সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচানের আগেই সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা : ওসি আব্দুল বারিক শিপুকে সভাপতি জাবেদকে সম্পাদক করে নাসিক ৩ নং ওয়ার্ড কৃষকদলের কমিটি গঠন সোনারগাঁওয়ে নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জে বাৎসরিক ছুটি ভাতার দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন, নোটিশ টানিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা মালিকপক্ষের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে গুলি করা সেই সোহাগ দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার-৪ নারায়ণগঞ্জ শহরে বাবুর্চিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দূবৃত্তিরা পবিত্র ওমরা পালন শেষে দেশে ফিরলেন নজরুল ইসলাম আজাদ Πραγματική απόλαυση παιχνιδιού στα πιο αξιόπιστα καζίνο online Step into creative casino adventures full of colorful surprises

রত্নগর্ভা ভাষাসৈনিক নাগিনা জোহার ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ মার্চ ২০২১
  • ২৬৪ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ সংবাদ :  ভাষাসৈনিক ও রত্নগর্ভা মা নাগিনা জোহার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৭ই মার্চ। ২০১৬ সালের এই দিনে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়াত নাগিনা জোহাকে স্মরণ করবে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারসহ বিভিন্ন সংগঠন।

পরিবারের পক্ষ থেকে বন্দরের নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাদ আসর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও বাদ এশা ঢাকার হাই কোর্ট মাজারে মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় কোরআন শরিফ খতম ও দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নাগিনা জোহা ১৯৩৫ সালে অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার কাশেম নগরের জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের পরিবারের পূর্বপুরুষদের নামানুসারেই গ্রামটির নাম কাশেম নগর রাখা হয়। তার বাবা আবুল হাসনাত ছিলেন সমাজ হিতৈষী ও কাশেম নগরের জমিদার। শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতায় তার বিশেষ সুনাম ছিল। মরহুম নাগিনা জোহার বড় চাচা আবুল কাশেমের ছেলে আবুল হাশিম ছিলেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের মুসলীম লীগের সেক্রেটারি ও এম.এল.এ। চাচাতো ভাই মাহবুব জাহেদী ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ভাগ্নে পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট নেতা সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহ রাজ্যসভার স্পিকার ছিলেন।

১৯৫০ সালে মেট্রিক পাস করেন নাগিনা জোহা। পরের বছর ১৯৫১ সালে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের সন্তান আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য একেএম শামসুজ্জোহার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামীর বাড়িতে এসেই ১৯৫২ সালের ‘রাষ্ট্র ভাষা’ বাংলার জন্য আন্দোলনে অংশ নেন।

এই দম্পতির বড় ছেলে প্রয়াত নাসিম ওসমান জাতীয় পার্টির হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মেজ ছেলে বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির এমপি। আর ছোট ছেলে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য।

নাগিনা জোহার শ্বশুর খান সাহেব ওসমান আলী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠকদের অন্যতম। চাষাঢ়ায় তার বাড়ি বায়তুল আমানেই দল গঠনের প্রথম বৈঠক হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঢেউ নারায়ণগঞ্জে ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়ি হয়ে ওঠে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।

সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে মৃত্যুর কয়েক বছর পূর্বে নাগিনা জোহা একটি সংবাদপত্রকে বলেছিলেন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ২১ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জে ছাত্রজনতার মিছিলে আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে তিনিও অংশ নিয়েছিলেন। পরে বৈঠকের খবর পেয়ে সিপাহিরা বায়তুল আমানে ঢোকার চেষ্টা করলে শ্বশুর-বউ মিলে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচানের আগেই সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা : ওসি আব্দুল বারিক

রত্নগর্ভা ভাষাসৈনিক নাগিনা জোহার ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট সময় : ১০:০২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ মার্চ ২০২১

নারায়ণগঞ্জ সংবাদ :  ভাষাসৈনিক ও রত্নগর্ভা মা নাগিনা জোহার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৭ই মার্চ। ২০১৬ সালের এই দিনে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়াত নাগিনা জোহাকে স্মরণ করবে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারসহ বিভিন্ন সংগঠন।

পরিবারের পক্ষ থেকে বন্দরের নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাদ আসর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও বাদ এশা ঢাকার হাই কোর্ট মাজারে মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় কোরআন শরিফ খতম ও দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নাগিনা জোহা ১৯৩৫ সালে অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার কাশেম নগরের জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের পরিবারের পূর্বপুরুষদের নামানুসারেই গ্রামটির নাম কাশেম নগর রাখা হয়। তার বাবা আবুল হাসনাত ছিলেন সমাজ হিতৈষী ও কাশেম নগরের জমিদার। শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতায় তার বিশেষ সুনাম ছিল। মরহুম নাগিনা জোহার বড় চাচা আবুল কাশেমের ছেলে আবুল হাশিম ছিলেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের মুসলীম লীগের সেক্রেটারি ও এম.এল.এ। চাচাতো ভাই মাহবুব জাহেদী ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ভাগ্নে পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট নেতা সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহ রাজ্যসভার স্পিকার ছিলেন।

১৯৫০ সালে মেট্রিক পাস করেন নাগিনা জোহা। পরের বছর ১৯৫১ সালে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের সন্তান আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য একেএম শামসুজ্জোহার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামীর বাড়িতে এসেই ১৯৫২ সালের ‘রাষ্ট্র ভাষা’ বাংলার জন্য আন্দোলনে অংশ নেন।

এই দম্পতির বড় ছেলে প্রয়াত নাসিম ওসমান জাতীয় পার্টির হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মেজ ছেলে বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির এমপি। আর ছোট ছেলে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য।

নাগিনা জোহার শ্বশুর খান সাহেব ওসমান আলী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠকদের অন্যতম। চাষাঢ়ায় তার বাড়ি বায়তুল আমানেই দল গঠনের প্রথম বৈঠক হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঢেউ নারায়ণগঞ্জে ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়ি হয়ে ওঠে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।

সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে মৃত্যুর কয়েক বছর পূর্বে নাগিনা জোহা একটি সংবাদপত্রকে বলেছিলেন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ২১ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জে ছাত্রজনতার মিছিলে আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে তিনিও অংশ নিয়েছিলেন। পরে বৈঠকের খবর পেয়ে সিপাহিরা বায়তুল আমানে ঢোকার চেষ্টা করলে শ্বশুর-বউ মিলে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন।