সংবাদ শিরোনাম ::
রিয়াদে গ্রীণ ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে মাহে রমাদানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল অসহায় মানুষের মুখে হাসি: পশ্চিম আইলপাড়ায় বিএনপি নেতা রাজিবের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার সিদ্ধিরগঞ্জে হত-দরিদ্রদের মাঝে যাকাতের নগদ অর্থ বিতরণ নাসিক ৩নং ওয়ার্ডে নতুন নেতৃত্বের ডাক : কাউন্সিলর পদে আলোচনায় এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সবাইকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় এগিয়ে আসতে হবে : এমপি মান্নান বাবার জন্য ভালোবাসা ও দোয়া: সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রানার পিতার বিংশতম মৃত্যুবার্ষিকী আড়াইহাজারে সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Vibra con los casinos que marcan tendencia en entretenimiento আড়াইহাজার উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে এমপি নজরুল ইসলাম আজাদের মতবিনিময় বিএনপি নেতা মামুনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ

জমির মালিক দাবি করে আর্থিক ফাঁয়দা হাসিলের চেষ্টা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৮:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৩
  • ৪৮৬ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : সোনারগাঁয়ে জমি কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন নাছরিন আক্তারগং। জমির মালিকানা দাবি করে আর্থিক ফাঁয়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি চক্র। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিল করার পর, ভোগ দখলদার সাব্যস্ত করে আদালত জমির মালিকদের পক্ষে রায় দিয়ে মামলা নিস্পত্তি করেন। তারপরও ভূয়া মালিকানা দাবিদার জামাল উদ্দিনগং জমির মালিকদের স্থাপনা নির্মাণ কাজে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বাইশটেকী এলাকায় সৈরপা মৌজায় একই দাগে একই মালিকের কাছ থেকে পৃথক ভাবে ২০০৮ সালে নাছরিন আক্তার ৩ শতাংশ, সালমা আক্তার সাড়ে ৪ শতাংশ, ২০১৮ সালে মমতাজ বেগম ৩ শতাংশ, ২০২১ সালে রুবেল সাড়ে ৪ শতাংশ ও সর্বশেষ ২০২২ সালে সোলায়মান জোমাদ্দার ৩ শতাংশ জমি কিনে। তারা ৫ জন প্রত্যেকে নিজ নিজ নামে নামজারী করে জমিতে বাউন্ডারী করে গাছপালা রূপন করে ভোগদখলে আছেন। ওই ৫ জন বিভিন্ন জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও তারা ঢাকায় বিভিন্ন এলাকায় থাকেন। গত ২০২২ সালের ১ জুলাই জমির মালিকরা বাড়ী-ঘর নির্মাণ কাজ করতে গেলে একই এলাকার জামাল উদ্দিন তার ছেলে মানিক ও আনিছ, নূরুল ইসলামের ছেলে মাজহারুল ইসলাম জমির মালিকানা দাবি করে নির্মাণ কাজে বাধা দেন। পাশাপাশি জোর করে এক পাশে টিনের একটি খুঁপড়ি ঘর নির্মাণ করে রাখেন। তখন ৫ জন জমির মালিক যৌথভাবে বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মামলা করেন। মামলার আরজি ও বিবাদীর জবাব ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে পরিদর্শন করে দাখিলকৃত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গত ২ জানুয়ারি আদলত রায় ঘোষনা করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার আরজির সাথে সংযুক্ত কাগজপত্র, বিবাদী পক্ষের লিখিত জবাব ও দাখিলকৃত কাগজপত্র এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দাখিলকৃত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায় নালিশা ভূমিতে বাদী গাছপালা, দেয়াল নির্মাণ ও টিউবওয়েল স্থাপন করে ভোগদখলে আছেন। বিবাদী পক্ষ সম্প্রতি একটি টিনের ঘর নির্মাণের মাধ্যমে দখল পজিশনে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বিবাদীরা নালিশা জমিতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশে বিরত করা হলো। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকতে আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট পক্ষসহ থানাকে দেওয়ার জন্য বলা হয় রায়ে।
এদিকে আদালতের রায়ের পর ৩ জানুয়ারি জমির মালিকরা নির্মাণ কাজ করতে গেলে জামাল উদ্দিনের ছেলে মানিক মিস্ত্রিদের মারধর ও জমির মালিকদের বিভিন্ন হুমকি ধমকি দেয়। ঘটনাটি সোনারগাঁ থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ জামালগংদেরকে নির্মাণ কাছে বাধা না দিতে মৌখিকভাবে সতর্ক করে দেন। পরে ৪ জানুয়ারি জমির চারপাশে টিনের বেড়া দিয়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জমির মালিকরা। এসময় জামালগং নির্মাণ কাজে বাধা না দিলেও রাতের আঁধারে বাউন্ডারি ভেঙ্গে ফেলার ফন্দি করছে বলে জমির মালিকদের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম জানান, জামালগংদের জমির মালিকানা দাবি ভিত্তিহীন। তারা আর্থিক সুবিধা হাসিলের জন্য ঝামেলা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে জামাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার ছেলে প্রধান বিবাদী মানিক জমি নিজেদের দাবি করে বলেন, ভূলবশত আমার পিতার নামে আরএস পর্চা লিপিবদ্ধ হয়নি। পর্চা সংশোধনের মামলা চলমান রয়েছে। নাছরিনগং তাদের করা পিটিশন মামলায় দখলদার সাব্যস্ত রায় পেয়ে নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে। তা মেনে নেবনা।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়াদে গ্রীণ ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে মাহে রমাদানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল

