সংবাদ শিরোনাম ::
আড়াইহাজা‌রে দলীয় পরিচয়ে অন্যায় করলে ছাড় নয়: রাকিবুল ইসলাম রাকিব পদ্মা অয়েল পিএলসি এর মহাব্যবস্থাপক আসিফ মালিক’কে বিদায় সংবর্ধনা Vibra con los casinos que marcan tendencia en entretenimiento বাংলা ৫২ নিউজ ডটকমের ১০ম বর্ষে পদার্পণ আড়াইহাজারে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ইর্ষান্বিত হয়েই আজাদের বিরু’দ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে : উপজেলা বিএনপি পিতার পর পুত্রকেও বহিস্কার নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাংবাদিকদের সাথে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মতবিনিময়সভা ওমানের শ্রমমন্ত্রীর সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা: শীঘ্রই উন্মুক্ত হচ্ছে ওয়ার্ক ভিসা আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর সিদ্ধিরগঞ্জে গভীর রাতে মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড

চাষাড়া শহীদ মিনার, বহুমুখী ব্যবহারে হাজার প্রাণের মিলনস্থল

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ১০১৭ বার পড়া হয়েছে

শীতলক্ষ্যা পাড়ের মানুষ গুলোর মিলনস্থল চাষাড়া শহীদ মিনার। এক কাপ চায়ের সাথে প্রিয় মুখগুলোর একসঙ্গে আড্ডার লোভে হোক অথবা প্রতিদিনের অভ্যাস বসত, শহরের আড্ডা প্রিয় মানুষগুলো সময় পেলেই ছুটে আসেন এ শহীদ মিনারে। উৎসব কিংবা ছুটির দিন গুলোতে কর্মজীবি মানুষের ঢল নামে এখানে।

ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে হাজার প্রাণ মিলিত হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে প্রতিদিনই শহীদ মিনার হয়ে উঠে প্রাণচঞ্চল। এর বহুমুখী ব্যবহারে চাষাড়া শহীদ মিনার হয়ে উঠেছে হাজার প্রাণের মিলনস্থল।

প্রতিদিন দুপুর পেরুতেই বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিক, লেখক, রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক সহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ যখন ভীড় জমান এ শহীদ মিনারে। এর পশ্চিম অংশ জুড়ে গড়ে উঠেছে বাহারি রকম খাবার আর নানা রকম চায়ের দোকান। সেই চা কিংবা খাবার আড্ডাকে দেয় পরিপূর্ণতা। তবে অনেকের অভিযোগ এই জনসমাগম শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট করছে।

শহীদ মিনারের পরিচিতি ও জনসমাগমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা রকম ব্যবসা। অনলইন ব্যবসা গুলোর সাক্ষাত কেন্দ্র শহীদ মিনার । কোন পন্য অনলাইনে বিক্রীর পর সেটা হস্তান্তর এবং মূল্য বিনিময় ঘটে এই শহীদ মিনারকে কেন্দ্র করে।

এ ব্যপারে একজন অনলাইন উদ্যোক্তা বলেন, শহীদ মিনার আমাদের নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে পরিচিত এবং সহজে যাতায়াত যোগ্য। জেলা ও জেলার বাইরের ক্রেতা বিক্রেতারা খুব সহজে এখানে যাতায়াত করতে পারেন এবং স্থানটিকে নিরাপদ মনে করেন।

শুধু অনলইন ব্যবসা নয়, শহীদ মিনারের চায়ের নামডাক জেলা জুড়ে। জেলা কিংবা জেলার বাইরের কোন চা প্রিয় মানুষ শহরে আসলে শহীদ মিনারের চায়ে চুমুক দিতে ভুল করেন না। চা দেকান মালিক সোহাগ জানালেন, তাদের এখানে প্রায় ২০ প্রকার চা ও শরবত পাওয়া যায়। তাছাড়াও শহীদ মিনারে আসা লোকজনের প্রিয় খাবার এখানকার ফুচকা। এখানে প্রায় ১৫ জন বিক্রেতা প্রতিদিন ফুচকা বিক্রী করেন।

শহীদ মিনারের পরিচিত কিছু মুখের সাথে কথা হয় এ ব্যাপারে। তারা বলছেন, প্রতিটি শহরে কিছু পরিচিত স্থান থাকে। যেখানে সুখে দুঃেখ শহরের মানুষগুলো একত্রিত হয়। আমাদের শহীদ মিনার তেমনি একটি স্থান। রাজনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক সভা সমাবেশ অথবা কোন দাবী আদায়ের মিছিল থেকে শুরু করে প্রিয় মানুষদের সাথে আড্ডা । সকলের গন্তব্য এই শহীদ মিনার। তবে এর সঠিক রক্ষনা বেক্ষণ জরুরি বলেও তারা মন্তব্য করেছেন।

শহীদ মিনারের এই জনসমাগমকে কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট সাং¯কৃতিক ব্যাক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, বিষয়টিকে খারাপভাবে দেখার কোন কারন নেই। নারায়ণয়গঞ্জে তেমন কোন বিনোদন কেন্দ্র নেই। ফলে বাধ্য হয়েই মানুষ এখানে ভীড় জমায়। শহীদ মিনারের নানামুখী ব্যবহার কমাতে চাইলে বিকল্প কিছু স্থান তৈরী করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এর পবিত্রতা রক্ষার ব্যাপারে বলেন, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে যেন কেউ মাদক সেবন করতে না পারে এবং জুতা নিয়ে এর মূল বেদীতে উঠতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। কোন যানবাহন যেন শহীদ মিনারে প্রবেশ করতে না পারে সেটাও লক্ষ্য করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন চাইলেই এটা করতে পারে। শহীদ মিনারের এ বিষয় গুলো দেখাশুনার জন্য সার্বক্ষণিক দুজন লোক রাখলেই এটা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

