সোনারগাঁয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে প্রতিবন্ধী নিহত

সোনারগাঁ উপজেলার কাচঁপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টার দিকে উত্তর সেনপাড়া এলাকার একটি কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিকল বাঁধা অবস্থায় মানসিক প্রতিবন্ধী রুমা আক্তার (৩২) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হয়েছেন নিহতের মা তাছলিমা বেগম।

আগুনে ওই কলোনির অর্ধশতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।নিহত রুমা আক্তার মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার পশ্চিমবাগড়া এলাকার বাদশা মিয়ার মেয়ে।বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডেমরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা ওসমান গনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানায়, বুধবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার কাঁচপুরে সেনপাড়া এলাকায় অবস্থিত ফজলুল হক ও মোতালেব মিয়ার কলোনিতে বিদ্যুতের আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ফজলুল হক কলোনির ৩৩টি টিনশেড ঘর ও মোতালেব মিয়ার কলোনির ৮টিসহ অর্ধশতাধিক ঘর পুড়ে গেছে।

এ সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় মানসিক প্রতিবন্ধী রুমা আক্তার (৩২) নামে একজন নিহত হয়েছেন। তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তার মা তাছলিমা বেগম অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন।

আশপাশের লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে সোনারগাঁ, ডেমরা ও আড়াইহাজার ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে একঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত রুমা আক্তারের বড় বোন ঝুমা আক্তার জানান, আমার মা কাঁচপুরে পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ছোট বোন রুমা আক্তার গত ৬ ফেব্রুয়ারি আমাদের ভাড়া বাসায় বেড়াতে আসে। সে মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। রাত ৩টায় ঘরের চালে আগুন দেখে আমরা তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে বের হয়ে আসি। এ সময় রুমা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। মা অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত হয়।

ক্ষতিগ্রস্তবাড়ির মালিক ফজলুল হক ও মোতালিব মিয়া দাবি করেন, আগুনে তাদের টিনশেড ঘর ও ভাড়াটেদের মালামালসহ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডেমরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা ওসমান গনি।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত রুমা আক্তারের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।