১০ আগস্ট থেকে ওমরাহ’র সুযোগ পাচ্ছে বিদেশী মুসল্লিরা

অনলাইন ডেস্ক : করোনা মহামারীর ফলে দীর্ঘদিন বিদেশিদের সৌদি আরবে গিয়ে ওমরাহ পালনের অনুমতি দেয়নি দেশটি। বিদেশি মুসল্লিদের জন্য ফের পবিত্র ওমরাহ পালনের অনুমতি দিয়েছে সৌদি আরব। ১৪৪৩ হিজরী সনের ১ মহররম অর্থাৎ আগামী ১০ আগস্ট থেকে ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক মুসল্লিরা দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন। করোনা মহামারীর মধ্যে সীমিত পরিসরে সফলভাবে হজ আয়োজনের পর রোববার (২৫ জুলাই) এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করল দেশটি।

করোনার কারণে এমনকি হজের সময়ও অনুমতি দেয়া হয়নি। এবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দিলো মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। অবশ্য সৌদির নাগরিক ও বাসিন্দাদের জন্য রোববার থেকেই ওমরাহ পালনের অনুমতি দিয়েছে দেশটির প্রশাসন।

এর আগে পবিত্র হজের প্রস্তুতির জন্য জ্বিলহজ্জ মাসের প্রথম সপ্তাহে ওমরাহ পালন স্থগিত করা হয়। গত ১৭ জুলাই থেকে শুরু হয় পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, হজ মৌসুম শেষ হওয়ায় ওমরাহ পালনের জন্য রোববার থেকে ইসলামিক পবিত্র স্থাপনাগুলো পুনরায় খুলে দিয়েছে সৌদি আরব। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত উপ-প্রধান সাদ বিন মোহাম্মদ আল-মুহাইমিদ রোববার জানান, ‘ইবাদতকারী ও ওমরাহ পালনকারীদের গ্রহণে প্রস্তুত পবিত্র মসজিদুল হারাম।’

মানতে হবে শর্তাবলী-

এদিকে বাইরের দেশ থেকে ওমরাহ পালনে সৌদিতে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক মুসল্লিদের জন্য কিছু শর্ত আরোপ করেছে দেশটি। কেবল ৯টি দেশ ছাড়া বিশ্বের সকল দেশ থেকেই সরাসরি ফ্লাইটে সৌদি আরবে প্রবেশ করা যাবে।

এই ৯টি দেশ হচ্ছে- ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মিসর, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও লেবানন। এই দেশগুলো থেকে কোনো মুসল্লি সৌদি আরবে প্রবেশ করতে চাইলে তৃতীয় কোনো দেশে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

এছাড়া ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে করোনার টিকার উভয় ডোজ গ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে। টিকা হতে হবে ফাইজার, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা অথবা জনসন অ্যান্ড জনসনের।

তবে যারা চীনের তৈরি টিকার উভয় ডোজ নিয়েছেন, ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে ঢুকতে হলে তাদেরকে ফাইজার, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা অথবা জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার বাড়তি বুস্টার ডোজ গ্রহণ করতে হবে।

১৮ বছর বা এর ঊর্ধ্ব বয়সীরাই কেবল ওমরাহ পালনের অনুমতি পাবেন। এছাড়া সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় থেকে স্বীকৃত ওমরাহ এজেন্সির মাধ্যমেই কেবল সৌদি আরবে আসতে পারবেন মুসল্লিরা।

ওমরাহ পালনের সময় মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ এবং নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের মতো এ বছরও করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে পালিত হয় পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। বাইরের দেশ থেকে কেউ অনুমতি না পেলেও চলতি মাসে সীমিত পরিসরে ও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৌদি আরবে থাকা ১৫০টি দেশের নাগরিকসহ এবারের হজে অংশ নেন ৬০ হাজার মুসল্লি।