আড়াইহাজা‌রে দলীয় পরিচয়ে অন্যায় করলে ছাড় নয়: রাকিবুল ইসলাম রাকিব

চাষাড়া শহীদ মিনার, বহুমুখী ব্যবহারে হাজার প্রাণের মিলনস্থল

আপডেট সময় : ০৬:১৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

শীতলক্ষ্যা পাড়ের মানুষ গুলোর মিলনস্থল চাষাড়া শহীদ মিনার। এক কাপ চায়ের সাথে প্রিয় মুখগুলোর একসঙ্গে আড্ডার লোভে হোক অথবা প্রতিদিনের অভ্যাস বসত, শহরের আড্ডা প্রিয় মানুষগুলো সময় পেলেই ছুটে আসেন এ শহীদ মিনারে। উৎসব কিংবা ছুটির দিন গুলোতে কর্মজীবি মানুষের ঢল নামে এখানে।

ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে হাজার প্রাণ মিলিত হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে প্রতিদিনই শহীদ মিনার হয়ে উঠে প্রাণচঞ্চল। এর বহুমুখী ব্যবহারে চাষাড়া শহীদ মিনার হয়ে উঠেছে হাজার প্রাণের মিলনস্থল।

প্রতিদিন দুপুর পেরুতেই বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিক, লেখক, রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক সহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ যখন ভীড় জমান এ শহীদ মিনারে। এর পশ্চিম অংশ জুড়ে গড়ে উঠেছে বাহারি রকম খাবার আর নানা রকম চায়ের দোকান। সেই চা কিংবা খাবার আড্ডাকে দেয় পরিপূর্ণতা। তবে অনেকের অভিযোগ এই জনসমাগম শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট করছে।

শহীদ মিনারের পরিচিতি ও জনসমাগমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা রকম ব্যবসা। অনলইন ব্যবসা গুলোর সাক্ষাত কেন্দ্র শহীদ মিনার । কোন পন্য অনলাইনে বিক্রীর পর সেটা হস্তান্তর এবং মূল্য বিনিময় ঘটে এই শহীদ মিনারকে কেন্দ্র করে।

এ ব্যপারে একজন অনলাইন উদ্যোক্তা বলেন, শহীদ মিনার আমাদের নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে পরিচিত এবং সহজে যাতায়াত যোগ্য। জেলা ও জেলার বাইরের ক্রেতা বিক্রেতারা খুব সহজে এখানে যাতায়াত করতে পারেন এবং স্থানটিকে নিরাপদ মনে করেন।

শুধু অনলইন ব্যবসা নয়, শহীদ মিনারের চায়ের নামডাক জেলা জুড়ে। জেলা কিংবা জেলার বাইরের কোন চা প্রিয় মানুষ শহরে আসলে শহীদ মিনারের চায়ে চুমুক দিতে ভুল করেন না। চা দেকান মালিক সোহাগ জানালেন, তাদের এখানে প্রায় ২০ প্রকার চা ও শরবত পাওয়া যায়। তাছাড়াও শহীদ মিনারে আসা লোকজনের প্রিয় খাবার এখানকার ফুচকা। এখানে প্রায় ১৫ জন বিক্রেতা প্রতিদিন ফুচকা বিক্রী করেন।

শহীদ মিনারের পরিচিত কিছু মুখের সাথে কথা হয় এ ব্যাপারে। তারা বলছেন, প্রতিটি শহরে কিছু পরিচিত স্থান থাকে। যেখানে সুখে দুঃেখ শহরের মানুষগুলো একত্রিত হয়। আমাদের শহীদ মিনার তেমনি একটি স্থান। রাজনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক সভা সমাবেশ অথবা কোন দাবী আদায়ের মিছিল থেকে শুরু করে প্রিয় মানুষদের সাথে আড্ডা । সকলের গন্তব্য এই শহীদ মিনার। তবে এর সঠিক রক্ষনা বেক্ষণ জরুরি বলেও তারা মন্তব্য করেছেন।

শহীদ মিনারের এই জনসমাগমকে কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট সাং¯কৃতিক ব্যাক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, বিষয়টিকে খারাপভাবে দেখার কোন কারন নেই। নারায়ণয়গঞ্জে তেমন কোন বিনোদন কেন্দ্র নেই। ফলে বাধ্য হয়েই মানুষ এখানে ভীড় জমায়। শহীদ মিনারের নানামুখী ব্যবহার কমাতে চাইলে বিকল্প কিছু স্থান তৈরী করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এর পবিত্রতা রক্ষার ব্যাপারে বলেন, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে যেন কেউ মাদক সেবন করতে না পারে এবং জুতা নিয়ে এর মূল বেদীতে উঠতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। কোন যানবাহন যেন শহীদ মিনারে প্রবেশ করতে না পারে সেটাও লক্ষ্য করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন চাইলেই এটা করতে পারে। শহীদ মিনারের এ বিষয় গুলো দেখাশুনার জন্য সার্বক্ষণিক দুজন লোক রাখলেই এটা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।