রূপগঞ্জ গোলাকান্দাইলের আতংকের নাম বিউটি বাহিনী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

রূপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
রূপগঞ্জে বিউটি বাহিনীর লোকজনের চলছে রমরমা জবরদখল, জালিয়াতীসহ মাদকসহ সুদের ব্যবসা। বিউটি বাহিনীর প্রধান বিউটি বেগম। তার রয়েছে একাধীক বাহিনী। জবরদখল করার জন্য বাহিনী, মাদক ব্যবসায়ী, জালিয়াতী কর্মকান্ডের পক্ষে সাফাই গাওয়ার বাহিনী, সুদে টাকা দেয়া নেয়ার বাহিনী। যখন যে বাহিনীকে কাজে লাগানো দরকার হয় ঠিক কাজে ব্যবহার করেন তাদের। এছাড়াও বিউটি কখনও কখনও হিজরাদের দিয়ে চালান অত্যাচার। এ বাহিনীর মজুতে থাকতে পারে দেশী-বিদেশী অস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র।
জানা গেছে, বিউটি বাহিনীর লোকজন এলাকা গরম রাখেন দা’য়ের মহড়া দিয়ে। স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার বাহিনীর লোকজন এলাকায় মাদক ব্যবসা, জমি দখলবাজি, জালিয়াতী, এলাকায় চোরি ছিনতাইসহ ভিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে যাচ্ছেন বহুদিন ধরে। এ বাহিনীর লোকজন এতটাই শক্ত অবস্থানে রয়েছে এলাকায় তাদের ভয়ে কেউ টু শব্দটাও করতে পারেন না। আর যদি কেউ প্রতিবাদী কথা বলেছেন তাহলে তার ও তার পরিবারের লোকজনের কেউ না কেউ হামলার শিকারসহ মামলার আসামী হয়ে যাচ্ছেন। এ যেন মগের মুল্লুক।
স্থানীয় লোকজনের মধ্যে চাপা খোব থাকলেও প্রকাশ করতে পারছেন না এ বাহিনীর ভয়ে। তারা এলাকায় বেশ আলোচিত। কয়েক বছরে তাদের হাতে বেশ কয়েকজন হামলার শিকারসহ মামলার আসামী হয়েছেন বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এসব ঘটনায় পুরো এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময় বিউটি বাহিনীর জালিয়াতী, হামলা, মামলার শিকার হয়েছেন অনেকেই।
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ৫নং ক্যানেল এলাকা বিউটির রাম রাজ্য। এ রাজ্যে বিউটিসহ তার বাহিনীর নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। বিউটি ও তার বাহিনীর লোকজনের খুটিঁর জোড় এতটাই শক্তিশালী অপরাধ করে পারপেয়ে যাচ্ছেন কয়েক বছর ধরে। রাজনৈতিক ছত্রছায়া না প্রশাসনের লোকজনের ছত্রছায়া তা জানা যায়নী। এ বাহিনীর বিরোদ্ধে প্রশাসনের নজরধারীসহ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি স্থানীয় ভোক্তভোগিদের।
স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশ প্রশাসন চাইলে ১০ মিটিটে বিউটি ও তার বাহিনীর বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। কেন নেয়া হচ্ছেনা সে বিষয়ে কিছুই জানেন না স্থানীয়রা। একারনে প্রতিদিন অপরধের মাত্র বাড়ছে ৫নং ক্যানেল এলাকায়। বিউটির সাথে নাকি বিভিন্ন মহলের প্রভাবশারীদের ছত্রছায়া রয়েছে এমন ধারনা করছেন স্থানীয় ভোক্তভোগিরা।
সরেজমিন ঘরে জানা গেছে, আব্দুল আজিজের ছেলে জাকির হোসেন, মোক্তার হোসেনের ছেলে রাজু, ওসমান, কিরণ আহাম্মদ গত ২৬ আগষ্ট একটি বাড়ির তালা ভেঙ্গে কবির মোল্লাকে প্রধান আসামী করে আরও ৪জনকে আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। বিউটির পক্ষে যারা এলাকায় স্বাক্ষির কাজ করেন তারা হলো, জাকির,কাইয়ূম,জামাল, আসিক, সামছুল, জসিম,মর্জিনা, সুলতানসুমন, মঞ্জু কসাই,ইয়াছিন, ওসমান। এরাই বিউটির কাছ থেকে সুদে টাকা নেয়। এর কারনে বিউটি যা শিখিয়ে দেন সময় মতো তাই স্বাক্ষি দিয়ে থাকেন। এদের কারনে অনেক নিরপরাধ মানুষ মামলার আসামী।
