নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়ন সচেতনতায় উঠান বৈঠক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী নারায়ণগঞ্জে রাত ৮টার পর দোকান-শপিংমল বন্ধের নির্দেশনা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কঠোর হওয়ার আহ্বান ডিসির সিদ্ধিরগঞ্জে চুনের সাথে রাসায়নিক বর্জ্য মিশাচ্ছে মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা রূপগঞ্জে সিটি গ্রুপের অটো রাইস মিলে বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ শ্রমিক নারায়ণগঞ্জ জেল কর্তৃপক্ষের কাছে জিম্মি বন্দিরা অর্থিক বাণিজ্যের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ আদর্শ মহিলা আলিম মাদরাসায় সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সমাবেশ আড়াইহাজারে কবি নজরুল কলেজের বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন এ্যানি ও ব্যারিস্টার খোকনের পক্ষে নোয়াখালী ফোরামের প্রতিবাদ বার্তা ঐক্য-শৃঙ্খলা ও কার্যক্রম জোরদারে রিয়াদে বাপ্রসাফের গুরুত্বপূর্ণ সভা রূপগঞ্জে ১৮ বছর পর সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের শিক্ষক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত

কাউন্সিলর ইকবাল জেলে ভোগান্তিতে ওয়ার্ডবাসী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ অগাস্ট ২০২১
  • ৩৮৪ বার পড়া হয়েছে

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দুই নম্বর ওয়ার্ডবাসী পড়েছে ভোগান্তিতে। গত ৪ মাস ধরে কাউন্সিলর না থাকায় প্রয়োজনীয় সনদ ও প্রত্যায়নপত্র সংগ্রহ করতে বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে লোকজনের। নাশকতা মামলায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় এই জনভোগান্তি।
জানা গেছে, কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন একাধিক মামলার আসামি। গরু চুরির মামলায় আটক হয়ে বেশ কিছুদিন জেল খেটেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজতের সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহার নামীয় আসামি ইকবাল হোসেন। ওই মামলায় গত ছয় এপ্রিল র‌্যাব তাকে আটক করে পুলিশের কাছে দেন। পুলিশ তাকে আদালতে প্রেরণ করলে আদালত জেলহাজতে পাঠায়। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ কারাগারে রয়েছেন।
ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম জানান, কাউন্সিলর না থাকায় চারিত্রিক সনদপত্র, বিভিন্ন প্রত্যায়নপত্র পেতে হয়রনী হতে হচ্ছে। ছোট খাট দরকারি কাগজপত্রের জন্য যেতে হয় সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার সিটি কর্পোরেশনের শাখা কার্যালয়ে। সেখানে গিয়ে শান্তি নেই দুই নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কিনা সেই জবাবদিহিতার পাশাপাশি প্রমাণ করতে হয়। তরপরেও একাধিকবার আসা যাওয়ার পর মিলে কাগজ।
একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন জানান, কাউন্সিলর না থাকায় এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। কাউন্সিলরের ঘনিষ্ট কিছু লোক বনে গেছে মাদবর। ছোট খাট সমস্য, মারামারি, ঝামেলা মিঠাতে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে এসব লোকজন। করছে প্রহসনমূলক সালিশ বিচার। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে ক্ষোভ।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের অনুপস্থিতিতে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মাকসুদা মোজাফ্ফর ভারপ্রাপ্ত দায়ীত্ব পালন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন নম্বর ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত দায়ীত্বও পালন করছেন মাকসুদা মোজাফ্ফর। কারণ মায়ের চিকিৎসার জন্য ওয়ার্ড কাউন্সির শাহজালাল বাদল গত দুইমাস ধরে ভারতে অবস্থান করছেন। পাঁচ মাসের আগে তিনি দেশে ফিরবেন না। তাই মাকসুদা মোজাফ্ফকে দায়ীত্ব দিয়ে গেছেন। মাকসুদা মোজাফ্ফর একজন বৃদ্ধা নারী। তিনি খুব সহজ সরল। তাই তার কথা অনেকই পাত্তা দেয়না। এমন একজন নারী তিনটি ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলরের দায়ীত্ব পালনের পাশাপাশি একই সঙ্গে দুইটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দায়ীত্ব পালন করা কষ্টকর। যার বাস্তবতা ফুটে উঠেছে করোনার গণঠিকা কার্যক্রম চলার সময়। তখন দুই ও তিন নম্বর ওয়ার্ডে চরম বিশৃঙ্খলা হয় বলে স্থানীয়রা জানায়। রেজিষ্ট্রেশন করে লাইনে দাঁড়িয়েও বহু মানুষ ঠিকা নিতে পারেনি। কাউন্সিলর না থাকায় তার লোকজনের বিরুদ্ধে ঠিকাদানে স্বজনপ্রিতির অভিযোগ উঠে। একই দিনে দুইটি ওয়ার্ডের ঠিকাদান কর্মসূচিতে সু-শৃঙ্খলা বজায় রাখা একজন বৃদ্ধা নারী কাউন্সিলরের পক্ষে সম্ভব হয়নি। বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠিকার প্রথম ডোজ কর্মসূচি শেষ হলেও দ্বিতীয় ডোজের সময় যেন একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই উদ্যোগ গ্রহণের দাবি ওয়ার্ডবাসীর।
এবিষয়ে কথা বলতে মাকসুদা মোজাফ্ফরের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়ন সচেতনতায় উঠান বৈঠক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী

কাউন্সিলর ইকবাল জেলে ভোগান্তিতে ওয়ার্ডবাসী

আপডেট সময় : ১০:২৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ অগাস্ট ২০২১

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দুই নম্বর ওয়ার্ডবাসী পড়েছে ভোগান্তিতে। গত ৪ মাস ধরে কাউন্সিলর না থাকায় প্রয়োজনীয় সনদ ও প্রত্যায়নপত্র সংগ্রহ করতে বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে লোকজনের। নাশকতা মামলায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় এই জনভোগান্তি।
জানা গেছে, কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন একাধিক মামলার আসামি। গরু চুরির মামলায় আটক হয়ে বেশ কিছুদিন জেল খেটেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজতের সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহার নামীয় আসামি ইকবাল হোসেন। ওই মামলায় গত ছয় এপ্রিল র‌্যাব তাকে আটক করে পুলিশের কাছে দেন। পুলিশ তাকে আদালতে প্রেরণ করলে আদালত জেলহাজতে পাঠায়। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ কারাগারে রয়েছেন।
ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম জানান, কাউন্সিলর না থাকায় চারিত্রিক সনদপত্র, বিভিন্ন প্রত্যায়নপত্র পেতে হয়রনী হতে হচ্ছে। ছোট খাট দরকারি কাগজপত্রের জন্য যেতে হয় সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার সিটি কর্পোরেশনের শাখা কার্যালয়ে। সেখানে গিয়ে শান্তি নেই দুই নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কিনা সেই জবাবদিহিতার পাশাপাশি প্রমাণ করতে হয়। তরপরেও একাধিকবার আসা যাওয়ার পর মিলে কাগজ।
একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন জানান, কাউন্সিলর না থাকায় এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। কাউন্সিলরের ঘনিষ্ট কিছু লোক বনে গেছে মাদবর। ছোট খাট সমস্য, মারামারি, ঝামেলা মিঠাতে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে এসব লোকজন। করছে প্রহসনমূলক সালিশ বিচার। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে ক্ষোভ।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের অনুপস্থিতিতে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মাকসুদা মোজাফ্ফর ভারপ্রাপ্ত দায়ীত্ব পালন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন নম্বর ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত দায়ীত্বও পালন করছেন মাকসুদা মোজাফ্ফর। কারণ মায়ের চিকিৎসার জন্য ওয়ার্ড কাউন্সির শাহজালাল বাদল গত দুইমাস ধরে ভারতে অবস্থান করছেন। পাঁচ মাসের আগে তিনি দেশে ফিরবেন না। তাই মাকসুদা মোজাফ্ফকে দায়ীত্ব দিয়ে গেছেন। মাকসুদা মোজাফ্ফর একজন বৃদ্ধা নারী। তিনি খুব সহজ সরল। তাই তার কথা অনেকই পাত্তা দেয়না। এমন একজন নারী তিনটি ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলরের দায়ীত্ব পালনের পাশাপাশি একই সঙ্গে দুইটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দায়ীত্ব পালন করা কষ্টকর। যার বাস্তবতা ফুটে উঠেছে করোনার গণঠিকা কার্যক্রম চলার সময়। তখন দুই ও তিন নম্বর ওয়ার্ডে চরম বিশৃঙ্খলা হয় বলে স্থানীয়রা জানায়। রেজিষ্ট্রেশন করে লাইনে দাঁড়িয়েও বহু মানুষ ঠিকা নিতে পারেনি। কাউন্সিলর না থাকায় তার লোকজনের বিরুদ্ধে ঠিকাদানে স্বজনপ্রিতির অভিযোগ উঠে। একই দিনে দুইটি ওয়ার্ডের ঠিকাদান কর্মসূচিতে সু-শৃঙ্খলা বজায় রাখা একজন বৃদ্ধা নারী কাউন্সিলরের পক্ষে সম্ভব হয়নি। বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠিকার প্রথম ডোজ কর্মসূচি শেষ হলেও দ্বিতীয় ডোজের সময় যেন একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই উদ্যোগ গ্রহণের দাবি ওয়ার্ডবাসীর।
এবিষয়ে কথা বলতে মাকসুদা মোজাফ্ফরের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।