নারায়ণগঞ্জ ০২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফতুল্লায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার কল্যাণ তহবিলের চেক বিতরণে -রাষ্ট্র ও প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে : ডিসি রায়হান, কবির নারায়ণগঞ্জে রেল সেতুর পিলারের নিচের মাটি কাটা প্রকল্পেরই অংশ: রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নারায়ণগঞ্জে এইচএসি কেন্দ্র পরিদর্শন: ‘সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্নের প্রত্যাশা’ ডিসির ফতুল্লায় ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, দুই ঘন্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জে গণশুনানিতে সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির উদ্যোগ ডিসির সিদ্ধিরগঞ্জে এক ব্যক্তিকে পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ গ্রেপ্তার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মাঝে শিক্ষা-থেরাপি সামগ্রী বিতরণ করেন ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন দক্ষতাই স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মূল হাতিয়ার’: ডিসি রায়হান কবির ফতুল্লায় ঘুমন্ত স্বামীকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে

ফতুল্লার ফোর মাডার মামলায় ২ জনের মৃত্যুদন্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩০:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • ২৮৮ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ সংবাদ ডটকম :   ফতুল্লায় ফোর মাডার মামলায় দুই আসামীকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসাথে এই মামলার ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে ৯ আসামী উপস্থিত ছিলেন।

রোববার ২৮শে ফেব্রুয়ারি দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের  বিচারক সাবিনা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

২০০৮ সালে সংগঠিত এই হত্যা মামলার রায়ে শাহপরান বলগেটের মাঝি মাল্লা, নাসির মিয়া, মঙ্গল, ফয়সাল, হান্নান দের গলা কেটে হত্যা করে বলগেট ডাকাতির অপরাধে দোষী সাভ্যস্থ করে দুই আসামীকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর এবং পলাতকদের দ্রুত গ্রেফতার করে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে ।

দণ্ডিত আসামীরা হলেন, চাঁন মিয়া, দুলাল মিয়া, মজিবর, শফিকুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, মহি ফিটার, আরিফ।

পলাতক ছিলেন, জলিল, সাইফুল ইসলাম, দুলাল ও ইব্রাহিম। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মহি ফিটার ও তাজুল ইসলাম ।

মামলার বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) কে এম ফজলুর রহমান বলেন, ‘২০০৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বালুবাহী নৌযান (বাল্কহেড) ‘শাহপরান’ সিলেট থেকে পাথর বোঝাই করে  মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর সিমেন্ট কারখানায় আসে। পাথর খালাস করে দেওয়ার পর বাল্কহেডটির মেশিন নষ্ট হয়ে যায়। বাল্কহেডের মেশিন ঠিক করার জন্য মহী ফিটার ও তাজু ফিটারকে খবর দেন চালক নাসির। তারা এসে বাল্কহেডটি ঠিক করে টেস্ট করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলীর চরে লাগিয়ে দেয়। ওইসময় বাল্কহেডে নাসির মিয়া, মঙ্গল, ফয়সাল ও হান্নান ছিল।

পরে যখন বক্তাবলী চর থেকে বাল্কহেডটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তখন ওই চার জন নিখোঁজ ছিল। তিন দিন পর মেঘনা নদীর চরে হাত পা বাঁধা অবস্থায় নাসির মিয়া ও মঙ্গলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু অন্য দুইজন তখনও নিখোঁজ ছিল। পরে ২২ সেপ্টেম্বর শাহপরান বাল্কহেডের মালিক এরসাদ মিয়া ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে জলিল, দুলাল, ইব্রাহিম, দুলাল মিয়া, মজিবর, শফিকুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম ও আরিফকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে সাত জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা স্বীকার করে চার জনকে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়।

তিনি আরো বলেন, ‘তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ২৬ মার্চ ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বিচার চলাকালীন ইব্রাহিম নামে এক আসামি মারা যায়। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের মধ্যে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে দুই জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ও নয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে নয় জনের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেন। বাল্কহেড ডাকাতির অপরাধে ১১ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। আর পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

ফতুল্লায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

ফতুল্লার ফোর মাডার মামলায় ২ জনের মৃত্যুদন্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ১০:৩০:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১

নারায়ণগঞ্জ সংবাদ ডটকম :   ফতুল্লায় ফোর মাডার মামলায় দুই আসামীকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসাথে এই মামলার ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে ৯ আসামী উপস্থিত ছিলেন।

রোববার ২৮শে ফেব্রুয়ারি দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের  বিচারক সাবিনা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

২০০৮ সালে সংগঠিত এই হত্যা মামলার রায়ে শাহপরান বলগেটের মাঝি মাল্লা, নাসির মিয়া, মঙ্গল, ফয়সাল, হান্নান দের গলা কেটে হত্যা করে বলগেট ডাকাতির অপরাধে দোষী সাভ্যস্থ করে দুই আসামীকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর এবং পলাতকদের দ্রুত গ্রেফতার করে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে ।

দণ্ডিত আসামীরা হলেন, চাঁন মিয়া, দুলাল মিয়া, মজিবর, শফিকুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, মহি ফিটার, আরিফ।

পলাতক ছিলেন, জলিল, সাইফুল ইসলাম, দুলাল ও ইব্রাহিম। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মহি ফিটার ও তাজুল ইসলাম ।

মামলার বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) কে এম ফজলুর রহমান বলেন, ‘২০০৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বালুবাহী নৌযান (বাল্কহেড) ‘শাহপরান’ সিলেট থেকে পাথর বোঝাই করে  মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর সিমেন্ট কারখানায় আসে। পাথর খালাস করে দেওয়ার পর বাল্কহেডটির মেশিন নষ্ট হয়ে যায়। বাল্কহেডের মেশিন ঠিক করার জন্য মহী ফিটার ও তাজু ফিটারকে খবর দেন চালক নাসির। তারা এসে বাল্কহেডটি ঠিক করে টেস্ট করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলীর চরে লাগিয়ে দেয়। ওইসময় বাল্কহেডে নাসির মিয়া, মঙ্গল, ফয়সাল ও হান্নান ছিল।

পরে যখন বক্তাবলী চর থেকে বাল্কহেডটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তখন ওই চার জন নিখোঁজ ছিল। তিন দিন পর মেঘনা নদীর চরে হাত পা বাঁধা অবস্থায় নাসির মিয়া ও মঙ্গলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু অন্য দুইজন তখনও নিখোঁজ ছিল। পরে ২২ সেপ্টেম্বর শাহপরান বাল্কহেডের মালিক এরসাদ মিয়া ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে জলিল, দুলাল, ইব্রাহিম, দুলাল মিয়া, মজিবর, শফিকুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম ও আরিফকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে সাত জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা স্বীকার করে চার জনকে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়।

তিনি আরো বলেন, ‘তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ২৬ মার্চ ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বিচার চলাকালীন ইব্রাহিম নামে এক আসামি মারা যায়। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের মধ্যে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে দুই জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ও নয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে নয় জনের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেন। বাল্কহেড ডাকাতির অপরাধে ১১ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। আর পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন।