নারায়ণগঞ্জ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি মিটআপ ২০২৩ অনুষ্ঠিত আদমজী ইপিজেডকে অশান্ত করছে জনপ্রতিনিধিরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের কর্মকর্তাদের সাথে মহিলা লীগ নেত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় না’গঞ্জ কারাগারে হাজতীর মৃত্যু ফতুল্লায় চোরাইকৃত ট্যাংকলড়ী উদ্ধার আড়াইহাজারের মিথিলা টেক্সটাইল ঘুরে গেলেন ৮ দেশের রাষ্ট্রদূতসহ ১৮ দেশের প্রতিনিধি সিদ্ধিরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের কর্মকর্তাদের সাথে কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের মতবিনিময় ফতুল্লা ব্লাড ডোনার্সের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শিক্ষা সিলেবাস বাতিলের দাবিতে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহরে নারী সমাবেশ ও মিছিল

“জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু” শ্লোগান দিয়েই তারা কোটিপতি!

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

ফতুল্লা প্রতিনিধি : বৈধ আয়ের পথ ছাড়াই রাতারাতি বিত্তশালী বনে যাওয়া কয়েক শত নামধারী নেতা ফতুল্লাবাসীর জন্য আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের বেপরোয়া কর্মকান্ড সমাজের সর্বস্তরে অসম পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে, ঘটাচ্ছে সীমাহীন বিশৃঙ্খলা। সমাজে কোন্দল-সংঘাত, জবরদখলদারি, একচ্ছত্র আধিপত্যের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাসহ লাগামহীন অপরাধ-অপকর্মের নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা।

তাদেরই একটি বড় অংশ দলীয় নেতৃত্ব দখল করছে এবং ছিনিয়ে নিচ্ছে জনপ্রতিনিধির চেয়ার। শুরু হয়েছে শাসন-শোষণের মাধ্যমে রাতারাতি সম্পদ বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা। ফলে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, তদবিরবাজি থেকে শুরু করে সব ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে বাধাহীনভাবে।

জানা যায়, সর্বশেষ এক দশকে মাদক, টেন্ডার, দলীয় প্রভাব, দখলবাজি, দালালি, প্রতারণামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমেই অন্তত শতাধিক কোটিপতির জন্ম হয়েছে শিল্পাঞ্চল এলাকা অধ্যুষিত এলাকায়। এর বেশির ভাগেরই বৈধ আয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, উৎসহীন বেশুমার টাকার গরমে তারা সমাজ, দল ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে নানা বিশৃঙ্খলা ঘটিয়ে নিজেদের ক্ষমতা জানান দেয়। সর্বত্রই অসম লড়াই সৃষ্টি করে। অনুসন্ধানসূত্রে জানা যায়, হঠাৎ বড়লোক বা কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার এইসব রাজনৈতিক পরিচয় দানকারী লোকদের বৈধ কোনো উপায় নেই। ‘যদি লাইগ্যা যায়’ ধরনের লটারিব্যবস্থাও নেই। আছে রাতারাতি অলৌকিক কায়দায় আলাদিনের আশ্চর্য জাদুর প্রদীপ লাভ।

