নারায়ণগঞ্জ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নারায়ণগঞ্জে ১৫ জুন থেকে ৮ দিনব্যাপী বিতর্ক উৎসব, অংশ নিচ্ছে ৬৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শীঘ্রই কুতুবপুরে মাদক-সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান: এসপি মিজানুর রহমান মুন্সি যুবদল নেতার দখলে থাকা তাঁতি লীগ নেতার অফিস এখন মাদকের আখড়া! নারায়ণগঞ্জে কল্যাণী খাল দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান অভিযানে ৩ দোকানে পলিথিন ব্যাগ রাখায় জব্দসহ জরিমানা যুক্তির সমীরণে প্রাচ্যের ডান্ডি’: নারায়ণগঞ্জে ১৫ জুন শুরু হচ্ছে উপজেলা বিতর্ক উৎসব-২০২৬ জলাবদ্ধতা ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ড্রেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিদর্শনে ইউএনও ফয়েজ উদ্দিন মেঘনার পানি আসছে ঢাকায়: ১০ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প উদ্বোধনের অপেক্ষায় বাজেটে তিনটি বিষয় গুরুত্ব না দিলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সম্ভব নয় : বিকেএমইএ সভাপতি জামায়াতে ইসলামী প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না- মাওলানা আবদুল জব্বার

সোনারগাঁয়ে এক মঞ্চে শামীম-আইভীর বিদ্বেষ ছড়ানো বক্তব্য

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • ৪১৩ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরোধ বেশ পুরোনো। তারা সুযোগ পেলেই একে অপরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এমনকী দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেও তারা এ কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখতে পারছেন না।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আর এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এক মঞ্চে বসেছিলেন শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভী। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

সেইসঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নবিউল্লাহ হিরু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ও মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মৃণাল ক্রান্তি দাসসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

কিন্তু এসব নেতাদের সামনেও শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভী এক মঞ্চে একে অপরের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। পাশাপাশি একে অপরকে উদ্দেশ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানো বক্তব্য দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রথমে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র আইভী। তিনি শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, বিগত দিনের আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা ছিল সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। এ জেলা থেকে জোহা-চুনকার মিছিল না গেলে ঢাকার সমাবেশ হতো না। কিন্তু এখন এক নেতার এক দেশ হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ। আমি নারায়ণগঞ্জের নেতাদের বলছি, সবাইকে সমান সম্মান দেওয়া উচিত। এ দল (আওয়ামী লীগ) টিকে আছে তৃণমূলের জন্য। দুঃসময়ে যারা দলের হাল ধরে তাদের অসম্মান করার অধিকার নারায়ণগঞ্জের কোনো বড় নেতার নেই। আওয়ামী লীগের সুসময়ে যারা ছিল তাদেরকেই শুধু পদায়ন করলে চলবে না বরং যারা দুঃসময়ে ছিল তারাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক, দলপ্রেমিক।

আইভী আরও বলেন, সোনারগাঁয়ে কী এমন হয়েছে যে বারবার এখানে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিতে হবে। নারায়ণগঞ্জে না হয় কারণ ছিল যে জোহা কাকার ছেলেকে (নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান) দিতে হবে। কিন্তু সোনারগাঁয়ে যার নাম ছিল না, নিশানা ছিল না তাকে কেন দিতে হবে। সোনারগাঁয়ের আওয়ামী লীগের নেতারা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না নারায়ণগঞ্জের হস্তক্ষেপের কারণে। এখন অনেকেই অমুক ভাই, তমুক ভাইয়ের নামে স্লোগান দেয়। কিন্তু ক্ষমতা না থাকলে আর কেউ থাকে না। তারা ভেসে যাবে। তাই স্লোগান দিতে হবে আমাদের দলের ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে।

বিপরীতে শামীম ওসমান বক্তব্য দিতে গিয়ে আইভীসহ তার অনুসারীদের ইঙ্গিত করে বলেন, এখনো অনেকে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেন। অনেকে বলেন, অবস্থান পরিষ্কার করেন। কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জে জনসভা ডেকেছিলাম। সেটা অনেকেরই পছন্দ হয়নি। তারা বলেছিল, শামীম ওসমানের জনসভা। আমি শেখ হাসিনার কর্মী, শেখ হাসিনার কর্মী হয়েই মরতে চাই। ভাইয়ে ভাইয়ে অনেক বিরোধ থাকে। সবার কাছে অনুরোধ জানাতে চাই, আসুন ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আমরা এক থাকি। কারণ বাংলাদেশকে বাঁচাতে হবে। সেজন্য শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে হবে।

