নারায়ণগঞ্জ ১০:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি মিটআপ ২০২৩ অনুষ্ঠিত আদমজী ইপিজেডকে অশান্ত করছে জনপ্রতিনিধিরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের কর্মকর্তাদের সাথে মহিলা লীগ নেত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় না’গঞ্জ কারাগারে হাজতীর মৃত্যু ফতুল্লায় চোরাইকৃত ট্যাংকলড়ী উদ্ধার আড়াইহাজারের মিথিলা টেক্সটাইল ঘুরে গেলেন ৮ দেশের রাষ্ট্রদূতসহ ১৮ দেশের প্রতিনিধি সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের কর্মকর্তাদের সাথে কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের মতবিনিময় ফতুল্লা ব্লাড ডোনার্সের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শিক্ষা সিলেবাস বাতিলের দাবিতে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহরে নারী সমাবেশ ও মিছিল

সোনারগাঁয়ে আত্নহত্যার প্ররোচনার মামলা করে আর্থিক ফায়দা হাসিলের পায়তারা

স্টাফ রিপোর্টার : সোনারগাঁয়ে ফারজানা আক্তার নামে এক গৃহবধূর আত্নহত্যাকে পুঁজি করে প্রবাসী স্বামী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা করে ফায়দা লুটার ফায়তারা করছে নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর। মামলার ৬ আসামির মধ্যে ২ জন বিদেশে অবস্থান করছে। পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ফারজানা গত ১১ জুন সকালে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আতœহত্যা করে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার মেঘনা থানার চালিডাঙ্গা এলাকার বাচ্চুমিয়ার মেয়ে ফারজানা আক্তারকে ৫ বছর আগে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার বারদী মিছরিপাড়া এলাকার সাত্তার মিয়ার ছেলে মো: সুজন। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তাননের জন্ম হয়। জীবিকার তাগিদে সুজন গত ৪ মাস আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত চলে যায়। বিদেশ যাওয়ার সময় সুজন শশুর বাড়ী থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। এই পাওনা টাকা পরিশোধ করার কথা বলায় ফারজানা আক্তারকে তার শশুর বাড়ীর লোকজন নির্যাতনসহ বিভিন্ন হুমকি ধমকি প্রদান করে। প্রতিনিয়তই নানা ভাবে অপমান অপদস্ত করে। এসব অপমান সহ্য করতে না পেরে ১১ জুন সকাল সাড়ে ৮ টায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করে। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা কুমিল্লা থেকে সোনারগাঁ ছুটে এসে আত্নহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ তুলে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাটিয়ে সাত্তারের স্ত্রী মিনারা বেগম,(নিহতের শাশুরি),ছেলে মো: সুজন(নিহতের স্বামী) সুমন(নিহতের ভাসর), মৃত খালেকের ছেলে ধন মিয়, মান্নান ও মান্নানের স্ত্রী হাফজাকে আসামি করে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। যা পরবর্তিতে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ। যার নং ৩৪। ধারা দন্ড বিধির ৩০৬/৩৪। তারিখ ১৫-০৬-২০১৯। মামলায় উল্লেখিত ৬ জন আসামির মধ্যে নিহতের স্বামী সুজন ও তার ভাগিনা মান্নান বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন।

নিহত ফারজানার শশুর বাড়ীর লোকজন জানায়, বিদেশ যাওয়ার সময় সুজন তার শাশুরীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ধার নিয়ে ছিল। মাত্র ৪ মাস হয় সুজন বিদেশ গেছে। তাই শশুরবাড়ীর পাওনা টাকা পরিশোধ করতে পারছেনা। কিন্তু ফারজানার মা ও ভাই পাওনা টাকার জন্য প্রতিনিয়তই চাপ প্রয়োগ করতো ফারজানার উপর। মা ও ভাইয়ের চাপেই অভিমান করে ফারজানা আতœহত্যা করেছে বলে মনে করছেন মামলার আসামিরা। নিহতের ভাই মামলার বাদী জাহাঙ্গীর বোনের আতœহত্যাকে পুঁজি করে অর্থিক ফায়দা লুটার পায়তারা করছে বলে তাদের অভিযোগ। কারণ ৮০ হাজার টাকা ধার নিলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে দেড় লাখ টাকা। তাই সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার দাবি জানিয়েছে মামলার আসামি ও তাদের পরিবার।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক মোক্তার এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। মোবাইলে রিং হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি মিটআপ ২০২৩ অনুষ্ঠিত

