নারায়ণগঞ্জ ১২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জুন ২০২৩, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সোনারগাঁয়ে ওয়াজ মাহফিলে লাঞ্ছিত অধ্যাপক রেজাউল করিম

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ৩১১ বার পড়া হয়েছে

সোনারগাঁয়ের সাদিপুর ইউনিয়নের নয়াপুর মাঠে ৮দিন ব্যাপী ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলনের মঞ্চে উঠে ২৫/৩০জন নেতাকর্মী নিয়ে দলীয় স্লোগান দেয়াসহ পবিত্র কুরআনে কারীম তিলাওয়াতকারী ক্বারী সাহেবকে চেয়ার ছেড়ে উঠে যেতে বলায় তাৎক্ষনিকভাবে শতশত মুসল্লীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক রেজাউল করিম।

এসময় মাহফিল কমিটির হস্তক্ষেপে মঞ্চ থেকে রেজাউল করিমের সমর্থকরা নেমে যাওয়ার পর উত্তেজিত মুসল্লীরা শান্ত হয়। গত ২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে নয়াপুর ইসলামী মহাসম্মেলনের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত মঙ্গলবার নয়াপুরের ৮দিন ব্যাপী ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলনের ৫ম দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক রেজাউল করিম। রাত ৯টার দিকে সম্মেলনের মঞ্চে পবিত্র কুরআনে কারীম থেকে তিলাওয়াত করছিলেন আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত ক্বারী আশিক মোস্তাবী।

এসময় ২৫/৩০ জন কর্মী-সমর্থক নিয়ে মঞ্চের দিকে আসেন প্রধান অতিথি অধ্যাপক রেজাউল করিম। এসময় তার সঙ্গীয় নেতাকর্মীরা দলীয় স্লোগান দিতে দিতে মঞ্চে উঠে এবং কিশোর বয়সী ক্বারী আশিক মোস্তাবীকে চেয়ার ছেড়ে অধ্যাপক রেজাউল করিমকে বসতে দেয়ার জন্য অনুরোধ করে। তখন ক্বারী আশিক মোস্তাবী কুরআন তিলাওয়াত বন্ধ করলে সম্মেলনে উপস্থিত শতশত মুসল্লী উত্তেজিত হয়ে উঠেন।

এসময় উত্তেজিত মুসল্লীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে অধ্যাপক রেজাউল করিম ও তার কর্মী-সমর্থকদের মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়ার জোড়ালো দাবি জানায়। এক পর্যায়ে সম্মেলন কমিটির হস্তক্ষেপে নেতাকর্মীরা মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পর মুসল্লীরা শান্ত হয়। তখন ক্বারী আশেক মোস্তাবী পুনরায় কুরআন তিলাওয়াত শুরু করেন।

এ ব্যাপারে মুসল্লীদের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর পূর্বে নয়াপুর ইসলামী মহাসম্মেলনে দেশবরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা তাফাজ্জল হক হবিগঞ্জীকে বয়ান বন্ধ করে টাকা কালেকশন করার অনুরোধ করায় তাৎক্ষনিকভাবে মুসল্লীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া। এরপর থেকে এই সম্মেলনকে জামায়াত মুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে গত মঙ্গলবার সম্মেলনের মঞ্চে অধ্যাপক রেজাউল করিমের কর্মী-সমর্থকরা যে আচরণ করেছে, তাতে আগামীতে তাদেরকেও বয়কট করা উচিৎ।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক রেজাউল করিম তার বক্তব্যে বিষয়টি ‘সামান্য ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেন।

SHARE

Facebook
Twitter

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে ওয়াজ মাহফিলে লাঞ্ছিত অধ্যাপক রেজাউল করিম

আপডেট সময় : ০৪:৫২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭

সোনারগাঁয়ের সাদিপুর ইউনিয়নের নয়াপুর মাঠে ৮দিন ব্যাপী ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলনের মঞ্চে উঠে ২৫/৩০জন নেতাকর্মী নিয়ে দলীয় স্লোগান দেয়াসহ পবিত্র কুরআনে কারীম তিলাওয়াতকারী ক্বারী সাহেবকে চেয়ার ছেড়ে উঠে যেতে বলায় তাৎক্ষনিকভাবে শতশত মুসল্লীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক রেজাউল করিম।

এসময় মাহফিল কমিটির হস্তক্ষেপে মঞ্চ থেকে রেজাউল করিমের সমর্থকরা নেমে যাওয়ার পর উত্তেজিত মুসল্লীরা শান্ত হয়। গত ২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে নয়াপুর ইসলামী মহাসম্মেলনের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত মঙ্গলবার নয়াপুরের ৮দিন ব্যাপী ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলনের ৫ম দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক রেজাউল করিম। রাত ৯টার দিকে সম্মেলনের মঞ্চে পবিত্র কুরআনে কারীম থেকে তিলাওয়াত করছিলেন আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত ক্বারী আশিক মোস্তাবী।

এসময় ২৫/৩০ জন কর্মী-সমর্থক নিয়ে মঞ্চের দিকে আসেন প্রধান অতিথি অধ্যাপক রেজাউল করিম। এসময় তার সঙ্গীয় নেতাকর্মীরা দলীয় স্লোগান দিতে দিতে মঞ্চে উঠে এবং কিশোর বয়সী ক্বারী আশিক মোস্তাবীকে চেয়ার ছেড়ে অধ্যাপক রেজাউল করিমকে বসতে দেয়ার জন্য অনুরোধ করে। তখন ক্বারী আশিক মোস্তাবী কুরআন তিলাওয়াত বন্ধ করলে সম্মেলনে উপস্থিত শতশত মুসল্লী উত্তেজিত হয়ে উঠেন।

এসময় উত্তেজিত মুসল্লীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে অধ্যাপক রেজাউল করিম ও তার কর্মী-সমর্থকদের মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়ার জোড়ালো দাবি জানায়। এক পর্যায়ে সম্মেলন কমিটির হস্তক্ষেপে নেতাকর্মীরা মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পর মুসল্লীরা শান্ত হয়। তখন ক্বারী আশেক মোস্তাবী পুনরায় কুরআন তিলাওয়াত শুরু করেন।

এ ব্যাপারে মুসল্লীদের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর পূর্বে নয়াপুর ইসলামী মহাসম্মেলনে দেশবরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা তাফাজ্জল হক হবিগঞ্জীকে বয়ান বন্ধ করে টাকা কালেকশন করার অনুরোধ করায় তাৎক্ষনিকভাবে মুসল্লীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া। এরপর থেকে এই সম্মেলনকে জামায়াত মুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে গত মঙ্গলবার সম্মেলনের মঞ্চে অধ্যাপক রেজাউল করিমের কর্মী-সমর্থকরা যে আচরণ করেছে, তাতে আগামীতে তাদেরকেও বয়কট করা উচিৎ।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক রেজাউল করিম তার বক্তব্যে বিষয়টি ‘সামান্য ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেন।

SHARE

Facebook
Twitter