অলৌকিকতার বাইরে রাতারাতি অগাধ টাকার মালিক হওয়ার সর্বজনীন পথ একটাই, তা হলো ‘ঠিকাদারি বাণিজ্য’। ক্ষমতাসীন দলের লেবাস লাগিয়ে নানা ধূর্ততা, কূটকৌশল আর বহুমুখী প্রতারণাকে পুঁজি করে এ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে একটি মহল। ঠিকাদাররা সরকারের নানা সেক্টরে কাজ করলেও নেই জবাবদিহি, হয় না কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ, যেমন খুশি তেমনভাবেই লুটপাট চালানো যায়। যার জলজ্যান্ত প্রমাণ হঠাৎ ফুলেফেঁপে প্রতাপশালী হওয়া মিঠু, জি কে শামীম থেকে শুরু করে সাহেদরা। নানা কূটকৌশল আর নেটওয়ার্ক মেইনটেন করে নিমেষেই কোটিপতি, শত কোটিপতি হয়ে ওঠার আরেকটি নিশ্চিত পথ হলো ইয়াবা বাণিজ্য। ইয়াবার কল্যাণে চাল-চুলোহীন অনেকে কোটিপতিতে পরিণত হয়েছে, আর কোটিপতি হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি এ ব্যবসা চালানো কঠিন হলেও তা বন্ধ হচ্ছে না মোটেও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় দৃবৃত্ত কর্মকর্তার সমন্বয়েই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা নানা কায়দা-কৌশলে ইয়াবার বাণিজ্য চালাতে সক্ষম হচ্ছে। বখরা আদায়ের পরিবর্তে ইয়াবা বাণিজ্যে অংশীদারির মাধ্যমে প্রশাসনের একশ্রেণির কর্মকর্তাও হঠাৎ কোটিপতি বনে যাচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দল বা এর অঙ্গসংগঠনে সদস্যপদ না জুটলেও ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানের সঙ্গে নিজের ঢাউস ছবি যুক্ত করতে এতটুকু দ্বিধা নেই। কয়েক ডজন রংবেরঙের প্যানাসাইন টানিয়ে দেয় হাটবাজার, সিএনজিস্ট্যান্ড, খেয়াঘাট, থানার গেট থেকে শুরু করে প্রশাসনিক দফতরের যত্রতত্র।

এসব সাইনবোর্ড আর ব্যানার ঝুলতে থাকে দিনের পর দিন। দলীয় পরিচয়ের দৃষ্টিকটু প্রচারকে পুঁজি করেই একটি চক্র দালালি আর তদবিরবাজিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কখনো এককভাবে, কখনো সংঘবদ্ধভাবে এসব দৌরাত্ম্য চালিয়ে তারা লাখ লাখ টাকা কামানোর ধান্দা শুরু করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই তদবিরবাজি রীতিমতো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। অফিস-চেম্বার সাজিয়েও কেউ কেউ তদবির আর দালালিতে লিপ্ত। সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নজরদারির অভাবে দেশের আরও কিছু সেক্টরেও আছে টাকার ছড়াছড়ি আর লুটপাট। বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত বিদেশি কাপড়, সুতাসহ নানা সামগ্রী কৌশলে চোরাগোপ্তা পথে শহরের টানবাজারসহ কয়েকটি বাজারে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এসব কাপড়, সুতা শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টে ব্যবহার করার কথা। কিন্তু গার্মেন্ট মালিক নামধারী চোরা ব্যবসায়ী চক্র এসব কাপড় কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। দেশীয় বাজারে নিষিদ্ধ বন্ডেড পণ্যের অবাধ বেচাকেনার মাধ্যমেই চিহ্নিত চোরাকারবারি চক্র অর্থবিত্তের পাহাড় জমিয়ে তুলেছে। চাল-চুলোহীন শূন্য হাতে আসা অনেকেই বন্ডেড ওয়্যারহাউসের চোরাকারবারিতে নাম লিখিয়েই রাতারাতি কোটিপতি হয়ে উঠেছে। সেখানে দু-চার মাস পা ফেলে কোটি টাকার মালিকও বনেছে অনেকে। সমাজে প্রতিষ্ঠিত পেশার অনেকে সরাসরি ইয়াবা বাণিজ্যে না জড়িয়ে এ ব্যবসায় পুঁজির জোগান দিয়েও অগাধ অর্থসম্পদের মালিক হচ্ছে। মাদকে দাদন ব্যবসা তুঙ্গে উঠেছে। প্রতি ১ লাখ টাকা দাদনে মাসে দেড় লাখ টাকাই লাভ! অলীক এ লাভের খবরে মানুষ ছুটছে মাদক ব্যবসায়ীদের ঘরে ঘরে।

নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা অবলীলায় তুলে দিচ্ছে তাদের। বিনিময়ে প্রতিদিনই লাভের টাকা হাতে পাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। দেড় শ’ গুণ নিশ্চিত লাভের আশায় ধনাঢ্যদের পাশাপাশি খুদে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, গৃহবধূ এমনকি এনজিওগুলোর ঋণগ্রহীতারা পর্যন্ত মাদকের ব্যবসায় দাদনের পুঁজি বিনিয়োগ করছে। অন্যদিকে নগদ টাকার জোগান পেয়ে খুদে মাদক ব্যবসায়ীরা এখন ‘মাদকের ডিলারে’ পরিণত হয়েছে। মাদক বাজারের বিস্তারও ঘটছে বেপরোয়া গতিতে। মাদকে ‘পুঁজি বিনিয়োগের’ দাদন বাণিজ্য দেশে প্রচলিত এনজিও সমূহের চক্রবৃদ্ধি সুদ, এমএলএম কোম্পানিগুলোর স্বপ্ন দেখানো ধাপ্পাবাজি এমনকি হুন্ডি কাজলের শতভাগ লাভের ব্যবসাকেও হার মানিয়েছে। সেখানে দেনা-পাওনার হিসাব হয় দিন চুক্তিতে, প্রতিদিনই পরিশোধ করা হয় লাভের টাকা। দাদনের পুঁজিও রয়ে যায় পাওনা হিসেবেই।

বিনিয়োগের দেড় শ’ গুণ লাভের নজিরবিহীন এ বাণিজ্যে বহু মানুষ রাতারাতি কোটিপতি বনে যাচ্ছে। বৈধ আয়ের কোনোরকম উৎস ছাড়াই অর্থ লগ্নিকারীরা চোখের সামনে বেশুমার অর্থবিত্ত, সহায়সম্পদের মালিক হওয়ায় সাধারণ মানুষ হতবাক।

পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এক বা একাধিক ব্যক্তি ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে আয় করছে লাখ লাখ টাকা। এক দশকে এদের অনেকেই বনে গেছে কোটিপতি। এবার নতুন আলোচনায় ফতুল্লার নতুন ব্যবসা ব্যাটারী চালিত রিকশা ও ইজিবাইকের স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি। এরা পূঁজি ছাড়া সকালে আসে খালি পকেটে আর দিনভর নিদ্ধিষ্ট স্থানে বসে লোক মারফত অটো রিকশার স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা তুলে পকেট ভরে বাড়ি ফিরে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাইক্রোসফট ইনোভেটিভ এডুকেটর এক্সপার্ট বাংলাদেশ কমিউনিটি মিটআপ ২০২৩ অনুষ্ঠিত

“জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু” শ্লোগান দিয়েই তারা কোটিপতি!

আপডেট সময় : ১০:১৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২

ফতুল্লা প্রতিনিধি : বৈধ আয়ের পথ ছাড়াই রাতারাতি বিত্তশালী বনে যাওয়া কয়েক শত নামধারী নেতা ফতুল্লাবাসীর জন্য আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের বেপরোয়া কর্মকান্ড সমাজের সর্বস্তরে অসম পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে, ঘটাচ্ছে সীমাহীন বিশৃঙ্খলা। সমাজে কোন্দল-সংঘাত, জবরদখলদারি, একচ্ছত্র আধিপত্যের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাসহ লাগামহীন অপরাধ-অপকর্মের নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা।

তাদেরই একটি বড় অংশ দলীয় নেতৃত্ব দখল করছে এবং ছিনিয়ে নিচ্ছে জনপ্রতিনিধির চেয়ার। শুরু হয়েছে শাসন-শোষণের মাধ্যমে রাতারাতি সম্পদ বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা। ফলে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, তদবিরবাজি থেকে শুরু করে সব ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে বাধাহীনভাবে।

জানা যায়, সর্বশেষ এক দশকে মাদক, টেন্ডার, দলীয় প্রভাব, দখলবাজি, দালালি, প্রতারণামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমেই অন্তত শতাধিক কোটিপতির জন্ম হয়েছে শিল্পাঞ্চল এলাকা অধ্যুষিত এলাকায়। এর বেশির ভাগেরই বৈধ আয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, উৎসহীন বেশুমার টাকার গরমে তারা সমাজ, দল ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে নানা বিশৃঙ্খলা ঘটিয়ে নিজেদের ক্ষমতা জানান দেয়। সর্বত্রই অসম লড়াই সৃষ্টি করে। অনুসন্ধানসূত্রে জানা যায়, হঠাৎ বড়লোক বা কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার এইসব রাজনৈতিক পরিচয় দানকারী লোকদের বৈধ কোনো উপায় নেই। ‘যদি লাইগ্যা যায়’ ধরনের লটারিব্যবস্থাও নেই। আছে রাতারাতি অলৌকিক কায়দায় আলাদিনের আশ্চর্য জাদুর প্রদীপ লাভ।

অলৌকিকতার বাইরে রাতারাতি অগাধ টাকার মালিক হওয়ার সর্বজনীন পথ একটাই, তা হলো ‘ঠিকাদারি বাণিজ্য’। ক্ষমতাসীন দলের লেবাস লাগিয়ে নানা ধূর্ততা, কূটকৌশল আর বহুমুখী প্রতারণাকে পুঁজি করে এ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে একটি মহল। ঠিকাদাররা সরকারের নানা সেক্টরে কাজ করলেও নেই জবাবদিহি, হয় না কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ, যেমন খুশি তেমনভাবেই লুটপাট চালানো যায়। যার জলজ্যান্ত প্রমাণ হঠাৎ ফুলেফেঁপে প্রতাপশালী হওয়া মিঠু, জি কে শামীম থেকে শুরু করে সাহেদরা। নানা কূটকৌশল আর নেটওয়ার্ক মেইনটেন করে নিমেষেই কোটিপতি, শত কোটিপতি হয়ে ওঠার আরেকটি নিশ্চিত পথ হলো ইয়াবা বাণিজ্য। ইয়াবার কল্যাণে চাল-চুলোহীন অনেকে কোটিপতিতে পরিণত হয়েছে, আর কোটিপতি হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি এ ব্যবসা চালানো কঠিন হলেও তা বন্ধ হচ্ছে না মোটেও। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় দৃবৃত্ত কর্মকর্তার সমন্বয়েই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা নানা কায়দা-কৌশলে ইয়াবার বাণিজ্য চালাতে সক্ষম হচ্ছে। বখরা আদায়ের পরিবর্তে ইয়াবা বাণিজ্যে অংশীদারির মাধ্যমে প্রশাসনের একশ্রেণির কর্মকর্তাও হঠাৎ কোটিপতি বনে যাচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দল বা এর অঙ্গসংগঠনে সদস্যপদ না জুটলেও ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানের সঙ্গে নিজের ঢাউস ছবি যুক্ত করতে এতটুকু দ্বিধা নেই। কয়েক ডজন রংবেরঙের প্যানাসাইন টানিয়ে দেয় হাটবাজার, সিএনজিস্ট্যান্ড, খেয়াঘাট, থানার গেট থেকে শুরু করে প্রশাসনিক দফতরের যত্রতত্র।

