নারায়ণগঞ্জ ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পিপিএম-সেবা পদক পাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের এসপি হাবিবুর রহমান রূপগঞ্জে ধারালো অস্ত্রসহ পাঁচ ডাকাত গ্রেফতার; ডাকাতি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার সোনারগাঁয়ে ৬ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার পুলিশ সুপারের সঙ্গে BKMEA, NCCI ও We Are Volunteers-এর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সোনারগাঁয়ে মাদক ও ধর্ম আবমাননাসহ পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার-৮ রূপগঞ্জে পাউবো কর্মকর্তার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুদকের অভিযান প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলো সদর উপজেলা প্রশাসন নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা ও ৫০ বন্দিকে গার্মেন্টস কর্মে প্রশিক্ষণ নারায়ণগঞ্জে খাজা সুপার মার্কেটে জুয়ার আসরে পুলিশ সুপারের অভিযান, আটক ২৮ আত্মকর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা: নারায়ণগঞ্জ সদরে মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণ শুরু

আসামীর হাতে গাড়ীর স্টিয়ারিং,পেছনে বসা সেই দুই এস আই!

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২
  • ৩০১ বার পড়া হয়েছে

১৭ জানুয়ারী সকাল,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাইক্রোবাসে তল্লাশী চালিয়ে ৪২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ চালক আলমগীরকে গ্রেফতার করে নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানা পুলিশ।

পরে আসামীসহ ইয়াবা ও গাড়ী নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আসেন পুলিশ কর্মকর্তারা। সেখানে সাংবাদিক সম্মেলন শেষে তারা আবারও আসামী নিয়ে সোনারগাঁ থানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন সেদিনই বিকেলে।

আর এ আসা-যাওয়ার পথে গাড়ীটি চালাচ্ছিল গ্রেফতারকৃত আসামী আলমগীর। সেই গাড়ীর পিছনে বসা ছিলেন দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী সালেহ আহম্মেদ, শরিফুল ইসলাম ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল ইসলাম।

এরই মাঝে ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সোনারগাঁ থানা এলাকায় প্রবেশের পথে দত্তপাড়া এলাকায় কৌশলে আসামী চালক আলমগীর খাঁদে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। গাড়ীটি খাদে পড়ে গেলে সেখানেই মারা যান দুই এসআই কাজী সালেহ আহম্মেদ, শরিফুল ইসলাম। অপরদিকে এলাকাবাসী ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় এএসআই রফিকুল ইসলামকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে সোমবার(১৭ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় সোনারগাঁ পৌরসভার দত্তপাড়া এলাকায়।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

নিহতরা হলেন- ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মুনসুরাবাদ গ্রামের কাজী নুরুল ইসলামের ছেলে কাজী সালেহ আহম্মেদ ও গোপালগঞ্জের চরভাটপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে এসএম শরীফুল ইসলাম। তারা সোনাগাঁ থানায় কর্তরত ছিলেন।

এ ঘটনায় এখনো আসামি পলাতক আছে বলে নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান,আসামির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা পানিতে পড়ে যাওয়ায় কিছু গলে গেছে, বাকিগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী টমটম চালক মোক্তার হোসেন জানান, সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে দত্তপাড়া বাদশার গ্যারেজের একটু সামনে গাড়ীটি দ্রুতগতিতে এসে পুকুরে পড়ে যায়। মহাসড়ক থেকে সোনারগাঁ থানার দিকে যাওয়া গাড়িটি মুহূর্তের মধ্যে পুকুরের পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পুকুর থেকে পুলিশের তিন সদস্যকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আমার টমটম দিয়েই নিয়ে আসি। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, গোপন সূত্রে খবর ছিল টেকনাফ থেকে ৫০ হাজার ইয়াবার একটি চালান আসছে, খবর পেয়ে সোনারগাঁয়ের মেঘনা টোলপ্লাজায় তল্লাশি চৌকি বসায় পুলিশ। এ সময় আসামির গাড়িকে সিগন্যাল দিলে দ্রুত সেটি পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। পরে পুলিশের আরেকটি টিম মোগড়াপাড়া এলাকায় ধাওয়া করে আসামি আলমগীর হোসেনকে গাড়িসহ এবং ৪২ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারের পর আসামিকে নিয়ে তারা সরাসরি জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে চলে আসে। এ সময় আসামিই গাড়ি চালায়। এসপি অফিসে তাদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর এবার থানার ফেরার পথে আসামিকে নিয়ে থানায় রওয়ানা দেন দুই এসআই ও এক এএসআই। তবে, তাদের তিনজনের কেউই গাড়ি চালাতে পারেন না ফলে আসামিকে দিয়েই গাড়ি চালানো হয়। আসামি গাড়ি চালিয়ে সোনারগাঁয়ের দত্তপাড়া এলাকায় এলে তিনি গাড়ি থেকে কৌশলে লাফিয়ে পড়ে গাড়ি খাদে ফেলে দেয়। এতে দুই এসআই মারা যান ও এএসআই গুরুতর আহত হন। এসময় আসামি পালিয়ে যায়।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পিপিএম-সেবা পদক পাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের এসপি হাবিবুর রহমান

আসামীর হাতে গাড়ীর স্টিয়ারিং,পেছনে বসা সেই দুই এস আই!

