আড়াইহাজারে দেশীয় অস্ত্র ও ককটেলসহ ডাকাত চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার

রফিক রানা, ষ্টাফ রিপোর্টার: আড়াইহাজার থেকে দেশীয় অস্ত্র ও ককটেলসহ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্র কাশেম বাহিনীর ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১।বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র‍্যাব-১১’র উপ-অধিনায়ক মেজর সানরিয়া চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এর আগে মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের সরাবদী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এসময় তাদের নিকট থেকে ৭ টি ককটেল, ৩ টি ছোড়া, ১ টি কাটার, ২ টি ক্রোবার, ৫ টি টেটা, ১৩ টি টর্চ লাইট, ১ টি রূপার চেইন, ২৪ হাজার ৯০০ টাকা ও ৯ টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের গোপালদী এলাকার মৃত আবু তালেবের ছেলে আবুল কাশেম (৩৩), ব্রাহ্মনবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের তেজখালী এলাকার মৃত নীল মিয়ার ছেলে মোঃ বাবু (২৬), উলুকান্দি কাজীপাড়া এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে মোঃ ওমর ফারুক (২৭), গোপালদি দাইরাদি গ্রামের মৃত মোস্তফার ছেলে মোঃ লিটন (২৪), মারুয়াদী গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে মোঃ সবুজ (২৮), নরসিংদীর মাধবদীর চকড়িয়ার মৃত রশিদের ছেলে মোঃ দেলোয়ার হোসেন (২৮), আড়াইহাজারের জোকারদিয়ার গ্রামের মোঃ আলম ভূঁইয়া ছেলে রুমন ভূইয়া (২৫),গোপালদী এলাকার মোঃ আলমের ছেলে মোঃ আশরাফুল (১৯) ও কলাগাছিয়া এলাকার আব্দুল করিম মিয়ার ছেলে মোঃ জুয়েল রানা (২২)।

র‍্যাব জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল হাইজাদী ইউনিয়নের সরাবদী আতাদী চকের বাড়ি ও উদয়দী গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় ডাকাতদের মারপিটে ৫ জন আহত হয়। ডাকাতদল স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়।

এতে ধারণা করা যায়, একটি বড় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল অত্র এলাকাসমূহতে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি করে আসছে। ডাকাতদের বয়স, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন এবং দৃষ্ঠিত দ্রব্যাদি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে র‍্যাবের একটি চৌকস গোয়েন্দা দল গোপনে ডাকাত প্রবণ এলাকায় কিছু সক্রিয় ডাকাত সদস্যকে সনাক্ত করে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে এবং একইসাথে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নেয়।

গ্রেফতারকৃত ডাকাতদলের সদস্যদের স্বীকারোক্তিতে জানা যায় যে, তারা গত ১৯ সেপ্টেম্বর হাইজানী ইউনিয়নের সরাবদী আতাদী চকের বাড়ি ও উদয়দী গ্রামের ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ছিল।

র‍্যাব আরো জানায়, গ্রেফতারকৃত ১নং আসামী মোঃ আবুল কাশেম এর বিরুদ্ধে ১০টি মামলা, ২নং আসামী মোঃ বাবু এর বিরুদ্ধে ৬টি মামলা, ৩নং আসামী মোঃ ওমর ফারুক এর বিরুদ্ধে ১টি মামলা, ৫নং আসামী মোঃ সবুজ এর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ১টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীরা সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন।

এই সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রটি এর আগেও পরস্পর যোগসাজশে পূর্ব-পরিকল্পনামাফিক দীর্ঘদিন যাবৎ আড়াইহাজার থানা এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারগুলোকে টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।