সোনারগাঁয়ে আত্নহত্যার প্ররোচনার মামলা করে আর্থিক ফায়দা হাসিলের পায়তারা

আপডেট সময় : ১২:১৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার : সোনারগাঁয়ে ফারজানা আক্তার নামে এক গৃহবধূর আত্নহত্যাকে পুঁজি করে প্রবাসী স্বামী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা করে ফায়দা লুটার ফায়তারা করছে নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর। মামলার ৬ আসামির মধ্যে ২ জন বিদেশে অবস্থান করছে। পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ফারজানা গত ১১ জুন সকালে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আতœহত্যা করে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার মেঘনা থানার চালিডাঙ্গা এলাকার বাচ্চুমিয়ার মেয়ে ফারজানা আক্তারকে ৫ বছর আগে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার বারদী মিছরিপাড়া এলাকার সাত্তার মিয়ার ছেলে মো: সুজন। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তাননের জন্ম হয়। জীবিকার তাগিদে সুজন গত ৪ মাস আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত চলে যায়। বিদেশ যাওয়ার সময় সুজন শশুর বাড়ী থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। এই পাওনা টাকা পরিশোধ করার কথা বলায় ফারজানা আক্তারকে তার শশুর বাড়ীর লোকজন নির্যাতনসহ বিভিন্ন হুমকি ধমকি প্রদান করে। প্রতিনিয়তই নানা ভাবে অপমান অপদস্ত করে। এসব অপমান সহ্য করতে না পেরে ১১ জুন সকাল সাড়ে ৮ টায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করে। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা কুমিল্লা থেকে সোনারগাঁ ছুটে এসে আত্নহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ তুলে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাটিয়ে সাত্তারের স্ত্রী মিনারা বেগম,(নিহতের শাশুরি),ছেলে মো: সুজন(নিহতের স্বামী) সুমন(নিহতের ভাসর), মৃত খালেকের ছেলে ধন মিয়, মান্নান ও মান্নানের স্ত্রী হাফজাকে আসামি করে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। যা পরবর্তিতে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ। যার নং ৩৪। ধারা দন্ড বিধির ৩০৬/৩৪। তারিখ ১৫-০৬-২০১৯। মামলায় উল্লেখিত ৬ জন আসামির মধ্যে নিহতের স্বামী সুজন ও তার ভাগিনা মান্নান বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন।

নিহত ফারজানার শশুর বাড়ীর লোকজন জানায়, বিদেশ যাওয়ার সময় সুজন তার শাশুরীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ধার নিয়ে ছিল। মাত্র ৪ মাস হয় সুজন বিদেশ গেছে। তাই শশুরবাড়ীর পাওনা টাকা পরিশোধ করতে পারছেনা। কিন্তু ফারজানার মা ও ভাই পাওনা টাকার জন্য প্রতিনিয়তই চাপ প্রয়োগ করতো ফারজানার উপর। মা ও ভাইয়ের চাপেই অভিমান করে ফারজানা আতœহত্যা করেছে বলে মনে করছেন মামলার আসামিরা। নিহতের ভাই মামলার বাদী জাহাঙ্গীর বোনের আতœহত্যাকে পুঁজি করে অর্থিক ফায়দা লুটার পায়তারা করছে বলে তাদের অভিযোগ। কারণ ৮০ হাজার টাকা ধার নিলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে দেড় লাখ টাকা। তাই সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার দাবি জানিয়েছে মামলার আসামি ও তাদের পরিবার।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক মোক্তার এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। মোবাইলে রিং হলেও তিনি রিসিভ করেননি।