নারায়ণগঞ্জ ১২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রূপগঞ্জে কৃষি জমিতে ড্রেজার পাইপের জংশন

আব্দুল কাইয়ুম : রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সড়কের উপরে ড্রেজার পাইপ লাগানোর কারণে বেড়েছে জনভোগান্তি। যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে বাধা। ঘটছে নানান দুর্ঘটনা। ড্রেজার পাইপের জংশনে রূপান্তরিত হয়েছে কুষি জমি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার উত্তরে ভোলাব ইউনিয়নের শেষের দিকে বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানের নাল জামিতে বালু ভরাটের জন্য লাগানো হয়েছে ড্রেজার পাইপ। কাঞ্চন, গোলাকান্দাইল, ভূলতা, মুড়াপাড়া, তারাবো, কায়েতপাড়া রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নসহ কোথাও বাকি নেই যেখানে ড্রেজার পাইপের ভোগান্তিতে নেই সাধারন মানুষ। কিছু জায়গায় পাইপের উপর মাটি দিয়ে তিন থেকে চার ফুট উঁচু করায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এমন ভাবে সড়ক উঁচু করা হয়েছে সেখান দিয়ে ইজিবাইক ও অটোরিক্সা যাত্রী নিয়ে পার হতে হিমশিয় খায়। বৃষ্টিতে মাটি সরে গিয়ে পাইপ পিচ্ছিল হয়ে থাকায় ঘটে গাড়ি দুর্ঘটনা।
ড্রেজার ব্যবসায়ীরা এতই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, অনেক কৃষকের জমির উপরে বাসের খুটি ব্যবহার করে লাগিয়েছে পাইপ। কাঞ্চন পৌরসভার গেটের সামনে চন্ডিতলা মন্দিরের প্রধান গেটের সামনে বসানো হয়েছে তিনটি মোটা পাইপ। সকাল বিকাল পুজো করতে আসা বয়স্ক অনেকের ভোগান্তির কারন এই ড্রেজারের পাইপ। মন্দিরের পুরোহিত শ্রী রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন পুজো করতে আসা শুধু বয়স্ক লোকই নয়,মহিলারা বেশি সমস্যায় পরে মন্দিরে আসতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে স্থানীয় যারা এই ব্যবসার সাথে জড়িতে তাদের বিরুদ্ধে কেউই মুখ খুলতে রাজী নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তারাবো ইউনিয়নের চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার সড়কে বসানো হয়েছে প্রায় ৫০ টি ড্রেজারের পাইপ। এসব নিয়ন্ত্রন করছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। একই চিত্র কাঞ্চন পৌরসভা ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। তবে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় এই যে, রাস্তার উপর দিয়ে শুধু পাইপ বসিয়েছে তা নয় রাস্তার নিচের মাটি সরিয়েও বসানো হচ্ছে সারি সারি ড্রেজারের পাইপ। রাস্তায় অতিরিক্ত বোঝাই কোন ট্রাক চলাচল করলে যে কোন সময় রাস্তা ভেঙে যেতে পারে বলেও আসঙ্কা স্থানীয়দের।
উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব ড্রেজারের পাইপ মহাসড়ক পার করতে উপজেলা কোষাগারে রাস্তার উন্নয়ন ফি জমা দিয়ে পাইপ বসানোর কথা। প্রতি বছর তা রিনিউ করতে হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম কাননের তুয়াক্কা ন করে অবৈধ ভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে ড্রেজার ব্যবসা। তাছাড়া একটির অনুমোদন নিয়ে পাইপ বসানো হচ্ছে একাধিক।
এ বিষয়ে ড্রেজার পাইপ মালিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোতি নিয়ে পাইপ বসিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ নুসরাত বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই এই ড্রেজারের পাইপ অপসারনের ব্যাপারে উদ্যাগ নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে কৃষি জমিতে ড্রেজার পাইপের জংশন

আপডেট সময় : ১২:৩১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মে ২০২১

আব্দুল কাইয়ুম : রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সড়কের উপরে ড্রেজার পাইপ লাগানোর কারণে বেড়েছে জনভোগান্তি। যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে বাধা। ঘটছে নানান দুর্ঘটনা। ড্রেজার পাইপের জংশনে রূপান্তরিত হয়েছে কুষি জমি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার উত্তরে ভোলাব ইউনিয়নের শেষের দিকে বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানের নাল জামিতে বালু ভরাটের জন্য লাগানো হয়েছে ড্রেজার পাইপ। কাঞ্চন, গোলাকান্দাইল, ভূলতা, মুড়াপাড়া, তারাবো, কায়েতপাড়া রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নসহ কোথাও বাকি নেই যেখানে ড্রেজার পাইপের ভোগান্তিতে নেই সাধারন মানুষ। কিছু জায়গায় পাইপের উপর মাটি দিয়ে তিন থেকে চার ফুট উঁচু করায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এমন ভাবে সড়ক উঁচু করা হয়েছে সেখান দিয়ে ইজিবাইক ও অটোরিক্সা যাত্রী নিয়ে পার হতে হিমশিয় খায়। বৃষ্টিতে মাটি সরে গিয়ে পাইপ পিচ্ছিল হয়ে থাকায় ঘটে গাড়ি দুর্ঘটনা।
ড্রেজার ব্যবসায়ীরা এতই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, অনেক কৃষকের জমির উপরে বাসের খুটি ব্যবহার করে লাগিয়েছে পাইপ। কাঞ্চন পৌরসভার গেটের সামনে চন্ডিতলা মন্দিরের প্রধান গেটের সামনে বসানো হয়েছে তিনটি মোটা পাইপ। সকাল বিকাল পুজো করতে আসা বয়স্ক অনেকের ভোগান্তির কারন এই ড্রেজারের পাইপ। মন্দিরের পুরোহিত শ্রী রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন পুজো করতে আসা শুধু বয়স্ক লোকই নয়,মহিলারা বেশি সমস্যায় পরে মন্দিরে আসতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে স্থানীয় যারা এই ব্যবসার সাথে জড়িতে তাদের বিরুদ্ধে কেউই মুখ খুলতে রাজী নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তারাবো ইউনিয়নের চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার সড়কে বসানো হয়েছে প্রায় ৫০ টি ড্রেজারের পাইপ। এসব নিয়ন্ত্রন করছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। একই চিত্র কাঞ্চন পৌরসভা ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। তবে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় এই যে, রাস্তার উপর দিয়ে শুধু পাইপ বসিয়েছে তা নয় রাস্তার নিচের মাটি সরিয়েও বসানো হচ্ছে সারি সারি ড্রেজারের পাইপ। রাস্তায় অতিরিক্ত বোঝাই কোন ট্রাক চলাচল করলে যে কোন সময় রাস্তা ভেঙে যেতে পারে বলেও আসঙ্কা স্থানীয়দের।
উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব ড্রেজারের পাইপ মহাসড়ক পার করতে উপজেলা কোষাগারে রাস্তার উন্নয়ন ফি জমা দিয়ে পাইপ বসানোর কথা। প্রতি বছর তা রিনিউ করতে হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম কাননের তুয়াক্কা ন করে অবৈধ ভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে ড্রেজার ব্যবসা। তাছাড়া একটির অনুমোদন নিয়ে পাইপ বসানো হচ্ছে একাধিক।
এ বিষয়ে ড্রেজার পাইপ মালিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোতি নিয়ে পাইপ বসিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ নুসরাত বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই এই ড্রেজারের পাইপ অপসারনের ব্যাপারে উদ্যাগ নেওয়া হবে।