আরো জানা যায়, বিউটি বাহিনীর লোকজন একটি বাড়ির তালা ভেঙ্গে ঘরে কিছু মালামাল এলোমেল করেস্থানীয় কবির মোল্লাসহ ৫জনকে নামীয় আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামী কবির মোল্লার সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, বিউটির বাহিনী আমার বড় ক্ষতি করেছে। আমাকে একাধীকবার পিটিয়েছে। বিউটি আমার কাছে জমি বিক্রি করার পরে আমার দলিল বাতিল করার জন্য কয়েকবার অত্যাচার-নির্যাতন আমার উপর। এসব করে ক্ষান্ত হয়নি বিউটি। সে আমাকে একাধিক মামলার আসামী করেছে। সত্য কথাটা বিউটিকে বুঝাতে চাইলেই তিনি মামলার আসামী হয়ে যান।
আরেক ভোক্তভোগী সাফিয়া বেগম জানান,আমার সাথে জমির সিমানা নিয়ে বিরোধ বিউটির সাথে। এ বিরোধের সমাধানের জন্য ভূমি অফিসে নামজারি নিয়ে মামলা হয়েছে। সে মামলায় ডিগ্রি আমাদের পক্ষে। এর পর থেকে বিউটি একাধিক মামলা দিতে থাকে আমাকে ও পরিবারের লোকজনকে জড়িয়ে। সাফিয়া দাবি তুলেন, আমি প্রশাসনের সহযোগিতায় বিউটিসহ তার বাহিনীর লোকজনে অত্যাচার, হামলা-মামলা থেকেবাঁচতে চাই।
বিউটি বেগমের বিষয়ে ভূলতা ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সিপেক্টর শহিদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ৫নং ক্যানেল এলাকার বিউটির নাম শুনেছি। তার বাড়ির বিষয় নিয়ে কি জেন একটা জামেলা চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা কি আমার জানা নেই। তবে বিউটির নিয়ন্ত্রনে কোন বাহিনী আছে তা আমার জানা নেই। অপরাধ করলে আমরা অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। বিউটির ধারা কেউ নির্যাতিত ও অত্যাচারিত হলে অভিযোগ পেলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

রূপগঞ্জ গোলাকান্দাইলের আতংকের নাম বিউটি বাহিনী

আপডেট সময় : ১২:১২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রূপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
রূপগঞ্জে বিউটি বাহিনীর লোকজনের চলছে রমরমা জবরদখল, জালিয়াতীসহ মাদকসহ সুদের ব্যবসা। বিউটি বাহিনীর প্রধান বিউটি বেগম। তার রয়েছে একাধীক বাহিনী। জবরদখল করার জন্য বাহিনী, মাদক ব্যবসায়ী, জালিয়াতী কর্মকান্ডের পক্ষে সাফাই গাওয়ার বাহিনী, সুদে টাকা দেয়া নেয়ার বাহিনী। যখন যে বাহিনীকে কাজে লাগানো দরকার হয় ঠিক কাজে ব্যবহার করেন তাদের। এছাড়াও বিউটি কখনও কখনও হিজরাদের দিয়ে চালান অত্যাচার। এ বাহিনীর মজুতে থাকতে পারে দেশী-বিদেশী অস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র।
জানা গেছে, বিউটি বাহিনীর লোকজন এলাকা গরম রাখেন দা’য়ের মহড়া দিয়ে। স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার বাহিনীর লোকজন এলাকায় মাদক ব্যবসা, জমি দখলবাজি, জালিয়াতী, এলাকায় চোরি ছিনতাইসহ ভিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে যাচ্ছেন বহুদিন ধরে। এ বাহিনীর লোকজন এতটাই শক্ত অবস্থানে রয়েছে এলাকায় তাদের ভয়ে কেউ টু শব্দটাও করতে পারেন না। আর যদি কেউ প্রতিবাদী কথা বলেছেন তাহলে তার ও তার পরিবারের লোকজনের কেউ না কেউ হামলার শিকারসহ মামলার আসামী হয়ে যাচ্ছেন। এ যেন মগের মুল্লুক।
স্থানীয় লোকজনের মধ্যে চাপা খোব থাকলেও প্রকাশ করতে পারছেন না এ বাহিনীর ভয়ে। তারা এলাকায় বেশ আলোচিত। কয়েক বছরে তাদের হাতে বেশ কয়েকজন হামলার শিকারসহ মামলার আসামী হয়েছেন বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এসব ঘটনায় পুরো এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময় বিউটি বাহিনীর জালিয়াতী, হামলা, মামলার শিকার হয়েছেন অনেকেই।
