স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের মিতালি মার্কেট আবার দখল করার পাঁয়তারা করছে আওয়ামী লীগ নেতা জামান মিয়া ও কলার ফারুক। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনের ঘটনায় করা একাধিক হত্যা মামলার আসামি ফারুক ও জামান উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করে এলাকায় এসেই মিতালি মার্কেট দখলের শলাপারমর্শ ও মহড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে তাদের ভয়ে মার্কেটের দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা চরম আতঙ্কবোধ করছেন।
জানা গেছে, মিতালি মার্কেটের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রফিকুল ইসলাম সভাপতি থাকাকালে মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির যুগ্ন সম্পাদক ছিলেন ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়ের শান্তিধারা ইউনিট আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জামান মিয়া ও কোষাধ্যক্ষ ছিলেন কলার ফারুক। সেসময় অনিয়ম দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাদেরকে সমিতির পদ থেকে বাদ দিয়ে মার্কেট থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এর পর থেকেই তারা দুজন তাদের কিছু অনুগত দোকান মালিক ও সন্ত্রাসীদের হাত করে মার্কেটটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এনিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এপরিস্থিতি মার্কেটটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া। ফলে বহু চেষ্টা করেও জামান ও ফারুক আর মার্কেটে প্রবেশ করতে পারেনি। ইয়াছিন মিয়া তার লোকজন নিয়ে একটানা বহু বছর মার্কেটটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেন ইয়াছিন মিয়া ও তার লোকজন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় একাধিক হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় জামান মিয়া ও কলার ফারুকও গা ঢাকা দিয়েছিলেন। সম্প্রতি তারা দুজন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে এসে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এসময় পুলিশ সুপারকে দেওয়া ফুলের তোরণে লেখা হয় সৌজন্যে মিতালি মার্কেট। এতে মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির লোকজনের মধ্যে শুরু হয়েছে সমালোচনা ও চরম ক্ষোভ।
মিতালি মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমিতির কোন পদে না থেকেও জামান মিয়া ও ফারুক মিতালি মার্কেটের সৌজন্যে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাত করে এবং তাদের দলবল নিয়ে পরামর্শ সভা করে এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করছে। পাশাপাশি পুলিশ সুপারের আস্তাভাজন লোক পরিচয় দিয়ে আবার তরা মার্কেট দখল করে আগের মত চঁাদাবাজি ও লুটপাট চালাতে দলবল ও সন্ত্রাসীদের নিয়ে মার্কেটে মহড়া দিচ্ছে। তাদের অনুগত দোকানে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র মজুদ করছে।
এ বিষয়ে জানতে জামান মিয়া ও কলার ফারুকের সাথে যোগাযোগ করতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলে রিং হলেও তারা রিসিভ করেন নি। ফলে তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মিতালি মার্কেটের সভাপতি পরিচয় দিয়ে আমার সাথে দেখা করে তারা ছবিটি তুলেছে। আমার নাম ভাঙ্গিয়ে যদি কোন অন্যায় করার অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধির নাম 










