্রালার নিয়ে অপেক্ষা করে। কোন বালুবাহী ট্রলার আসলেই পুলিশ তাদের ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে ছুটে গিয়ে চাঁদা আদায় করছে। পুলিশের এই চাঁদাবাজি গত কয়েকমাস ধরে শুরু হয়েছে বলে তারা জানায়।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, নৌ-পুলিশ দিনে বালুবাহী ট্রলার থেকে চাঁদা আদায় করলেও রাতে অন্যান্য নৌ-পরিবহন থেকে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না দিলে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে পুলিশ। সূত্রটি জানায়, নৌ-পুলিশের সহযোগীতায় নদী দিয়ে মাদকের বড় বড় চালান আসা যাওয়া করছে। এসব মাদক পাচারকারীদের কাছ থেকে নৌ-পুলিশ মোটা অংকের উৎকোচ পাচ্ছে বলে সূত্রটির দাবি। পুলিশের চাঁদাবাজি থেকে রক্ষা পেতে জেলা পুলিশ সুপারসহ উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নৌ-পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে কাঁচপুর নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।