আপডেট সময় : ১১:৪৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২

১৭ জানুয়ারী সকাল,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাইক্রোবাসে তল্লাশী চালিয়ে ৪২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ চালক আলমগীরকে গ্রেফতার করে নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানা পুলিশ।

পরে আসামীসহ ইয়াবা ও গাড়ী নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আসেন পুলিশ কর্মকর্তারা। সেখানে সাংবাদিক সম্মেলন শেষে তারা আবারও আসামী নিয়ে সোনারগাঁ থানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন সেদিনই বিকেলে।

আর এ আসা-যাওয়ার পথে গাড়ীটি চালাচ্ছিল গ্রেফতারকৃত আসামী আলমগীর। সেই গাড়ীর পিছনে বসা ছিলেন দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী সালেহ আহম্মেদ, শরিফুল ইসলাম ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল ইসলাম।

এরই মাঝে ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সোনারগাঁ থানা এলাকায় প্রবেশের পথে দত্তপাড়া এলাকায় কৌশলে আসামী চালক আলমগীর খাঁদে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। গাড়ীটি খাদে পড়ে গেলে সেখানেই মারা যান দুই এসআই কাজী সালেহ আহম্মেদ, শরিফুল ইসলাম। অপরদিকে এলাকাবাসী ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় এএসআই রফিকুল ইসলামকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে সোমবার(১৭ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় সোনারগাঁ পৌরসভার দত্তপাড়া এলাকায়।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

নিহতরা হলেন- ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মুনসুরাবাদ গ্রামের কাজী নুরুল ইসলামের ছেলে কাজী সালেহ আহম্মেদ ও গোপালগঞ্জের চরভাটপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে এসএম শরীফুল ইসলাম। তারা সোনাগাঁ থানায় কর্তরত ছিলেন।

এ ঘটনায় এখনো আসামি পলাতক আছে বলে নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান,আসামির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা পানিতে পড়ে যাওয়ায় কিছু গলে গেছে, বাকিগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী টমটম চালক মোক্তার হোসেন জানান, সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে দত্তপাড়া বাদশার গ্যারেজের একটু সামনে গাড়ীটি দ্রুতগতিতে এসে পুকুরে পড়ে যায়। মহাসড়ক থেকে সোনারগাঁ থানার দিকে যাওয়া গাড়িটি মুহূর্তের মধ্যে পুকুরের পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পুকুর থেকে পুলিশের তিন সদস্যকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আমার টমটম দিয়েই নিয়ে আসি। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, গোপন সূত্রে খবর ছিল টেকনাফ থেকে ৫০ হাজার ইয়াবার একটি চালান আসছে, খবর পেয়ে সোনারগাঁয়ের মেঘনা টোলপ্লাজায় তল্লাশি চৌকি বসায় পুলিশ। এ সময় আসামির গাড়িকে সিগন্যাল দিলে দ্রুত সেটি পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। পরে পুলিশের আরেকটি টিম মোগড়াপাড়া এলাকায় ধাওয়া করে আসামি আলমগীর হোসেনকে গাড়িসহ এবং ৪২ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারের পর আসামিকে নিয়ে তারা সরাসরি জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে চলে আসে। এ সময় আসামিই গাড়ি চালায়। এসপি অফিসে তাদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর এবার থানার ফেরার পথে আসামিকে নিয়ে থানায় রওয়ানা দেন দুই এসআই ও এক এএসআই। তবে, তাদের তিনজনের কেউই গাড়ি চালাতে পারেন না ফলে আসামিকে দিয়েই গাড়ি চালানো হয়। আসামি গাড়ি চালিয়ে সোনারগাঁয়ের দত্তপাড়া এলাকায় এলে তিনি গাড়ি থেকে কৌশলে লাফিয়ে পড়ে গাড়ি খাদে ফেলে দেয়। এতে দুই এসআই মারা যান ও এএসআই গুরুতর আহত হন। এসময় আসামি পালিয়ে যায়।