নারায়ণগঞ্জ ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নারায়ণগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক শ্যামলের বাসায় মবের মাধ্যমে হামলা ও হত্যার অপচেষ্টা নাসিক ৩ নং ওয়ার্ডে গরুর হাট নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা হীরাঝিল বহুতল ভবনে জ্বলছে অবৈধ চুলা, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় সেবা গ্রহীতাদের জন্য ‘স্নেহকুঞ্জ’ শুভ উদ্বোধন নিজেদের দক্ষতা ও সেবার মাধ্যমেই জনআস্থা অর্জন করতে হবে : ডিসি রায়হান কবির বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে রিয়াদে বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক ফোরামের মতবিনিময় সভা মতবিনিময় সভায় মালিক ও শ্রমিক নিয়ে শ্রমবান্ধব দেশ গড়তে হবে:উপদেষ্টা মাহদী আমিন গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া ১টি শটগান ও ৩টি কার্তুজসহ যুবক গ্রেপ্তার ফতুল্লায় গ্যাসের চুলার লিকেজ থেকেই আগুনের বিস্ফোরণ, একই পরিবারের ৫জন দগ্ধ। বরফকল মাঠে গরুর হাট না বসাতে জেলা প্রশাসকের কাছে শাপলা ক্রীড়া সংসদের স্মারকলিপি

রত্নগর্ভা ভাষাসৈনিক নাগিনা জোহার ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ মার্চ ২০২১
  • ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ সংবাদ :  ভাষাসৈনিক ও রত্নগর্ভা মা নাগিনা জোহার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৭ই মার্চ। ২০১৬ সালের এই দিনে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়াত নাগিনা জোহাকে স্মরণ করবে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারসহ বিভিন্ন সংগঠন।

পরিবারের পক্ষ থেকে বন্দরের নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাদ আসর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও বাদ এশা ঢাকার হাই কোর্ট মাজারে মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় কোরআন শরিফ খতম ও দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নাগিনা জোহা ১৯৩৫ সালে অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার কাশেম নগরের জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের পরিবারের পূর্বপুরুষদের নামানুসারেই গ্রামটির নাম কাশেম নগর রাখা হয়। তার বাবা আবুল হাসনাত ছিলেন সমাজ হিতৈষী ও কাশেম নগরের জমিদার। শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতায় তার বিশেষ সুনাম ছিল। মরহুম নাগিনা জোহার বড় চাচা আবুল কাশেমের ছেলে আবুল হাশিম ছিলেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের মুসলীম লীগের সেক্রেটারি ও এম.এল.এ। চাচাতো ভাই মাহবুব জাহেদী ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ভাগ্নে পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট নেতা সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহ রাজ্যসভার স্পিকার ছিলেন।

১৯৫০ সালে মেট্রিক পাস করেন নাগিনা জোহা। পরের বছর ১৯৫১ সালে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের সন্তান আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য একেএম শামসুজ্জোহার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামীর বাড়িতে এসেই ১৯৫২ সালের ‘রাষ্ট্র ভাষা’ বাংলার জন্য আন্দোলনে অংশ নেন।

এই দম্পতির বড় ছেলে প্রয়াত নাসিম ওসমান জাতীয় পার্টির হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মেজ ছেলে বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির এমপি। আর ছোট ছেলে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য।

নাগিনা জোহার শ্বশুর খান সাহেব ওসমান আলী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠকদের অন্যতম। চাষাঢ়ায় তার বাড়ি বায়তুল আমানেই দল গঠনের প্রথম বৈঠক হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঢেউ নারায়ণগঞ্জে ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়ি হয়ে ওঠে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।

সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে মৃত্যুর কয়েক বছর পূর্বে নাগিনা জোহা একটি সংবাদপত্রকে বলেছিলেন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ২১ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জে ছাত্রজনতার মিছিলে আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে তিনিও অংশ নিয়েছিলেন। পরে বৈঠকের খবর পেয়ে সিপাহিরা বায়তুল আমানে ঢোকার চেষ্টা করলে শ্বশুর-বউ মিলে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জের প্রবীণ সাংবাদিক শ্যামলের বাসায় মবের মাধ্যমে হামলা ও হত্যার অপচেষ্টা

রত্নগর্ভা ভাষাসৈনিক নাগিনা জোহার ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট সময় : ১০:০২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ মার্চ ২০২১

নারায়ণগঞ্জ সংবাদ :  ভাষাসৈনিক ও রত্নগর্ভা মা নাগিনা জোহার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৭ই মার্চ। ২০১৬ সালের এই দিনে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়াত নাগিনা জোহাকে স্মরণ করবে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারসহ বিভিন্ন সংগঠন।

পরিবারের পক্ষ থেকে বন্দরের নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাদ আসর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও বাদ এশা ঢাকার হাই কোর্ট মাজারে মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় কোরআন শরিফ খতম ও দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নাগিনা জোহা ১৯৩৫ সালে অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার কাশেম নগরের জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের পরিবারের পূর্বপুরুষদের নামানুসারেই গ্রামটির নাম কাশেম নগর রাখা হয়। তার বাবা আবুল হাসনাত ছিলেন সমাজ হিতৈষী ও কাশেম নগরের জমিদার। শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতায় তার বিশেষ সুনাম ছিল। মরহুম নাগিনা জোহার বড় চাচা আবুল কাশেমের ছেলে আবুল হাশিম ছিলেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের মুসলীম লীগের সেক্রেটারি ও এম.এল.এ। চাচাতো ভাই মাহবুব জাহেদী ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ভাগ্নে পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট নেতা সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহ রাজ্যসভার স্পিকার ছিলেন।

১৯৫০ সালে মেট্রিক পাস করেন নাগিনা জোহা। পরের বছর ১৯৫১ সালে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের সন্তান আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য একেএম শামসুজ্জোহার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামীর বাড়িতে এসেই ১৯৫২ সালের ‘রাষ্ট্র ভাষা’ বাংলার জন্য আন্দোলনে অংশ নেন।

এই দম্পতির বড় ছেলে প্রয়াত নাসিম ওসমান জাতীয় পার্টির হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মেজ ছেলে বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির এমপি। আর ছোট ছেলে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য।

নাগিনা জোহার শ্বশুর খান সাহেব ওসমান আলী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠকদের অন্যতম। চাষাঢ়ায় তার বাড়ি বায়তুল আমানেই দল গঠনের প্রথম বৈঠক হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঢেউ নারায়ণগঞ্জে ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়ি হয়ে ওঠে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।

সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে মৃত্যুর কয়েক বছর পূর্বে নাগিনা জোহা একটি সংবাদপত্রকে বলেছিলেন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ২১ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জে ছাত্রজনতার মিছিলে আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে তিনিও অংশ নিয়েছিলেন। পরে বৈঠকের খবর পেয়ে সিপাহিরা বায়তুল আমানে ঢোকার চেষ্টা করলে শ্বশুর-বউ মিলে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন।