সিদ্ধিরগঞ্জে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আহত ১৩ এলাকায় উত্তেজনা

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :সিদ্ধিরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাসিক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডল ও বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির সমর্থকদের মধ্যে তিন দফা সংঘর্ষ। ১৩ জন আহত। অফিস ও আসবাবপত্র ভাংচুর। রোববার (২ আগস্ট) রাতে আইলপাড়া ও সোনামিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার ইন্দনদাতা সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের বড় ভাই মজিবুর রহমান মন্ডলসহ ৫ জনকে আটক করা হলেও রহস্যজনক কারণে মজিবুর মন্ডলকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ ভোক্তভূগীদের।
প্রত্যদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে নাসিক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুমিলপাড়া এলাকার মৃত খলিল পাগলার ছেলে আসাদুল্লার খেরাম বোর্ড খেলার দোকানে গিয়ে সিগারেট জ্বালাতে ম্যাচ চায় এসও মন্ডলপাড়া এলাকার মোফাজ্জল হোসেন মুন্সির ছেলে মাদক ব্যবসায়ী শাকিল। তখন আসাদুল্লাহ ম্যাচ নাই বলার সাথে সাথেই শাকিল ও তার সহযোগী আবুল, হুমায়ুন, সাহাদাৎ এবং আলী আসাদুল্লাহকে বেধরক মারধর করে। খবর পেয়ে তার ভাই আসান উল্লাহ ও ভাগিনা হৃদয় এবং সবুজ এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারধর ও দাঁড়ালো ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। খবর পেয়ে কাউন্সিলর মতি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করে মিট মিমাংশা করার জন্য সোমবার বিকেলে সালিশী বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেন। এসময় এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা হোসেন আলম মেম্বার ও হামলাকারী শাকিলের পিতা মোফাজ্জল হোসেন কাউন্সিলর কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। কাউন্সিলর মতির সিদ্ধান্ত উপস্থিত সবাই মেনে নিলেও উত্তেজিত হয়ে পড়ে মোফাজ্জল হোসেন মুন্সি। সে কাউন্সিলর অফিস থেকে বেড় হয়ে বিভিন্ন জনকে মোবাইল ফোন করে। পরে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে মন্ডলপাড়া এলাকা থেকে শতাধিক লোক কাউন্সিলর মতির অফিসের সামনে একত্র হয়ে ফের হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কাউন্সিলর মতি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে ফোন করে অফিস থেকে সরে যায়। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌছলেও মোফাজ্জল হোসেনগং পুলিশের সামনেই বেপরোয়া হয়ে উঠে। পুলিশকে পাত্তাই দেয়নি শাকিল বাহিনী। পরে র‌্যাবের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এদিকে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের সমর্থক বাবু, আলাউদ্দিন, নূরা খান ও আবু খা, রফিক খা ও ডিস কুট্টির নেতৃত্বে কমপক্ষে দেড় শতাধিক লোক আদমজী সোনামিয়া বাজার এলাকায় কাউন্সিলর মতির সমর্থক মনির ও লিটন কর্তৃক পরিচালিত আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা অফিসে থাকা টেলিভিশন, আসবাবপত্র, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করে। এসময় অফিসে থাকা সবুজকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে হামলাকারীরা।বাঁধা দিতে গিয়ে হামলাকারীদের হাতে মারধরের শিকার হয় মনির খা, বিল্লাল, সেলিম খা ও করিম খা। তিনদফা সংঘর্ষে আহত ১৩ জনের মধ্যে সবুজ ও আসাদুল্লাহর অবস্থা গরুতর বলে জানা গেছে স্বজন সূত্রে।
এ ঘটনায় পুলিশ রাতেই সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের আপন বড় ভাই ঘটনার ইন্দনদাতা মজিবুর রহমান মন্ডলসহ ৫ জনকে আটক করে। তবে রাতেই মজিবুর মন্ডলকে রহস্য জনক কারণে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে জানায় আহতদের স্বজনরা।
এ বিষয়ে কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ মতিউর রহমান মতির সাথে কথা হলে তিনি জানান, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি শান্ত করে দুপক্ষকে মিলিয়ে দেওয়ার জন্য সোমবার বিকেলে সালিশী বৈটক বসার সময় নির্দারন করি। বিষয়টি সকলে মেনে নিলেও ঘটনার নায়ক শাকিলের পিতা মোফাজ্জল হোসেন মুন্সি মানেনি। তিনি উত্তেজিত হয়ে উঠলে কথা কাটাকাটি হয়। তখন সে আমার অফিস থেকে বের হয়ে মজিবুর রহমান মন্ডলসহ বিভিন্ন লোকজনকে ফোন করে। ছোট ঘটনাটিকে পুজিঁ করে মোফাজ্জল মুন্সি ও মজিবুর রহমান মন্ডল পরিকল্পিত ভাবে কয়েকশ লোক নিয়ে হামলা চালিয়ে ঘটনাটি বড় করে।
এ ঘটনার সাথে কোন যুগসূত্র নেই বলে দাবি করেন সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডল। তিনি বলেন সংঘর্ষে জড়ানো দু‘পক্ষই মতির সমর্থক।
মজিবুর রহমান মন্ডল ও মোফাজ্জল হোসেন মুন্সির সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন রাখতে রাত থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ টহল দিতে দেখা গেছে। তবে দুপক্ষের মধ্যে যেকোন সময় ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় কোন পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।