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ৫নং ক্যানেল এলাকা বিউটির রাম রাজ্য। এ রাজ্যে বিউটিসহ তার বাহিনীর নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। বিউটি ও তার বাহিনীর লোকজনের খুটিঁর জোড় এতটাই শক্তিশালী অপরাধ করে পারপেয়ে যাচ্ছেন কয়েক বছর ধরে। রাজনৈতিক ছত্রছায়া না প্রশাসনের লোকজনের ছত্রছায়া তা জানা যায়নী। এ বাহিনীর বিরোদ্ধে প্রশাসনের নজরধারীসহ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি স্থানীয় ভোক্তভোগিদের।
স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশ প্রশাসন চাইলে ১০ মিটিটে বিউটি ও তার বাহিনীর বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। কেন নেয়া হচ্ছেনা সে বিষয়ে কিছুই জানেন না স্থানীয়রা। একারনে প্রতিদিন অপরধের মাত্র বাড়ছে ৫নং ক্যানেল এলাকায়। বিউটির সাথে নাকি বিভিন্ন মহলের প্রভাবশারীদের ছত্রছায়া রয়েছে এমন ধারনা করছেন স্থানীয় ভোক্তভোগিরা।
সরেজমিন ঘরে জানা গেছে, আব্দুল আজিজের ছেলে জাকির হোসেন, মোক্তার হোসেনের ছেলে রাজু, ওসমান, কিরণ আহাম্মদ গত ২৬ আগষ্ট একটি বাড়ির তালা ভেঙ্গে কবির মোল্লাকে প্রধান আসামী করে আরও ৪জনকে আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। বিউটির পক্ষে যারা এলাকায় স্বাক্ষির কাজ করেন তারা হলো, জাকির,কাইয়ূম,জামাল, আসিক, সামছুল, জসিম,মর্জিনা, সুলতানসুমন, মঞ্জু কসাই,ইয়াছিন, ওসমান। এরাই বিউটির কাছ থেকে সুদে টাকা নেয়। এর কারনে বিউটি যা শিখিয়ে দেন সময় মতো তাই স্বাক্ষি দিয়ে থাকেন। এদের কারনে অনেক নিরপরাধ মানুষ মামলার আসামী।
আরো জানা যায়, বিউটি বাহিনীর লোকজন একটি বাড়ির তালা ভেঙ্গে ঘরে কিছু মালামাল এলোমেল করেস্থানীয় কবির মোল্লাসহ ৫জনকে নামীয় আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামী কবির মোল্লার সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, বিউটির বাহিনী আমার বড় ক্ষতি করেছে। আমাকে একাধীকবার পিটিয়েছে। বিউটি আমার কাছে জমি বিক্রি করার পরে আমার দলিল বাতিল করার জন্য কয়েকবার অত্যাচার-নির্যাতন আমার উপর। এসব করে ক্ষান্ত হয়নি বিউটি। সে আমাকে একাধিক মামলার আসামী করেছে। সত্য কথাটা বিউটিকে বুঝাতে চাইলেই তিনি মামলার আসামী হয়ে যান।
আরেক ভোক্তভোগী সাফিয়া বেগম জানান,আমার সাথে জমির সিমানা নিয়ে বিরোধ বিউটির সাথে। এ বিরোধের সমাধানের জন্য ভূমি অফিসে নামজারি নিয়ে মামলা হয়েছে। সে মামলায় ডিগ্রি আমাদের পক্ষে। এর পর থেকে বিউটি একাধিক মামলা দিতে থাকে আমাকে ও পরিবারের লোকজনকে জড়িয়ে। সাফিয়া দাবি তুলেন, আমি প্রশাসনের সহযোগিতায় বিউটিসহ তার বাহিনীর লোকজনে অত্যাচার, হামলা-মামলা থেকেবাঁচতে চাই।
বিউটি বেগমের বিষয়ে ভূলতা ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সিপেক্টর শহিদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ৫নং ক্যানেল এলাকার বিউটির নাম শুনেছি। তার বাড়ির বিষয় নিয়ে কি জেন একটা জামেলা চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা কি আমার জানা নেই। তবে বিউটির নিয়ন্ত্রনে কোন বাহিনী আছে তা আমার জানা নেই। অপরাধ করলে আমরা অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। বিউটির ধারা কেউ নির্যাতিত ও অত্যাচারিত হলে অভিযোগ পেলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।