এর আগে জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্টের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। গত ৩০ আগস্টের ওই অনুষ্ঠানেও শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে কথা বলেন তিনি।

তার আগে গত ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই নম্বর রেলগেট এলাকার আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে জনসভার আয়োজন করা হয়। আর সেই জনসভা প্রসঙ্গে আইভীর অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য ছিল, এটা শামীম ওসমানের ব্যক্তিগত সমাবেশ। তাই তারা কেউই সে সমাবেশে যোগ দেননি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে ১৫ জুন থেকে ৮ দিনব্যাপী বিতর্ক উৎসব, অংশ নিচ্ছে ৬৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

সোনারগাঁয়ে এক মঞ্চে শামীম-আইভীর বিদ্বেষ ছড়ানো বক্তব্য

আপডেট সময় : ০২:২০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরোধ বেশ পুরোনো। তারা সুযোগ পেলেই একে অপরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এমনকী দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেও তারা এ কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখতে পারছেন না।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আর এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এক মঞ্চে বসেছিলেন শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভী। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

সেইসঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নবিউল্লাহ হিরু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ও মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মৃণাল ক্রান্তি দাসসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

কিন্তু এসব নেতাদের সামনেও শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভী এক মঞ্চে একে অপরের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। পাশাপাশি একে অপরকে উদ্দেশ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানো বক্তব্য দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রথমে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র আইভী। তিনি শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, বিগত দিনের আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা ছিল সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। এ জেলা থেকে জোহা-চুনকার মিছিল না গেলে ঢাকার সমাবেশ হতো না। কিন্তু এখন এক নেতার এক দেশ হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ। আমি নারায়ণগঞ্জের নেতাদের বলছি, সবাইকে সমান সম্মান দেওয়া উচিত। এ দল (আওয়ামী লীগ) টিকে আছে তৃণমূলের জন্য। দুঃসময়ে যারা দলের হাল ধরে তাদের অসম্মান করার অধিকার নারায়ণগঞ্জের কোনো বড় নেতার নেই। আওয়ামী লীগের সুসময়ে যারা ছিল তাদেরকেই শুধু পদায়ন করলে চলবে না বরং যারা দুঃসময়ে ছিল তারাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক, দলপ্রেমিক।

আইভী আরও বলেন, সোনারগাঁয়ে কী এমন হয়েছে যে বারবার এখানে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিতে হবে। নারায়ণগঞ্জে না হয় কারণ ছিল যে জোহা কাকার ছেলেকে (নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান) দিতে হবে। কিন্তু সোনারগাঁয়ে যার নাম ছিল না, নিশানা ছিল না তাকে কেন দিতে হবে। সোনারগাঁয়ের আওয়ামী লীগের নেতারা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না নারায়ণগঞ্জের হস্তক্ষেপের কারণে। এখন অনেকেই অমুক ভাই, তমুক ভাইয়ের নামে স্লোগান দেয়। কিন্তু ক্ষমতা না থাকলে আর কেউ থাকে না। তারা ভেসে যাবে। তাই স্লোগান দিতে হবে আমাদের দলের ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে।

বিপরীতে শামীম ওসমান বক্তব্য দিতে গিয়ে আইভীসহ তার অনুসারীদের ইঙ্গিত করে বলেন, এখনো অনেকে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেন। অনেকে বলেন, অবস্থান পরিষ্কার করেন। কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জে জনসভা ডেকেছিলাম। সেটা অনেকেরই পছন্দ হয়নি। তারা বলেছিল, শামীম ওসমানের জনসভা। আমি শেখ হাসিনার কর্মী, শেখ হাসিনার কর্মী হয়েই মরতে চাই। ভাইয়ে ভাইয়ে অনেক বিরোধ থাকে। সবার কাছে অনুরোধ জানাতে চাই, আসুন ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আমরা এক থাকি। কারণ বাংলাদেশকে বাঁচাতে হবে। সেজন্য শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে হবে।

এর আগে জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্টের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। গত ৩০ আগস্টের ওই অনুষ্ঠানেও শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে কথা বলেন তিনি।

তার আগে গত ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই নম্বর রেলগেট এলাকার আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে জনসভার আয়োজন করা হয়। আর সেই জনসভা প্রসঙ্গে আইভীর অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য ছিল, এটা শামীম ওসমানের ব্যক্তিগত সমাবেশ। তাই তারা কেউই সে সমাবেশে যোগ দেননি।