জমির মালিক দাবি করে আর্থিক ফাঁয়দা হাসিলের চেষ্টা

আপডেট সময় : ১২:১৮:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৩

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : সোনারগাঁয়ে জমি কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন নাছরিন আক্তারগং। জমির মালিকানা দাবি করে আর্থিক ফাঁয়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি চক্র। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিল করার পর, ভোগ দখলদার সাব্যস্ত করে আদালত জমির মালিকদের পক্ষে রায় দিয়ে মামলা নিস্পত্তি করেন। তারপরও ভূয়া মালিকানা দাবিদার জামাল উদ্দিনগং জমির মালিকদের স্থাপনা নির্মাণ কাজে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বাইশটেকী এলাকায় সৈরপা মৌজায় একই দাগে একই মালিকের কাছ থেকে পৃথক ভাবে ২০০৮ সালে নাছরিন আক্তার ৩ শতাংশ, সালমা আক্তার সাড়ে ৪ শতাংশ, ২০১৮ সালে মমতাজ বেগম ৩ শতাংশ, ২০২১ সালে রুবেল সাড়ে ৪ শতাংশ ও সর্বশেষ ২০২২ সালে সোলায়মান জোমাদ্দার ৩ শতাংশ জমি কিনে। তারা ৫ জন প্রত্যেকে নিজ নিজ নামে নামজারী করে জমিতে বাউন্ডারী করে গাছপালা রূপন করে ভোগদখলে আছেন। ওই ৫ জন বিভিন্ন জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও তারা ঢাকায় বিভিন্ন এলাকায় থাকেন। গত ২০২২ সালের ১ জুলাই জমির মালিকরা বাড়ী-ঘর নির্মাণ কাজ করতে গেলে একই এলাকার জামাল উদ্দিন তার ছেলে মানিক ও আনিছ, নূরুল ইসলামের ছেলে মাজহারুল ইসলাম জমির মালিকানা দাবি করে নির্মাণ কাজে বাধা দেন। পাশাপাশি জোর করে এক পাশে টিনের একটি খুঁপড়ি ঘর নির্মাণ করে রাখেন। তখন ৫ জন জমির মালিক যৌথভাবে বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মামলা করেন। মামলার আরজি ও বিবাদীর জবাব ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে পরিদর্শন করে দাখিলকৃত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গত ২ জানুয়ারি আদলত রায় ঘোষনা করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার আরজির সাথে সংযুক্ত কাগজপত্র, বিবাদী পক্ষের লিখিত জবাব ও দাখিলকৃত কাগজপত্র এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দাখিলকৃত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায় নালিশা ভূমিতে বাদী গাছপালা, দেয়াল নির্মাণ ও টিউবওয়েল স্থাপন করে ভোগদখলে আছেন। বিবাদী পক্ষ সম্প্রতি একটি টিনের ঘর নির্মাণের মাধ্যমে দখল পজিশনে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বিবাদীরা নালিশা জমিতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশে বিরত করা হলো। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকতে আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট পক্ষসহ থানাকে দেওয়ার জন্য বলা হয় রায়ে।
এদিকে আদালতের রায়ের পর ৩ জানুয়ারি জমির মালিকরা নির্মাণ কাজ করতে গেলে জামাল উদ্দিনের ছেলে মানিক মিস্ত্রিদের মারধর ও জমির মালিকদের বিভিন্ন হুমকি ধমকি দেয়। ঘটনাটি সোনারগাঁ থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ জামালগংদেরকে নির্মাণ কাছে বাধা না দিতে মৌখিকভাবে সতর্ক করে দেন। পরে ৪ জানুয়ারি জমির চারপাশে টিনের বেড়া দিয়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জমির মালিকরা। এসময় জামালগং নির্মাণ কাজে বাধা না দিলেও রাতের আঁধারে বাউন্ডারি ভেঙ্গে ফেলার ফন্দি করছে বলে জমির মালিকদের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম জানান, জামালগংদের জমির মালিকানা দাবি ভিত্তিহীন। তারা আর্থিক সুবিধা হাসিলের জন্য ঝামেলা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে জামাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার ছেলে প্রধান বিবাদী মানিক জমি নিজেদের দাবি করে বলেন, ভূলবশত আমার পিতার নামে আরএস পর্চা লিপিবদ্ধ হয়নি। পর্চা সংশোধনের মামলা চলমান রয়েছে। নাছরিনগং তাদের করা পিটিশন মামলায় দখলদার সাব্যস্ত রায় পেয়ে নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে। তা মেনে নেবনা।