নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দিদের জিম্মি করে আর্থিক ফায়দা হাসিল করার অভিযোগ উঠেছে কারাগার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। কারাগারের অভ্যন্তরে ক্যান্টিনে বাজার মূল্যের চেয়ে প্রতিটি পণ্য দ্বিগুণের বেশি দাম নেওয়ায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে কয়েদিদের মধ্যে। বাইরে থেকে বন্দিদের জন্য খাবার সরবরাহ বাণিজ্যের অভিযোগ তো আছেই। জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম অনৈতিক কর্মকান্ডে অতীষ্ঠ হয়ে উঠছেন বন্দিরা। কারা ক্যান্টিনের খাবার ছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুতে ভেতরে চলছে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য।
কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আসা একাধিক ভুক্তভোগী জানান, জেলা কারাগারের ক্যান্টিনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি দাম নিচ্ছে বন্দিদের কাছ থেকে। এ ছাড়া সরকারি খাবারের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে বন্দিদের, যা খাবার উপযোগী নয়। এ কারণে অতিরিক্ত মূল্যে কারা ক্যান্টিনের খাবার কিনে খেতে বাধ্য করা হচ্ছেন বন্দিরা। শুধু তাই নয়, স্বজনদের সঙ্গে ১৫ দিন পরপর সাক্ষাৎ ও ৭ দিন পরপর ১০ মিনিট করে ফোনে কথা বলার যে সরকারি নিয়ম, তা কার্যকর হচ্ছে না।
কয়েদিদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের অভিযোগ, সাক্ষাৎ করতে চাইলে গুণতে হয় এক থেকে দেড় হাজার টাকা। না দিলে কোনো ভাবেই মেলে না সাক্ষাতের অনুমতি। এসব অনিয়মের প্রত্যক্ষ মদদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেল সুপার আব্দুল কুদ্দুছ, জেলার শেখ মোহাম্মদ রাসেল। তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে কারারক্ষী (মুক্তি শাখা) মো. রফিকুল ইসলাম, কারারক্ষী মোশারফ ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদী সুজন কারগার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ কয়েদীদের।
বন্দিদের অভিযোগ, কারা ক্যান্টিনে গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হয় ১ হাজার ৬০০ টাকা। রান্নার খরচসহ গুনতে হয় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। এছাড়া বাসনপত্র, তালা বাটি ক্রয় করতে হয় প্রচলিত বাজার মূল্যের কয়েক গুণ দাম বেশি দিয়ে। এভাবে বন্দিদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল অর্থ। এমনকি বন্দিরা জামিনে বেরিয়ে আসার সময় এসব ক্লিপ তাদের কাছ থেকে রেখে দেওয়া হয় এমন অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। জেলা কারাগার থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া আসামি জসিম হাওলাদার, বাচ্চু, রনি, শুভসহ কয়েক জন জানান, সাক্ষাৎ বাণিজ্য, কারা হাসপাতালের সিট বাণিজ্য, খাবার বাণিজ্য, চিকিৎসা বাণিজ্য, পিসি বাণিজ্য, কারা অভ্যন্তরে নিষিদ্ধ মালামাল, মাদক দ্রব্য প্রবেশ বাণিজ্য এবং জামিন হলে দ্রæত মুক্তি না দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বন্দিরা এসবের কোনো প্রতিবাদ করলেই তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ ও আটক রাখা হয় সেলে। এসব কিছুর কোনোটাই অজানা নেই জেলার মো. শেখ মোহাম্মদ রাসেলের। যে কারণে ভয়ে কেউ মুখ খুলেনা। কারাগারের এসব অনিয়ম-দুর্নীতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকায় তা নিয়মে পরিণত হয়েছে।
জানতে চাইলে জেলা কারাগারের জেলার শেখ মোহাম্মদ রাসেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি যোগদানের পর এরকম কোনো ঘটনা নেই। এ সময় তাকে একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।
জেল সুপার মো. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, এরকম কোন অভিযোগ আমার জানা নেই। আমি আমার মতো করে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছি। নিন্ম পর্যায়ের কোন কারারক্ষী কিংবা কয়েদী যদি জেলে প্রভাব বিস্তার করে তাহলে বন্দিরা লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ শিরোনাম ::
নারায়ণগঞ্জ জেল কর্তৃপক্ষের কাছে জিম্মি বন্দিরা অর্থিক বাণিজ্যের অভিযোগ
-
প্রতিনিধির নাম - আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- ৭ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ























