নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রূপগঞ্জের তারাব বিশ্বরোড ট্রাক স্ট্যান্ডে ব্যাপক চাঁদাবাজি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ মার্চ ২০২১
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি :রূপগঞ্জের তারাব বিশ্বরোড ট্রাক স্ট্যান্ডে বন্ধ হচ্ছেনা চাঁদাবাজি। র‌্যাব সদস্যরা চাঁনমিয়া নামে এক চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে মামলা করার পর নূর মোহাম্মদ নামে আরেকজনকে নতুন নিয়োগ দিয়ে চাঁদা আদায় করাচ্ছে মনগড়া কমিটির লোকজন। তারা নানা আজুহাতে মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে বলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ।
শ্রমিকরা জানায়, তারাব বিশ্বরোড স্ট্যান্ডে দৈনিক শতাধিক ট্রাক চলাচল করছে। এই স্ট্যান্ড থেকে কোন গাড়ি ভাড়া হলেই দিতে হয় চাঁদা। মনগড়া একটি কমিটি করে স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রন করছেন রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি মাহবুবুর রহমান মেহের। প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার পরও দারোয়ানের বেতনের কথা বলে মাসে গাড়ি প্রতি আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা। সড়কে নির্বিগ্নে চলাচলের জন্য ট্রাফিক পুলিশের নামে গাড়ি প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা। এছাড়াও দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করা চালক হেলপারদের দেয়ার জন্য শ্রমিক তহবিলের নামে ৭০ টাকা আর মজজিদ উন্নয়নের নামে দৈনিক গাড়ি প্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তবে এ টাকা মসজিদ উন্নয়নের কাজে লাগানো হচ্ছেনা। গাড়ি চালকরা মসজিদের ইমামের কাছে অভিযোগ জানালে ইমাম মসজিদের জন্য কোন টাকা দিতে চালকদের নিষেধ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গাড়ি মালিক জানায়, সম্প্রতি চাঁদা আদায়ের অভিযোগে স্ট্যান্ড পরিচালনা কর্তৃপক্ষের নিয়োজিত চাঁদাবাজ চাঁন মিয়াকে র‌্যাব সদস্যরা হাতে নাতে আটক করে। পরে আটক চাঁন মিয়া,স্ট্যান্ডের সভাপতি স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান মেহের, সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদার টাকা জমা রাখা দোকানদারসহ ৪ জনকে আসামি করে র‌্যাবের একসদস্য বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার সার্জশীট থেকে বাদ পড়ে যায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
সরেজমিনে ট্রাক স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেছে চাঁদা আদায়ের দৃশ্য। চাঁন মিয়া আটক হওয়ার পর নূর মোহাম্মদ নামের একজন চাঁদা আদায় করছে বলে জাানায় চালকরা। স্ট্যান্ডে মাসিক ৮ হাজার টাকা বেতনে ৩ জন দারোয়ান রয়েছে। তিন দারোয়ানের মাসিক বেতন ২৪ হাজার টাকা হলেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে গাড়ি প্রতি ৫০০ করে মোট ৫০ হাজার টাকা। চাঁদার টাকা যাচ্ছে স্ট্যান্ডের নেতাদের পকেটে।
এবিষয়ে জানতে স্ট্যান্ডের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মেহেরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে কথা বলতে পারবেন না বলে জানান।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জের তারাব বিশ্বরোড ট্রাক স্ট্যান্ডে ব্যাপক চাঁদাবাজি

আপডেট সময় : ১০:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ মার্চ ২০২১

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি :রূপগঞ্জের তারাব বিশ্বরোড ট্রাক স্ট্যান্ডে বন্ধ হচ্ছেনা চাঁদাবাজি। র‌্যাব সদস্যরা চাঁনমিয়া নামে এক চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে মামলা করার পর নূর মোহাম্মদ নামে আরেকজনকে নতুন নিয়োগ দিয়ে চাঁদা আদায় করাচ্ছে মনগড়া কমিটির লোকজন। তারা নানা আজুহাতে মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে বলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ।
শ্রমিকরা জানায়, তারাব বিশ্বরোড স্ট্যান্ডে দৈনিক শতাধিক ট্রাক চলাচল করছে। এই স্ট্যান্ড থেকে কোন গাড়ি ভাড়া হলেই দিতে হয় চাঁদা। মনগড়া একটি কমিটি করে স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রন করছেন রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি মাহবুবুর রহমান মেহের। প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার পরও দারোয়ানের বেতনের কথা বলে মাসে গাড়ি প্রতি আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা। সড়কে নির্বিগ্নে চলাচলের জন্য ট্রাফিক পুলিশের নামে গাড়ি প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা। এছাড়াও দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করা চালক হেলপারদের দেয়ার জন্য শ্রমিক তহবিলের নামে ৭০ টাকা আর মজজিদ উন্নয়নের নামে দৈনিক গাড়ি প্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তবে এ টাকা মসজিদ উন্নয়নের কাজে লাগানো হচ্ছেনা। গাড়ি চালকরা মসজিদের ইমামের কাছে অভিযোগ জানালে ইমাম মসজিদের জন্য কোন টাকা দিতে চালকদের নিষেধ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গাড়ি মালিক জানায়, সম্প্রতি চাঁদা আদায়ের অভিযোগে স্ট্যান্ড পরিচালনা কর্তৃপক্ষের নিয়োজিত চাঁদাবাজ চাঁন মিয়াকে র‌্যাব সদস্যরা হাতে নাতে আটক করে। পরে আটক চাঁন মিয়া,স্ট্যান্ডের সভাপতি স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান মেহের, সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদার টাকা জমা রাখা দোকানদারসহ ৪ জনকে আসামি করে র‌্যাবের একসদস্য বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার সার্জশীট থেকে বাদ পড়ে যায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
সরেজমিনে ট্রাক স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেছে চাঁদা আদায়ের দৃশ্য। চাঁন মিয়া আটক হওয়ার পর নূর মোহাম্মদ নামের একজন চাঁদা আদায় করছে বলে জাানায় চালকরা। স্ট্যান্ডে মাসিক ৮ হাজার টাকা বেতনে ৩ জন দারোয়ান রয়েছে। তিন দারোয়ানের মাসিক বেতন ২৪ হাজার টাকা হলেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে গাড়ি প্রতি ৫০০ করে মোট ৫০ হাজার টাকা। চাঁদার টাকা যাচ্ছে স্ট্যান্ডের নেতাদের পকেটে।
এবিষয়ে জানতে স্ট্যান্ডের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মেহেরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে কথা বলতে পারবেন না বলে জানান।