এসব সাইনবোর্ড আর ব্যানার ঝুলতে থাকে দিনের পর দিন। দলীয় পরিচয়ের দৃষ্টিকটু প্রচারকে পুঁজি করেই একটি চক্র দালালি আর তদবিরবাজিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কখনো এককভাবে, কখনো সংঘবদ্ধভাবে এসব দৌরাত্ম্য চালিয়ে তারা লাখ লাখ টাকা কামানোর ধান্দা শুরু করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই তদবিরবাজি রীতিমতো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। অফিস-চেম্বার সাজিয়েও কেউ কেউ তদবির আর দালালিতে লিপ্ত। সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নজরদারির অভাবে দেশের আরও কিছু সেক্টরেও আছে টাকার ছড়াছড়ি আর লুটপাট। বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত বিদেশি কাপড়, সুতাসহ নানা সামগ্রী কৌশলে চোরাগোপ্তা পথে শহরের টানবাজারসহ কয়েকটি বাজারে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এসব কাপড়, সুতা শতভাগ রপ্তানিমুখী গার্মেন্টে ব্যবহার করার কথা। কিন্তু গার্মেন্ট মালিক নামধারী চোরা ব্যবসায়ী চক্র এসব কাপড় কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। দেশীয় বাজারে নিষিদ্ধ বন্ডেড পণ্যের অবাধ বেচাকেনার মাধ্যমেই চিহ্নিত চোরাকারবারি চক্র অর্থবিত্তের পাহাড় জমিয়ে তুলেছে। চাল-চুলোহীন শূন্য হাতে আসা অনেকেই বন্ডেড ওয়্যারহাউসের চোরাকারবারিতে নাম লিখিয়েই রাতারাতি কোটিপতি হয়ে উঠেছে। সেখানে দু-চার মাস পা ফেলে কোটি টাকার মালিকও বনেছে অনেকে। সমাজে প্রতিষ্ঠিত পেশার অনেকে সরাসরি ইয়াবা বাণিজ্যে না জড়িয়ে এ ব্যবসায় পুঁজির জোগান দিয়েও অগাধ অর্থসম্পদের মালিক হচ্ছে। মাদকে দাদন ব্যবসা তুঙ্গে উঠেছে। প্রতি ১ লাখ টাকা দাদনে মাসে দেড় লাখ টাকাই লাভ! অলীক এ লাভের খবরে মানুষ ছুটছে মাদক ব্যবসায়ীদের ঘরে ঘরে।

নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা অবলীলায় তুলে দিচ্ছে তাদের। বিনিময়ে প্রতিদিনই লাভের টাকা হাতে পাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। দেড় শ’ গুণ নিশ্চিত লাভের আশায় ধনাঢ্যদের পাশাপাশি খুদে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, গৃহবধূ এমনকি এনজিওগুলোর ঋণগ্রহীতারা পর্যন্ত মাদকের ব্যবসায় দাদনের পুঁজি বিনিয়োগ করছে। অন্যদিকে নগদ টাকার জোগান পেয়ে খুদে মাদক ব্যবসায়ীরা এখন ‘মাদকের ডিলারে’ পরিণত হয়েছে। মাদক বাজারের বিস্তারও ঘটছে বেপরোয়া গতিতে। মাদকে ‘পুঁজি বিনিয়োগের’ দাদন বাণিজ্য দেশে প্রচলিত এনজিও সমূহের চক্রবৃদ্ধি সুদ, এমএলএম কোম্পানিগুলোর স্বপ্ন দেখানো ধাপ্পাবাজি এমনকি হুন্ডি কাজলের শতভাগ লাভের ব্যবসাকেও হার মানিয়েছে। সেখানে দেনা-পাওনার হিসাব হয় দিন চুক্তিতে, প্রতিদিনই পরিশোধ করা হয় লাভের টাকা। দাদনের পুঁজিও রয়ে যায় পাওনা হিসেবেই।

বিনিয়োগের দেড় শ’ গুণ লাভের নজিরবিহীন এ বাণিজ্যে বহু মানুষ রাতারাতি কোটিপতি বনে যাচ্ছে। বৈধ আয়ের কোনোরকম উৎস ছাড়াই অর্থ লগ্নিকারীরা চোখের সামনে বেশুমার অর্থবিত্ত, সহায়সম্পদের মালিক হওয়ায় সাধারণ মানুষ হতবাক।

পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এক বা একাধিক ব্যক্তি ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে আয় করছে লাখ লাখ টাকা। এক দশকে এদের অনেকেই বনে গেছে কোটিপতি। এবার নতুন আলোচনায় ফতুল্লার নতুন ব্যবসা ব্যাটারী চালিত রিকশা ও ইজিবাইকের স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি। এরা পূঁজি ছাড়া সকালে আসে খালি পকেটে আর দিনভর নিদ্ধিষ্ট স্থানে বসে লোক মারফত অটো রিকশার স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা তুলে পকেট ভরে বাড়ি ফিরে।