নারায়ণগঞ্জ ০২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

১২ শিশু ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আটক

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই ২০১৯
  • ১০০ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ এর অধিক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে দুই স্কুল শিক্ষক গ্রেফতারের রেশ কাটতে না কাটতেই ১২ শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে এক মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। র‌্যাবে সহকারী পরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ভূঁইগড় মাহমুদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ধৃত এই প্রিন্সিপালের নাম মাওলানা মো: আল আমিন। তিনি মাহমুদপুর এলাকার বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার দিঘিরপাড় এলাকার রেনু মিয়ার ছেলে। তাছাড়া ফতুল্লা এলাকায় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। ধর্ষণ ও যৌন হায়রানীর অভিযোগের সত্যতা ম্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এই প্রিন্সিপাল। তার মোবাইল ও অফিসের কম্পিউটার থেকে বিপুল পরিমান নগ্ন ভিডি জব্দ করেছে র‌্যাব।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে: কর্ণেল কাজী শামসের উদ্দিন, ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আসলাম মিয়া ও পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল আজিজ।

পরিদর্শন শেষে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে: কর্ণেল কাজী শামসের উদ্দিন প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, কয়েকদিন আগে সিরিয়াল রেপিস্ট সিদ্ধিরগঞ্জের একটি স্কুল শিক্ষক আশরাফুলকে গ্রেফতারের ঘটনায় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি সংবাদের ভিডিও কিপ আমাদের ফেসবুক ফেইজে আপলোড করেছিলাম। গত দুইদিন আগে বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী ও তার মা ফেসবুকে ওই ভিডিওটি দেখে। এ সময় ভিডিওটি দেখে ওই মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তার মাকে বলে যে, মা আমাদের হুজুরকে কেন র‌্যাব গ্রেফতার করে না,আমাদের হুজুর আমাদের সাথে এরকম করে। আমার এই মাদ্রাসায় যেতে ভালো লাগে না। আমি আর মাদ্রাসায় যাব না। পরে ওই মেয়ের মা র‌্যাব অফিসে আসেন এবং বিষয়টি জানায়। এই মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল একাধিক ছাত্রীকে তার বাসায় পড়ানোর সময় বিভিন্ন ভাবে তাদেরকে যৌন নির্যাতন করে এবং ধর্ষণও করেছে। আমরা এরকম ১২ জন ছাত্রীর নাম এবং তথ্য প্রমান পেয়েছি।

তিনি আরো জানান, দু:খজনক হচ্ছে এই লোক এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ইমাম এবং সে বিভিন্ন মসজিদে নামাজ পড়ায়। একই সাথে তার একটি মাদ্রাসা রয়েছে, সে মাদ্রাসার একটি রুমে তার পরিবার নিয়ে থাকতো এবং একটি অফিস কক্ষসহ কয়েকটি কাস রুমে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদেরকে পড়াতো।সে তার স্ত্রীর অবর্তমানে বিভিন্ন সময় পড়তে আসা ছাত্রীদেরকে তার রুমে ডেকে নিয়ে ঝাড়– দেওয়া, এটা সেটা তাকে এনে দেওয়ার ছোতা দিয়ে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করতো। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফী আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

১২ শিশু ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আটক

আপডেট সময় : ১২:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ এর অধিক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে দুই স্কুল শিক্ষক গ্রেফতারের রেশ কাটতে না কাটতেই ১২ শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে এক মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। র‌্যাবে সহকারী পরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ভূঁইগড় মাহমুদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ধৃত এই প্রিন্সিপালের নাম মাওলানা মো: আল আমিন। তিনি মাহমুদপুর এলাকার বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার দিঘিরপাড় এলাকার রেনু মিয়ার ছেলে। তাছাড়া ফতুল্লা এলাকায় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। ধর্ষণ ও যৌন হায়রানীর অভিযোগের সত্যতা ম্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এই প্রিন্সিপাল। তার মোবাইল ও অফিসের কম্পিউটার থেকে বিপুল পরিমান নগ্ন ভিডি জব্দ করেছে র‌্যাব।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে: কর্ণেল কাজী শামসের উদ্দিন, ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আসলাম মিয়া ও পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল আজিজ।

পরিদর্শন শেষে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে: কর্ণেল কাজী শামসের উদ্দিন প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, কয়েকদিন আগে সিরিয়াল রেপিস্ট সিদ্ধিরগঞ্জের একটি স্কুল শিক্ষক আশরাফুলকে গ্রেফতারের ঘটনায় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি সংবাদের ভিডিও কিপ আমাদের ফেসবুক ফেইজে আপলোড করেছিলাম। গত দুইদিন আগে বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী ও তার মা ফেসবুকে ওই ভিডিওটি দেখে। এ সময় ভিডিওটি দেখে ওই মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তার মাকে বলে যে, মা আমাদের হুজুরকে কেন র‌্যাব গ্রেফতার করে না,আমাদের হুজুর আমাদের সাথে এরকম করে। আমার এই মাদ্রাসায় যেতে ভালো লাগে না। আমি আর মাদ্রাসায় যাব না। পরে ওই মেয়ের মা র‌্যাব অফিসে আসেন এবং বিষয়টি জানায়। এই মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল একাধিক ছাত্রীকে তার বাসায় পড়ানোর সময় বিভিন্ন ভাবে তাদেরকে যৌন নির্যাতন করে এবং ধর্ষণও করেছে। আমরা এরকম ১২ জন ছাত্রীর নাম এবং তথ্য প্রমান পেয়েছি।

তিনি আরো জানান, দু:খজনক হচ্ছে এই লোক এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ইমাম এবং সে বিভিন্ন মসজিদে নামাজ পড়ায়। একই সাথে তার একটি মাদ্রাসা রয়েছে, সে মাদ্রাসার একটি রুমে তার পরিবার নিয়ে থাকতো এবং একটি অফিস কক্ষসহ কয়েকটি কাস রুমে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদেরকে পড়াতো।সে তার স্ত্রীর অবর্তমানে বিভিন্ন সময় পড়তে আসা ছাত্রীদেরকে তার রুমে ডেকে নিয়ে ঝাড়– দেওয়া, এটা সেটা তাকে এনে দেওয়ার ছোতা দিয়ে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করতো। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফী আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হবে।